২৩১: তাবুক যুদ্ধ-৪: মুমিনদের গাফিলতি ও অনুপস্থিতি!

“যে মুহাম্মদ (সাঃ) কে জানে সে ইসলাম জানে, যে তাঁকে জানে না সে ইসলাম জানে না।”

ইসলামের ইতিহাসের সবচেয়ে আদি উৎসের মুসলিম ঐতিহাসিকদেরই লিখিত ‘সিরাত ও হাদিস’ গ্রন্থের বর্ণনায় আমরা জানতে পারি: “শুধু মুনাফিকরাই নয়, ইসলামে নিবেদিত-প্রাণ মুমিন-মুসলমানদের ও অনেকেই হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর সাথে ‘তাবুক অভিযানে’ অংশগ্রহণ করেন নাই!” এদের অন্যতম ছিলেন, কা’ব বিন মালিক বিন আবু কা’ব নামের এক আদি মদিনা-বাসী মুহাম্মদ অনুসারী (আনসার)। আদি উৎসের বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকরা তাঁদের নিজ নিজ পূর্ণাঙ্গ ‘সিরাত ও হাদিস’ গ্রন্থে এই ঘটনাটির বর্ণনা বিভিন্ন ভাবে লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন। সবচেয়ে বিস্তারিত বর্ণনা লিপিবদ্ধ করেছেন আল-ওয়াকিদি (৭৪৭-৮২৩ খ্রিস্টাব্দ), ইমাম বুখারি (৮১০-৮৭০ খ্রিস্টাব্দ) ও ইমাম মুসলিম (৮১৫- ৮৭৫ খ্রিস্টাব্দ)।

মুহাম্মদ ইবনে (৭০৪-৭৬৮ সাল) ইশাকের বর্ণনা: [1] [2] [3]
(আল-তাবারীর ও আল-ওয়াকিদির বর্ণনা, ইবনে ইশাকের বর্ণনারই অনুরূপ।)
পূর্ব প্রকাশিতের (পর্ব: ২৩০) পর:

প্রস্তুতি গ্রহণের পর আল্লাহর নবী তাঁর যাত্রা শুরু করার সংকল্প করেন। এমত সময়ে কিছু সংখ্যক মুসলমান তাদের প্রস্তুতি গ্রহণে বিলম্ব হওয়ার কারণে পিছিয়ে পড়ে, তাদের মনে কোনরূপ অবিশ্বাস বা সন্দেহ ছিল না। তারা ছিল (আল-তাবারী: ‘তাদের মধ্যে ছিল’):

[১] কা’ব বিন মালিক বিন আবু কা’ব, বানু সালিমা গোত্রের ভাই;
[২] মুরারা বিন আল-রাবি, বানু আমির বিন আমর বিন আউফ গোত্রের;
[৩] হিলাল বিন উমাইয়া, বানু ওয়াকিফ গোত্রের ভাই; [4]
[৪] আবু খেইথামা, বানু সালিমা বিন আউফ গোত্রের ভাই।

তারা ছিল অনুগত লোক যাদের ইসলামে-বিশ্বাস ছিল সন্দেহাতীত।’

আল-ওয়াকিদির (৭৪৭-৮২৩ সাল) বিস্তারিত ও অতিরিক্ত বর্ণনা: [3]

‘তারা বলেছে: একদল মুসলমান পিছনে পড়ে থাকে। কোনরূপ অবিশ্বাস বা সন্দেহ ব্যতিরেকেই তারা আল্লাহর নবীর সাথে প্রস্তুতি গ্রহণে বিলম্ব করে ও তাঁর কাছ থেকে দূরে থাকে। তাদের মধ্যে ছিল কা’ব বিন মালিক।’

কা’ব বিন মালিকের বিবৃতি:
(ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিমের বর্ণনা, আল-ওয়াকিদির বর্ণনারই অনুরূপ) [5] [6]

