ঈদে বিধর্মীর ঘুরবার অধিকার নেই, তবুও তোমাদের ঈদের শুভেচ্ছা এই বিধর্মীর পক্ষ থেকে । এতেও কি অধর্ম হবে! ( পড়ে দেখার অনুরোধ)

আগামীকাল ঈদ সবাইকে আগেই ঈদের সুভেচ্ছা দিয়ে দিচ্ছি। কিন্তু আমি তো হিন্দু আপনাদের কি ঈদের শুভেচ্ছা দিতে পারবো? আমি তো বিধর্মী আমার সাথে কি আপনি কোলাকোলি করে আপনার আনন্দ টুকু ভাগ করে নিতে পারবেন? – হ্যাঁ এখন এমন ই সন্দেহ হচ্ছে একটি ছোট্ট ঘটনার পর।

কিছুদিন আগে আমার স্কুলের বন্ধুরা মিলে এক ইফতার পার্টির আয়োজন করি। মূল দায়িত্ব ছিল আমার এক বন্ধু। নাম তার কল্লোল। ওর কথায় আমি ওকে সেই পার্টির এরেজঞ্জমেন্ট এ সহায়তা করি। তখন ও আমার মনে হিন্দু মুসলিম ভেদাভেদ নেই। পার্টিতে অনেক মজাও হল। অনেক ছবিও তুললাম আমরা।


আগামীকাল ঈদ সবাইকে আগেই ঈদের সুভেচ্ছা দিয়ে দিচ্ছি। কিন্তু আমি তো হিন্দু আপনাদের কি ঈদের শুভেচ্ছা দিতে পারবো? আমি তো বিধর্মী আমার সাথে কি আপনি কোলাকোলি করে আপনার আনন্দ টুকু ভাগ করে নিতে পারবেন? – হ্যাঁ এখন এমন ই সন্দেহ হচ্ছে একটি ছোট্ট ঘটনার পর।

কিছুদিন আগে আমার স্কুলের বন্ধুরা মিলে এক ইফতার পার্টির আয়োজন করি। মূল দায়িত্ব ছিল আমার এক বন্ধু। নাম তার কল্লোল। ওর কথায় আমি ওকে সেই পার্টির এরেজঞ্জমেন্ট এ সহায়তা করি। তখন ও আমার মনে হিন্দু মুসলিম ভেদাভেদ নেই। পার্টিতে অনেক মজাও হল। অনেক ছবিও তুললাম আমরা।

ফেসবুকে দেয়া হল সেই ছবি গুলো। ওখানে আমাদের স্কুলের প্রাক্তম এক ছাত্রের কমেন্ট। “জয় কি মুসলিম নাকি ও ইফতার পার্টি করে”। আমি ওকে সুন্দর ভাবে বললাম “ন্ধু ইফতার পার্টি করতে, ঈদের ঘুরতে মুসলিম হওয়া লাগে নাকি রে। বন্ধুত্বই যথেষ্ট। আর ধর্ম যার যার উৎসব সবার। বুঝলা” চার পাচজন আবার আমার এই কমেন্টে লাইক বসিয়ে দিল।কিছুক্ষণ পর তার কমেন্ট- “ধর্ম যার যার উৎসব সবার এমন কোন কথা তো কোরানে নেই,তোদের কোণ ধর্ম গ্রন্থে আছে দেখা”। আজব কথা বার্তা শুনে আমার মেজাজ গরম। বলে কি ছেলে! আবার এর মাঝেই বলে – তোরা আসিস ভাল, কিন্তু আমদের ধর্মে নিষেধ আছে অন্য কোন অনষ্ঠান পালন না করার। একটা সূত্র ও দিয়ে দিয়েছিল সে।
আমি একটা স্টাটাদ দিলাম ___

