২২৮: তাবুক যুদ্ধ-১: নেপথ্য কারণ – ‘গুজবে অন্ধ-বিশ্বাস!’

“যে মুহাম্মদ (সাঃ) কে জানে সে ইসলাম জানে, যে তাঁকে জানে না সে ইসলাম জানে না।”

ইসলামের ইতিহাসে ‘তাবুক যুদ্ধ’ এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা; এতটায় গুরুত্বপূর্ণ যে এই যুদ্ধের প্রাক্কালে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ‘তাঁর আল্লাহর নামে’ এ সম্পর্কে কমপক্ষে সাতাত্তর-টি বানী বর্ষণ করেছিলেন, যা কুরআনের ‘সূরা আত তাওবাহই’ লিপিবদ্ধ আছে। ইসলামের ইতিহাসে ‘তাবুক যুদ্ধ’ এমনই একটি ঘটনা, যার পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনায় নবী মুহাম্মদ “কী প্রক্রিয়ায়” ওহী নাজিল করতেন, তার সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায় (পর্ব: ৭০)। [1]

তাবুক যুদ্ধটি হলো ‘সশরীরে উপস্থিত’ নবী মুহাম্মদের সর্বশেষ অভিযান (মাঘাজি)। এই যুদ্ধে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তাঁর জীবনের সর্ববৃহৎ ও সবচেয়ে সজ্জিত সেনাবাহিনী। আল-ওয়াকিদি (৭৪৭-৮২৩ সাল) ও আল-বালাধুরির (৮২০-৮৯২ সাল) বর্ণনা মতে, এই অভিযানে তাঁর সঙ্গে ছিল ত্রিশ হাজার অনুসারী ও তাঁর অশ্বারোহী সৈন্যদলে ছিল দশ হাজার ঘোড়া। তা সত্বেও তিনি এই অভিযানে ‘সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ’ হয়েছিলেন! [2]

নবী মুহাম্মদ তাঁর অতর্কিত মক্কা আক্রমণ ও বিজয়, অতঃপর হুনায়েন আগ্রাসন ও তায়েফ অবরোধ শেষে মদিনায় প্রত্যাবর্তন করেন হিজরি ৮ সালের জিলকদ মাসের শেষার্ধে, কিংবা জিলহজ মাসের শুরুতে (পর্ব: ১৮৭-২২০)। অতঃপর পরবর্তী পাঁচ মাস তিনি মদিনায় অবস্থান করেন ও অতঃপর হিজরি ৯ সালের রজব মাসে তিনি তাঁর অনুসারীদের বাইজেনটাইন (পূর্ব রোমান) সম্রাটের বিরুদ্ধে অভিযানের প্রস্তুতি গ্রহণের হুকুম জারী করেন। ইসলামের ইতিহাসে যা ‘তাবুক যুদ্ধ (অভিযান)’ নামে সুবিখ্যাত। আদি উৎসের প্রায় সকল বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকই এই যুদ্ধের কারণ ও প্রেক্ষাপট, প্রস্তুতি-কাল, পরিচালনা ও প্রত্যাবর্তন-কাল ও এই অভিযান শেষে মুহাম্মদের মদিনায় প্রত্যাবর্তন-পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহের বর্ণনা বিভিন্নভাবে তাঁদের নিজ নিজ ‘পূর্ণাঙ্গ সিরাত’ ও হাদিস গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন।

আল-তাবারীর (৮৩৯ সাল-৯২৩ সাল) বর্ণনা: [3] [4] [5]
(মুহাম্মদ ইবনে ইশাক ও আল-ওয়াকিদির বর্ণনা, আল-তাবারীর বর্ণনারই অনুরূপ)
পূর্ব প্রকাশিতের (পর্ব: ২২৭) পর:

‘এই বছর [হিজরি ৯ সাল], আল্লাহর নবী ‘তাবুকে’ সামরিক অভিযান পরিচালনা করেন।

‘ইবনে হুমায়েদ < সালামাহ < মুহাম্মদ ইবনে ইশাক [হইতে বর্ণিত]: আল-তায়েফ থেকে প্রত্যাবর্তনের পর, আল্লাহর নবী [হিজরি ৮সালের] জিলহজ মাস থেকে [হিজরি ৯ সালের] রজব মাস পর্যন্ত (১৯শে মে – ১৪ই অক্টোবর, ৬৩১ সাল) মদিনায় অবস্থান করেন; অতঃপর তিনি তার লোকদের এই আদেশ করেন যে তারা যেন বাইজেনটাইনদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি গ্রহণ করে। [6]

