২৩৬: তাবুক যুদ্ধ-৯: আবু যর গিফারীর অশ্লীলতা ও মিথ্যাচার এবং!

“যে মুহাম্মদ (সাঃ) কে জানে সে ইসলাম জানে, যে তাঁকে জানে না সে ইসলাম জানে না।”

ইসলামের সকল ইতিহাস সম্পূর্ণরূপে একপেশে ও পক্ষপাতদুষ্ট, এই কারণে যে, আদি উৎসে এই ইতিহাসের লেখক ও বর্ণনাকারীরা হলেন শুধুই নবী মুহাম্মদ (সাঃ) ও তাঁর নিবেদিত-প্রাণ অনুসারীরা; আত্মপক্ষ সমর্থনে পরাজিত ও বিরুদ্ধবাদীদের প্রামাণিক সাক্ষ্য বা বিবৃতির কোন অস্তিত্বই এই ইতিহাসের কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় না (পর্ব: ৪৪)। এই অত্যন্ত পক্ষপাতদুষ্ট ও একপেশে ইতিহাস থেকে সত্য-কে খুঁজে বের করা অত্যন্ত দুরূহ ও গবেষণা-ধর্মী কার্যকম। এই ইতিহাসে ‘আবু যর আল-গিফারীর’ চরিত্রের যে চিত্র সাধারণ মানুষদের কাছে বহুল প্রচলিত ও প্রচারিত, তা হলো: তিনি ছিলেন অত্যন্ত নম্র-ভদ্র-সত্যবাদী-রুচিশীল এক ব্যক্তিত্ব! কিন্তু আদি উৎসের মুসলিম ঐতিহাসিকদেরই বর্ণিত সেই ইতিহাসের পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনায় এর বিপরীত চিত্র সুস্পষ্ট।

আদি উৎসে আবু যর আল-গিফারীর ইসলাম গ্রহণের যে উপাখ্যান বর্ণিত আছে তা দু’টি ভিন্ন উৎস থেকে বর্ণিত। একটির বর্ণনাকারী হলো আবদুল্লাহ বিন সামিত, যা যথাসম্ভব গোপন করা হয় কিংবা প্রতারণার আশ্রয়ে প্রকৃত ঘটনার “বিশেষ অংশগুলো” বিকৃতরূপে প্রকাশ করা হয়। আর অপরটির বর্ণনাকারী হলো ইবনে আব্বাস, যা বহুল প্রচলিত ও প্রচারিত। কদাচিৎ প্রচারিত ও উপস্থাপিত উপাখ্যানটি হলো এই:

সহি মুসলিম: বই নম্বর ৩১ ও হাদিস নম্বর ৬০৪৬: [1] [2]

‘আবদুল্লাহ বিন সামিত বর্ণনা করেছেন যে আবু যর বলেছে:
আমরা আমাদের গিফার গোত্র থেকে বের হয়ে পড়ি, যারা নিষিদ্ধ মাসগুলিকে অনুমোদিত মাস হিসেবে গণ্য করতো। আমি ও আমার ভাই উনায়েস ও আমাদের মা আমাদের মামার সাথে থাকি যারা আমাদের সাথে ভাল ব্যবহার করত। তার গোত্রের লোকেরা ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়ে ও তারা বলে:

তুমি যখন তোমার বাড়ি থেকে দূরে থাকো, উনায়েস তোমার স্ত্রীর সাথে ব্যভিচার করে। আমাদের মামা এসে আমাদের-কে সেই পাপের জন্য অভিযুক্ত করে, যা তাকে জানানো হয়েছিল।