‘কা’ব যা বলতো, তা হলো: তাবুকের দিনটিতে আমি যখন পিছনে থেকে গিয়েছিলাম, আমার কাহিনীটি ছিল এই যে, ঐ অভিযানের প্রাক্কালে আমি যখন তাঁর কাছ থেকে দূরে ছিলাম তখন আমার ক্ষমতা ও স্বাচ্ছন্দ্য এমন ছিল যে এর আগে তার চেয়ে উত্তম আর কখনোই ছিল না। আল্লাহর কসম, এই অভিযানের প্রাক্কালে আমি দু’টি সওয়ারি পশু সংগ্রহ করেছিলাম যা আমি আমার নিজের কাছে আগে কখনোই জড়ো করতে পারি নাই! আল্লাহর নবী রসদ সরবরাহ করে ও মুসলমানরা তাঁর সাথে রসদ সরবরাহ করে। আমি তাদের সাথে দৌড়াদৌড়ি শুরু করি, তবে আমি চাহিদা পূরণ না করে তা থেকে ফিরে আসি। আমি নিজেকে বলি, “আমি সেই বিষয়ে দক্ষ।” তিনি তাঁর নিরলস প্রচেষ্টায় লোকদের প্রস্তুত করার পূর্ব পর্যন্ত আমি নিজে-নিজেই আমার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখি।

একদিন সকালে আল্লাহর নবী মুসলমানদের সাথে নিয়ে অতর্কিত আক্রমণের উদ্দেশ্যে রওনা হোন। সেটি ছিল বৃহস্পতিবার। আল্লাহর নবী বৃহস্পতিবার দিনটিতে বাইরে যেতে পছন্দ করতেন। [7]

অথচ আমি আমার কোনও প্রস্তুতিই সম্পন্ন করি নাই। তাই আমি বলি যে আমি এক বা দু’দিনের মধ্যে প্রস্তুত হবো ও অতঃপর তাদের সাথে যোগদান ও অভিযানে অংশগ্রহণ করতে পারবো। তারা চলে যাওয়ার পরদিন সকালে আমি প্রস্তুতির উদ্দেশ্যে অগ্রসর হই, অতঃপর ফিরে আসি ও আমি কোন কিছুই করি না। অতঃপর, পরদিন সকালে আমি ঘুম থেকে উঠি ও কিছুই করি না। তড়িঘড়ি করে তারা তাদের যাত্রা ও অভিযান সম্পন্ন করার পূর্ব পর্যন্ত আমি আমার গড়িমসি চালিয়ে যাই।

আমি নিজেকে বলি, “আমি পশুর উপর সওয়ার হবো ও তাদের নাগাল ধরে ফেলতে পারবো”; যদি আমি তা করতে পারতাম, কিন্তু আমি তা পারি নাই। আমি যখন লোকদের সাথে বাইরে গিয়ে তাদের চারপাশে যাতায়াত শুরু করি, তখন আমার মন খারাপ হয়ে যায়, এই কারণে যে,

আমি কেবল ঐ লোকদেরকে দেখি যারা ছিল ঘৃণ্য ভণ্ড-প্রকৃতির, কিংবা দেখি ঐ লোকদের যাদেরকে আল্লাহ ক্ষমা করে দিয়েছে।

তাবুকে পৌঁছানোর পূর্ব পর্যন্ত আল্লাহর নবী আমাকে স্মরণ করেন নাই। লোকদের সাথে উপবিষ্ট থাকাকালীন সময়ে তিনি বলেছিলেন, “কা’ব বিন মালিক কোথায়?”

বানু সালিমা গোত্রের এক লোক বলে, “হে আল্লাহর নবী, তার আলখাল্লা ও অহংকার তাকে দূরে রেখেছে।” মুয়াধ বিন জাবাল তাকে বলে, “তুমি যা বলেছো তা দুঃখজনক। আল্লাহর কসম, হে আল্লাহর নবী, তার সম্পর্কে আমরা যা জানি তা শুধুই প্রশংসনীয়।” মন্তব্য-কারী লোকটি ছিল আবদুল্লাহ বিন উনায়েস। কিছু লোক বলেছে যে, যে লোকটি তার মন্তব্যের জবাব দিয়েছিল সে ছিল আবু কাতাদা। আমাদের-কে যা বেশী নিশ্চিত করা হয়েছে, তা হলো, সে ছিল মুয়াধ বিন জাবাল।’

হিলাল বিন উমাইয়া আল-ওয়াকিফির বিবৃতি:

‘তাবুক যুদ্ধের প্রাক্কালে যখন হিলাল বিন উমাইয়া আল-ওয়াকিফি আল্লাহর নবীর কাছ থেকে দূরে ছিল, তখন সে বলেছিল: আল্লাহর কসম, কোনরূপ অবিশ্বাস বা সন্দেহের কারণে আমি পিছনে পড়ে থাকি নাই, বরং তা ছিল এই কারণে যে আমাকে শক্তিশালী করেছিল আমার সম্পদ। আমি বলেছিলাম, “আমি একটি উট খরিদ করবো।”