ইবনে হুমায়েদ < সালামাহ < মুহাম্মদ ইবনে ইশাক < আল-জুহরী <ইয়াজিদ বিন রুমান <আবদুল্লাহ বিন আবু বকর <আসিম বিন কাতাদা ও অন্যান্যদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বর্ণিত: [7]

‘প্রত্যেকেই তাবুক অভিযান সম্পর্কে যা কিছু জনাতো, তা তারা বর্ণনা করেছে; কিছু লোক যে বিবৃতি পেশ করেছে, অন্যরা তা করে নাই। তবে সমস্ত বিবরণীতেই যা তারা একমত, তা হলো, আল্লাহর নবী তাঁর সঙ্গীদের বাইজেন্টাইনদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি গ্রহণের আদেশ জারী করেছিলেন। এটি ছিল সেই মৌসুম যখন লোকেরা ছিল খুবই কষ্টে; গরম ছিল প্রচণ্ড ও দেশটি অতিবাহিত হচ্ছিল খরা-পীড়িত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে। সেই সময়, ফলগুলি ছিল পরিপক্ব ও ছায়া বিশিষ্ট স্থানগুলো (shade) ছিল আকাঙ্ক্ষিত। লোকেরা ভালোবাসতো সেই স্থানে থাকতে যেখানে আছে ছায়া ও ফল (গাছ) ও এই স্থানগুলো পরিত্যাগ করতে লোকেরা বিরক্তি-বোধ করতো।

আল্লাহর নবী কোন সামরিক অভিযানে যাত্রার প্রাক্কালে (জনসমক্ষে) তাঁর অভীষ্ট স্থানটির ঘোষণা না দিয়ে অন্য কোন স্থানের ইঙ্গিত প্রদান না করে কদাচিৎ গমন করতেন। তাবুক অভিযান ছিল তার ব্যতিক্রম; এতে তিনি (অভিযানের বিবরণ প্রকাশ্যে) জনগণকে ব্যাখ্যা করেন। এটি এই কারণে যে এর পথ ছিল সুদীর্ঘ, মৌসুমটি ছিল কঠিন ও শত্রুরা ছিল অধিক সংখ্যক। তিনি চেয়েছিলেন যে লোকেরা পুরোপুরি প্রস্তুত থাকুক; তাই তিনি তাদের প্রস্তুত হওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন ও তাদের অবহিত করেন যে তাঁর উদ্দেশ্য হলো বাইজেন্টাইন। তারা সেই পন্থা ও প্ররোচনা, পাশাপাশি বাইজেন্টাইনদের প্রতি তাদের সম্মান ও লড়াইয়ের ক্ষমতাটি, পছন্দ না করা সত্বেও নিজেদের প্রস্তুত করে।’

আল-ওয়াকিদির (৭৪৭-৮২৩ সাল) বিস্তারিত ও অতিরিক্ত বর্ণনা: [5]

‘বর্ণিত আছে যে আবুল কাসেম বিন আবি হায়া বর্ণনা করেছে, সে বলেছে: আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন শুজা আমাদের জানিয়েছে যে আল-ওয়াকিদি আমাদের-কে যা জানিয়েছে, তা হলো: ‘উমর বিন উসমান বিন আবদুর রহমান বিন সাইদ, আবদুল্লাহ বিন জাফর আল-যুহরি, মুহাম্মদ বিন ইয়াহিয়া, ইবনে আবি হাবিবা, রাবিয়া বিন উসমান, আবদ আল-রহমান বিন আবদ আল-আযিয বিন আবি কাতাদা, আবদুল্লাহ বিন আবদ আল-রহমান আল-জুমাহি; এবং উমর বিন সুলায়েমান বিন আবি হাথমা, মুসা বিন মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম, আবদ আল-হামিদ বিন জাফর, আবু মাশার, ইয়াকুব বিন মুহাম্মদ বিন আবি সা’সা, ইবনে আবি সাবরা ও আইয়ুব বিন আল-নুমান; এদের সকলেই আমাকে ‘তাবুক’ সম্পর্কিত উপাখ্যানের অংশগুলো বর্ণনা করেছে। তাদের কিছুলোক অন্যদের চেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য; এ ছাড়াও আমাকে অবহিত করছে নির্ভরযোগ্য অন্যরা, যাদের নাম উল্লেখ করা হয় নাই। তারা আমাকে যা বর্ণনা করেছে, তার সমস্তই আমি লিপিবদ্ধ করেছি।

