২৩০: তাবুক যুদ্ধ-৩: ‘অশ্রুপাতকারী সাত’ ও অন্যান্য!

“যে মুহাম্মদ (সাঃ) কে জানে সে ইসলাম জানে, যে তাঁকে জানে না সে ইসলাম জানে না।”

‘কুরআন’ ও ইসলামের ইতিহাসের সবচেয়ে আদি উৎসের মুসলিম ঐতিহাসিকদেরই লিখিত ‘সিরাত ও হাদিস’ গ্রন্থের বর্ণনায় আমরা জানতে পারি, তাবুক যুদ্ধের প্রাক্কালে নবী মুহাম্মদের বেশ কিছু অভাব-গ্রস্ত অনুসারী তাঁর নিকট সওয়ারি পশু-প্রাপ্তির আবেদন নিয়ে হাজির হয়েছিলেন। তারা ছিলেন হত-দরিদ্র! যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় বাহন ও সম্পদ তাঁদের ছিল না। তাঁদের প্রত্যাশা ছিল এই যে তিনি তাদের-কে এই যুদ্ধে যাতায়াতের কোন বাহন দান করবেন।

কী ছিল সেই ঘটনা ও সেই ঘটনাটি-কে কেন্দ্র করে স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) “তাঁর আল্লাহর” নামে কোন ঐশী বাণীর অবতারণা করেছিলেন, তা আদি উৎসের প্রায় সকল মুসলিম ঐতিহাসিকই তাঁদের নিজ নিজ ‘পূর্ণাঙ্গ’ সিরাত ও হাদিস গ্রন্থে বিভিন্নভাবে লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন।

আল-তাবারীর (৮৩৯ সাল-৯২৩ সাল) বর্ণনা: [1] [2] [3]
(মুহাম্মদ ইবনে ইশাক ও আল-ওয়াকিদির বর্ণনা, আল-তাবারীর বর্ণনারই অনুরূপ)
পূর্ব প্রকাশিতের (পর্ব: ২২৯) পর:

‘আনসার ও অন্যান্যদের মধ্যে থেকে সাত জন মুসলমান, যারা “অশ্রুপাতকারী (The Weepers)” নামে পরিচিত, আল্লাহর নবীর কাছে আসে ও এই আবেদন করে যে তিনি যেন তাদের-কে সওয়ারি পশু সরবরাহ করেন; কারণ তাদের কোন সওয়ারি পশু ছিল না। তিনি বলেন, “আমার নিকট এমন কোন সওয়ারি পশু নাই যা আমি তোমাদের দান করবো।” তারা ফিরে যায় ও তাদের চোখে অশ্রু প্রবাহিত হয় এই দুঃখে যে (এই অভিযানের) ব্যয় বহনের সামর্থ্য তাদের ছিল না (কুরআন: ৯:৯২)।

ইবনে ইশাকের বর্ণনা: ‘আমি যে তথ্য পেয়েছি, তা হলো, আবু লায়লা আবদ-আল রহমান বিন কা’ব ও আবদুল্লাহ বিন মুঘাফাল যখন কান্না করছিল, তখন ইয়ামিন বিন উমায়ের বিন কা’ব আল-নাদরি তাদের সাথে সাক্ষাত করে ও জিজ্ঞাসা করে, “তোমাদের এ কান্নার কারণ কী?” তারা জবাব দেয়, “আমরা আল্লাহর নবীর কাছে গিয়েছিলাম ও (তাঁর কাছে) সওয়ারি পশুর আবেদন করেছিলাম, কিন্তু তাঁর কাছে তা ছিল না; আর আমাদের এমন সামর্থ্য নাই যা তাঁর সাথে এ যাত্রায় আমাদের সহায়ক হবে।” অতঃপর সে তাদেরকে (কুপ থেকে) পানি বহনকারী এক উট প্রদান করে ও তারা সেটির উপর সওয়ার হয়। সে তাদেরকে কিছু খেজুর সরবরাহ করে, অত:পর তারা আল্লাহর নবীর সাথে যাত্রা করে।”’

