আমরা প্রত্যেকে নাস্তিক হয়ে জন্মগ্রহণ করি।

জাত ধর্ম সবকিছুই মানুষের বানানো আমরা প্রত্যেককেই নাস্তিক হয়ে জন্মগ্রহণ করি, দুনিয়ায় আসার পর নিজ পরিবার আমাদের উপর ধর্ম চাপিয়ে দেয়, যে মানুষ যে ধর্মিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করে সেই পরিবার তাকে সেই ধর্ম তার উপর চাপিয়ে দেয়। নবী রসূল, পীর মুরিদ যতজন মানুষ এই দুনিয়ায় এসেছে প্রত্যেককেই নাস্তিক কেউ ঈশ্বর আল্লাহর অশেষ কৃপায় মুগ্ধ হয়ে ধর্ম গ্রহণ করেননি। সুতরাং আমরা কোন ধর্ম নিয়ে পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করিনি। আমরা কিভাবে সকলেই নাস্তিক একটু ব্যাখ্যা করি ধরেন ইসলাম ধর্মের আল্লাহ ছাড়া আর অন্য কাউকে মানলে সে হয়ে যাবে কাফের বা অবিশ্বাসী অর্থাৎ নাস্তিক। আবার খৃষ্টানদের কাছে যে তাদের ধারণার ‘ঈশ্বর’ যে মানবে না (ত্রিত্ববাদী) সেই নাস্তিক, ইহুদীদের কাছে প্যাগান (পৌত্তলিক)রা সহ সব বিধর্মীরা নাস্তিক।

এভাবে দেখা যায় প্রতিটা সংগঠিত ধর্মবিশ্বাসীর কাছে অন্যধর্মের বিশ্বাসীরা অবিশ্বাসী নাস্তিক। আর বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মের তো কোন ঈশ্বরই নাই। সুতরাং অবস্থান বিশেষে আমাদের প্রত্যেকেই নাস্তিক।যদি একজনই সৃষ্টিকর্তা থাকেন তাহলে পৃথিবীর এত বিচিত্র মানুষের হাজার বিশ্বাসীদের তিনি কিভাবে বিচার করবেন? তাকে নিশ্চয়ই ধর্মনিরপেক্ষ হতে হবে। কিন্তু তেমন ধর্মনিরপেক্ষ ঈশ্বর কি আছেন? যদি থাকেন তাহলে আমি তাকে মানবো।

ঈশ্বর আল্লাহর আবির্ভাব কিভাবে হলো, মূলত এসব ঈশ্বরের আবির্ভাব ঘটেছে মানুষের অজ্ঞনতার থেকে যেমন প্রাচীনকালে ঝড় বৃষ্টি বাদল বজ্রপাত কিভাবে হয় কেন হয় মানুষ তা জানতো না, মনে করতো এগুলো সব ঈশ্বর থেকে প্রেরিত হচ্ছে। যার কারণে তারা ঝড় বজ্রপাত থেকে বাঁচার জন্য ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করতে বিভিন্ন রকম পূজা করতো, কেউ আগুনের পূজা করত কেউ গাছের পূজা করতো বিভিন্ন রকম মানুষ বিভিন্নভাবে পূজা করে ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট রাখার চেষ্টা করতো। আর এভাবে আস্তে আস্তে করে মানুষের মনে ঈশ্বরের ভয় ঢুকে যায় এবং এভাবেই একাধিক ঈশ্বরের পূজা থেকে অনেকে এক ঈশ্বরে বিশ্বাসী হয়ে যায়। এখনো পৃথিবীতে প্রায় ৪৩০০ ধর্ম আছে, এদের প্রত্যেকের আবার সৃষ্টিকর্তা আলাদা, এক ধর্মের সাথে আরেক ধর্মের মিল নেই। যদি সত্যি সত্যি সৃষ্টিকর্তা থাকতো তবে সে সৃষ্টিকর্তার ধর্ম একটা হতো ৪৩০০ ধর্ম হইতো না, সুতরাং সব মিলিয়ে বুঝতেই পারছেন ধর্ম কিভাবে পৃথিবীতে এসে রাজত্ব করছে, যারা ধর্মের প্রবর্তক এরা নিজেদের স্বার্থের জন্য সাধারণ মানুষের ব্রেইন ওয়াশ করে ধর্মের ভয় ঢুকিয়ে দিয়ে ধর্মগুলো প্রচার করেছে।

আরেকটু সহজ করে বলি ঈশ্বর বা আল্লাহ কাকে বলে,
মানুষ যা কিছু বুঝতে পারেনা, যার কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেনা, যা কিছু নিয়ন্ত্রন করতে পারে না, এবং যাকে ভয় পায় সেই ভয় থেকেই ঈশ্বরের জন্ম। তাকেই ঈশ্বর বলে। ঈশ্বর আল্লাহর আবির্ভাব এর ক্ষেত্রে মানুষ সম্পূর্ণ এককভাবে দায়ী নয়, এর জন্য দায়ী তার নিজের পরিবার পরিজন পরিবেশ পরিপার্শিক সমাজ ছোটবেলা থেকে এমন সমাজে আমরা বড় হয়েছি যেখানে আমাদের বুজ হওয়ার আগেই আমাদের এমন একজনের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয় যে ভীষন শক্তিশালী, দুনিয়ায় তার হুকুম মান্য করে চললে মরার পরে তিনি আমাদের বেহেশতে পাঠিয়ে আরাম-আয়েশ দিবেন, আর তার হুকুম অমান্য করলে পরকালে দোজখের আগুনে আমাদের পুড়িয়ে মারবেন মূলত এই ভয়ের কারনেই আমরা সেই সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব স্বীকার করতে বাধ্য হই, আর এভাবেই মানুষ ধার্মিক হয়ে ওঠে, দোযখ বেহেশতের একঝাক রূপকথার গল্প একটি শক্তিশালী বিশ্বাসে রূপ নেয়, এবং একটি বিশ্বাসী দল গঠন করে তখন সেটা ধর্মে পরিনত হয় ঈশ্বর আল্লাহ কোনও ধর্ম সৃষ্টি করেনি সব ধর্মই মানুষের সৃষ্টি৷যেমন- যিশুর খ্রিস্টান ধর্ম ,নবীর ইসলাম ধর্ম, মুনী ঋষীদের হিন্দু ধর্ম , বুদ্ধর বৌদ্ধ ধর্ম, মহাবীরের জৈন ধর্ম ইত্যাদি ৷ তারা তাদের মতো করে ধর্ম সৃষ্টি করেছে, তাদের মতবাদ যাতে সব লোকে মানে তাই তিনি গড,ভগবান,আল্লাহর দোহায় দেন এবং তাদের নির্দেশে করছে বলেন ৷

ঈশ্বর বা আল্লাহ নামের কোনও শক্তি থেকে থাকলে তিনি কখনই তাকে খুশি করার জন্য পূজা,নামাজ ,পার্থনা করতে বলেননি।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 57 = 62