তারা বলেছে: ‘সাকিতা (Sāqiṭa)’ লোকেরা – যারা ছিল ‘নাবাতিয়ান’- জাহেলিয়া ও ইসলাম পরবর্তী সময়ে ময়দা ও তেল সামগ্রী নিয়ে মদিনায় উপস্থিত হতো। প্রকৃতপক্ষে প্রতিদিনই মুসলমানদের কাছে আল-শাম [প্রাচীন সিরিয়া] অঞ্চলের খবর আসতো। যে লোকগুলো তদের কাছে উপস্থিত হতো, তাদের অনেকেই আসতো নাবাতিয়া থেকে। [8]

একদল লোকের আগমন ঘটে, যারা উল্লেখ করে যে বাইজেন্টাইনদের অনেকগুলো দল আল-শামে জড়ো করা হয়েছে ও হিরাক্লিয়াস [পর্ব: ১৬৪-১৭১] তার সহচরদের জন্য এক বছরের রসদ সরবরাহ করেছে। লাখামিদ, জুধাম, ঘাসান ও আমিলা সম্প্রদায়ের লোকেরা তার নিকটে জড়ো হয়েছে। তারা দৃঢ়ভাবে অগ্রসর হয়েছে ও তাদের নেতারা তাদের-কে ‘আল-বালকায় (al-Balqā)’ নিয়ে এসেছে, যেখানে তারা শিবির স্থাপন করেছে। হিরাক্লিয়াস তাদের পিছনে ‘হিমসে (Ḥimṣ)’ অবস্থান করছে।

এই খবরটির কোনও সত্যতা ছিল না, বরং তাদেরকে এমন কিছু বলা হয়েছিল যা তারা পুনরাবৃত্তি করেছিল।

মুসলমানদের কাছে তাদের চেয়ে ভয়ঙ্কর কোন শত্রু ছিল না। এটি এই কারণে যে তারা তাদের-কে এমনটিই দেখেছিল, যখন তারা তাদের বৃহৎ প্রস্তুতি, সংখ্যা ও ভেড়াগুলো নিয়ে ব্যবসায়ী হিসাবে উপস্থিত হতো।‘ —–

‘আল্লাহর নবী বিভিন্ন উপজাতি ও মক্কার লোকদের কাছে লোক পাঠান ও তাদের-কে এই অনুরোধ করেন যে তারা যেন অভিযানে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে। তিনি বুরায়েদা বিন আল-হুসায়েব কে আল-ফুরে অবস্থিত আসলামদের [গোত্র] কাছে প্রেরণ করেন। তিনি আবু রুহম আল-ঘিফারি কে তার লোকাদের কাছে প্রেরণ করেন, এই উদ্দেশ্যে যে, সে যেন তাদের এলাকায় তাদের সন্ধান করে। আবু ওয়াকিদ আল-লেইথি তার লোকদের নিয়ে যাত্রা শুরু করে ও আবু জাদ আল দামরি তার উপকূলের লোকদের নিয়ে রওনা হয়। তিনি রাফি বিন মাকিথ ও জুনদুব বিন মাকিথ কে জুহায়েনাদের [গোত্র] সাথে প্রেরণ করেন। তিনি নুয়াম বিন মাসুদ কে আশজায়িদের [গোত্র] সাথে প্রেরণ করেন; তিনি বুদায়েল বিন ওয়ারকা, আমির বিন সালিম ও বুশর বিন সুফিয়ান কে বানু কা’ব বিন আমরদের [গোত্র] সাথে প্রেরণ করেন। তিনি আল-আব্বাস বিন মিরদাস সহ অনেককে সুলায়েমদের [গোত্র] সাথে প্রেরণ করেন।’

