বহু বিবাহ প্রথা বাতিল না করার ফল

বহু বিবাহ ইসলামিক প্রথা সাংবিধানিক ভাবে বাতিল না করার ফল মামুনুল হকের রিসোর্ট কেলেঙ্কারি। ২০২১ সালে বিজ্ঞানের এক চরম সফলতার যুগে আমাদের বাংলাদেশের গণতন্ত্র সংস্কৃতি ঐতিহ্য দিন দিন সবার অগোচরেই ধাবিত হতে চলেছে এক অন্ধকার গহ্বরে, ধর্মের নামে ধর্ম গুরুরা রচনা করে চলেছেন সাম্প্রদায়িক তাণ্ডব, জন্ম দিয়ে চলেছেন হৃদয় বিদারক কিছু ঘটনা। এমন সব ঘটনা যা আমাদের বিবেকেও আজ নাড়া দেয় না, কুৎসিত চরিত্রের মানুষদের পদচারণয় কলুষিত হয়ে চলেছে বাংলাদেশের গণতন্ত্র সংস্কৃতি ঐতিহ্য আর আমার তাকিয়ে আছি নির্বাক নয়নে যেখানে শুকিয়ে গেছে চোখের জল।

মামুনুল হক যদি দাবিই করে বসে তার চাইতে অনেক কম বয়সের নারীটি তার দ্বিতীয় স্ত্রী ও একঘণ্টার মাঝেই কাগজে কলমে তা তৈরি করে বুক ফুলিয়ে সমাজে ঘুরে বেড়ায় সে ক্ষেত্রে আইনের চোখে সে মোটেও একজন অপরাধী নয়, অদ্ভুত আমাদের এই সমাজ যেখানে একজন নারীর দুইজন কি তার অধিক স্বামী রাখার অধিকার থাকে না কিন্তু পুরুষ চারজন স্ত্রীকে নিয়ে কক্সবাজার সৈকতে সিনা টান টান করে ঘুরে বেড়ায়। প্রেম ভালবাসা সন্তান সংসার বিষয়টি এক্ষেত্রে হাস্যকর, পুরুষের চাহিদাটাই মুখ্য।

পুরুষের ক্ষেত্রে একসঙ্গে একাধিক স্ত্রী গ্রহণের বৈধতা প্রসঙ্গে কোরআনের বক্তব্য এমন : ‘…তোমরা বিবাহ করবে নারীদের মধ্যে যাকে তোমার ভালো লাগে—দুই, তিন অথবা চার। আর যদি আশঙ্কা করো যে সুবিচার করতে পারবে না, তাহলে একজনকে (বিয়ে করো)…।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ৩)।

শুধু তাই নয়, একজন পুরুষ ছলে বলে কৌশলে প্রথম স্ত্রীর বা স্ত্রীদের সম্মতি নিয়ে নিলেই দ্বিতীয়, তৃতীয় বা চতুর্থ বিবি নিয়ে রিসোর্টে অভিসারে লিপ্ত হতে কোনই বাধা থাকে না অন্তত মুসলিমরা সেটাই বিশ্বাস করে। একজন পুরুষ চারজন স্ত্রীর ভরণ পোষণের ক্ষমতা থাকলেই বিয়ের ক্ষেত্রে গ্রিন সিগন্যাল দেয়া আছে। প্রেম ভালবাসা এক্ষেত্রে খুব একটা গুরুত্ব বহন করেনা যেটা করে সেটা হচ্ছে, একাধিক বিয়ে মুসলিম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। এটি জানা কথা যে শুধু বিয়ের মাধ্যমেই সংখ্যা বৃদ্ধি করা যায় এবং একাধিক বিয়ের মাধ্যমে প্রাপ্ত বংশধরদের সংখ্যা একজন স্ত্রীকে বিয়ের মাধ্যমে প্রাপ্ত বংশধরদের সংখ্যার চেয়ে বেশি হবে। এখানে একজন নারী কর্মক্ষম বা উপার্জনে সমর্থ কিনা সেটা মোটেই বিবেচনায় আনা হয় নাই যে বিষয়টাকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে সেটা হচ্ছে, বংশধরদের সংখ্যা বৃদ্ধির মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহকে শক্তিশালী করা এবং উম্মাহর কর্মীদের সংখ্যা বৃদ্ধি করা, যা তাদের অর্থনৈতিক মান উন্নয়ন করতে সক্ষম, যদি রাষ্ট্র মানবসম্পদের উন্নয়নে যথাযথভাবে কাজ করে তবে সে ক্ষেত্রে যে নারীদের ভূমিকা থাকবে বিষয়টিকে ইসলামে সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষা করা হয়েছে।