ইবনে ইশাকের অতিরিক্ত বর্ণনা: [2]
(আল-ওয়াকিদির বর্ণনা, ইবনে ইশাকের বর্ণনারই অনুরূপ) [3]

আনসার ও বানু আউফ গোত্রের অন্যান্য সাত জন মুসলমান, যারা “অশ্রুপাতকারী” নামে পরিচিত, আল্লাহর নবীর কাছে এসে এই আবেদন করে যে তিনি যেন তাদের-কে সওয়ারি পশু সরবরাহ করেন; কারণ তাদের সওয়ারি কোন পশু ছিল না। তাদের নামগুলো হলো:

[১] সালিম বিন উমায়ের;
[২] উলবা বিন যায়েদ, বানু হারিথা গোত্রের এক ভাই;
[৩] আবু লায়লা আবদুল রহমান বিন কা’ব, বানু মাযিন বিন আল-নাজ্জার গোত্রের ভাই;
[৪] আমর বিন হুমাম আল-জামুহ, বানু সালিমা গোত্রের এক ভাই;
[৫] আবদুল্লাহ বিন আল-মুঘাফফাল আল-মুযানি (কিংবা বিন আমর);
[৬] হারামিয় বিন আবদুল্লাহ, বানু ওয়াকিফ গোত্রের এক ভাই; ও
[৭] ইরবাদ বিন সারিয়া আল-ফাযারি।’——-

আল-ওয়াকিদির (৭৪৭-৮২৩ সাল) বিস্তারিত ও অতিরিক্ত বর্ণনা: [3] [2]

‘সে বলেছে: ‘অশ্রুপাতকারী’ লোকদের (বাক্কাউন) আগমন ঘটে ও তারা তাঁর কাছে সওয়ারি পশুর আবেদন করে। তাদের সংখ্যা ছিল সাত জন। তারা ছিল অভাবী মানুষ। আল্লাহর নবী বলেন:

“–আমার কাছে এমন কোন বস্তু নেই যে, তার উপর তোমাদের সওয়ার করাব তখন তারা ফিরে গেছে অথচ তখন তাদের চোখ দিয়ে অশ্রু বইতেছিল” —(কুরআন: ৯:৯২)” এখান থেকে এই আয়াতের শেষ পর্যন্ত [“এ দুঃখে যে, তারা এমন কোন বস্তু পাচ্ছে না যা ব্যয় করবে।”]। [4]

তারা ছিল বানু আউফ গোত্রের সাত জন লোক:
[১] সালিম বিন উমায়ের, যে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল ও তার সম্পর্কে আমাদের মধ্যে কোনও মতপার্থক্য নেই।
[২] বানু ওয়াকিফ গোত্রের হারামিয় বিন আমর;
[৩] বানু হারিথা গোত্রের উলবা বিন যায়েদ; সে ছিল এমন এক ব্যক্তি যে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরবরাহ করতো। কারণ আল্লাহর নবী সাদাকা দানের আদেশ জারী করেছিলেন। লোকেরা তা আনতে শুরু করে ও উলবা এসে বলে: “হে আল্লাহর রাসূল, আমার কাছে এমন কিছু নাই যা আমি সদকা হিসাবে দান করতে পারি, তবে আমি আমার জিনিসপত্রগুলো উপস্থিত করবো। আল্লাহর নবী বলেন, “আল্লাহ তোমার সাদাকা কবুল করেছে।”
[৪] আর ছিল বানু মাযিন বিন আল-নাজ্জার গোত্রের আবু লায়লা আবদুল রহমান বিন কা’ব।
[৫] বানু সালিমা গোত্রের আমর বিন উতবা।
[৬] বানু যুরায়েক গোত্রের সালামা বিন সাখর।
[৭] বানু সুলায়েম গোত্রের ইরবাদ বিন সারিয়া আল-ফাযারি।’