আমি বলি: আপনি আমাদের সাথে যে ভাল ব্যবহার করেছেন তা নষ্ট করে দিলেন। আমরা আমাদের উটের কাছে আসি ও (আমাদের) মাল-পত্র বোঝাই করি। আমাদের মামা (এক টুকরো) কাপড়ে নিজেকে আবৃত করে কান্না শুরু করে। আমরা এগিয়ে যাই ও মক্কার পাশে শিবির স্থাপন করার পূর্ব পর্যন্ত তা অব্যাহত রাখি। উনায়েস (আমাদের) উটগুলো ও (তার উপর) আরও সম-সংখ্যক উট বাজি ধরে। তারা উভয়ে এক গণকের কাছে যায় ও সে উনায়েস-কে জিতিয়ে দেয়, অতঃপর উনায়েস আমাদের উটগুলো ও তার সমপরিমাণ উট নিয়ে ফিরে আসে।

সে (আবু যর) বলে: হে আমার ভ্রাতুষ্পুত্র, আমি আল্লাহর নবীর সাথে সাক্ষাতের তিন বছর আগে থেকে নামাজ আদায় করতাম। আমি বলি [রাবি]: আপনি কার জন্য প্রার্থনা করতেন? তিনি বলেন: আল্লাহর জন্যে। আমি বলি: কোন দিকে (প্রার্থনার জন্য) মুখ ফিরাতেন? তিনি বলেন: আল্লাহ যে দিকে আমার মুখ ফিরিয়ে দিতেন আমি সে দিকে মুখ ফিরাতাম। আমি রাতের শেষ অংশে এশার নামাজ আদায় করতাম ও সূর্য আমার উপরে ওঠা পর্যন্ত আমি চাদরের মত সিজদায় পড়ে থাকতাম।

উনায়েস বলে: মক্কায় আমার একটা কাজ আছে, তুমি এখানে থাকো। উনায়েস মক্কায় গমন করে ও বিলম্বে আমার কাছে ফিরে আসে। আমি বলি: তুমি কি করেছিলে? সে বলে: আমি মক্কায় এক লোকের সাথে দেখা করেছি যিনি তোমার ধর্মের উপর আছেন ও তিনি দাবী করছেন যে নিশ্চিতরূপেই যে তাকে পাঠিয়েছে সে হলো আল্লাহ। আমি বলি: মানুষ তাঁর সম্পর্কে কি বলে? সে বলে: তারা বলে যে তিনি একজন কবি, কিংবা গণক, কিংবা জাদুকর। উনায়েস নিজেও ছিল কবিদের একজন, বলে: আমি গণকের কথা শুনেছি কিন্তু তার কথা কোনভাবেই তাঁর (কথার) সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নয়। আর আমি তাঁর কথাগুলিকে কবিদের পদাবলীর সাথেও তুলনা করেছি, কিন্তু এই ধরনের কথাগুলো কোন কবিই উচ্চারণ করতে পারে না। আল্লাহর কসম, তিনি সত্যবাদী ও তারা মিথ্যাবাদী। অতঃপর আমি বলি: তুমি এখানে থাকো, যতক্ষণে না আমি তাঁকে দেখার জন্য যাই।

তিনি [আবু যর] বলেন: আমি মক্কায় গমন করি ও আমি তাদের মধ্য থেকে এক নগণ্য ব্যক্তিকে বেছে নিই ও তাকে বলি: সে কোথায়, যাকে তোমরা সা’বি [ধর্ম পরিবর্তনকারী] বলে ডাকো? সে আমার দিকে ইশারা করে বলে: সে হলো সা’বি (Sabi)।

অতঃপর উপত্যকার লোকেরা আমাকে চড়-থাপ্পড় (Sods) ও ধনুক দিয়ে আক্রমণ করে যতক্ষণ না আমি অজ্ঞান হয়ে পড়ে যাই।

আমার জ্ঞান ফিরে আসার পর আমি উঠে দাঁড়াই ও দেখতে পাই যে আমি যেন এক লাল মূর্তি। আমি জমজমের নিকট আসি ও আমার গায়ের রক্ত ধুয়ে ফেলি ও সেখান থেকে পানি পান করি; আর শোনো, হে আমার ভ্রাতুষ্পুত্র, আমি সেখানে ত্রিশ রাত বা দিন অতিবাহিত করি ও সেখানে আমার জন্য জমজমের পানি ছাড়া কোন খাবার ছিল না। অতঃপর আমি এতটাই স্থূলকায় হয়ে যাই যে আমার পেটে ভাঁজ দেখা যায় ও আমি আমার পাকস্থলীতে কোন ক্ষুধা অনুভব করি না।

