নেতারাও এখন কাশী কি মক্কা থেকে ফিরে এসেই রাজনীতিতে ছক্কা মারছেন

রাজনীতি এখন ধর্মের দরজায় ধর্না দিচ্ছে, কলিকালে বামপন্থী দলের নেতারাও এখন কাশী কি মক্কা থেকে ফিরে এসেই রাজনীতিতে ছক্কা মারছেন, এ চিত্র শুধু বাংলাদেশেই নয় আমদের উপমহাদেশে এই চিত্রটা এখন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এরপরও ধর্মের ভিত্তিতে দল আছে এখনো বড় বড় রাজনৈতিক দলগুলো ধর্মের ধ্বজা তুলে নিজেদের আখের গোছাতে কোমর বেধে নেমেছে। সকলেই এখন বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকারের সাথে হেফাজতের সখ্যতা নিয়ে বেশ কিছুদিন যাবৎ বেশ রসালো গল্প বাণিজ্য শুরু করলেও বাংলাদেশের রাজনীতিতে ধর্মের ধ্বজা তুলে সাধারণ মানুষের মাঝে বিভ্রান্তির শুরুটা করেছিল বিএনপি, কথাটা ভুলে গেলে চলবে না। বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দলের একটি হলো বিএনপি, যারা নির্বাচনের আগে ইসলাম রক্ষার কথা বলে ভোট চেয়েছে। তাদের প্রচারণা অনুযায়ী, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশে ইসলাম থাকবে না’।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ভোটের রাজনীতিকে ‘টার্গেট’ করেই সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম’ সংযোজনা করেন। এরপর সামরিক শাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম করেন ভোটের রাজনীতিকে ‘টার্গেট’ করেই। ইদানীংকালে অনেক বামপন্থী নেতারাও সেক্যুলার পাঞ্জাবি পড়ে কাশী বা মক্কা শরীফে পুণ্য আদায় করে শুদ্ধ রাজনীতিতে এলোপাথাড়ি ছক্কা মেরে চলেছেন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে বাংলাদেশের ইসলাম ধর্মের ব্যবহারের মাত্রা এতটাই বেড়ে গেল যে সাধারণ হিন্দু বা অন্যান্য ধর্মের মানুষদের মাঝে এক আতংক সৃষ্টি হয়েছে আর এ কারণে দেশের আনাচে কানাচে চলছে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা, সেক্যুলার বাংলাদেশ এখন পূর্ণিমার চাঁদের মতো ঝলসানো রুটি।
স্বাধীন বাংলাদেশে জামায়াত প্রথম ১৯৮৬ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে ১০টি আসন পায়৷ এরপর তারা বিএনপির শরিক দল হিসেবে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে অংশ নেয়৷ ১৯৮৬ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী যেখানে ১০টি আসন পেয়েছিল সেখানে ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা বিএনপির সঙ্গে জোট করে ১৮টি আসন পায় ও সেবার তাদের দু’জন নেতা মন্ত্রিত্বও পেয়েছিলেন কাজেই কেউ যদি বিএনপিকে ধোয়া তুলসী পাতা ভেবে থাকেন তবে মারাত্মক ভুল হবে। রাজনীতির মারপ্যাঁচে যুদ্ধাপরাধী থাকার কারণে বর্তমান ইসলামিক রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী ভীষণ রকম মার খেলেও রাজনীতিতে ভোটের হিসাব-নিকাশ করতে ধর্মকে এখন যুতসই অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে প্রতিটি রাজনৈতিক দল। ধর্মকে রাজনৈতিক সমীকরণে ব্যবহার করতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে ক্ষমতাসীন বিএনপির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমান্তরাল আন্দোলনে অংশ নেয় জামায়াত। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ১৯৯৬ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী পায় মাত্র তিনটি আসন, কাজেই আওয়ামীলীগকেও যদি কেউ ধোয়া তুলসী পাতা ভেবে বসেন তবে সেখানেই একটা মারাত্মক ভুল হয়ে যাবে।
এ ক্ষেত্রে বলতে বাধ্য হচ্ছি যে ভোটের রাজনীতিতে বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনের কথা বেমালুম সকল রাজনৈতিক দলগুলো ভুলে যায়, ধর্ম ঝাণ্ডার পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ এখন রাজনৈতিক দলগুলোর জন্যে একটি সাইন বোর্ড সরূপ যা এখন খুব সহজেই ব্যবহার করা যায়।
হেফাজত শাপলা চত্বরের সমাবেশ করার পর ইসলামিক সংগঠনগুলোর ক্ষমতা এতটাই বিপদ জনক অবস্থায় চলে যায় যে সরকার থেকে শুরু করে যে কেউ যে কোন জায়গাতে জাতির পিতার প্রতিকৃতি বা এয়ারপোর্ট রাস্তার মোরে বাউলের ভাস্কর্য বসাতে এই ইসলামিক সংগঠনগুলোর সাথে বোঝাপড়া করতে হয়। হেফাজতের বিরোধিতার কারণেই সরকার নারী নীতি বাস্তবায়ন করছে না, ব্লগার ও মুক্তমনাদের সুরক্ষা না দিয়ে উল্টো তাদের বিরুদ্ধেই মামলা করা হয়।
দলের মাঝে লুটেরা মাফিয়া চক্র, দুর্নীতিবাজ, টাকা পাচারকারী এমন কি কোন সংসদ সদস্যদের রক্ষা করতে, প্রতিক্রিয়াশীলদের মুখ বন্ধ করতে, সাংবাদিকদের কলম বন্ধ রাখতে যে আইনটি তৈরি করা হয়েছে তার নাম ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮, এবার আপনি মানেন আর নাইবা মানেন তবে জেলখানার ভেতরে শত শত মোশতাক আহমেদ মরে পচে থাকলেও আমার আর আপনার কিছুই করার থাকবে না।
বাংলাদেশ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ এর অপসারণ দাবি করছি।
— মাহবুব আরিফ কিন্তু।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 1 = 6