এরাই ছিল নিশ্চিত, যা আমরা শুনেছি।

কিছু লোক বলেছে: ‘আবদুল্লাহ বিন আল-মুঘাফফাল আল-মুযাননি ও আমর বিন আউফ আল-মুযাননি ও অন্যরা যা বলেছে, তা হলো: “তারা ছিল মুযাননার বানু মুকাররিন গোত্রের লোক।” যখন কান্নাকারীরা, বাক্কাউন, আল্লাহর নবীর কাছ থেকে প্রস্থান করে, তিনি তাদের জানান যে তাদের জন্য তিনি কোন সওয়ারি পশু খুঁজে পান নাই, কারণ তাদের কামনা ছিল পশু।

আবু লায়লা আল-মাযিনি ও আবদুল্লাহ বিন মুঘাফাল যখন কান্না করছিল, তখন ইয়ামিন বিন উমায়ের বিন কা’ব বিন শিবল আল-নাদরি তাদের সাথে সাক্ষাত করে। সে বলে, “কেন তোমরা কান্না করছো?” তারা বলে, “আমরা আমাদের সওয়ারি পশুর জন্য আল্লাহর নবীর কাছে এসেছিলাম ও আমরা তা পাই নাই। আমাদের কাছে বাইরে বেরোনোর জন্য পর্যাপ্ত টাকা-পয়সা নেই, আর আল্লাহর নবীর সাথে হামলায় অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকা-কে আমরা খুব ঘৃণা করি।”

তাই ইয়ামিন তার এক পানি-বাহী উট তাদের কে প্রদান করে, তারা সেটির উপর সওয়ার হয়। সে তাদের প্রত্যেক-কে দুই ওজন পরিমাণ খেজুর সরবরাহ করে। দুজন আল্লাহর নবীর সাথে যাত্রা শুরু করে।

আল-আব্বাস বিন আবদুল মুত্তালিব দু’জন লোকের জন্য একটি পশু সরবরাহ করে। উসমান তিনজন লোকের জন্য সওয়ারি পশু সরবরাহ করে, যা সেনাবাহিনীকে সে আগে যা সাহায্য করেছিল তার চেয়ে অতিরিক্ত।’

সহি বুখারি: ভলুম ৫, বই নম্বর ৫৯, হাদিস নম্বর ৬৯৯: [5] [6]

‘আবু মুসা হইতে বর্ণিত: আমার কিছু সঙ্গীরা আমাকে আল্লাহর নবীর নিকট এই কারণে প্রেরণ করে যে আমি যেন তাঁর কাছে পশুর আবেদন করি যাতে তারা তার উপর সওয়ার হতে পারে, কারণ তারা উশরার সেনাবাহিনীতে যোগদান করছিল; ও তা ছিল তাবুকের গাজওয়া (যুদ্ধ)। আমি বলি, “হে আল্লাহর নবী! আমার সঙ্গীরা আমাকে আপনার কাছে প্রেরণ করেছে যেন আপনি তাদের চলাফেরার জন্য কোন সওয়ারি সরবরাহ করেন।”

তিনি বলেন, “আল্লাহর কসম! আমি তোমাকে সওয়ারের জন্য কোন কিছুই সরবরাহ করবো না।” যা ঘটেছিল তা হলো, আমি যখন তার কাছে পৌঁছেছিলাম তখন তিনি ছিলেন রাগান্বিত মেজাজে, যা আমি লক্ষ্য করি নাই। তাই আমি বিষণ্ণ চিত্তে আল্লাহর নবীর কাছ থেকে ফিরে আসি, এই কারণে যে, নবী আমাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন; কারণ, আমি ভীত ছিলাম এই ভেবে যে নবী হয়তো আমার উপর ‘রাগান্বিত।’ অতঃপর আমি আমার সঙ্গীদের কাছে ফিরে আসি ও নবী যা বলেছেন তা আমি তাদেরকে অবহিত করায়।

অল্প কিছু সময় অতিবাহিত হওয়ার পর আমি বেলালের ডাক শুনতে পাই, “হে আবদুল্লাহ বিন কায়েস!” আমি তার ডাকের জবাব দেই। বেলাল বলে, “আল্লাহর নবীর আহ্বানে সাড়া দাও, তিনি তোমাকে ডেকেছেন।”

