অভিশপ্ত ইহুদি

ইহুদিদের বলা হয় থাকে অভিশপ্ত জাতি। বিশেষ করে মুসলিম বন্ধুদের কাছে ছোটবেলা থেকে শুনে আসছি, ইহুদিরা পৃথিবীর সবচেয়ে খারাপ মানুষ, তারা পৃথিবীর মধ্যে অভিশপ্ত জাতি। তাদের মৃত্যুতে সভ্যতার বিন্দুমাত্র ক্ষতি হয় না। পৃথিবীর আর কোন ধর্মের অনুসারীকে অন্য ধর্মের লোকেরা এতো বেশী অপছন্দ করে কিনা তা আমার জানা নাই ।

মুসলমানরা দু’শ বছর ক্রিশ্চিয়ানদের সাথে ক্রুসেড লড়েছে। তবু তারা ক্রিশ্চিয়ানদের এতো বেশী খারাপ মনে করে না, যতোটা মনে করে ইহুদিদের। মুসলমানদের মতো করে অন্যান্য সকলে ইহুদিদের ঘৃণা করে। ক্রিশ্চিয়ান, বৌদ্ধ, হিন্দু, শিখ – সবাই ইহুদিদের ঘৃণা করে। শুধু একটি নির্দিষ্ট ধর্মের অনুসারী হওয়ার কারনে যে মানুষ মানুষকে এতো বেশী ঘৃণা করতে পারে, সেটা ইহুদিদের প্রতি অন্যদের আচরণ না দেখলে বোঝার উপায় নেই।

মানবসভ্যতা বিনির্মাণে ক্রিশ্চিয়ানদের পরেই ইহুদিদের ভূমিকা সবচেয়ে বেশী। যদিও পৃথিবীতে ক্রিশ্চিয়ানদের সংখ্যা ইহুদিদের তুলনায় অন্তত ১২০ গুণ বেশি।

দর্শন, বিজ্ঞান, শিল্প কিংবা সাহিত্যসহ সভ্যতার অগ্রযাত্রায় প্রতিটি সহায়ক ক্ষেত্র ইহুদিদের সংস্পর্শে অত্যন্ত সমৃদ্ধ হয়েছে। এক্ষেত্রে মুসলমানসহ অন্যদের ভূমিকা যৎসামান্য। উল্লেখ করার মতো না।

আসুন এবার দেখে নেয়া যাক এই অভিশপ্ত জাতির সাফল্যের ইতিহাস।

ইসরাইলে ইহুদীর সংখ্যা ৫৪ লাখ , অবশিষ্ট প্রায় এক কোটি ইহুদী সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে আছে । এর মধ্যে আমেরিকাতে ৭০ লাখ , কানাডাতে ৪ লাখ আর ব্রিটেনে ৩ লাখ ইহুদী থাকে । ইহুদীরা মার্কিন জনসংখ্যার মাত্র ২ % , আর পৃথিবীর মােট জনসংখ্যার মাত্র ০.২ % । অর্থাৎ পৃথিবীর প্রতি ৫০০ জনে একজন ইহুদী ! কিন্তু জনসংখ্যার দিক দিয়ে ঢাকা শহরের কাছাকাছি হলেও বিশ্বে ইহুদি সম্প্রদায় থেকে যুগে যুগে বেরিয়ে এসেছে অসংখ্য প্রতিভাবান ব্যক্তি ।

প্রধান ধর্মগুলাের পর পৃথিবীতে যে মতবাদটি সবচেয়ে বেশী প্রভাব ফেলেছে সেই কমিউনিজমের স্বপ্নদ্রষ্টা কার্ল মার্কস ইহুদি সম্প্রদায় থেকে এসেছেন ।

বিশ্বের মানুষকে মুগ্ধ করে রাখা যাদু শিল্পি হুডিনি ও বর্তমানে ডেভিড কপারফিল্ড এসেছেন একই কমিউনিটি থেকে । এসেছেন আলবার্ট আইনস্টাইনের মত বিজ্ঞানী , যাকে বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী বলা হয় আর প্রফেসর নােয়াম চমস্কি –র মত শিক্ষাবিদ ও দার্শনিক যাকে প্রদত্ত ডক্টরেটের সংখ্যা আশিটির ও বেশি । এর অন্যতম কারণ সাধারণ আমেরিকান রা যেখানে হাইস্কুল পাশকেই যথেষ্ট মনে করে সেখানে আমেরিকান ইহুদিদের ৮৫% ই বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া।আমেরিকান নোবেল বিজয়ীদের মধ্যে মোটামুটি ৪০% ইহুদি অর্থাৎ নোবেল বিজয়ীদের প্রতি চার থেকে পাঁচ জনের একজন ইহুদী।

আমেরিকার অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইহুদি।আমেরিকার উত্তর পূর্ব উপকূলের ১২টি বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়কে একসাথে বলা হয় আইভি লীগ। ২০০৯ সালের একটি জরিপে দেখা গেছে আইভি লীগ বিশ্ববিদ্যালয়ের  সবকজন ভিসিই ইহুদি। হতে পারেন ইহুদিরা আমেরিকার মোট জনসংখ্যার ২ শতাংশ। কিন্তু আমেরিকার রাজনীতিতে তাঁদের দাপট একচেটিয়া। আমেরিকার ১০০ জন সিনেটরের ১৩ জন ইহুদি।

