অমুসলিমদের হত্যা করতে পারলেই বেহেস্তে যাওয়া যাবে।

অমুসলিমদের হত্যা করতে পারলেই বেহেস্তে যাওয়া যাবে’এমন ভ্রান্ত ধারণা শুধু মুসলিমদের মধ্যে রয়েছে৷ যার কারণে মুসলমানদের সাথে প্রায় সব ধর্মের সংঘাত ঘটে,কারণ অন্য ধর্মাবলম্বীরা গড়পড়তা যতটুকু ধার্মিক কিংবা ধর্মের বিধিবিধানকে যতটা মানে, মুসলমানেরা গড়ে তার চেয়ে অনেক বেশি মানে। ইসলামকে মুসলিমেরা কেবল একটি ধর্ম নয়, বরং একটি “পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা” বলে দাবি করে। এই দাবির অর্থ হল মুসলিমেরা বিশ্বাস করে ইসলাম বর্জিত যেকোন জীবনব্যবস্থাই ইসলামী জীবনব্যবস্থার চেয়ে নিম্নমানের। সুতরাং সংঘাত লাগবেই।

পশ্চিমা দেশগুলোতে সিরিয়া থেকে আসা শরণার্থীদের প্রতি সবচেয়ে বেশি সমবেদনা দেখেছি স্থানীয় খ্রিস্টান জনগোষ্ঠীদের মধ্যে। মুসলিমদের মধ্যে দেখেছি বিরক্তি। সিরিয়া থেকে আসা শরণার্থীর ডাউনটাউন টরন্টোতে অর্ধনিযুত ডলারের অ্যাপার্টমেন্ট কেনার গল্পও শুনেছি মুসলিমদের কাছ থেকেই।

পশ্চিমারা মুসলমানের শত্রু কিংবা ইসলামের শত্রু – এটি বাংলাদেশের হুজুরদের বানানো একটি সম্পূর্ণ ভুয়া কথা। মুসলমানদের আসল শত্রু হল মুসলমানেরা নিজেই। গত একশো বছরে যত মুসলিম খ্রিস্টান বা ইহুদিদের হাতে মারা গেছে তার চেয়ে সহস্রগুণ মারা গেছে অন্য মুসলিমদের হাতে। বাংলাদেশী হুজুরেরা কি তাদের বয়ানে সিরিয়াতে মারা যাওয়া মুসলিমদের কথা উল্লেখ করেন? উল্লেখ করলে জিজ্ঞেস করুন নিহত পাঁচ লক্ষ সিরিয়ার কতজন ইহুদি/ নাসারা/ পশ্চিমাদের হাতে মারা গেছে?

ইয়েমেনে “হুথি” বলে একটি গোষ্ঠী আছে। এদের সাথে সৌদি আরবের ক্ষমতাধর ওয়াহাবীদের সংঘর্ষ বহু যুগের। সৌদি আরব তো ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলিমদের প্রিয় একটি দেশ। কিন্তু সেই সৌদি আরব যখন ইয়েমেন বোমা ফেলে শিশু হত্যা করে, কিংবা খাদ্য সরবরাহে বাধা দিয়ে লক্ষ লক্ষ শিশুকে অনাহারে থাকতে বাধ্য করে তখন তো উপমহাদেশীয় মুসলিমদের তেমন কোন আওয়াজ শুনি না। তাদের নজর ইজরায়েল/ আমেরিকা মুসলিমদের কি করলো তার দিকে।

এটি সত্যি যে মুসলিমরা সংখ্যালঘু হিসেবে চীনে কিংবা মিয়ানমারে নির্যাতনের শিকার হয়েছে। যদি সংখ্যালঘু নির্যাতনের কথা বলি তাহলে মুসলিমরা নির্যাতনকারী হিসেবে শীর্ষে রয়েছে। বাংলাদেশে যখন ছিলাম তখন একজন সংখ্যালঘু নাস্তিক) হিসেবে আমাকে যেসব প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়েছে সেটি ইসলামের কারণেই। ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ সেখানে অন্য ধর্ম কিংবা মতাবলম্বীদের নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। মিয়ানমার বা চীন যা করছে তা জঘন্য এবং অমানবিক। আমি কোনভাবেই এর সমর্থন করি না। তবে এ ধরনের নৃশংসতার প্রতিবাদের পাশাপাশি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের মুসলিমদের উচিত আয়নায় নিজেদের দেখা। অন্য দেশের উইঘুর কিংবা রোহিঙ্গাদের সমবেদনা দেখানোর পাশাপাশি হিন্দু প্রতিবেশীটি কি কোন অবিচারের শিকার হচ্ছে কিনা তাও দেখা জরুরী।

আমি আবারও বলছি, মুসলিমরা মার খাচ্ছে অন্য মুসলিমদের হাতেই – অন্তত ৯০% ক্ষেত্রে। সুতরাং পশ্চিমা ইহুদি নাছারাদের গালি দেবার আগে একটু ভাবুন। ধর্মকে অতিরিক্ত আক্ষরিকভাবে অনুসরণ করতে গিয়েই মুসলিমদের এই দুর্দশা। দুর্দশার জন্য আপনারা অন্যদের যত খুশি গালি দিতে পারেন। কিন্তু তাতে দিন শেষে সত্যি বদলে যাবে না।ধর্মের সত্যতা যাচাই যোগ্য নয়! যাচাই করা সম্ভব ও নয়, কারণ এটি পদার্থবিজ্ঞান বা গণিতের মত সূত্র মেনে চলেনা।ধর্মের ৯৫% অন্য মানুষ যেমন, পাদ্রী, রাবাই, ইমাম, মৌলভি, পুরোহিতদের থেকে শুনে, দেখে ও অণুকরণ করে শেখা, ধর্মের বইগুলো ৫% মানুষও কোনদিন পড়ে দেখেছে কিনা সন্দেহ আছে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 73 = 74