ইসলাম দিয়েছে নারীকে ইচ্ছা মত ভোগ করার স্বাধীনতা।

ইসলামের সকল পুরুষের জন্য চার বিবাহ বৈধ আসুন এই বিষয়ে কোরআন কি বলে জেনে নেওয়া যাক, তোমরা বিবাহ করবে স্বাধীনা নারীদের মধ্যে ,যাকে তোমার ভালো লাগে , দুই তিন অথবা চার।

কোরআনের এই আয়াত দেখে মনে হচ্ছে চকলেট বাক্সের সামনে ছোট বাচ্চা আবদার করছে বাবা কয়টা চকলেট নিব!বাবা বলছে, তোমার ইচ্ছে মত দুই, তিন অথবা চার।’আমাদের ধর্ম অধিপতিরা ভুলে গিয়েছেলেন তিনি চকোলেট নয় নারী নিয়ে কথা বলছেন যাই হোক আজকে ইসলাম ধর্মে নারীদের অধিকার নিয়ে কথা বলবো আসুন দেখে নেয়া যাক ইসলাম ধর্মে নারীদের কতটা মর্যাদা দিয়েছে কোরআন হাদিস থেকেই যাচাই-বাছাই করি।

নবী মোহাম্মদ বলেছেন :স্বামী যখন তাঁর স্ত্রীকে দৈহিক প্রয়োজনে আহবান করবে, সে যেনো স্বামীর কাছে অত্যন্ত দ্রুত চলে আসে । এমনকি সে রান্না ঘরে রুটি পাকানোর কাজে ব্যস্ত থাকলেও।
সুনানে তিরমিযি ১১৬০/ছহীহুল জামে ৫৩৪

নবী মোহাম্মদ বলেছেন “ যে স্ত্রী স্বামীর ডাকে সাঁড়া না দেয় এবং স্বামী রাগান্বিত অবস্হায় সারারাত একাকী কাটায়, সে স্ত্রীর উপর ফেরেশতারা সকাল পর্যন্ত লা’নত দিতে থাকে ।”

ছহীহুল বোখারি ৫১৯৩
ছহীহ মুসলিম ১৪৩৬
সুনানে আবু দাউদ ২১৪১
নাসাঈ

নবী মোহাম্মদ বলেছেন “ তিন ব্যক্তির নামাজ তাঁদের মাথা অতিক্রম করেনা অর্থাৎ কবুল হয়না । তন্মধ্যে একজন হলেন অবাধ্য স্ত্রী , যে স্বামীর ডাকে সাঁড়া দেয়না এবং স্বামী রাগান্বিত অবস্হায় ঘুমায় ।”

তাবরানী ১০৮৬
সুনানে তিরমিযি ৩৬০
হাকেম
সিলসিলা ছহীহা ২৮

নবী মোহাম্মদ বলেছেন “ স্বামীর অনুমতি ব্যতিরেকে নফল রোজা রাখা যাবেনা এবং স্বামীর অপছন্দ ব্যক্তিকে ঘরে প্রবেশ করানো যাবেনা ।”

ছহীহুল বোখারি ৫১৯৫
ছহীহ মুসলিম ২৪১৭
দারেমী ১৭২০
সিলসিলা আহাদিসুস ছহীহা ৩৯৫

নবী মোহাম্মদ বলেছেন “ পরকালে আল্লাহপাক স্বামীর প্রতি অকৃতজ্ঞ স্ত্রীর দিকে তাকাবেন না ।”

নাসাঈ কুবরা ৯১৩৫
বাযযার ২৩৪৯
তাবরানী
হাকেম ২৭৭১
বাইহাক্বী ১৪৪৯৭
সিলসিলাহ ছহীহা ২৮৯

নবী মোহাম্মদ বলেছেন “ কোন স্ত্রী যদি তাঁর স্বামীর অধিকার সম্পর্কে জানতো, দিনে বা রাতের খাবার শেষ করে স্বামীর পাশে সারাক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতো ।”