আমি যখন তাঁর (অর্থাৎ, নবীর) নিকট গমন করি, তিনি বলেন, “একত্রে বেঁধে রাখা এই দুটি উট ও একত্রে বাঁধা আরও দুটি উট সঙ্গে নিয়ে যাও”, যার দ্বারা তিনি ছয়টি উটের উল্লেখ করেছিলেন যা সেই সময় তিনি সা’দের কাছ থেকে সংগ্রহ করেছিলেন। আল্লাহর নবী যোগ করেন, “এগুলোকে তোমার সঙ্গীদের কাছে নিয়ে যাও ও তাদের বলো, ‘আল্লাহ (বা আল্লাহর নবী) তোমাদেরকে এগুলোর উপর সওয়ার হওয়ার অনুমতি দান করেছেন’, সুতরাং তাদের উপর সওয়ার হও।”

অতঃপর আমি ঐ উটগুলোকে তাদের কাছে নিয়ে আসি ও বলি, “নবী তোমাদেরকে এগুলোতে (উটগুলো-তে) চড়ার অনুমতি দান করেছেন; তবে আল্লাহর কসম, আমি তোমাদের তা করতে দেবো না যতক্ষণ না তোমাদের কেউ আমার সাথে এমন কোনো লোকের কাছে গমন করে যে আল্লাহর নবীর বক্তব্য শুনেছে। ভেবো না যে আমি তোমাদের কাছে এমন কিছু বর্ণনা করেছি যা আল্লাহর নবী আমাকে বলেন নাই।” তারা আমাকে বলে, “আমরা তোমাকে সত্যবাদী বলে বিবেচনা করি ও তুমি যা পছন্দ করো আমরা তা করবো”

উপ-বর্ণনাকারী যোগ করেছেন: অতঃপর আবূ মুসা তাদের কিছু লোককে তার সাথে নিয়ে ঐ লোকদের কাছে গমন করে যারা আল্লাহর নবীর বক্তব্য শুনেছিল যখন তিনি তাদেরকে (কিছু সওয়ারি পশু প্রদান) প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, ও তাদের-কে জানায় যে সে তাদেরকে কী তথ্য (তাঁর উক্তি) অবহিত করেছিল। আর এই লোকেরা তাদেরকে একই তথ্য প্রদান করে যা আবু মুসা তাদেরকে বলেছিলো।’

সুন্নাহ আবু দাউদ: বই নম্বর ৮, হাদিস নম্বর ২৬৭০: [7]

‘ওয়াথিলাহ ইবনে আল-আসকা হইতে বর্ণিত: আল্লাহর নবী (তাঁর উপর শান্তি বর্ষিত হোক) তাবুক অভিযানে যাওয়ার ঘোষণা দেন। আমি আমার পরিবারে নিকট গমন করি ও অতঃপর (যাত্রার জন্য) অগ্রসর হই। আল্লাহর নবীর (তাঁর উপর শান্তি বর্ষিত হোক) অনুসারীদের অগ্রগামী সৈন্যরা ইতিমধ্যেই এগিয়ে গিয়েছে। তাই আমি মদিনায় উচ্চস্বরে ঘোষণা করতে শুরু করি:

এমন কি কেউ আছে যে একজন মানুষকে তার সওয়ারি পশুর উপর চড়িয়ে নিয়ে যাবে ও অতঃপর সে তার (লুটের মালের অংশ থেকে) হিস্যা পাবে?

আনসারদের (সাহায্যকারী) মধ্যে এক বৃদ্ধ লোক উচ্চস্বরে বলে: আমরা যদি তাকে সওয়ারি পশুর উপর পালা করে আমাদের সাথে নিয়ে যাই তবে তার অংশের হিস্যা আমাদের হবে, আর আমাদের সাথে সে তার খাবার খাবে। আমি বলি: হ্যাঁ। সে বলে: অতএব আল্লাহর অনুগ্রহে যাত্রা শুরু করো।