যুদ্ধ ও জিহাদের প্ররোচনা ও সাদাকা আদায়: [9] [10]

‘আল্লাহর নবী মুসলমানদের যুদ্ধ ও জিহাদের জন্য প্ররোচিত করেন ও তিনি তাদের-কে এই সম্পর্কে উত্তেজিত করেন। তিনি তাদেরকে সাদাকা (ṣadaqa) প্রদানের আদেশ করেন, অতঃপর তাদের অনেক সাদাকা প্রদান করে। যে ব্যক্তিটি সর্বপ্রথম সাদাকা প্রদান করে সে হলো আবু বকর আল-সিদ্দিক। সে তার সম্পদ নিয়ে আসে, চার হাজার দিরহামের সমস্তই। আল্লাহর নবী বলেন, “তুমি কি কিছু রেখে দিয়েছ?” সে জবাবে বলে, “আল্লাহ ও তাঁর নবীই সবচেয়ে ভাল জানেন!”

উমর তার সম্পদের অর্ধেক নিয়ে আসে। আল্লাহর নবী বলেন, “তুমি কি কিছু রেখে দিয়েছ? উমর জবাবে বলে, “হ্যাঁ. আমি যা নিয়ে এসেছি তার অর্ধেক।” উমর যখন জানতে পারে যে আবু বকর কী নিয়ে এসেছে, সে বলে, “যখনই আমরা ভাল কাজ করার প্রতিযোগিতা করি, তখনই সে আমাকে সেটিতে পরাজিত করে।”

আব্বাস বিন আবদ আল-মুত্তালিব ও তালহা বিন উবায়েদুল্লাহ আল্লাহর নবীর কাছে তাদের সম্পদ নিয়ে আসে। আবদুর রহমান বিন আউফ আল্লাহর নবীর কাছে নিয়ে আসে দুই শত পরিমাপ; সা”দ বিন উবাদা ও মুহাম্মদ বিন মাসলামা তাদের সম্পদ নিয়ে আসে। আসিম বিন আদি সাদাকা হিসাবে নিয়ে আসে নব্বুই পরিমাপ খেজুর।

উসমান বিন আফফান ঐ সেনাবাহিনীর এক তৃতীয়াংশ ব্যয় সরবরাহ করে। সে ব্যয় করে সবচেয়ে বেশি, যতক্ষণে না সেনাবাহিনীর সরবরাহ পর্যাপ্ত হয়; বলা হয়েছে যে প্রতিটি প্রয়োজন মেটানো হয়েছিল। এমনকি সে তাদের পানির পাত্রগুলির জন্য দড়িও সরবরাহ করেছিল। যা বলা হয়েছে: সেই সময় আল্লাহর নবী সত্যিই যা বলেছিলেন, তা হলো,

“এর পরে, উসমান যা কিছুই করুক না কেন তা তার কোনই ক্ষতির কারণ হবে না!”

ধনীরা মঙ্গল ও কল্যাণ কামনা করে। তারা পরকালের জন্য তাদের কল্যাণের হিসাব করে। তারা তাদের মধ্যে যারা দুর্বল তাদের শক্তিবৃদ্ধি করে, যতক্ষণে না সত্যিই এক লোক এক উটকে এক বা দু’টি লোকের কাছে নিয়ে আসে ও বলে, “তোমরা দু’জন পালাক্রমে এই উটটি ব্যবহার করো।’ লোকেরা টাকা-পয়সা নিয়ে এসেছিল ও যারা বাইরে যাচ্ছিলো তাদেরকে তা দান করেছিল।

এমনকি মহিলারাও যা পেরেছিল তা দান করেছিল। উম্মে সিনান আল-আসলামি বলেছে: আমি সত্যিই দেখেছি যে আয়েশার গৃহের সামনে আল্লাহর নবীর সম্মুখে একটি চাদর বিছানো ছিল ও যাতে ছিল ব্রেসলেট, চুড়ি, পায়ের মল, কানের দুল, আংটি ও চামড়ার ফিতা; যা মহিলারা মুসলমানদের প্রস্তুতির জন্য তাঁর নিকট অর্পণ করেছিল।’ —

– অনুবাদ, টাইটেল ও [**] যোগ – লেখক।

ইসলামের ইতিহাসের সবচেয়ে আদি উৎসের ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় যে বিষয়টি অত্যন্ত সুস্পষ্ট, তা হলো: নবী মুহাম্মদ বাইজেন্টাইনদের ‘আক্রমণ প্রস্তুতির’ যে খবরটি পেয়েছিলেন, তা ছিল সম্পূর্ণরূপে ভিত্তিহীন ও মিথ্যা! সেটি ছিল ‘গুজব’!

