মামুনুল হক নিজের ফাঁদে নিজেই আটকা পড়েছে

সোনারগাঁও রয়েল রিসোর্টে মামুনুল হক নারীসহ ধরা খেয়েছেন এটা নিয়ে গোটা দেশে তোলপাড় অবস্থা,একটাবার কি আপনারা ভেবে দেখেছেন কেন মামুনুল হক একজন নারীকে নিয়ে হোটেলে উঠতে পারবে না? এখানে তো অন্যায়ের কিছু দেখছি না মামুনুল হক নারীটিকে নিশ্চয়ই জোর করে হোটেলে নিয়ে যায় নি অথবা ধর্ষণ করেন নি,ধর্ষণকামীতা একটা মানসিক রোগ এর সাথে যৌনতা মেশানোও এক ধরণের অসুস্থতা যৌনতার প্রতি আকর্ষণ এবং এ জন্য দুজনার সম্মতিতে যৌনতা একটা সুস্থ চর্চা। সেটা বহুকামিতা হলেও সেটা অসুস্থ চর্চা নয়। এখানে দুজনেই প্রাপ্তবয়স্ক তাহলে সমস্যাটা কোথায় তাদেরকে নিয়ে কেন আজ আমরা সমালোচনা করছি এর জন্য আসলে দায়ী কে এবং আমাদের সমালোচনা করাটা কতটা যুক্তিযুক্ত, আমি মনে করি আজকের এই পরিস্থিতির জন্য মামুনুল হক সহ এই ধর্মান্ধ গোষ্ঠী সকলেই দায়ী। মামুনুল হকেরাই দিনে-রাতে ফতোয়া দিয়ে মানুষকে ধর্মের দিকে ধাবিত করছে এই দেশের শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠিত করতে চাচ্ছে, নারী পুরুষের স্বাভাবিক যৌনচর্চায় বাধা প্রদান করছে, নারীদের পড়াশোনা চাকরি কর্মজীবন থেকে শুরু করে প্রতিটি পদে-পদে এই মামুনুল হকেরা লাঞ্চিত করছে। দুজন ছেলে মেয়ে পার্কে বসে অথবা রাস্তায় হাত ধরে চলাফেরা করলে নাজায়েজ বলে ফতোয়া দিচ্ছে, এইসব মোল্লাদের ফতোয়া শুনেই আমাদের সমাজটা সঠিক যৌন চর্চা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। যার কারণে দুজন প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে মেয়ে Consent’ নিয়ে যৌন চর্চা করলেও আমরা সেটাকে বিকৃতি ভাবে দেখছি যার কারনে আজ মামুনুল হক অন্যায় না করেও তাদের ফাঁদে সে নিজেই আটকে পড়েছে। আজকে যদি এইদেশে শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠিত হতো তবে মামুনুল হককে নিশ্চয়ই পাথর নিক্ষেপ করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতো, মামুনুল হক যে অন্যায় করেছে এবং তারা যে স্বপ্ন দেখছে এই দেশের একদিন শারিয়া আইন প্রতিষ্ঠা করবে তাহলে মামুনুল হকের আজকের এই অন্যায়ের জন্য সর্বপ্রথম তাকে শরিয়া আইনের ভয়াবহ রূপ তার অপরাধের শাস্তি দিয়েই দেখানো হোক এই শরিয়া আইন কতটা বর্বর অমানবিক সেটাও প্রকাশ পাবে।

ধর্মব্যবসায়ী মোল্লারা সাধারণ মানুষকে ধর্মের আফিং খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখছে কিন্তু তারা নিজেরাই তাদের ফতোয়া মানে না। এই মোল্লারাই সবার আগে এসব আকাম কুকাম করে বেড়াই মাদ্রাসা গুলোতে খোঁজ নিল দেখতে পাবেন সেখানে বিকৃত যৌন চর্চা করছে এই মোল্লারাই ছোট ছোট কোমলমতি শিশুদের বলাৎকার সহ বিভিন্ন ভাবে শারীরিক নির্যাতন করছে তার মানে এটাই দাড়াচ্ছে তারা নিজেরাই তাদের ধর্মের বাণী বিশ্বাস করে না, শুধুমাত্র সাধারন মানুষকে বোকা বানিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করছে। মোদি বিরোধী আন্দোলনে এই মামুনুল হকের ডাকে অন্ততপক্ষে ২০ জন মানুষের প্রাণ গেছে, এতগুলো মানুষের প্রাণ নিয়েও সেই মামুনুল হক বলে একটু রিলাক্সের জন্য হোটেলে গেছে একান্ত সময় কাটাতে। দেশটাকে অসুস্থতার দিকে ঠেলে দিয়ে এই ধর্ম ব্যবসায়ীরা কিভাবে এসির বাতাস খেতে পারে নারী নিয়ে হোটেলে ফুর্তি করতে যেতে পারে বাড়িতে বউ রেখে? মামুনুল হকের মত মোল্লারা কি একবার ভেবে দেখেছে তাদেরকে অনুসরণ করে যারা পৃথিবী ছেড়ে চলে গেল তাদের ফ্যামিলির অবস্থা কোথায় গিয়ে দাঁড়ালো? এতো গুলো মানুষের প্রাণ গেল সেই মানুষগুলোকে কি এই মামুনুল হক কখনো ফিরিয়ে দিতে পারবে? এই ঘটনা থেকে সকলের শিক্ষা নেওয়া উচিত এবং এটা ভেবে দেখা উচিৎ এই মোল্লারা নিজেদের স্বার্থের জন্য দেশটাকে দিনে দিনে অসুস্থতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে পরিশেষে এটাই বলতে চাই মোল্লাদের দেওয়া ধর্মের আফিং খেয়ে আর কতদিন মাতাল হয়ে থাকবেন। সচেতন মহলের প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব যারা দেশটাকে ধর্মান্ধ বানিয়ে রাখতে চায় তাদেরকে প্রতিহত করা এবং এসব ধর্মান্ধ ব্যক্তিদের বয়কট করা।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

99 − = 98