অতঃপর আমি আমার সবচেয়ে সেরা সহচরদের সাথে অগ্রসর হই ও আল্লাহ আমাদের-কে লুটের মাল প্রদান করে। লুটের মালের হিস্যা হিসাবে আমাকে কিছু মাদী উট প্রদান করা হয়। আমি তার কাছে পৌঁছার পূর্ব পর্যন্ত সেগুলোকে তাড়িয়ে নিয়ে আসি। সে বেরিয়ে আসে ও তার উটের পিঠের জিনের পিছনের অংশটিতে গিয়ে বসে। অতঃপর সে বলে: তাদের কে পিছন দিকে পরিচালিত করো। সে পুনরায় বলে: তাদেরকে সামনের দিকে পরিচালিত করো। অতঃপর সে বলে: আমি তোমার মাদী উটগুলোকে খুব শান্ত মনে করি। সে বলে: এটি হলো তোমার লুটের মাল যা আমি তোমার জন্য নির্ধারিত করেছি।

সে জবাবে বলে: হে আমার ভাতিজা, তোমার মাদী-উটগুলো নিয়ে যাও; আমরা তোমার অংশ (নিতে) চাই না।’

অনুবাদ, টাইটেল ও [**] যোগ – লেখক।

ইসলামের ইতিহাসের সবচেয়ে আদি উৎসের ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় যে বিষয়টি অত্যন্ত সুস্পষ্ট, তা হলো, তাবুক যুদ্ধের প্রাক্কালে নবী মুহাম্মদ তাঁর নিকট আগত ‘অশ্রুপাতকারী’ অনুসারীদের বিশয়ে ‘আল্লাহর নামে’ যে বাক্যটি রচনা করেছিলেন, তা হলো সুরা আত-তাওবাহর বিরানব্বই নম্বর আয়াতটি (কুরআন: ৯:৯২)।

‘কুরআন’ ও ইসলামের ইতিহাসের সবচেয়ে আদি উৎসের মুসলিম ঐতিহাসিকদের লিখিত ‘সিরাত ও হাদিস’ গ্রন্থের বর্ণনায় আমরা জানতে পারি, “যৎসামান্য ব্যতিক্রম” ছাড়া প্রতিটি ইসলাম বিশ্বাসীর জন্যই জিহাদ-যুদ্ধে অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক (ফরজ)। এই অত্যাবশ্যকীয় বিধান থেকে কারা অব্যাহতি পাবেন ও তা কোন শর্তে, সে বিশয়ের নির্দেশ-কালেই মুহাম্মদ তাঁর এই ৯:৯২-বাক্যটি হাজির করেছিলেন। বিষয়টিকে ভালভাবে বুঝতে হলে এই সুরার ৮৮ নম্বর আয়াত থেকে পাঠ শুরু করতে হবে। মুহাম্মদের ভাষায়:

মুহাম্মদের প্রলোভন:
৯:৮৮-৮৯ – “কিন্তু রসূল এবং সেসব লোক যারা ঈমান এনেছে, তাঁর সাথে তারা যুদ্ধ করেছে নিজেদের জান ও মালের দ্বারা। তাদেরই জন্য নির্ধারিত রয়েছে কল্যাণসমূহ এবং তারাই মুক্তির লক্ষ্যে উপনীত হয়েছে। আল্লাহ তাদের জন্য তৈরী করে রেখেছেন কানন-কুঞ্জ, যার তলদেশে প্রবাহিত রয়েছে প্রস্রবণ। তারা তাতে বাস করবে অনন্তকাল। এটাই হল বিরাট কৃতকার্যতা।”

অতঃপর “তাঁর” হুমকি:
৯:৯০ – “আর ছলনাকারী বেদুঈন লোকেরা এলো, যাতে তাদের অব্যাহতি লাভ হতে পারে এবং নিবৃত্ত থাকতে পারে তাদেরই যারা আল্লাহ ও রসূলের সাথে মিথ্যা বলে ছিল। এবার তাদের উপর শীঘ্রই আসবে বেদনাদায়ক আযাব যারা কাফের।”

(কারা ছিল এই বেদুইন দল, তার আলোচনা গত পর্বে করা হয়েছে।)

‘জিহাদ’ এর বাধ্যতা থেকে যারা মুক্ত:

৯:৯১- “দূর্বল, রুগ্ন, ব্যয়ভার বহনে অসমর্থ লোকদের জন্য কোন অপরাধ নেই, যখন তারা মনের দিক থেকে পবিত্র হবে আল্লাহ ও রসূলের সাথে। নেককারদের উপর অভিযোগের কোন পথ নেই। আর আল্লাহ হচ্ছেন ক্ষমাকারী দয়ালু।”