“তথাপি নবী মুহাম্মদ ‘এই গুজবটি-কে’ সত্য জ্ঞানে বিশ্বাস করেছিলেন।”

মুহাম্মদের এই মিথ্যা-বিশ্বাস এতটাই গভীর ছিল যে, তিনি এই ‘গুজবের’ মোকাবিলায় কীভাবে দিকে দিকে খবর পাঠিয়ে প্রচণ্ড খরা-পীড়িত ও অসহ্য গরমের সেই মৌসুমটিতে তাঁর অনুসারীদের সমবেত করেছিলেন; অতঃপর তিনি কীভাবে তাঁদের কাছ থেকে সাদাকা নামে যুদ্ধের খরচ ও সরবরাহ জোগাড় করেছিলেন; অতঃপর তিনি কীভাবে এক বিশাল সেনাবাহিনী নিয়ে মদিনা থেকে বহুদূরের পথ পাড়ি দিয়ে বাইজেন্টাইনদের আক্রমণের পরিকল্পনা করেছিলেন; তা আদি উৎসের ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় সুস্পষ্ট। তাঁর এই মিথ্যা-বিশ্বাস ও কর্মকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল তাঁরই অনুসারীরা।

‘কুরআন’ ও আদি উৎসের সকল বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকদের বর্ণনায় যা আমরা নিশ্চিতরূপে জানি, তা হলো: নবী মুহাম্মদের এই ‘চরম ভুলটি’ সংশোধন করতে তাঁর আল্লাহ কোন ঐশী-বাণী প্রেরণ করেন নাই!

সুতরাং প্রশ্ন হলো, “মিথ্যা-কে সত্য জ্ঞানে দৃঢ়-বিশ্বাসী মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহর এহেন সহিংস আচরণের জন্য কে দায়ী? স্বয়ং মুহাম্মদ? না কি তাঁর আল্লাহ?”

[ইসলামী ইতিহাসের ঊষালগ্ন থেকে আজ অবধি প্রায় প্রতিটি ইসলাম বিশ্বাসী প্রকৃত ইতিহাস জেনে বা না জেনে ইতিহাসের এ সকল অমানবিক অধ্যায়গুলো যাবতীয় চতুরতার মাধ্যমে বৈধতা দিয়ে এসেছেন। বিষয়গুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিধায় বাংলা অনুবাদের সাথে আল-ওয়াকিদির মূল ইংরেজি অনুবাদের প্রাসঙ্গিক অংশটি সংযুক্ত করছি; আল তাবারী ও ইবনে ইশাকের রেফারেন্স: বিনামূল্যে ইন্টারনেট ডাউন-লোড লিংক তথ্যসূত্র নম্বর তিন ও চার]

The narratives of Al-Waqidi: [5]

‘It was recited according to Abū 1-Qasim b. Abī Ḥayya, who said: Abū ‛Abdullah Muḥammad b. Shujā‛ related to us that al-Wāqidī related to us that ‛Umar b. ‛Uthmān b. ‛Abd al-Raḥmān b. Sa‛īd, ‛Abdullah b. Ja‛far al-Zuhrī, Muḥammad b. Yaḥyā, Ibn Abī Ḥabība, Rabī‛a b. ‛Uthmān,‛Abd al-Raḥmān b. ‛Abd al-‛Azīz b. Abī Qatāda, ‛Abdullah b. ‛Abd al-Raḥmān al-Jumahī, and ‛Umar b. Sulaymān b. Abī Ḥathma, Mūsā b. Muḥammad b. Ibrāhīm, ‛Abd al-Ḥamīd b. Ja‛far, Abū Ma‛shar, Ya‛qūb b. Muḥammad b. Abī Ṣa‛ṣa‛a, Ibn Abī Sabra and Ayyūb b. al-Nu‛mān, all of them related portions of this tradition about Tabūk to me. Some of them are more reliable than others, and others not named, who are reliable, informed me as well. I have written all that they related to me.