মুরারা বিন আল-রাবি আমার সাথে সাক্ষাত করে ও বলে, “আমি একজন ক্ষমতাবান মানুষ; আমি একটি উট খরিদ করবো ও তা নিয়ে রওনা হবো।” তাই আমি বলি “এ হলো সম্পদশালী লোক, আমি তার সাথে যাত্রা করবো;” আর আমরা বলতে শুরু করি, “আমরা অতর্কিত আক্রমণ চালাবো, অতঃপর দুটি উট খরিদ করবো ও আল্লাহর নবীর সাথে মিলিত হবো,” কিন্তু তা হয় নাই।

আমরা সহজেই দু’টি সওয়ারি-পশু যোগাড় করতে পারা লোক ও পরদিন সকালেই আমরা আমাদের যাত্রা শুরু করতে পারতাম। অতঃপর আমরা আমাদের ঐ পরিকল্পনা অব্যাহত রাখি ও দিনের পর দিন বিলম্ব করতে থাকি যতক্ষণে না আল্লাহর নবীর ভূমি দখল প্রায় সম্পন্ন হয়। সে কারণে আমি বলি, “এটি বাইরে রওনা হওয়ার সময় নয়।”

আমি এ বাড়ি ও অন্য বাড়িগুলোতে এমন কোন লোক দেখি নাই যারা অজুহাত ও সুস্পষ্ট ভণ্ডামির আশ্রয় নেয় নাই। এই পরিস্থিতি আমাকে দুঃখিত করে ও আমি নিবৃত হই।’

সহি বুখারি: ভলুম ৫, বই নম্বর ৫৯, হাদিস নম্বর ৭০২: [5]
(অনুরূপ বর্ণনা: সহি মুসলিম, বই নম্বর ৩৭, হাদিস নম্বর ৬৬৭০) [6]
অনেক বড় হাদিস, এই পর্বের প্রাসঙ্গিক অংশ:

‘আবদুল্লাহ বিন কা’ব বিন মালিক হইতে বর্ণিত: সে ছিল কাব-এর পুত্রদের একজন, কা’ব যখন অন্ধ হয়ে গিয়েছিল তখন যে তাকে চলাফেরা করাতো:

‘আমি কা’ব বিন মালিক-কে তাবুকের (ঘাজওয়া) উপাখ্যানটি বর্ণনা করতে শুনেছি, যেখানে সে অংশগ্রহণে ব্যর্থ হয়েছিল। কা’ব বলেছে: ‘আমি তাবুকের ঘাজওয়া-টি [‘ঘাজওয়া’- যে অভিযানে নবী মুহাম্মদ স্বশরীরে উপস্থিত ছিলেন] ছাড়া অন্য কোন ঘাজওয়াই অংশগ্রহণে পিছপা হই নাই যেখানে আল্লাহর নবী লড়াই করেছিলেন।

আর আমি বদরের ঘাজওয়াটি-তে অংশগ্রহণে ব্যর্থ হয়েছিলাম, কিন্তু এতে অংশগ্রহণ করে নাই এমন কাউকেই আল্লাহ তিরস্কার করে নাই, এই কারণে যে,

প্রকৃতপক্ষে, আল্লাহর নবী কুরাইশদের কাফেলার সন্ধানে বের হয়েছিলেন যতক্ষণে না আল্লাহ তাদের-কে (অর্থাৎ মুসলমানদের) তা দান করে, আর শত্রুরা তাদের সম্মুখীন হয়েছিল কোনরূপ পূর্ব-পরিকল্পনা ছাড়াই। [8] [9]

(‘And I failed to take part in the Ghazwa of Badr, but Allah did not admonish anyone who had not participated in it, for in fact, Allah’s Apostle had gone out in search of the caravan of Quraish till Allah made them (i.e. the Muslims) and their enemy meet without any appointment.’)