এটি ছিল সেই সময়টিতে যখন মক্কার লোকেরা চাঁদনী রাতে ঘুমিয়েছিল ও কেউই সেখানে কাবা-ঘর প্রদক্ষিণের জন্য ছিল না, ব্যতিক্রম শুধু দুজন মহিলা যারা ইসাফ ও নাইলার (দুটি দেব-দেবীর প্রতিমা) নামে প্রার্থনা করছিল। তারা তাদের প্রদক্ষিণের সময় আমার কাছে আসে ও আমি বলি: একজনকে অন্যজনের সাথে বিয়ে দিয়ে দাও, কিন্তু তারা তাদের প্রার্থনা থেকে বিরত হয় না।

তারা [আবার] আমার কাছে আসে ও আমি তাদের বলি:

(প্রতিমাগুলোর লজ্জা স্থানে) কাঠ ঢুকিয়ে দাও। (এটি আমি তাদেরকে এরূপ স্পষ্ট ভাষায় বলি) যেহেতু আমি তা রূপক ভাষায় প্রকাশ করতে পারি নাই। এই মহিলারা কাঁদতে কাঁদতে চলে যায় ও বলতে থাকে: আমাদের লোকদের মধ্যে যদি কেউ একজন থাকতো (সে আমাদের প্রতিমাদের সম্বন্ধে আমাদের সামনে তোমার এই অশ্লীল কথাগুলো বলার জন্য তোমাকে একটা শিক্ষা দিতো)।

এই মহিলারা আল্লাহর নবী (সাঃ) ও আবু বকরের সাক্ষাত পায়, তারাও পাহাড়ের নিচে নেমে আসছিল। তিনি তাদের জিজ্ঞাসা করেন: তোমাদের কি হয়েছে? তারা বলে: এক সা’বি আছে, যে কাবা ও এর পর্দার মাঝে নিজেকে লুকিয়ে রেখেছে। তিনি বলেন: সে তোমাদের-কে কী বলেছে? তার বলে: সে আমাদের সামনে এমন কথা উচ্চারণ করছে যা আমরা প্রকাশ করতে পারি না। আল্লাহর নবী (সাঃ) আসেন, কালো পাথরে চুম্বন করেন ও তাঁর সঙ্গীসহ কাবা-ঘর প্রদক্ষিণ করেন ও অতঃপর নামাজ আদায় করেন। তাঁর নামাজ যখন শেষ হয়, আবু যর বলে: আমিই ছিলাম সর্বপ্রথম ব্যক্তি যে তাঁকে শান্তির অভিবাদন জানিয়েছিলাম ও (এই শব্দগুলো) উচ্চারণ করেছিলাম, এই ভাবে: হে আল্লাহর নবী, আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক; অতঃপর তিনি বলেছিলেন: এটি তোমার উপরও হতে পারে, আর আল্লাহর রহমত।

অতঃপর তিনি বলেন: তুমি কে? আমি বলি: বানু গিফার গোত্রের। তিনি তাঁর হাতে হেলান দেন ও কপালে তাঁর আঙ্গুল রাখেন ও আমি নিজেকে বলি: সম্ভবত তিনি এটা পছন্দ করেননি যে আমি গিফার গোত্রের অন্তর্ভুক্ত। আমি তাঁর হাত ধরার চেষ্টা করি কিন্তু তার বন্ধু যে তাঁর সম্পর্কে আমার চেয়ে বেশি জানত, আমাকে তা করতে বিরত করে। অতঃপর তিনি তাঁর মাথা উঁচু করেন ও বলেন: তুমি কতদিন ধরে এখানে আছো? আমি বলি: আমি গত ত্রিশ রাত্রি বা দিন যাবত এখানে আছি। তিনি বলেন: কে তোমাকে খাওয়াচ্ছে? আমি বলি: আমার জন্য জমজমের পানি ছাড়া আর কোন খাবার নেই। আমি এত স্থূলকায় [মোটা] হয়েছি যে আমার পেটে ভাঁজ দেখা দিয়েছে ও আমি কোন ক্ষুধা অনুভব করি না। তিনি বলেন: এটা বরকতময় (পানি) এবং এটি খাদ্য হিসেবেও কাজ করে।