আচ্ছা ইফতার পার্টি করতে,তারপর ঈদে ঘুরতে বের হতে কি মুসলিম হওয়া লাগে!হিন্দুরা করতে পারে না!জানতাম না। এত বছর তো ঈদে সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত ঘুরতাম। সালাম করে সালামী ও নিতাম বন্ধুদের সাথে।
কিন্তু এখন কি সব নিয়ম চেঞ্জ করতে হবে নাকি?
গত কার আমাদের ‪‎কল্লোল‬ ভাই এর উদ্যোগে ইফতার পার্টি হয়। যত টুকু পেরেছি ওকে হেল্প করার চেষ্টা করেছি। ওর সাথেই ছিলাম।
ওখানে এক ছেলে বলে -জয় মুসলিম হইছে নাকি।
উত্তর দিলাম আরে ইফতার পার্টি করতে ঈদে ঘুরতে কি মুসলিম হওয়া লাগে নাকি?
আজ ঈদের প্ল্যানিং করছিলাম সেই কথা ঐ বন্ধুর -জয় কি মুসলিম নাকি!
আজব পাবলিক সব।
আমি সেই বাচ্চা কাল থেকে ঈদের দিন সকালে উঠে গোসল করে নতুন জামা পরে সবাইকে সালাম করতাম বন্ধুদের সাথে। তারপর ঘুরতে যেতাম। বুঝলি
তোরা এখন নিয়ম বানাবি নাকি হিন্দুরা ইফতার করতে পারবে না,ঈদে ঘুরতে পারবে না!

সেখানে সে আবার কমেন্ট অন্য আইডি দিয়ে একই কথা।আমি বললাম”আরে আমি তো ইফতার পার্টিতে গিয়েছি আমি কি ইফতার করার আগে দোয়া পড়েছি? আমি কি ঈদে নামাজ পড়েছি যে তোদের ধর্ম পালন করেছি! আজব কথা বার্তা”আমি কমেন্ট করলাম যে “ এই আপনারা এখানে যারা মুসলিম আছেন তাদের উপর ছেড়ে দিলাম কথাটা। আপনারাই বলবেন আমি বললে আবার বিধর্মী আর নাস্তিক ট্যাগ খাইতে হবে”। অনেকেই কমেন্ট করল। কেউ তার কথা ঠিক কিন্তু বলল “এই গুলা তো কালচার। এইগুলো করলে কি ধর্ম পালন করা হয় নাকি” নাবিদ ভাই নামের এক ভাই বলল আরে এইসবের কথায় কান দিয়ো না। এগুলো করলে অন্য ধর্ম পালন করা হয় নাকি। আমিও তো ঘুরি” সেই মহাশয় আমাকে নিয়ে স্টাটাস দিয়ে দিল “”

”Devilz Enimyz
once a boy called #joy…das……!!! i saw a picture of him with some of my friends in a iftar party so then i asked him that #joy das did u reverted to islam?? then he replied: is there any causes to revert i used to celebrate eid day from childhood….!!!! so my answer to him (joy das) ” you can celebrate the eid but we cant (muslim) celebrate the puja that u held..cause allah (god) forbitted that for us in surah mayidah chapter 5 verse 90)”

আচ্ছা এখন তো মনে হচ্ছে আপনাদের সাথে এক সাথে কথা বললেও আপনাদের অধর্ম হবে!!

কিছু কিছু হিন্দু ও কিছু কিছু মুসলিমের জন্য আমরা এখন ও মানুষ হতে পারলাম না। মুসলিমের ঘরে খেলে জাত যাবে, আবার হিন্দুর ঘরে খেলে যাত যাবে। এমন ধারনার জন্য আমরা শুধু হিন্দু আর মুসলিম ই রয়ে গেলাম। যার জন্য ধর্মের প্রতিষ্ঠা সেই মানুষ আর হতে পারলাম না।

আমি হলাম বিধর্মী এখন দেখছি মানুষ হওয়া বাদ দিয়ে দিতে হবে এদের জন্য!! ঈদেও প্ল্যান ছিল এখন আর ইচ্চা নেই।
সেই ছোট বেলার অভ্যাস বদলাতে হবে।মনে হচ্ছে।

উপরি উক্ত এই কারনের আপনকের ঈদের শুভেচ্ছা জানাতে দ্বিধা হচ্ছে আপনাদের অধর্ম হবে নাকি আবার!!