আমি আল্লাহর নবীর সাথে ‘আল-আকাবার (শপথ)’ রাত্রিটি প্রত্যক্ষ করেছি যখন আমরা ইসলামের জন্য প্রতিজ্ঞা করেছিলাম; আর আমি এই ঘটনাটির সাথে বদর যুদ্ধের তুলনা করবো না যদিও এর (অর্থাৎ আল-আকবার শপথের) চেয়ে বদর যুদ্ধটিই জনগণের কাছে বেশি জনপ্রিয়। [10]

(তাবুকের যুদ্ধ সম্বন্ধে) আমার বিশয়টি হলো এই যে, এর আগে আমি কখনোই এমন সম্পদশালী ও শক্তিশালী ছিলাম না যেমনটি আমি ছিলাম ঐ ঘাজওয়াটির প্রাক্কালে, যেখানে আমি ছিলাম অনুপস্থিত। আল্লাহর কসম, এর আগে আমার কাছে কখনও দুটি মাদী-উট ছিল না কিন্তু এই ঘাজওয়ার সময়টিতে আমার তা ছিল।

ঐ ঘাজওয়াটির (তাবুক) পূর্ব পর্যন্ত আল্লাহর নবী যখনই কোন ঘাজওয়া সম্পন্ন করা মনস্থ করতেন তখনই তিনি স্পষ্টতই বিভিন্ন ঘাজওয়ার কথা উল্লেখ করে তাঁর উদ্দেশ্য গোপন রাখতেন। এই সময়টিতে আল্লাহর নবী প্রখর উত্তাপ ও মরুভূমির দীর্ঘ পথযাত্রার মুখোমুখি হয়েছিলেন ও তিনি লড়াই করেছিলেন বিশাল সংখ্যক শত্রুর বিরুদ্ধে। সে কারণেই আল্লাহর নবী মুসলমানদের-কে স্পষ্ট (তাদের গন্তব্যের) ঘোষণা দিয়েছিলেন যাতে তারা তাদের ঐ ঘাজওয়ার প্রস্তুতি নিতে পারে। তিনি তাদের-কে তাঁর গন্তব্যস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন। [11]

আল্লাহর নবীর সাথে ছিল বিপুল সংখ্যক মুসলমান, যাদের-কে কোন একটি বইতে, যথা তালিকা-পুস্তক (Register), তালিকাভুক্ত করা যায়নি।”

কা’ব আরও যোগ করে: “যে ব্যক্তি অনুপস্থিত থাকার ইচ্ছা পোষণ করতো, সে হয়তো ভাবতো যে বিষয়টি গোপন থাকবে যদি না তা আল্লাহ তার ঐশী বানী নাজিলের মাধ্যমে প্রকাশ করে দেন। আল্লাহর নবী ঐ ঘাজওয়া যুদ্ধটি করেছিলেন সেই সময়টিতে যখন ফলগুলি ছিল পরিপক্ব ও ছায়া বিশিষ্ট স্থানগুলো ছিল আরামপ্রদ [পর্ব-২২৮]। আল্লাহর নবী ও তাঁর সাহাবাগণ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নেয় ও তাদের সাথে আমি নিজেকে প্রস্তুত করার জন্য বাইরে যাওয়া শুরু করি, কিন্তু আমি কোন কিছু না করেই ফিরে আসি।

আমি নিজেকে বলতাম, ‘আমি এটি করতে পারি।’ এই ভাবেই আমি লোকদের প্রস্তুত হওয়া ও আল্লাহর নবী ও তাঁর সাথে আগত মুসলমানদের প্রস্থান করার পূর্ব-পর্যন্ত হামেশাই বিলম্ব করতে থাকি ও আমার রওনা হওয়ার কোনই প্রস্তুতি গ্রহণ করি না। অতঃপর আমি বলি, ‘আমি তাঁর রওনা হওয়ার এক বা দুই দিন পর নিজেই নিজেকে (রওনা হওয়ার জন্য) প্রস্তুত করবো ও অতঃপর তাদের সাথে যোগদান করবো।”

তাদের রওনা হওয়ার পরদিন সকালে আমি নিজেকে প্রস্তুত করে বাইরে যাই কিন্তু কোন কিছুই না করে ফিরে আসি। অতঃপর আবার তার পরদিন সকালে, আমি প্রস্তুতি গ্রহণের নিমিত্তে বাইরে যাই কিন্তু কোন কিছুই না করে ফিরে আসি।