অতঃপর আবু বকর বলে: হে আল্লাহর নবী, আজ রাতের জন্য গৃহকর্তা হিসাবে আমাকে তার আতিথেয়তা করার সুযোগ দিন; অতঃপর আল্লাহর নবী (তাঁর উপর শান্তি বর্ষিত হোক) এগিয়ে যান ও আবু বকরও তাই করে, আর আমিও তাদের সাথে যাই। আবু বকর দরজা খুলে দেই ও অতঃপর সে আমাদের জন্য তায়েফের কিশমিশ পরিবেশন করে; এটাই ছিল প্রথম খাবার যা আমি সেখানে খেয়েছিলাম। তারপর যতদিন আমাকে থাকতে হয় ততদিন আমি থাকি। অতঃপর আমি আল্লাহর নবীর (তাঁর উপর শান্তি বর্ষিত হোক) কাছে আসি ও তিনি বলেন: আমাকে প্রচুর পরিমাণ বৃক্ষ সমৃদ্ধ স্থান দেখানো হয়েছে ও আমি মনে করি যে সেটি ইয়াত্রিব (মদিনার পূর্ব নাম) ছাড়া আর কিছু হতে পারে না। তুমি আমার পক্ষ থেকে তোমার জনগণের কাছে একজন প্রচারক। আমি আশা করি তোমার মাধ্যমে আল্লাহ হয়তো তাদের উপকার করবে ও হয়তো সে [আল্লাহ] তোমাকে পুরস্কৃত করবে।

আমি উনায়েসের কাছে আসি ও সে বলে: তুমি কি করেছো? আমি বলি: আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি ও আমি (আল্লাহর নবীর নবুয়তের) সাক্ষ্য দিয়েছি। সে বলে: তোমার ধর্মের প্রতি আমার কোন অনীহা নেই, আমিও ইসলাম গ্রহণ করছি ও (মুহাম্মদের নবুয়তের) সাক্ষ্য দিচ্ছি। অতঃপর আমরা উভয়েই আমাদের মায়ের কাছে আসি ও সে বলে: তোমাদের ধর্মের প্রতি আমার কোন অনীহা নেই, আমিও ইসলাম গ্রহণ করছি ও মুহাম্মদের নবুয়তের সাক্ষ্য দিচ্ছি।

অতঃপর আমরা আমাদের উটগুলোতে মালামাল বোঝাই করি ও আমাদের গোত্র গিফারের কাছে আসি ও গোত্রের অর্ধেক লোক ইসলাম গ্রহণ করে, আর তাদের প্রধান ছিল আইমি বিন রাহাদা গিফারী ও সে ছিল তাদের নেতা। আর গোত্রের অর্ধেক লোক বলে: আমরা ইসলাম গ্রহণ করবো যখন আল্লাহর নবী (তাঁর উপর শান্তি বর্ষিত হোক) মদিনায় আসবেন। আর আল্লাহর নবী যখন মদিনায় আসেন, বাঁকি অর্ধেক লোক ইসলাম গ্রহণ করে। অতঃপর আসলাম গোত্রের লোকেরা নবীজীর (তাঁর উপর শান্তি বর্ষিত হোক) কাছে আসে ও বলে: হে আল্লাহর রসূল, আমরাও ইসলাম গ্রহণ করছি, আমাদের ভাইদের মত যারা ইসলাম গ্রহণ করেছে। অতঃপর তারাও ইসলাম গ্রহণ করে। তারপর আল্লাহর নবী (তাঁর উপর শান্তি বর্ষিত হোক) বলেন: আল্লাহ গিফার গোত্রকে ক্ষমা করে দিয়েছে ও আল্লাহ আসলাম গোত্রকে (ধ্বংস থেকে) রক্ষা করেছে।’

