ইসলাম ধর্মের সমালোচনা কেনো করি।

আমার এক শুভাকাঙ্ক্ষী আমাকে প্রশ্ন করলো আমি কেন ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে সমালোচনা করি। ইসলাম বাদেও আরো অনেক ধর্ম আছে সেগুলো নিয়ে কেন তেমন একটা সমালোচনা করি না শুধু ইসলামের পিছনে পড়ে থাকি,এবং নাস্তিক বলতে আমি কি বুঝি।

উওর: নাস্তিক বলতে যারা কোন ধর্ম ও সৃষ্টিকর্তাকে বিশ্বাস করেনা তাদেরকে বুঝি। কিন্তু বাংলাদেশি নাস্তিকদের শুধু ইসলাম ধর্ম নিয়েই কেন এত বেশি সমস্যা?
প্রথমে কিছু বিষয় পরিষ্কার করি। ইসলামের সাথে আমার কোনো সমস্যা নেই,তবে মুসলিমদের সাথে আছে। মুসলিমদের এক একটি দল অন্যকে মুসলিম হিসেবে মানতে নারাজ। তাই আমার মত আম জনতার সকলকেই মুসলিম ধরে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই এমতাবস্থায় ধর্ম দ্বারা বাংলাদেশে যত অনাচার ঘটে তা মূলত মুসলিমদের দ্বারাই ঘটে। এই যেমন ধরুন, রাজাকার দের বিচারের সময় দেশব্যপী অরাজকতা কারা করেছে? নিশ্চয়ই মুসলিমরা। ওয়াজ-মাহফিলে পহেলা বৈশাখ,শহীদ দিব-বিজয় দিবস এইসবের বিরুদ্ধে কারা কথা বলে? কারা প্রকাশ্যে স্পষ্টভাষায় কিংবা খানিকটা ঘুরিয়ে বাংলাদেশের।

আমি একজন প্রাক্তন মুসলমান

আমি মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছি তাই আমি ইসলাম ধর্ম নিয়ে কথা বলি। মুসলমানদের নিয়ে আমার কোনো সমস্যা নেই (কিছু ব্যতিক্রম ,আই মিন যারা ইসলামিজমে বিশ্বাসী)। তাছাড়া আপনি যেই ধর্মের পরিবারে জন্মগ্রহণ করে পরে সেই ধর্ম ত্যাগ করবেন। সেই ধর্ম আপনি কোনোকালে হলেও বিশ্বাস করেই বড় হয়েছেন। সুতরাং একজন প্রাক্তন মুসলমানের মুখে খ্রিষ্টান ধর্মের সমালোচনা খুব মানাবে না, যদি না সে সেই ধর্মের ব্যাপারে গভীর জ্ঞান রাখে। আমি হিন্দু ধর্ম, খ্রিষ্টান ধর্ম, বৌদ্ধ ধর্ম কিংবা ইহুদি ধর্ম সম্বন্ধে জানি না তাই সেগুলোর ব্যাপারে কথা বলা আমার মুকখে মানায় না। আমি ইসলাম ধর্মে বিশ্বাস করেই বড় হয়েছি। এককালে ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়েছি,রোজা রেখেছি। হজে বা ওমরায় আমার যাওয়া হয়নি কোনোদিনও। এই ধর্মের নিয়মনীতির বেড়াজালে বড় হয়েছি। সবকিছু না জানলেও কিছু জিনিস আমার জানা আছে। তার মধ্যে সবকিছু আমার শুনতে ভাল লাগেনি । শুনতে চাইনি । ইমান নষ্ট হয়ে যাবে । এইধরণের ভয়ে থাকতাম। যখন শুনি গান শুনা, ছবি আকা , ইত্যাদি পাপ তখন ভয় গেল আরও বেড়ে। মনে হত জাহান্নামে। পুড়বো। কিন্তু কেন ?

কারোর গান শোনা, ছবি আকায় আল্লাহর সমস্যা কোথায় ? আমার মনে সন্দেহ জাগল সন্দেহকে প্রশ্ন করলাম । পরবর্তিতে আমি কুরআন পরে দেখি । এবার সত্যি মনের মধ্যে খটকা লাগল।

সবজান্তা সৃষ্টিকর্তা কি পৃথিবীকে সমতল বিছানা বলতে পারে ? সূর্যকে আড়শের নিচে তার সিজদা করে কথাটা বলতে পারে ? সবকিছুকে জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করা হয়েছে কথাটাকি তার মুকখে মানায় ?