তাড়াহুড়ো করে তাদের রওনা হওয়া ও যুদ্ধটি (আমার) হাতছাড়া হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত আমার বিষয়টি এমনই ঘটেছিল। তারপরেও তাদের নাগাল ধরার উদ্দেশ্যে আমি রওনা হওয়ার পরিকল্পনা করেছিলাম। যদি আমি এমনটি করতে পারতাম! তবে এটি আমার ভাগ্যে ছিল না।

অতঃপর, আল্লাহর নবীর প্রস্থানের পরে যখনই আমি বাইরে বের হয়ে লোকদের মধ্যে (অর্থাৎ, বাকী লোকদের) বেড়াতে যাই, তখনই আমার মন খারাপ হয়ে যায়, এই কারণে যে,

আমার আশেপাশে ভণ্ডামির জন্য অভিযুক্ত কিংবা ঐ দুর্বল লোকগুলো যাদের-কে আল্লাহ ক্ষমা করে দিয়েছে লোকগুলো ছাড়া আর কাউকেই দেখতে পাই না।

তাবুকে পৌঁছানোর পূর্ব পর্যন্ত আল্লাহর নবী আমাকে স্মরণ করেন নাই। অতঃপর তিনি যখন তাবুকে লোকদের মাঝে বসে ছিলেন, তখন তিনি বলেন, “কা’ব কি করেছে?” বানু সালামা গোত্রের এক লোক বলে, “ইয়া রাসূলাল্লাহ! তার দুটি বুরদা (অর্থাৎ, পোশাক) ও নিজের প্রতি তার অহংকারী দৃষ্টি তাকে বসিয়ে রেখেছে।” অতঃপর মুয়াধ বিন জাবাল বলে, “কী নোংরা কথায় না তুমি বলেছো! আল্লাহর কসম! হে আল্লাহর রসূল! আমরা তার সম্পর্কে ভাল ছাড়া কিছুই জানি না।” আল্লাহর নবী নীরব থাকেন।’

অনুবাদ, টাইটেল ও [**] যোগ – লেখক।

ইসলামের ইতিহাসের সবচেয়ে আদি উৎসের ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় যে বিষয়টি অত্যন্ত সুস্পষ্ট, তা হলো, স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর ‘সর্বাত্মক প্রচেষ্টা, প্রলোভন ও হুমকি’ সত্বেও তাবুক অভিযানের প্রাক্কালে শুধু মুনাফিকরাই নয়, তাঁর মতবাদে নিবেদিত-প্রাণ “মুমিন-মুসলমানদের ও অনেকেই” এই অভিযানে অংশগ্রহণ করেন নাই।

ঠিক কত জন ‘মুমিন মুসলমান’ এই দলের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন তার কোন সঠিক সংখ্যা ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় অনুপস্থিত। মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের বর্ণনায় প্রতীয়মান হয় যে তাদের সংখ্যা ছিল, “চার জন”, যাদের নামগুলো তিনি উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে, আল-তাবারীর বর্ণনায় প্রতীয়মান হয় যে “এই দলে” যারা ছিলেন, ইবনে ইশাক উল্লেখিত ঐ চার ব্যক্তি ছিল সেই দলের অন্তর্ভুক্ত। আর আল-ওয়াকিদির বর্ণনায় যা সুস্পষ্ট, তা হলো, তারা ছিল “একদল মুসলমান।” তাঁর ভাষায়, “একদল মুসলমান পিছনে পড়ে থাকে। কোনরূপ অবিশ্বাস বা সন্দেহ ব্যতিরেকেই —। তাদের মধ্যে ছিল কা’ব বিন মালিক।”

কে এই কা’ব বিন মালিক?

কা’ব বিন মালিক ছিলেন মদিনার খাযরাজ গোত্রের অন্তর্ভুক্ত বানু সালিমা উপগোত্রের এক কবি। তিনি ছিলেন নবী মুহাম্মদ-কে সমর্থনকারী কবিদের একজন (মৃত্যু: ৬৭০-৬৭৫ সাল)।’ সা’দ বিন উবাদা আল-খাযরাজির মতই কা’ব বিন মালিক ছিলেন সেই সত্তর জন আনসারদের একজন, যিনি “দ্বিতীয় আকাবা শপথ (The second pledge of Aqaba)” কার্যকলাপে উপস্থিত ছিলেন ও শপথ-কর্ম সম্পন্ন করেছিলেন (পর্ব: ২১৯)। [12]