এদের জন্য একটাই কথা আমার তরফ থেকে-

মুখে বল ধম্ম্য ধম্ম্য
কাজের বেলায় নাই
বলতে গেলি আমায় তুমি নাস্তিক বল ভাই!
তোমায় শুধু বলব আমি
আগে মানুষ হও ভাই।
যত ধম্ম্য আছে সবই মানুষের জন্য-
তাইতো তো আমি বলি তোমায়
সবার উপরে
মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১৯ thoughts on “ঈদে বিধর্মীর ঘুরবার অধিকার নেই, তবুও তোমাদের ঈদের শুভেচ্ছা এই বিধর্মীর পক্ষ থেকে । এতেও কি অধর্ম হবে! ( পড়ে দেখার অনুরোধ)

  1. মুখে বল ধম্ম্য ধম্ম্য
    কাজের

    মুখে বল ধম্ম্য ধম্ম্য
    কাজের বেলায় নাই
    বলতে গেলি আমায় তুমি নাস্তিক বল ভাই!
    তোমায় শুধু বলব আমি
    আগে মানুষ হও ভাই।
    যত ধম্ম্য আছে সবই মানুষের জন্য-
    তাইতো তো আমি বলি তোমায়
    সবার উপরে
    মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই।

    জয় ভাই আপনাকে :bow: :bow: :bow: :bow: …এইরাম কিছু গোবরওয়ালা উদ্ভট দু-পেয়ে জন্তুর জন্য আজকে শুধু ইসলাম নয়, প্রায় সব ধর্মেরই এই অবস্থা… :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: কিন্তু জয় ভাই, সবাই কিন্তু এমন না… এই বাংলায় আবহমান কাল ধরে সব ধর্মের মানুষ এক সাথে কাঁধে কাধ মিলিয়ে পাশাপাশি বসবাস করে আসছে… :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :থাম্বসআপ: মানসিকভাবে অসুস্থ কিছু কালপ্রিটদের জন্য কখনই তা নষ্ট হতে পারে না, হতে দেব না… আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন… :এখানেআয়: :এখানেআয়: :এখানেআয়:

  2. সূরা আল মায়েদা’র ৯০ নম্বর
    সূরা আল মায়েদা’র ৯০ নম্বর আয়াতে বলা হচ্ছে–

    হে মানুষ তোমরা যারা ঈমান এনেছ (তোমরা জেনে রাখ), মদ, জুয়া, পূজার বেদী ও ভাগ্যনির্ণায়ক শর হচ্ছে হৃণিত শয়তানের কাজ, অতএব তোমরা তা (সম্পূর্ণ রূপে) বর্জন কর। আশা করা যায় তোমরা ,মুক্তি পেয়ে যাবে।

    এই আয়াতের প্রচুর অপব্যাখ্যা আছে। হ্যাঁ, আমরা মুসলিমরা আল্লাহ্‌ ব্যাতীত অন্য কোন সত্ত্বার উপাসনা করতে পারব না। এই আয়াতে এটাই বোঝানো হয়েছে। আর আপনি নিঃসন্দেহে ঈদ পালন করতে পারবেন। ঈদ সবার জন্য। 😀 :গোলাপ:

    1. আমি ঈদে ঘুরতে যাচ্ছি আমিতো আর
      আমি ঈদে ঘুরতে যাচ্ছি আমিতো আর আমার ধর্ম ছেড়ে ইসলাম পলন করি নাই।।
      আর পূজা করতে নিষেধ আছে আল্লহ ছাড়া অন্য কারো উপাসনা করতে নিষেধ আছে কিন্তু পূজায় ঘুরলে বন্ধুর বাসায় দাওয়াত খেলে কি অন্য কারো উপাসনা করা হয়???