ছহীহুল জামে ৫২৫৯
তাবরানী

নবী মোহাম্মদ বলেছেন “ স্বামীর অবাধ্য স্ত্রীর জন্য জান্নাত হারাম ।

মুসনাদে আহমদ ১৯০০৩

নবী মোহাম্মদ বলেছেন “ যে স্ত্রী তাঁর স্বামীকে কষ্ট দেয়, জান্নাতের হুরেরা বলেন “ তোমার স্বামীকে কষ্ট দিওনা । তিনি তোমার কাছে সাময়িক মেহমান মাত্র । তোমাকে ছেড়ে অচিরেই আমাদের কাছে ফিরে আসবে ।”

তিরমিযি ১

হযরত আয়েশা বলেনঃ কোন এক যুবতী রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর খেদমতে হাযির হয়ে আরজ করলঃ ইয়া রসূলুল্লাহ, মানুষ আমার কাছে বিবাহের প্রস্তাব দেয়, কিন্তু বিবাহ আমার কাছে ভাল লাগে না। এখন জানতে চাই, স্ত্রীর উপর স্বামীর হক কি? তিনি বললেনঃ ধরে নেয়া যাক, স্বামীর আপাদমস্তক পুঁজে ভর্তি। যদি স্ত্রী এই পুঁজ চেটে নেয়, তবুও তার শোকর আদায় করতে পারবে না। মহিলা বললঃ আমি বিবাহ করব কি? তিনি বললেনঃ করে নাও। বিবাহ করা উত্তম। [২. ২৯৭-২৯৮]

খাসআম গোত্রের জনৈকা মহিলা রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর খেদমতে এসে আরজ করলঃ আমি স্বামীহীনা, বিবাহ করতে চাই। এখন স্বামীর হক কি, জানতে চাই। তিনি বললেনঃ স্বামীর হক এক, সে যদি উটের পিঠে থেকেও সহবাস করার ইচ্ছা প্রকাশ করে, তবে স্ত্রী অস্বীকার করতে পারবে না। আরেক হক, কোন বস্তু তার গৃহ থেকে তার অনুমতি ব্যতীত কাউকে দেবে না। দিলে তুমি রোযা রেখে কেবল ক্ষুধার্ত ও পিপাসার্তই থাকবে। তোমার রোযা কবুল হবে না। যদি তুমি স্বামীর আদেশ ছাড়া ঘর থেকে বের হও, তবে ঘরে ফিরে না আস পর্যন্ত এবং তওবা না করা পর্যন্ত ফেরেশতারা তমার প্রতি অভিসম্পাত করতে থাকবে।

এই হাদিসগুলো দেখে নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন ইসলাম নারীদের কতটা সম্মান দিয়েছে? পুরুষ যখন যেটা হুকুম করবে নারী যতই অসুস্থ হোক না কেন সাথে সাথে পুরুষের মন রক্ষা করতে হাজির হয়ে যেতে হবে কোন অজুহাত চলবে না, অজুহাত দেখালে ফেরেশতারা সারারাত সেই নারীদের উপর লানত দিতে থাকবে।ইসলামে পুরুষ দের বীর্য বের করার নর্দমা হল নারী, মোহাম্মদের নির্দেশ ,যদি কারো পরস্ত্রী কে দেখে কামনা জাগবে , সঙ্গে সঙ্গে সে যেন নিজ পত্নীর কাছে চলে আসে ও নিজের যৌন কামনা মেটায় । স্ত্রীর ইচ্ছা অনিচ্ছা থাকতে নেই । পত্নী কি অবস্থায় আছে দেখার প্রয়োজন নেই । । বাড়ির নর্দমার সাথে তুলনা করলেই বোঝা যাবে । যখনি বাড়িতে নোংরা জমা হল , তুলে নিয়ে গিয়ে নর্দমায় ফেলে দিয়ে এলাম । ঘর পরিষ্কার হয়ে গেলো । ইসলাম পুরুষ কে সংযম শেখায় না । (মুসলিম- বিবাহ অধ্যায় -৩২৭১) নবী নিজেও তার পত্নী জয়নব ও সাওদা কে এভাবে ব্যবহার করেছেন , সহিহ হাদিস গুলি তার প্রমাণ।এবং এটা আল্লাহ-র নবীকে প্রদত্ত কোনও বিশেষ ক্ষমতা বলে নয় , বরং এই নির্দেশ সকল মুসলিম পুরুষদের জন্য।

