সকল পুরুষ ধর্ষক নয়

যখন কোন একজন নারী ধর্ষণ ও যৌন হয়রানি এবং শারীরিক প্রহারের দ্বারা নির্যাতিত ও নিপীড়িত হয়ে থাকে, তখন ঘটনাস্রোত শুধুমাত্র নির্যাতিতার জীবনচক্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না বরং সমগ্র নারীজাতির পোশাক, চরিত্র, পেশা, পরিবার- প্রভৃতি অপ্রাসঙ্গিক বিষয়াদিকে মূখ্য করে তুলে প্রাসঙ্গিকতাকে লঘু করার ক্ষেত্রে সমাজে বসবাসকারী অধিকাংশ পুংলিঙ্গ ও ব্যক্তিত্বহীন স্ত্রীলিঙ্গ ভূমিকা পালন করে থাকে।
যার ফলে অমন ঘৃণিত কর্ম সংঘটিত হওয়ার পরেও পুং ও স্ত্রীলিঙ্গ উভয়ই বীরদর্পে নারী বিদ্বেষী কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য; যেমনঃ- ছেলে মেয়ে কখনোই বন্ধু হতে পারে না, পোশাকআশাকের যা অবস্থা তাতে ধর্ষণ হতেই পারে, যেই মেয়ের ছেলে বন্ধু আছে সে কি আর ভালো মেয়ে, পড়াশোনার জন্য ছেলেছোকড়ার কাছে যেতে হবে কেনো, যেই মেয়ে হিজাব-বোরখা পরে না তাকে লাগানো যেতেই পারে, যেই মেয়েরা স্টাডি ট্যুর ও গ্রুপ স্টাডি করতে যায় তাদের খাওয়া সহজ ইত্যাদি।
এ থেকে অন্তত দুটি বিষয় স্পষ্ট যে, (১) সমাজের মানুষেরা নারীকে খাদ্যপযোগী ছাড়া আর কিছু ভাবে না। প্রেম থেকে বিয়ে- সবক্ষেত্রেই নারীর সৌন্দর্য ও শরীরকে গুরুত্ব দেওয়া হয় অথচ নারীর মনটাই আসল বলে সৌন্দর্য রূপ’কে প্রাধান্যপূর্ণ দেওয়া মিথ্যে বলার সংস্কৃতি বিরাজমান। নারী পুরুষের খাদ্যাদি- যার ফলে নারীর মেধাসম্পন্নতা ততটাও গুরুত্ব নয় যতটা রূপ লাবণ্য ও সৌন্দর্য। যে সকল দেশ অনুন্নত, অগণতান্ত্রিক, শিক্ষাব্যবস্থার ত্রুটি ও ধর্মের প্রভাবে চরমভাবে বিশৃঙ্খলতা সৃষ্টি করে, সে সকল দেশে নারীকে খাদ্যাংশ হিসেবে ভাবনা শুধুমাত্র পুরুষের নয়, বরং নারীও। পুরুষের মনোরঞ্জনে নারীর দাসীপনা প্রমাণ করে নিজেদের অবস্থান সম্পর্কে তাদের ভাবনা কীরূপ।
দ্বিতীয় বিষয়টি হচ্ছে- সমাজ জানে যে, পুরুষ ধর্ষক। কিন্তু সমাজ মানে না যে, ধর্ষণে মূল ও প্রধান এবং একমাত্র অপরাধী হচ্ছে পুরুষ। “ছেলেমেয়ে বন্ধু হতে পারে না”, “ছেলেবন্ধু থাকা ভাল নয়”, “ছেলেমেয়ের একসাথে পড়াশোনা উচিত নয়”– এই সকল প্রচলিত বাক্যগুলো প্রমাণিত করে পুরুষলোকের চরিত্রাবলি, তারপরও সমাজ মানতে ও বুঝতে অপারগ যে ধর্ষণে দায়ী কে!
নিশ্চয়ই সকল পুরুষ ধর্ষক নয়, তবে, সকল নারীই পুরুষের দ্বারা ধর্ষণের শিকার। নিশ্চয়ই সকল পুরুষ ধর্ষক নয়, তবে, সকল নারীই পুরুষের যৌন বিকৃতির শিকার। নিশ্চয়ই সকল পুরুষ ধর্ষক নয়, তবে, সকল নারীই পুরুষের প্রহারের শিকার।
নিশ্চয়ই সকল পুরুষ ধর্ষক নয়, তবে, সকল নারীই পুরুষের দ্বারা ধর্ষণের শিকার। নিশ্চয়ই সকল পুরুষ ধর্ষক নয়, তবে, সকল নারীই পুরুষের যৌন বিকৃতির শিকার। নিশ্চয়ই সকল পুরুষ ধর্ষক নয়, তবে, সকল নারীই পুরুষের প্রহারের শিকার।
ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 77 = 78