অতঃপর “অশ্রুপাতকারী” লোকদের বিষয়ে:
৯:৯২ – “আর না আছে তাদের উপর যারা এসেছে তোমার নিকট যেন তুমি তাদের বাহন দান কর এবং তুমি বলেছ, আমার কাছে এমন কোন বস্তু নেই যে, তার উপর তোমাদের সওয়ার করাব তখন তারা ফিরে গেছে অথচ তখন তাদের চোখ দিয়ে অশ্রু বইতেছিল এ দুঃখে যে, তারা এমন কোন বস্তু পাচ্ছে না যা ব্যয় করবে।”

অর্থাৎ, দূর্বল, রুগ্ন ও একান্ত দরিদ্র-অসহায় কোন অনুসারী যদি তাঁদের দুরবস্থার কারণে ‘ইসলাম প্রচার ও প্রতিষ্ঠার’ এই সশস্ত্র সংগ্রামে সশরীরে অংশগ্রহণ করতে না পারেন, তবে তাঁরা মুহাম্মদের আরোপিত এই বাধ্যতা থেকে পরিত্রাণ পাবেন এই শর্তে যে: “তাঁদের-কে সর্বান্তকরণে মুহাম্মদের প্রতিটি আদেশ ও নির্দেশের সাথে একাত্মতা পোষণ করতে হবে।”

এ সমস্ত বিশয়ের বিস্তারিত আলোচনা অধ্যায় ‘সুরা তাওবাহ – শেষ নির্দেশ (তিন)’ ও ‘নবী মুহাম্মদের সন্ত্রাস: অনুসারীদের অনীহা’ পর্বে (পর্ব: ১৮৩) করা হয়েছে। আর মুহাম্মদের বহু অনুসারী যে লুটের মালের প্রত্যাশায় জিহাদ-যুদ্ধে যোগদান করতেন তা ইমাম আবু দাউদের (৮১৭-৮৮৯ খ্রিস্টাব্দ) ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় সুস্পষ্ট। এ বিশয়ের আলোচনা ইতিমধ্যেই করা হয়েছে (পর্ব: ২১৪)

[ইসলামী ইতিহাসের ঊষালগ্ন থেকে আজ অবধি প্রায় প্রতিটি ইসলাম বিশ্বাসী প্রকৃত ইতিহাস জেনে বা না জেনে ইতিহাসের এ সকল অমানবিক অধ্যায়গুলো যাবতীয় চতুরতার মাধ্যমে বৈধতা দিয়ে এসেছেন। বিষয়গুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিধায় বাংলা অনুবাদের সাথে আল-ওয়াকিদির মূল ইংরেজি অনুবাদের প্রাসঙ্গিক অংশটি সংযুক্ত করছি; আল তাবারী, ইবনে ইশাক ও হাদিস গ্রন্থের রেফারেন্স: বিনামূল্যে ইন্টারনেট ডাউন-লোড লিংক তথ্যসূত্র নম্বর এক, দুই ও পাঁচ-সাত।]

The narratives of Al-Waqidi: [3]

He said: The Weepers (Bakkā’ūn) arrived and they asked him for mounts. They numbered seven. They were a people of need. The Messenger of God said, “I do not find what I can mount you on, so they turned back their eyes overflowing with tears … (Q. 9.92)” to the end of the verse. They were seven of the Banū ‛Amr b. ‛Awf: [Page 994] Sālim b. ‛Umayr had witnessed Badr and there is no dispute about him with us. From the Banū Wāqif, Haramay b. ‛Amr; from the Banū Ḥāritha, ‛Ulba b. Zayd; He was one who supplied commodities. And that was because the Messenger of God commanded the ṣadaqa. The people began bringing it, and ‛Ulba came and said: O Messenger of God, I do not have with me what I could give as ṣadaqa, but I will make my goods available. The Messenger of God said, “God accepts your ṣadaqa.” And from the Banū Māzin b. al-Najjār, Abū Laylā ‛Abd al-Raḥmān b. Ka‛b. From the Banū Salima, ‛Amr b. ‛Utba. From the Banū Zurayq, Salama b. Ṣakhr. From the Banū Sulaym, al-‛Irbād b. Sāriya al-Sulamī. Those confirmed what we heard. ——