অরো দেখুন নারীদের মর্যাদা ক্ষুন্ন করে পুরুষদের কিভাবে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন,মুসলিম আইনের ২৫৬ নং ধারার সঙ্গে তুলনা করা যায় । সেখানে , বলা হয়েছে “কোনও নারী স্বামী জীবিত থাকা অবস্থায় পুনরায় বিবাহ করলে দণ্ডবিধি ৪৯৪ ধারা অনুসারে তাকে শাস্তি প্রদান করা হবে ।এবং সেই বিবাহ জাত সন্তান অবৈধ হবে ।” কিন্তু পুরুষের পুরুষের ক্ষেত্রে কোনো বাধা-বিপত্তি নাই একসাথে দুই,তিন,চার টা, স্ত্রী রাখতে পারবে।ইসলামে পুরুষের বিবাহ চার টি পর্যন্ত সীমায়িত করে দিয়েছে যদিও এই কথা সর্বৈব মিথ্যা। আসল কথা হল ইসলাম ধর্ম অনুসারে , একটি মুসলিম পুরুষ একই সঙ্গে চারটির বেশি স্ত্রী রাখতে পারে না । অর্থাৎ পঞ্চম নারী কে বিবাহ করতে হলে বর্তমান চারটি স্ত্রীর মধ্যে যে কোনও একটি বা একাধিক কে তালাক দিলেই হবে । এবং সেই তালাক দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পঞ্চম বিবাহের বৈধতা এসে যায় । উদাহরণ তো প্রচুর দেওয়া যায় , আপাতত একটাই দিই । হাসান , যার জন্য আমরা প্রতি বছর হায় হায় করি , তার ৭০ জন স্ত্রী ছিল । সে বিবাহ করে বাসর ঘরে নারী ঢোকাত ,কাজ মিটে গেলেই তালাক দিয়ে বাসর ঘর থেকে বেরিয়ে আসতো ।

নারীদের এত অবজ্ঞা অপমান করার পরও মোল্লারা বলবে দেনমোহরের মাধ্যমিক নারীকে সর্বোচ্চ সম্মান দিয়েছে! এই দেনমোহর নিয়ে মোল্লাদের প্রচারণার শেষ নেই। ভাবখানা যে মোহরানা পেলেই একজন নারী একবারে স্বাবলাম্বী হয়ে যাবে! আর কিছু লাগবে না।নারী তাঁর পিতার সম্পত্তি থেকেও পাবে তাঁর ভাইয়ের অর্ধেক। তাঁর যদি কোন ভাই না থাকে, তো কচু পাবে।মোল্লারা তেতে গিয়ে বলে- নারী তো স্বামীর সম্পত্তির ভাগ পায়! খুবই হাস্যকর কথা। ইমাম হাসানের ৭০ জন স্ত্রীর কে কতটুকু ভাগ পেয়েছিল- তাঁর হিসেব জানা যায় না।মোল্লারা দেয় না।দেনমোহর আর গনীকার পারিশ্রমিকের মধ্যে পার্থক্য একটিই। দেনমহর একবার দিলেই চলে। তাঁরপর যতদিন খুশী তাঁর যোনীটা উপ ভোগ করা যায়। দরকার হলে- পেটাও, বন্দী করে রাখ। আল্লা তোমার পক্ষে আছে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

49 − = 43