They said: The Sāqiṭa—they were Nabateans—arrived in Medina with flour [Page 990] and oil in jahilīyya and after Islam arrived. Indeed there was news of al-Shām with the Muslims every day. Many of those who came to them were from Nabatea. A group arrived which mentioned that the Byzantines had gathered many groups in al-Shām, and that Heraclius had provisioned his companions for a year. The Lakhmids, Judhām, Ghassān and ‛Āmila had gathered to him. They marched and their leaders led them to al-Balqā’ where they camped. Heraclius stayed behind in Ḥimṣ. That was not a fact, but rather something that was said to them that they repeated. There was not an enemy more fearful to the Muslims than them. That was because of what they saw of them, when they used to arrive as merchants, of preparedness, and numbers, and sheep. —–

The Messenger of God sent to the tribes and to Mecca asking them to prepare themselves to go raiding. He sent Burayda b. al-Ḥuṣayb to the Aslam in al-Fur‛. He sent Abū Ruhm al-Ghifārī to his people to find them in their land. Abū Wāqid al-Laythī set out with his people, and Abū Ja‛d al-Ḍamrī set out with his people in the coast. He sent Rāfi‛ b. Makīth and Jundub b. Makīth with the Juhayna. He sent Nu‛aym b. Mas‛ūd with the Ashja‛ī; he sent Budayl b. Warqā’, ‛Amr b. Sālim and Bushr b. Sufyān with the Banū Ka‛b b. ‛Amr. He sent many with the Sulaym including al-‛Abbās b. Mirdās.

The Messenger of God incited the Muslims [Page 991] to battle and jihād, and he excited them about it. He commanded them to pay the ṣadaqa, and they collected much ṣadaqa. The first of those to convey ṣadaqa was Abū Bakr al-Ṣiddīq. He brought his property, all of four thousand dirham. The Messenger of God said, “Have you kept something?” He replied, “God and his Messenger know best!” ‛Umar brought half his property. The Messenger of God said, “Did you keep something?” ‛Umar replied, “Yes. Half of what I brought.” When ‛Umar learned of what Abū Bakr brought he said, “Whenever we compete to do good, he beats me to it.” ‛Abbās b. ‛Abd al-Muṭṭalib and Ṭalḥa b. ‛Ubaydullah brought property to the Messenger of God. ‛Abd al-Raḥmān b. ‛Awf brought the Messenger of God two hundred measures; Sa‛d b. ‛Ubāda and Muḥammad b. Maslama brought property. ‛Āṣim b. ‛Adī brought ninety measures of dates as ṣadaqa. ‛Uthmān b. ‛Affān supplied a third of that army.

He spent the most, until that army had sufficient supplies, and it was said that every need was met. He even provided the ropes for their water containers. It was said: Indeed the Messenger of God said at that time, “After this, nothing will harm ‛Uthmān whatever he does!”

The wealthy desired goodness and well being. They estimated their well being for the next life. They strengthened those who were weak among them, until indeed a man brought a camel to the man or two men saying, “Take turns on this camel between you.” The man would bring payment and give it to some who were going out.

Even the women would offer whatever they could. [Page 992] Umm Sinān al-Aslamī said: Indeed I saw a garment laid out in front of the Messenger of God in the house of ‛Ā’isha and in it were bracelets, bangles, anklets, earrings, rings and thongs from what the women were sending him to offer to the Muslims in their preparations.’——

(চলবে)

তথ্যসূত্র ও পাদটীকা:

[1] “কিতাব আল-মাগাজি”- লেখক: আল-ওয়াকিদি, ভলুম ৩; পৃষ্ঠা ১০৬০- ১০৭৬, ইংরেজি অনুবাদ: Rizwi Faizer, Amal Ismail and Abdul Kader Tayob, পৃষ্ঠা ৫১৯-৫২৭
https://books.google.com/books?id=gZknAAAAQBAJ&printsec=frontcover&dq=kitab+al+Magazi-+Rizwi+Faizer,+Amal+Ismail+and+Abdul+Kader+Tayob&hl=en&sa=X&ved=0ahUKEwjo7JHd7JLeAhUkp1kKHTmLBGcQ6AEIKzAB#v=onepage&q&f=false