পুরুষদের মধ্যে এমন কিছু ব্যক্তি রয়েছে, যাদের মধ্যে প্রবল শারীরিক চাহিদা বিদ্যমান, যাদের জন্য একজন স্ত্রী যথেষ্ট নয়। যদি এমন একজন ব্যক্তির জন্য একাধিক স্ত্রী গ্রহণের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং তাকে বলা হয় যে তোমার জন্য একাধিক স্ত্রী রাখা অনুমোদিত নয়, তাহলে এটি তার জন্য কঠিন কষ্টের কারণ হবে এবং তার জৈবিক চাহিদা তাকে হারাম পথে পরিচালিত করবে যা ইসলামের ব্যাখ্যায় বলা হচ্ছে, কিন্তু একজন নারীরও যে জৈবিক চাহিদা থাকার কারণে চারজন পুরুষ সঙ্গী রাখার প্রয়োজন হতে পারে সে বিষয়টিকেও সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষা করা হয়েছে, কাজেই ইসলামে পুরুষের ক্ষেত্রে চার জন স্ত্রী রাখার জন্যে প্রেম বা ভালবাসার চাহিদাকে গুরুত্ব না দিয়ে শুধু মাত্র জৈবিক ও অন্যান্য কারণেই চার বিয়ের অনুমতিকে শরিয়ত মতে বিধান রাখা হয়েছে।
প্রেম ও ভালবাসার প্রশ্ন যেখানে থাকে সেখানে একজন নারী কি পুরুষ কোন ভাবেই সেটা দুই জন বা তার অধিক কারুর সাথেই তা শরিকানা বা বখরা দিতে অপারগ, আধুনিক বিশ্ব সেটাকে গ্রহণ করতে পারে না, যা গণতন্ত্রের পরিপন্থী ও অসভ্যতা।

আমি চাই একজন পার্লারে কাজ করা নারী কপালে লাল টিপ, ঠোটে লিপস্টিক আর খোপাতে বেলী ফুলের মালা জড়িয়ে টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে দাড়িয়ে লক্ষ পুরুষের রক্ত চক্ষুকে উপেক্ষা করে দৃঢ়তার সাথে একদিন ঠিকই বলবে,
-“হ্যা অমিই সেই নারী যে কিনা মামুনুলের মতো একজন লম্পট ধর্ম ব্যাবসায়ীকে নিয়ে রিসোর্টে অভিসারে গিয়েছিলাম, মামুনুলের মতো আমারও অভিসারে যাবার আধিকার আছে, তারপর টিস্যু পেপারের মতো তাকে ছুড়ে ফেলে দিয়েছি।”
এই নারীরাই পার্লারে কাজ করার ফলে এই খাতে রাজস্ব আদায় হয় বছরে ৫০০ কোটি ডলার।
এখন পর্যন্ত কোন একটি পত্রিকা, কোন একজন সাংবাদিকও এই নারীর পক্ষে দুকলম লিখতে পারলো না।
ক্ষমা করবেন, অনেক কষ্ট পেয়ে কথাগুলো লিখলাম। নারীকেও মানুষের অধিকার নিয়ে বেচে থাকতে হবে।

–মাহবুব আরিফ কিন্তু।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

17 − 11 =