Some said: ‛Abdullah b. Mughaffal al-Muzannī and ‛Amr b. ‛Awf al-Muzannī, and others said, “They were Banū Muqarrin, from Muzannī.” When the weepers, Bakkā’ūn, set out from the place of the Messenger of God he informed them that he could not find mounts for them, for they desired beasts. Yāmīn b. ‛Umayr b. Ka‛b b. Shibl al-Naḍrī met Abū Laylā al-Māzinī, and ‛Abdullah b. Mughaffal al-Muzannī and they were crying. He said, “Why are you crying?” They replied, “We came to the Messenger of God for mounts for us, and did not find any. We do not have sufficient money to go out and we detest abandoning a raid with the Messenger of God.” So Yāmīn gave them a watering camel of his and they rode it. He supplied every man among them two measures of dates. The two set out with the Messenger of God. Al-‛Abbās b. Abd al-Muṭṭalib provided a beast for two men. ‛Uthmān provided rides for three men, over and above what he provided the army.’ —–

(চলবে)

তথ্যসূত্র ও পাদটীকা:

[1] “তারিক আল রসুল ওয়াল মুলুক”- লেখক: আল-তাবারী; ভলুউম ৯, পৃষ্ঠা ৪৯
https://onedrive.live.com/?authkey=%21AJVawKo7BvZDSm0&cid=E641880779F3274B&id=E641880779F3274B%21294&parId=E641880779F3274B%21274&o=OneUp
[2] অনুরূপ বর্ণনা: লেখক: মুহাম্মদ ইবনে ইশাক: পৃষ্ঠা ৬০৩
http://www.justislam.co.uk/images/Ibn%20Ishaq%20-%20Sirat%20Rasul%20Allah.pdf

[3] “কিতাব আল-মাগাজি”- আল-ওয়াকিদি, ভলুম ৩; পৃষ্ঠা ৯৯৩-৯৯৪; ইংরেজি অনুবাদ: Rizwi Faizer, Amal Ismail & Abdul Kader Tayob, পৃষ্ঠা ৪৮৭
https://books.google.com/books?id=gZknAAAAQBAJ&printsec=frontcover&dq=kitab+al+Magazi-+Rizwi+Faizer,+Amal+Ismail+and+Abdul+Kader+Tayob&hl=en&sa=X&ved=0ahUKEwjo7JHd7JLeAhUkp1kKHTmLBGcQ6AEIKzAB#v=onepage&q&f=false

[4] কুরআনের উদ্ধৃতি ফাহাদ বিন আবদুল আজিজ কর্তৃক বিতরণকৃত তরজমা থেকে নেয়া। অনুবাদে ত্রুটি-বিচ্যুতির দায় অনুবাদকারীর। http://www.quraanshareef.org/
কুরআনের ছয়জন বিশিষ্ট ইংরেজি অনুবাদকারীর ও চৌত্রিশ-টি ভাষায় পাশাপাশি অনুবাদ: https://quran.com/ ]

[5] সহি বুখারি: ভলুম ৫, বই নম্বর ৫৯, হাদিস নম্বর ৬৯৯
https://quranx.com/hadith/Bukhari/USC-MSA/Volume-5/Book-59/Hadith-699/

[6] অনুরূপ বর্ণনা: সহি মুসলিম, বই নম্বর ১৫, হাদিস নম্বর ৪০৪৫
https://quranx.com/hadith/Muslim/USC-MSA/Book-15/Hadith-4045/

[7] সুন্নাহ আবু দাউদ: বই নম্বর ৮, হাদিস নম্বর ২৬৭০
https://quranx.com/hadith/AbuDawud/Hasan/Hadith-2670/

[8] সুরা তাওবাহ – শেষ নির্দেশ (তিন)
https://istishon.blog/node/27598

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

13 − 11 =