এর চেয়ে ভয়ঙ্কর তথ্য হলো ইহুদিদের সমর্থন ব্যতীত কোনও আমেরিকানই প্রেসিডেন্ট হতে পারেন না। এমনকি কেউ প্রেসিডেন্টও থাকতে পারেন না। বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারতের প্রভাব যতোটা; আমেরিকার রাজনীতিতে ইহুদিদের প্রভাব তার চেয়েও অনেক অনেক বেশি। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তহবিলসংগ্রহ একটা বড়ধরণের চ্যালেঞ্জ। আমেরিকার এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যাংকসহ গুরুত্বপূর্ণ সবব্যাংক ইহুদিদের দখলে। ফলে আমেরিকার কেউ চাইলেও এদের কিছু করতে পারবেন না। বরং জুইশ কমিউনিটি বা ইহুদিদের হাতে না রাখলে ক্ষমতায় টেকা মুশকিল। এসব কারণে শুধু জুইশ কমিউনিটির সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে ক্ষমতাসীন মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রশাসনের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে সার্বক্ষণিকভাবে কাজ করে যেতে হয়।

মিডিয়াজগতে নজর দিলেও দেখা যায় একই চিত্র। সিএনএন, এওএল, এইচবিও, কার্টুন নেটওয়ার্ক, নিউ লাইন সিনেমা, ওয়ার্নার ব্রাদার্স, স্পোর্টস ইলাস্ট্রেটেড, পিপল-জেরাল্ট লেভিন সব ইহুদি মালিকানাধীন। এবিসি, ডিজনি চ্যানেল, ইএসপিএন, টাচস্টোন পিকচার্স,  মাইকেল এসনার এসবও ইহুদি মালিক নিয়ন্ত্রিত। ফক্স নিউজ, ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক, রুপার্ট মার্ডুচের ২০ সেঞ্চুরি ফক্সও ইহুদি মালিক কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত। চারটি শীর্ষস্থানীয় মার্কিন পত্রিকার এবং সেগুলোর সম্পাদক ইহুদি।

নিউইয়র্ক টাইমসের আর্থার সুলজবার্গার, নিউ ইউয়র্ক পোস্টের রুপার্ট মার্কডুচ, ওয়াশিংটন পোস্টের কেএম গ্রাহাম, ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের রবার্ট থমসন ইহুদি। এগুলো নিয়ন্ত্রণও করেন ইহুদি মালিকরাই। আপনার আমার প্রিয় সোস্যাল  মিডিয়া ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবার্গ। তিনিও ইহুদি।

আমেরিকার পত্রিকাগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে সবচেয়ে প্রভাব বিস্তারকারী তিনটি পত্রিকা হলো নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এবং ওয়াশিংটন পোস্ট। এ তিনটি পত্রিকার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণও ইহুদিদের হাতে। এমনকি বাংলাদেশের ৩৫ লাখ ফ্রীল্যান্সার অনলাইন যে মার্কেট প্লেসে   কাজ করে বৈদেশিক মুুুদ্রা উপার্জন করে দেশের অভ্যন্তরে  নিয়ে আসছে সেটাও ইহুদিদের তৈরী মার্কেট প্লেস।

পৃথিবীর বুকে এত এত সফলতা থাকা স্বত্তেও ইহুদিরা নাকি অভিশপ্ত। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধে রাশিয়া ছাড়া আর যে দেশটি ভারত কে সাহায্য করেছিল সেটি ছিল ইসরায়েল এবং অনেক মুসলিম দেশের আগে ৪ ফেব্রুয়ারী ১৯৭২ সালে ইসরায়েল বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশের স্বীকৃতি দেয় এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করতে চায়। কিন্তু বাংলাদেশের তৎকালীন বিদেশমন্ত্রী খোন্দকার মোশতাক আহমেদ চিঠি দিয়ে ইসরায়েল এর স্বীকৃতি প্রত্যাখ্যান করেন।

বাংলাদেশের কাছে ইসরায়েল এর স্বীকৃতি তো দূরের কথা , একজন বাংলাদেশী ইসরায়েল ভ্রমণ করতেও পারে না। বাংলাদেশের পাসপোর্টে সরাসরি লিখে রাখা হয়েছে এক্সেপ্ট ইসরাইল।

২০০৩ সালে বাংলাদেশী সাংবাদিক সালাহ চৌধুরী কে ইসরায়েল ভ্রমণের অপরাধে সাত বছরের জন্য জেলে পাঠানো হয়।যে পাকিস্তান ১৯৭১ এ ৩০ লক্ষ জেনোসাইড করেছিল তার সাথে বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্ক রাখে কিন্তু ইসরায়েলের সাথে নয় যারা মুক্তিযুদ্ধে সাহায্য করেছিল এবং স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে একদম প্রথম দিকে ছিল।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

12 + = 21