ইসলামের ইতিহাসের সর্বপ্রথম অমানুষিক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধটি হলো “বদর যুদ্ধ!” এই যুদ্ধের বিশদ আলোচনা ইতিমধ্যেই করা হয়েছে (পর্ব: ৩০-৪৩)। কুরাইশরা যে মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের “ডাকাতির কবল থেকে” তাঁদের বাণিজ্য-ফাফেলা রক্ষার প্রচেষ্টায় “অপরিকল্পিত-ভাবে” এই যুদ্ধে জড়িয়েছিলেন, তা ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিমের ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় অত্যন্ত সুস্পষ্ট:

“প্রকৃতপক্ষে, আল্লাহর নবী কুরাইশদের কাফেলার সন্ধানে বের হয়েছিলেন যতক্ষণে না আল্লাহ তাদের-কে (অর্থাৎ মুসলমানদের) তা দান করে, আর শত্রুরা তাদের সম্মুখীন হয়েছিল কোনরূপ পূর্ব-পরিকল্পনা ছাড়াই।”

[ইসলামী ইতিহাসের ঊষালগ্ন থেকে আজ অবধি প্রায় প্রতিটি ইসলাম বিশ্বাসী প্রকৃত ইতিহাস জেনে বা না জেনে ইতিহাসের এ সকল অমানবিক অধ্যায়গুলো যাবতীয় চতুরতার মাধ্যমে বৈধতা দিয়ে এসেছেন। বিষয়গুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিধায় বাংলা অনুবাদের সাথে আল-ওয়াকিদির মূল ইংরেজি অনুবাদের প্রাসঙ্গিক অংশটি সংযুক্ত করছি; ইবনে ইশাক, আল তাবারী ও হাদিস গ্রন্থের রেফারেন্স: বিনামূল্যে ইন্টারনেট ডাউন-লোড লিংক তথ্যসূত্র তালিকায়।]

The narratives of Al-Waqidi: [3]

They said: A group of Muslims stayed behind. The intention was to slow down from the Messenger of God until they stayed behind from him and were without doubt or suspicion. Among them was Ka‛b b. Mālik. [Page 997] Ka‛b used to say: When I was left behind on the day of Tabūk, my story was that I had never been stronger or had more comforts at the time as when I stayed away from him during that raid. By God, I never gathered to myself two rides until I collected them in that raid! The Messenger of God supplied, and the Muslims supplied with him. I began running to supply with them but I returned and did not fulfill a need. I said to myself, “I am master over that.” I continued to persevere by myself until he prepared the people with diligence.

The Messenger of God rose in the morning, a raider with the Muslims. That was a Thursday. The Messenger of God liked going out on Thursdays, but I had not completed any of my preparations.

So I said that I will be prepared in a day or two, and that then I would join them and raid. I rose, in the morning after they left, to prepare but I returned and I had not done anything. Then I got up the next morning and did nothing. I continued procrastinating until they hastened and the raid was completed. I said to myself, “I will ride and catch up with them,” and I wish I had done, but I did not. When I went out among the people and began to go around them, it saddened me that I only saw men who were despicable in their hypocrisy, or men whom God excused.

The Messenger of God did not remember me until he reached Tabūk. He said, while he was seated with the people, “Where is Ka‛b b. Mālik?” A man from the Banū Salima said, “O Messenger of God, his cloak and his vanity kept him.” Mu‛ādh b. Jabal said to him, “Miserable is what you said. By God, O Messenger of God, we know only good of him.” The speaker was ‛Abdullah b. Unays. Some said that he who replied to his words was Abū Qatāda. Mu‛ādh b. Jabal is the most confirmed with us.

Hilāl b. Umayya al-Wāqiffī said, when he stayed back from the Messenger of God [Page 998] in Tabūk: By God, I did not stay back because of doubts or suspicion, but because I was strengthened with property. I said, “I will purchase a camel.” Murāra b. al-Rabī‛ met me, and he said, “I am a man of power, I will purchase a camel and depart with it.” So I said, “This is a man of property, I will accompany him,” and we began to say, “We will raid, and we will purchase two camels and join the Prophet,” but that did not happen. We are a people light on the chest of two rides, and in the morning we would leave. And we continued intending that and delaying the days until the Messenger of God was about to take the land. So I said, “This is not the time to go out.” I did not see in the house or other houses except excuses and obvious hypocrisy. I returned as one saddened by my situation.