“তাবুক যুদ্ধের প্রাক্কালে সূরা তাওবাহ (নাজিলের সময়ের ক্রমানুসারে এটি হলো সর্বশেষ “নির্দেশ-যুক্ত” সুরা, সুরা নম্বর ১১৩; বর্তমান কুরআনে নম্বর ৯) নাজিল-কৃত আয়াতগুলো হলো: ৩৮-৩৯; ৪০-৪৫; ৪৭-৬৯; ৭৩-৭৪; ৭৫-৮২; ৮৪; ৮৬-৮৭; ৯০-১১১; ১১৩-১১৪; ১১৭-১১৮; ১২০-১২৪; ও ১২৬-১২৭ (মোট ৭৭টি আয়াত)।”
*এই সুরার শেষের দু’টি আয়াত (১২৮-১২৯) মক্কায় অবতীর্ণ।

কুরআনের উদ্ধৃতি ফাহাদ বিন আবদুল আজিজ কর্তৃক বিতরণকৃত তরজমা থেকে নেয়া। অনুবাদে ত্রুটি-বিচ্যুতির দায় অনুবাদকারীর। http://www.quraanshareef.org/
কুরআনের ছয়জন বিশিষ্ট ইংরেজি অনুবাদকারীর ও চৌত্রিশ-টি ভাষায় পাশাপাশি অনুবাদ: https://quran.com/

[2] Ibid আল-ওয়াকিদি: পৃষ্ঠা ১০০২ ও ১০৪১, ইংরেজী অনুবাদ পৃষ্ঠা ৪৯১ ও ৫১০
“আল-ওয়াকিদির (ও আল-বালাধুরির [আনসাব ১, পৃষ্ঠা ৩৬৮] বর্ণনায় এই অভিযানে তাঁর সঙ্গে ছিল ত্রিশ হাজার অনুসারী ও তাঁর অশ্বারোহী সৈন্যদলে ছিল দশ হাজার ঘোড়া।

[3] “তারিক আল রসুল ওয়াল মুলুক”- লেখক: আল-তাবারী; ভলুউম ৯, পৃষ্ঠা ৪৬-৪৮
https://onedrive.live.com/?authkey=%21AJVawKo7BvZDSm0&cid=E641880779F3274B&id=E641880779F3274B%21294&parId=E641880779F3274B%21274&o=OneUp

[4] অনুরূপ বর্ণনা: মুহাম্মদ ইবনে ইশাক: পৃষ্ঠা ৬০২
http://www.justislam.co.uk/images/Ibn%20Ishaq%20-%20Sirat%20Rasul%20Allah.pdf

[5] Ibid আল-ওয়াকিদি: পৃষ্ঠা ৯৮৯-৯৯২, ইংরেজি অনুবাদ: পৃষ্ঠা ৪৮৫-৪৮৬
[6] Ibid আল-তাবারী; নোট নম্বর ৩৩৮: তাবুক- “আরবের উত্তর সীমান্তের একটি শহর, এর বাইরে শুরু হয়েছিল বাইজেন্টাইনদের অঞ্চল। এটি ছিল তীর্থযাত্রীদের যাত্রা-পথে দামেস্ক ও মদিনার মধ্যবর্তী একটি ঘাঁটি।’
[7] Ibid আল-তাবারী; নোট নম্বর ৩৪০: “ইয়াজিদ বিন রুমান আল-আসাদি হিজরি ১৩০ সালে (৭৪৭-৭৪৮ খ্রিস্টাব্দ) মৃত্যুবরণ করেন।”
[8] নাবাতিয়ান: ‘এক প্রাচীন আরবিয় জনগুষ্টি, যারা ছিল উত্তর আরব ও পশ্চিম এশিয়ার পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় এলাকার (‘The Levant’: বর্তমান সিরিয়া, লেবানন, জর্ডান, ইসরায়েল, প্যালেস্টাইন ও তুরস্কের বেশীর ভাগ এলাকা) দক্ষিণাঞ্চলের অধিবাসী।’
[9] অনুরূপ বর্ণনা- Ibid মুহাম্মদ ইবনে ইশাক: পৃষ্ঠা ৬০৩
[10] অনুরূপ বর্ণনা – Ibid আল-তাবারী: পৃষ্ঠা ৪৯

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 5 = 3