কসাই জেলা থেকে ভদ্র লোকের জেলা

২০০১সাল।
আগারগাও পাসপোট অফিসের বিপরীতে আদাবক্সের ব্যবসা শুরু করি জীবনের প্রথম। দিনকাল ভালই যাচ্ছিল সাথে ব্যবসাও। শেরে বাংলা ভয়েস, গালস, আগারগাও মহিলা কলেজ, পাসপোট অফিসের কমচারি, বলতে গেলে আশে পাশের সরকারীদল অফিসের লোকজন ছিল আমার লক্ষী। তখন দেখতে আমি তেমন সুন্দর ছিলাম না, দেখতে প্রায়ই গাঞ্জাখোরের মত। যাই হোক সবই আল্লাহ্‌ ইচ্ছা।

একদিন সকাল সকাল আগারগাও মহিলা কলেজের সাদা পরির (জুতা,ড্রেস এর কালার সাদা) দলের আগমন। ভাইয়া, এক্টা ইকনো ডিএক্স দেন, অন্য জন ভাইয়া দশ কপি করে দেন,অন্য জন ভাইয়া রাবার। সেইদিন ইকনোডিএক্স সাদা পরি আমারে টাকার ছলে এক্টা চিরকুট দেয়। চিরকুট এ লিখা ছিল “আপনি অনেক সুইট, আলাউদ্দিনের সুইট ভান্ডার”। চিরকুট টি পেয়ে পাচ মিনিট আমি আর গাঞ্জাখোরে মত ছিলাম না, নিজেকে তখন সালমান শাহ এর মত মনে হতে লাগল। পাচ মিনিট পর ঘোর কেটে গেলে পুইশাকের মত পুতাইয়া যাবার মত শুরু করি। খুব আবেগক্লান্ত নিয়ে পাশের ব্যবসায়ী রিপনকে জিজ্ঞাসা করি ভাগনে সাদা পরির মধ্যে ইকনোডিএক্স মেয়েটিকে চিনো ?

– মামা চিনিত
– নাম কি?
-নন্দনী
-বাসা কোথায়
-কলনির সি ব্লকে
-দেশের বাড়ি
-বিক্রমপুর
-বাবা কি করে
– কসাই
– গরু না খাশির
-খাশির, এত আগারগাও বাজারে
– ভাগনে যেতে চাই
– মামা বিক্রমপুর মানের কসাই লোকের জেলা।
এরপরের টা ইতিহাস হয়ে গেলো।

আমার প্রিয় মানুষটির বাড়ী বিক্রমুপর নাম নিপা পারভীন। বিক্রমপুর মানে ভদ্র লোকের জেলা।

 

শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published.