ঠুনকো অনুভূতির আঘাতে বিপর্যস্ত সংখ্যালঘু

বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের জন্য বর্তমান সময়ের এক আতঙ্কের নাম ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটুক্তি কিংবা ধর্মীয় অনুভূতিতে  আঘাত। সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমন, নির্যাতন, নিপীড়ন চালানোর নতুন হাতিয়ার বা কৌশল বলতে পারেন এই ফেসবুকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত কিংবা ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটুক্তি। ধর্মের অনুভূতি যে এতই নড়বড়ে যে কেউ ধর্ম নিয়ে সামান্য কোনো কথা বললেই সেটা থুবড়ে পড়বে সেটা নিচের তান্ডপগুলো দেখলেই বুঝতে পারবেন।

২০১২ সালে কক্সবাজারে রামুর এক বৌদ্ধ পল্লীতে ফেসবুকে কথিত ধর্ম অবমাননাকর পোষ্ট দেবার অভিযোগ তুলে হামলা চালিয়ে বাড়িঘরে ও মন্দিরে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছিল। ঐ ঘটনায় যে ব্যক্তি ফেসবুকে পোষ্ট দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ তিনি গত ছয় বছর ধরেই নিখোঁজ। আদৌ সেই ব্যক্তির কোনো অস্তিত্ব আছে কিনা বা সেই অবমাননাকর পোস্টেরই অস্তিত্ব আছে কিনা সন্দেহ। রামুর ঘটনাটি এখনও আদালতে বিচারাধীন অবস্থায় আছে। ঘটনার পর ছয় বছর পার হয়ে গেলেও কার্যত কারো বিচারের ব্যবস্থা বা ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা সেসব কিছুই এখনো হয়নি।

এরপর ২০১৩ সালে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার বনগ্রাম বাজারে ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগে অর্ধশত হিন্দু বাড়িঘর ও মন্দিরে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, নারীদের উপর শারীরিক নির্যাতন এবং পুরুষদের মারধর করা হয়। কিন্তু পরে পুলিশের তদন্তে কথিত ধর্মীয় অবমাননার কোনো পোস্ট পাওয়া যায় নি।

এরপর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের হরিপুর ইউনিয়নের হরিণবেড় গ্রামের বাসিন্দা রসরাজ দাসের ফেসবুক পোস্টের জেরে ২০১৬ সালের ২৯ অক্টোবর উপজেলা সদরে ১৫টি মন্দির ও হিন্দু সম্প্রদায়ের শতাধিক বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট-অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ঐ ঘটনায় সেই রসরাজ দাসের বিরুদ্ধে যে অভিযোগটি আনা হয়েছিলো সেটা হলো সে নাকি পবিত্র কাবা শরীফের উপর শিবলিঙ্গের একটি ছবি বসিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেছে।

পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায় পুলিশ ফেসবুকে ‘আপত্তিকর’ ওই পোস্টের রহস্যও উদ্ধার করতে সক্ষম হয়নি।

সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে এই কথিত ধর্মীয় অনুভূতির আঘাত কতটা ভয়ংকর হয়ে দাঁড়িয়েছে সংখ্যালঘুদের জন্য।

স্বাধীনতার পর থেকেই সংখ্যালঘুরা এদেশের এক শ্রেণির উগ্র ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর দ্বারা নিপীড়ন, নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছে। জীবন বাঁচাতে গিয়ে অনেক সংখ্যালঘুদের পাড়ি দিতে হয়েছে ভারতে। স্বাধীনতার পর থেকেই সংখ্যালঘুরা কমতে কমতে সেই ৩০% থেকে শুরু করে আজ ১০% এসে ঠেকেছে।

সেকুল্যার নামধারী আওমালীগের সময়ও সংখ্যালঘুদের উপর এরকম বর্বরোচিত আক্রোমন, নির্যাতন বেড়েই  চলছে যেটা কিনা সত্যিই ভাবায় যে ভবিষ্যতে সংখ্যালঘুদের অবস্থা কি হবে।

আগে বিএনপি জামাতের সময় সরাসরি সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন, নীপিড়ন চালাতো, সংখ্যালঘুদের জমি দখল, নারীদের উপর নির্যাতন চালাতো এই উগ্র ধর্মান্ধ গোষ্ঠীরা৷

আর এখন নতুন কৌশলে সংখ্যালঘুদের ঘায়েল করছে। ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে সংঙ্ঘবদ্ধ আক্রোমন চালাচ্ছে সংখ্যালঘুদের উপর। আর সরকারও নিরব ভূমিকা পালন করে চলছে। আক্রমোন হওয়ার পর লোক দেখানোর জন্য কিছু মামলা হয় ঠিকই। কিন্তু পরবর্তীতে সেটার বিচার কার্যত তেমন ফলপ্রসূ হয় না। আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে তারা পাড় পেয়ে যায়। বরংচো রাষ্ট্রও সংখ্যালঘুদের উপর নির্মম আচারণ করছে। এসব ঘটনার ক্ষেত্রে সংখ্যালঘুদের ছেলেদের মামলা দিয়ে জেলে ঢুকিয়ে দেয়া হচ্ছে।

এই সংখ্যালঘু নির্যাতনের শেষ কোথায়। আদৌ কি তারা বাংলাদেশে টিকে থাকতে পারবে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

21 + = 31