আমার তো তা মনে হয় না। তাহলে ইনি কি আসলে সৃষ্টিকর্তা নাকি মানুষেরই বানানো কোনো ইমোশনাল জীব। আল্লাহ যখন কা্রোরই মুখাপেক্ষি নন তখন তার আর কি লাগে ? ১জন মানুষ তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করল কিনা সেটা দিয়ে তার কাজ কি ? মানুষ ইসলাম না মানলেই কেন সে জাহান্নামি হবে ? কেন তাকে হত্যা করতে হবে ? অমুসলমানদের সাথে কেন বন্ধুত্ব করা যাবে না ?

মন গেল পালটে। মনে হল যেই আল্লাহকে এত শ্রদ্ধা করতাম মনে মনে সে যেন অন্য কোনো মানুষের মতোই একটি ইমোশোনাল ক্রিয়েশন। নিজেকে মনে হল ইসলামের পুতুলের মতো। ইসলাম যা বলল তাই আমি করে গেলাম !!!!! প্রশ্ন করলাম না কেন ? ৫ বছর ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার চেষ্টা করেছি না হলেও ৪ ওয়াক্ত পড়েছি। যখন আমার বয়স ছিল ৮ বছর তখন থেকেই এই অবস্থা ছিল। পালটে গেল জীবন। আমার সৌভাগ্য আমার বাবা মা আমাকে নামাজ আদায়ে জোড় করে না। রোজাও ঠিকমত রাখি না । লুকিয়ে লুকিয়ে পানি পান করে কাজ চালাই। পরে জানতে পারি অটোফ্যাজির কথা।

যখন আমার বয়স প্রায় ১৪ বছর আমি তখন থেকে সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বকে কড়াকড়িভাবে সন্দেহ করি।আল্লাহ আমার দৃষ্টিতে আসল সৃষ্টিকর্তা হতে পারে না। হলেও সে আমার জন্য উপাসনার যোগ্য না। এর চেয়ে যোগ্য কেউ যদি থেকেও থাকে তাও তার অহংকারবোধ এত ভঙ্গুর হতে পারে না যে তার অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন করলে সে রোষান্বিত হয়ে যাবে। আমি আর ইসলামে বিশ্বাস করি না। করার প্রয়োজনবোধও করি না। আপনি কি মানবেন কি মানবেন না সেটা আপনার ব্যাপার। আমারটাও আমার ব্যাপার।

এখন আসি বাংলাদেশের ব্যাপারে। বাংলাদেশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ তাই ইসলাম হল রাজনোৈতিক ভিত্তিগুলোর একটি, যদিও বাংলাদেশে শরিয়া আইন চলে না।বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারী যেসকল লোকজন একপর্যায়ে নাস্তিক হয় তারা মনে করে ইসলাম সকল সমস্যার মূল। অন্যধর্মের দ্বারা বাংলাদেশের লোকজন খুব কমই প্রভাবিত হয়। তাই তারা সেই ধর্ম নিয়ে কথা বলতে যায় না।

ইসলাম ধর্মকে নিয়ে সমালোচনা করার কারণ,কারা নারীদের পোষাকের অজুহাতে ধর্ষকের পক্ষে সাফাই গায়? কারা বলে মেয়েদের ক্লাস ৫ এর পর স্কুলে পাঠিও না? কারা শুধুমাত্র হিন্দু বলে রবীন্দ্রনাথ কে বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত করতে চায়? সাকিব খারাপ খেললে সাকিবের বৌয়ের পর্দার দোষ দেয় কে? কারা নারী কে তেঁতুল বলে? কারা তথাকথিত মাদ্রাসা শিক্ষার নামে দেশকে উলটো পথে হাঁটাতে চায়? কারা মুসলিম-মুসলিম ভাই ভাই বলে পাকিদের চরণ লেহন করে? কারা শুধুমাত্র ধর্মের দোহাই দিয়ে ভাইয়ের রক্ত আর বোনের সম্ভ্রম হরণকারীর প্রতি ভালোবাসা দেখায়।

এর সবগুলোর উত্তর ‘তথাকথিত মোল্লা-মুন্সী রা’ কোনো হিন্দু-বৌদ্ধ বা খ্রিষ্টান না। আর দেশের সব মুসলিমরা হল এইসব মোল্লাদের হাতের পুতুল।

তাই কোনো নাস্তিক যদি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সামাজিক-অনাচার দূর করতে চায় তাহলে তাকে মুসলিমদের বিরুদ্ধেই বলতে হবে। কারণ সংখ্যালঘু হিন্দু-বৌদ্ধরা চাইলেও দেশের অত ক্ষতি করতে পারবে না, যা মুসলিমরা করবে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

5 + 2 =