তখন আপনি কই ছিলেন?

গতকাল এক বাঙালি মুসলমান খুব গোস্বা করে আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের সময় আপনি কই ছিলেন?

আমি গোস্বাকৃত ভদ্রলোকটিকে আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের সমালোচনা ও তীব্র নিন্দা জানিয়ে কাউকে কোন বিশেষ রাজনৈতিক বা মতাদর্শের কারণে হত্যা করা যে জায়েজ নয়- আমার প্রতিবাদমূলক লেখাটি দেখাই।
মুহূর্তেই ভদ্রলোকটি আবরার ফাহাদ প্রসঙ্গ বদলে আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, ভারতে যখন হিন্দু মৌলবাদীরা ধর্মের নামে মুসলমানদের হত্যা করে তখন আপনি চুপ থাকেন কেনো?

আমি ভারতে মুসলমানদের উপর হিন্দু মৌলবাদীদের হামলার সমালোচনা করতে করতে আমার চারটি প্রতিবাদ ও সমালোচনামূলক লেখা ভদ্রলোকটিকে দেখাই।

নিষ্পাপ ভদ্রলোকটি খুবই অস্বস্তির সাথে বলেন, ওহ, আচ্ছা, লিখেছেন তাহলে!

নাদান ভদ্রলোকটি খুব উৎসাহের সাথে আমার লেখার তীক্ষ্ণ সমালোচনা করতে করতে বলেন, কই আপনি তো মায়ানমারের রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতন নিয়ে মুখ খুললেন না!
আমি হাসিমুখে নাদান বাঙালি মুসলমান ভদ্রলোকটিকে রোহিঙ্গাদের নিয়ে আমার সম্প্রতি প্রকাশিত একটি দীর্ঘ লেখা ও রোহিঙ্গাদের পক্ষে সম্পূর্ণরূপে অবস্থান নিয়ে মায়ানমারের বৌদ্ধ মৌলবাদী ও রাষ্ট্র তথা সরকারকে নিয়ে ২০১৬-১৭ সালের সমালোচনামূলক একাধিক লেখা দেখাই।

বাঙালি মুসলমান হচ্ছে কৈ মাছের মতন। সারাক্ষণ লাফাবে। না জেনে, না বুঝে, না দেখে ছটফট করতেই থাকবে। যতই প্রমাণ দেওয়া হোক না কেনো, সন্তুষ্ট করা যাবে না। নিজেদের অজ্ঞতা ও হিপোক্রেসি লুকোনোর জন্য তারা অন্যের দিকে প্রশ্ন ছুঁড়েই যাবে কিন্তু তিনি নিজে কতটা সৎ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন তা মুখ্য নয়।

ভদ্রলোক দস্যুর মতো খিলখিল হাসি ফুটিয়ে বললেন, ইউরোপ থাকেন- তাই তো খ্রিষ্টানদের গড বা বাইবেল নিয়ে কিছু বলার সাহস পান নি, খ্রিষ্টানদের নিয়ে কথা বলতে ভয় লাগে নাকি?
আমি অবুঝ, নাদান, নিষ্পাপ বাঙালি মুসলমানটিকে বললাম, ইউরোপে থাকি বলে খ্রিষ্টানদের গড ও বাইবেলের সমালোচনার জন্য আমার একাধিক পোস্ট ইংরেজিতে আছে। তারপর আমি তাকে ৭ টি কার্টুন দেখাই।

তার এক্সপ্রেশন দেখে বুঝতে বাকি নেই যে তিনি বিরক্ত, অস্বস্তিতে ভুগছেন। তিনি কোনভাবেই আমাকে থামাতে পারছেন না। কিন্তু বাঙালি মুসলমান কুতর্কে অপ্রতিদ্বন্দ্বী তা ভুলে যাওয়া যাবে না।

ভদ্রলোক সিগারেট টানতে টানতে বললেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প যে মুসলিমদের আমেরিকায় ঢুকতে দিবে না বলেছিল সে নিয়ে আপনার কি বক্তব্য?
আমি ভদ্রলোকটি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে আমার তীব্র সমালোচনামূলক লেখাগুলো দেখাই। এবার ভদ্রলোক খুবই অসন্তুষ্ট।
ভদ্রলোকটি কিছুক্ষণ চুপ থাকেন। সিগারেট টানতে থাকেন।

হঠাৎ করেই তিনি জিজ্ঞেস করেন, চীনের উইঘুর মুসলিমদের উপর যে নির্যাতন, নিপীড়ন চলছে সে বিষয়ে তো আপনার কোন লেখা নাই!
আমি ভদ্রলোকটি উইঘুর মুসলিমদের উপর নির্যাতন ও নিপীড়ন নিয়ে আমার একাধিক লেখা ও পোস্ট ও ব্লগপোস্ট দেখাই।
ভদ্রলোক খুবই বিরক্তির সাথে বললেন, আপনি কি জানেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো ফ্রান্সের এক নেতা মুসলমানদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

ভদ্রলোকটিকে বললাম, এ বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে একজন নেতা নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারে না। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট ছিল আর একজন নেতার পক্ষে নিষেধাজ্ঞা জারি করার ক্ষমতা নেই, তা নিশ্চয়ই আপনি জানেন

ভদ্রলোক উত্তেজিত হয়ে বললেন, সে যাই হোক, বলেছে ক্যান?

আমি বললাম, আমি কীভাবে জানবো সে বলেছে কেনো, আর যে এমন বক্তব্য দিতে পারে সে নিশ্চয়ই ডানপন্থী।
অনেকক্ষণ পর ভদ্রলোকটির মুখে হাসি। এমন ভাব নিয়ে হাসছেন যেন তিনি জয়ী মনে হয়েছেন।

আমি কি আপনাকে দুটি প্রশ্ন করতে পারি?- জিজ্ঞেস করি আমি।

বাঙালি মুসলমান ভদ্রলোক বীরপুরুষের মতো হুংকার দিয়ে বলেন, হ্যা করেন না!

আমি জিজ্ঞেস করলাম, যখন কোন ব্যক্তি বা সম্প্রদায় বা জাতি বা গোষ্ঠী- মুসলমানদের যে কোন দেশে প্রবেশে বাঁধা সৃষ্টি করে সেই চিন্তাধারা কেমন? এর সাথে কি ইসলামবিদ্বেষের সম্পর্ক আছে?

নিষ্পাপ ভদ্রলোকটি দুটি চোখ উল্লুকের মতো বের করে বললেন, এটা সম্পূর্ণ ইসলামবিদ্বেষ। ইসলামবিদ্বেষীদের পক্ষেই এমন কথা বলা সম্ভব। যে ব্যক্তি বা যে গোষ্ঠী এমন কথা বলতে পারে সে অমানুষের বাচ্চা।

আমি ভদ্রলোকটি বললাম, সম্প্রতি সৌদি আরব মুসলমানদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। আপনি কি এখনও আপনার বক্তব্যে অটুট?

ভদ্রলোক তার চোখ দিয়ে আমার দিকে আগুন ছুঁড়েন। ভদ্রলোক বললেন, আপনি ইচ্ছাকৃত এই প্রশ্ন করলেন!
আমি বললাম, মুসলমানদের ভণ্ডামির সমালোচনা করার সাথে ইসলামবিদ্বেষের কোন সম্পর্ক নেই। বিদ্বেষ ও সমালোচনা এক নয়।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

25 − 21 =