সত্যিকারের ভালোবাসায় অবশ্যই কিছু শর্ত থাকে

”শর্তহীন ভালবাসায় যখন শর্ত চলে আসে, তখনই ভালবাসা প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

– বানীতে নিপা“

ফেইসবুকে আজ স্কল করতে করতে উপরের লিখাটি চোখে পড়ল। ভাবলাম এই লাইনটি নিয়ে কিছু কথা সবার মাঝে শেয়ার করা যেতে পারে। তাই কিবোর্ডের উপর দু’হাতের দশটি আঙুল বসালাম।

সত্যিকারের ভালোবাসায় অবশ্যই কিছু শর্ত থাকে। যেমন সময়, ক্যারিয়ার, স্বাস্থ্য, চাওয়া-পাওয়ার মতো অনেক বিষয়। বাস্তবতার এ শর্তগুলো মেনে নেওয়া ভালো। সম্পর্কের শুরুতে সবকিছু ভালোবাসার ঘোরে সহজ মনে হতে পারে। তবে ঘোর কেটে গেলে অনেক বাস্তবতা সামনে এসে দাঁড়ায়। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে দুজনকেই অনেক চেষ্টা চালাতে হয়, অনেক ছাড় দিতে হয়। দুজনের মধ্যে যতই বোঝাপড়া থাক, কঠিন সময়ে পরস্পরের হাত যেন না ছুটে যায়, সে জন্য সব সময় চেষ্টা করতে হয়। সঠিক মানুষটিও অনেক সময় বেঠিক হতে পারে। তাই বন্ধন যেন না ছেঁড়ে, সে প্রচেষ্টা থাকা প্রয়োজন। সময়ের সঙ্গে ব্যস্ততা বাড়বে, এটা সত্য। তবে এরই ফাঁকে প্রিয়জনের জন্য কিছুটা সময় বরাদ্দ রাখা জরুরি। যেকোনো সম্পর্কেই যত্নের দরকার হয়। ভালোবাসা অটুট রাখতে একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা থাকাটা জরুরি।

এইবার ভালবাসা নিয়ে কিছু কথা বলি,

খেয়াল করবেন, ঘণ্টার প্রতিটি সেকেন্ডে সেকেন্ডে আপনি একজনের কথা ভাবতে থাকবেন। এই মুহূর্তে সে কী করছে? সে কেমন আছে? সে কী খেয়েছে? সে কি আপনাকে পছন্দ করে? আরও অনেক চিন্তা আপনার মনে আসবে। তবে এটা স্বাভাবিক। আপনি যদি তাকে সত্যিই ভালোবাসেন, তাহলে দেখবেন তার সঙ্গে কথা না বললে, তার কথা না ভাবলে যেন একটি দিনও পার হবে না। আপনি যতবার তাকে দেখবেন, আরও দেখতে ইচ্ছা করবে। এ কথা সত্য যে, সব কথা সবাইকে বলা যায় না। কিন্তু কেউ কি আছে, যার সঙ্গে আপনি নির্দ্বিধায় সব কথা বলতে পারছেন। আপনি দেখবেন, কোনো প্রকার জড়তা ছাড়াই কোনো একজনের সঙ্গে গোপন বা মনে লুকানো কথাগুলো বলতে পারছেন। কথা বলার সময় কুত্তা, হারামি, বান্দর, কাফের, মুনাফেক কোনো প্রকার জড়তা ছাড়াই বলতে পারছেন একজন আরেকজনের সাথে বুঝে নিবেন নিখুত ভালেবাসা আপনাদের মাঝে। যদি যখন কেউ একজন কথা বলার শব্দ ইগোতে নিয়ে নেয়, সেখানে ভালোবাসার ঘাটতি আছে। সেখানে ভালোবাসা নয় এক অদৃশ্য খুটি বিহীন মায়ার ঘরবাড়ি। যে কোন মুহূর্তে ধসে পড়তে পারে আপনার ইগোর কাছে।  আপনি আপনার কাজে তার সাহায্য আশা করবেন আর চাইবেন এই মুহূর্তে আপনার করণীয় কী হতে পারে, তা বলে দেবে আপনার প্রিয় এই মানুষটি। প্রেমে পড়লে মনের স্থিরতা থাকে না। হঠাৎ করেই মন ভালো হয়ে যায়। বিচিত্র এক অনুভূতিতে আপনি হয়তো নিজেও জানবেন না আপনি হঠাৎ করে হেসে উঠেছেন। প্রিয় মানুষটির কথা মনে পড়লেই আপনার মুখে হাসি ফুটে উঠবে, আনন্দ অনুভূত হবে। বন্ধুমহল আপনার এই হঠাৎ হাসির অনুভূতির কারণে আপনাকে নিয়ে মজা করতে শুরু করবে। এই সময়ে নিজের ভেতরে একটি অন্য রকম ভালো লাগার অনুভূতি সৃষ্টি হয়। তখন আপনার কাছে সবকিছুই ভালো লাগবে। ভালোবাসায় নিজের নয়, প্রিয়জনের ভালো লাগাই নিজের ভালো লাগা হয়ে ওঠে। যদি সত্যিই তাকে ভালোবাসেন, দেখবেন মন থেকে কারও জন্য অনেক কিছু করতে ইচ্ছা হবে। প্রতিমুহূর্তে আপনার প্রিয় ব্যক্তিটিকে হারিয়ে ফেলার ভয় পাবেন। সর্বক্ষণ আপনার মনে এই সংশয় ঘুরপাক খাবে। আপনি এমন কিছু করবেন না বা চাইবেন না মানুষটি এমন কিছু করুক, যাতে আপনি তাকে হারিয়ে ফেলেন। এই ভয়ের কারণেই উদ্ভট অনেক কিছু করে ফেলতে ইচ্ছা হতে পারে। এই হারানোর ভয় যদি আপনার মধ্যে থাকে, তাহলে সত্যি সত্যি আপনি ভালোবাসেন। সব সময় একজনের কথা ভাবেন, একজনের জন্য আপনার মনে কারণে-অকারণে খারাপ লাগতে থাকে, কোনো একজনের চোখে সেরা হয়ে ওঠার ইচ্ছা জাগতে শুরু করলে, কোনো একজন যা বলছে তাতেই আপনার ভালো লাগতে থাকলে, কোনো একজনের সঙ্গে সব সময় হাসিখুশি থাকেন, কারও সঙ্গে দেখা করার আগে অনেক প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন, কোনো একজন মানুষের জন্য সবকিছু ত্যাগ করতে রাজি আছেন বলে মনে হয়, কোনো একজনের ছোট কোনো কাজে সহজেই মন খারাপ হয়ে যায়, তাহলে বুঝবেন সেই ব্যক্তিকে সত্যিকারে ভালবাসেন আপনি।

সর্বশেষে বলব সত্যিকারের ভালোবাসায় অবশ্যই কিছু শর্ত থাকে। তাই ভালেবাসায় পূর্ন করে দিন পুরো পৃথিবী। তবে খেয়ার রাখবেন, ভালোবাসার নিয়মিত পরিচর্যা না হলে আপনি জীবিত থাকতেও ভালোবাসা মরে যেতে পারে। ভালোবাসা বাঁচিয়ে রাখতে হয় প্রতিদিনের পরিচর্যায়। অনেকটা গাছের গোড়ায় নিয়মিত জল দেওয়ার মতো করে।

 

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

91 − 86 =