গোমূত্রখোর সমাচার

ধর্ম যেটা ঠিক অ্যালকোহলের মত। অ্যালকোহল যেমনি অতিরিক্ত গ্রহণ করলে শরীরের জন্য ক্ষতিকর ঠিক তেমনই ধর্মকে অতিরিক্ত মাত্রায় চর্চা করলে সমাজ এবং ব্যক্তি উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর।

ধর্মকে মানুষের ততটাই চর্চা করা দরকার যতটা আধুনিক সভ্যতা এবং যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলা যায় ততটা। কেননা ধর্মগুলো অনেক পুরাতন হয়ে গেছে। আধুনিক সমাজের মানুষগুলো চাইলেও পারবে না সে যুগের ধর্মের সেই রক্ষণশীল নিয়মনীতিগুলো সঠিকভাবে পালন করতে। কারণ তখনকার যুগের রীতিনীতি বর্তমান সমাজব্যবস্থার সাথে খাপ খায় না।

যাই হোক টপিকের নাম যেহেতু দিয়েছি গোমূত্রখোর তাই গোমূত্রখোরদের নিয়েই কথা বলবো।

আপনারা দেখছেন ভারতের অনেক রাজ্যের মানুষই গরুর মূত্র অমৃত হিসেবে পান করছেন সকল রোগের মহা ঔষধ হিসেবে। কি হাস্যকর ব্যাপার আধুনিক সভ্যতার এই যুগে এসেও এদের চিন্তা চেতনা রয়ে গেছে মধ্য যুগে। গরুর মূত্র যদি সকল রোগের ওষুধ হতো তাহলে বিজ্ঞানীরা সেটাকে রিসার্চ করে ফলে পর্যবসিত করতো৷

কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো আমরা এই গরুর মূত্রের মাধ্যমে রোগ নিরাময়ের স্যাইন্টিফিক কোনো ব্যাখা এখন পর্যন্ত পাই নি। গরুর মূত্র পান যে শুধুমাত্র অশিক্ষিত মানুষগুলো করছে তা কিন্তু নয় এপ্রকার শিক্ষিত শ্রেণির মানুষগুলোও অবলীলায় এই অন্ধ বিশ্বাসের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে গোমূত্র সেবন করে যাচ্ছে। মানুষের চেতনা লোপ পেলেও সরাসরি এমন কাজ কাউ করতে পারে না।

আর ভারতের কিছু রাজনৈতিক নেতারা তো গরুর মূত্র সেবন এক প্রকার রাজনৈতিক কলাকৌশল হিসেবেই নিয়ে নিয়েছেন। শুধু যে গরুর মূত্র সেবন করে যে এরা ক্ষান্ত তা কিন্তু নয় মাঝে মাঝে গরুর গোবরও অমৃত বলে গলাধঃকরণ করে ফেলে।

যাইহোক সেটা ভারতের হিন্দুদের ব্যক্তিগত অন্ধ বিশ্বাস। কিন্তু ভারতকে হিন্দুদের পূণ্যভূমি ভাবা বাংলাদেশী অনেক হিন্দুরাও এই গোমূত্র সেবনের অন্ধ বিশ্বাস দ্বারা কম প্রভাবিত না। হয়তবা বাংলাদেশী হিন্দুরা এটাকে সরাসরি সেবন না করলেও তারা ভারতের এই বর্বর কালচারটাকে সাপোর্ট করে৷

যাইহোক হিন্দু সমাজের প্রতিটা নারীকেই জীবনের একটা পর্যায়ে এসে এই গোমূত্রের স্বাদকে আস্বাদন করতে হয়। সেটা হলো পঞ্চগাভ্য নামক- গোমূত্র, গোবর, দুধ, কাদা এবং মাখনের একটি মিশ্রণ হিন্দু ধর্মের বিয়ের রীতি অনুযায়ী বিয়ের দিন কণ্যাকে খেতে হয়। কি কঠোরতম মধ্যযুগীয় নিয়ম। ধর্মের এই অন্ধের প্রাচিরকেও আজকের এই আধুনিক সভ্যতা ভাঙতে পারে নি।

হিন্দু সমাজটা অনেকটাই আবর্তন বিবর্তন ও সংস্করণের মধ্য দিয়ে আজকে অনেকটাই পরিবর্তিত কিন্তু এখনোও হিন্দুদের একটা বৃহৎ অংশ সেই অন্ধকার যুগে পড়ে রয়েছে। সুতরাং সেই মানুষগুলোকে সেই অন্ধকার যুগের অচলায়তন থেকে বের করে আনার দ্বায়িত্ব আধুনিক সভ্যতায় গড়ে ওঠা হিন্দু ছেলে মেয়েদেরই৷ ধর্মকে উপাসনালয়ের মধ্যেই আবদ্ধ রেখে আধুনিক যুগের সাথে তাল মিলিয়ে দেশ জাতি ও সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সকলেরই দ্বায়িত্ব ও কর্তব্য।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 7 = 1