  3. আবালদের কথা নিয়ে এতো আবেগি
    আবালদের কথা নিয়ে এতো আবেগি হওয়ার কিছু নাই। চুটায়ে মজা করেন ঈদে। সামনে পূজায় আমরার পালা। :পার্টি:

  4. প্রথমে ঈদমোবারক জানিয়ে আমি
    প্রথমে ঈদমোবারক জানিয়ে আমি শারদীয় শুভেচ্ছা পাওয়ার আশা ব্যক্ত করে বলছি, আপনার ঐ বন্ধু বা বন্ধুগুলি শুধুই মুর্খ নয়, এরা আসলে গন্ড মুর্খ।মুসলমানের কলংক।

  5. দূরন্ত জয়ের কথার সাথে মিলিয়ে
    দূরন্ত জয়ের কথার সাথে মিলিয়ে বলতে চাই, ইসলামী ট্যাগ লাগানো বন্ধুটি অবশ্যই শিবিরের অন্ধ সমর্থকের। তারা ধর্মের নামে মানুষের রগ কাটবে, সাইদীরে চাঁদে উঠাইয়া সরকারি সম্পদ ধ্বংস করবে, বাংলাদেশে ব্ল্যাশফেমি আইন কায়েম করে বাংলাস্থান বানাবে ! এরা ধর্মের দোহাই দিয়ে অন্যায় করলে সেটা অন্যায় নয় এটাই আমোদের দেশের আবাল পাবলিকরে খাওয়াবে। আমি আবাল পাবলিকের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, দেখুন পাকিস্তানের দিকে তাকিয়ে, পবিত্র ঈদের দিনেও ঈদগাহ মাঠে বোমা হামলা করে মুসুল্লীদের হত্যা করছে। এ অবস্থা আমাদের দেশে হওয়ার পূর্বেই ধর্মকে ব্যবহার করে এইসব ক্ষমতালোভী ইসলামের ধারক-বাহকদের প্রতিহত করুন। নইলে আপনার আমার কারই নিস্তার নাই….

    পোস্ট লেখককে বলবো কারও মুর্খতাকে মূল্য দিয়ে আপনার নিজের উৎসবকে নষ্ট করবেন না……….

  6. কিছু বলার নেই… আপনার জন্য
    কিছু বলার নেই… আপনার জন্য আমার একটা স্ট্যাটাস উৎসর্গ করলাম-

    https://www.facebook.com/sofiq.ahsan/posts/705570332792023?comment_id=7812716&offset=0&total_comments=8&notif_t=feed_comment

    আমরা যখন বিশ্ব মানবতার কথা বলছি, খুঁজে ফিরছি শৃঙ্খলমুক্তির পথ; তখন কতিপয় বক ধার্মিকের অপব্যাখ্যায় ধর্ম হয়ে উঠছে একটা নতুন শৃঙ্খল, একটা নতুন বেড়াজাল!
    তবে অচিরেই আমরা সেসব ভেদাভেদ ভেঙ্গে সব মানুষ সম কাতারে দাঁড়াতে পারবো- এই কামনা করি…

    জয় দা’- আপনার সেই বন্ধুকে আমার হয়ে একটা প্রশ্ন করবেন। ঠিক এভাবে-
    মনে কর তোর বাবা/মা গুরুতর অসুস্থ। ইমার্জেন্সি রক্ত পাওয়া না গেলে বাঁচানো যাবে না। কোথাও ঐ গ্রুপের রক্ত পাওয়া যাচ্ছে না! তখন আমি (একজন হিন্দু!) যদি রক্ত দিতে চাই, তুই কি আমার রক্ত নিবি? নাকি বলবি- “বাঁচা-মরা আল্লাহর হাতে!” একটা হিন্দুর রক্ত নেবার চেয়ে আল্লাহর হাতে ছেড়ে দিলাম- উনি বাঁচালে বাঁচাক, না বাঁচালে না-ই…
    আর যদি রক্ত নিস- তাহলে একটা হিন্দুর রক্ত শরীরে নিয়ে নামাজ-রোজা করা যাবে তো?

    ভাল থাকবেন… 🙂

  7. একটি কথা লেখকের উদ্দেশ্যে
    একটি কথা লেখকের উদ্দেশ্যে বলতে চােই, বিধর্মী বলে কি কেউ আছে? আপনি যেটা বলতে চেয়েছেন সেটা হলো ভিন্ন ধর্মী। বিধর্মী হলো যে কোন ধর্মই মানে না….

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 5 = 2