(চলবে)

তথ্যসূত্র ও পাদটীকা:

[1] মুহাম্মদ ইবনে ইশাক: পৃষ্ঠা ৬০৩-৬০৪
http://www.justislam.co.uk/images/Ibn%20Ishaq%20-%20Sirat%20Rasul%20Allah.pdf

[2] অনুরূপ বর্ণনা: “তারিক আল রসুল ওয়াল মুলুক”-আল-তাবারী; ভলুউম ৯, পৃষ্ঠা ৫০
https://onedrive.live.com/?authkey=%21AJVawKo7BvZDSm0&cid=E641880779F3274B&id=E641880779F3274B%21294&parId=E641880779F3274B%21274&o=OneUp

[3] “কিতাব আল-মাগাজি”- আল-ওয়াকিদি, ভলুম ৩; পৃষ্ঠা ৯৯৬-৯৯৮; ইংরেজি অনুবাদ: Rizwi Faizer, Amal Ismail & Abdul Kader Tayob, পৃষ্ঠা ৪৮৮-৪৮৯
https://books.google.com/books?id=gZknAAAAQBAJ&printsec=frontcover&dq=kitab+al+Magazi-+Rizwi+Faizer,+Amal+Ismail+and+Abdul+Kader+Tayob&hl=en&sa=X&ved=0ahUKEwjo7JHd7JLeAhUkp1kKHTmLBGcQ6AEIKzAB#v=onepage&q&f=false

[4] Ibid আল-তাবারী; নোট নম্বর ৩৫৫:
‘বানু ওয়াকিফ গোত্রটি ছিল বানু আমির বিন আমর বিন আউফ গোত্রের মিত্র।’

[5] সহি বুখারি: ভলুম ৫, বই নম্বর ৫৯, হাদিস নম্বর ৭০২
https://quranx.com/hadith/Bukhari/USC-MSA/Volume-5/Book-59/Hadith-702/

[6] অনুরূপ বর্ণনা: সহি মুসলিম, বই নম্বর ৩৭, হাদিস নম্বর ৬৬৭০:
https://quranx.com/hadith/Muslim/USC-MSA/Book-37/Hadith-6670/

[7] অনুরূপ বর্ণনা: সহি বুখারি: ভলুম ৪, বই নম্বর ৫২, হাদিস নম্বর ১৯৯:
https://quranx.com/hadith/Bukhari/USC-MSA/Volume-4/Book-52/Hadith-199/

‘Narated By Ka’b bin Malik: The Prophet set out on Thursday for the Ghazwa of Tabuk and he used to prefer to set out (i.e. travel) on Thursdays.’

[8] অনুরূপ বর্ণনা: সহি বুখারি: ভলুম ৫, বই নম্বর ৫৯, হাদিস নম্বর ২৮৭:
https://quranx.com/hadith/Bukhari/USC-MSA/Volume-5/Book-59/Hadith-287/

[9] সহি বুখারি: ভলুম ৫, বই নম্বর ৫৮, হাদিস নম্বর ২২৯:
https://quranx.com/hadith/Bukhari/USC-MSA/Volume-5/Book-58/Hadith-229/

[10] অনুরূপ বর্ণনা: সহি বুখারি: ভলুম ৫, বই নম্বর ৫৮, হাদিস নম্বর ২২৯:
https://quranx.com/hadith/Bukhari/USC-MSA/Volume-5/Book-58/Hadith-229/

[11] অনুরূপ বর্ণনা: সহি বুখারি: ভলুম ৪, বই নম্বর ৫২, হাদিস নম্বর ১৯৮:
https://quranx.com/hadith/Bukhari/USC-MSA/Volume-4/Book-52/Hadith-198/

[12] আল-তাবারী (৮৩৮-৯২৩ খৃষ্টাব্দ), ভলুউম ৬, ইংরেজি অনুবাদ: W. Montgomery Watt and M.V McDonald, [State university of New York press, Albany, @1988, New-York 12246, ISBN 0-88706-707-7 (pbk) পৃষ্ঠা ১৩০-১৩৩
https://onedrive.live.com/?authkey=%21AJVawKo7BvZDSm0&cid=E641880779F3274B&id=E641880779F3274B%21291&parId=E641880779F3274B%21274&o=OneUp

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

86 + = 95