আর, বহুল প্রচলিত ও প্রচারিত উপাখ্যানটি হলো এই:
সহি বুখারী: ভলুম ৪, বই নম্বর ৫৬; হাদিস নম্বর ৭২৫: [3] [4]

‘আবূ জামরা হতে বর্ণিত: ইবনে আব্বাস আমাদের কে বলেছেন, “আমি কি তোমাদের-কে আবূ যার এর ইসলাম গ্রহণের কাহিনী বর্ণনা করব?” আমার বলি, “হ্যাঁ।” তিনি বলেন, “আবূ যার বলেছে:

আমি গিফার গোত্রের একজন লোক। আমরা জানতে পেলাম যে মক্কায় এক লোক আত্মপ্রকাশ করেছে, যে নিজেকে নবী দাবী করেছেন। আমি আমার ভাই উনায়েস-কে বলি, ‘তুমি তাঁর কাছে যাও ও তাঁর সাথে কথা বলো ও তাঁর খবরাখবর আমার কাছে নিয়ে এসো।’ সে রওনা হয় ও তাঁর সাথে দেখা করে ও ফিরে আসে। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করি, ‘তোমার কাছে কী খবর আছে?’ সে বলে, ‘আল্লাহর কসম! আমি এক ব্যক্তি-কে দেখেছি যিনি সৎকাজের আদেশ ও মন্দ কাজের নিষেধ করছেন।’ আমি তাকে বলি, ‘তোমার এই সামান্য তথ্য আমাকে সন্তুষ্ট করে নাই।’ তাই আমি পানি রাখার এক চামড়ার থলি ও একটি লাঠি নিয়ে মক্কার উদ্দেশ্যে রওনা হই।

আমি তাঁকে (অর্থাৎ, নবীজী (সাঃ)) চিনতাম না ও তাঁর সম্বন্ধে আমি কাউকে জিজ্ঞাসা করাও পছন্দ করি নাই।

আমি যমযমের পানি পান ও মসজিদে অবস্থান করতে থাকি। অতঃপর আলী আমার পাশ দিয়ে গমন করে ও বলে, ‘মনে হয় তুমি একজন বিদেশী?’ আমি বলি, ‘হ্যাঁ।’ সে তার বাড়ীর দিকে এগিয়ে যায় ও আমি তার সাথে যাই। সে আমাকে কোন কিছু জিজ্ঞাসা করে না, আর আমিও তাকে কোন কিছু বলি না। পরদিন সকালে আমি নবিজী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার জন্য মসজিদে গমন করি কিন্তু তাঁর সম্পর্কে কেউই আমাকে কিছু বলে না। আলী আবারও আমার পাশ দিয়ে গমন করে ও জিজ্ঞাসা করে, ‘লোকটি কি এখনো তার আবাস চিনতে পারে নাই?’ আমি বলি, ‘না।’ সে বলে, ‘আমার সাথে এসো।’ সে আমাকে জিজ্ঞাসা করে, ‘তোমার বিষয়টি কি? কেন এ শহরে তোমার আগমন?’ আমি তাকে বলি, ‘যদি তুমি আমার বিষয়টি গোপন রাখো তবে আমি তোমাকে তা বলবো।’ সে বলে,’আমি তা করবো।’

আমি তাকে বলি, ‘আমরা জানতে পেরেছি যে এখানে এমন এক ব্যক্তির আবির্ভাব হয়েছে, যিনি নিজেকে নবী দাবী করছেন। আমি আমার ভাইকে তাঁর সাথে কথা বলার জন্য পাঠিয়েছিলাম কিন্তু সে কোন সন্তোষজনক খবর না নিয়েই ফিরে এসেছে; তাই আমি তাঁর সাথে ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাত করার মনস্থ করেছি।’ আলী (আবু যর-কে) বলে, ‘তুমি তোমার লক্ষ্যে পৌঁছে গিয়েছ; আমি এখনই তাঁর কাছে যাচ্ছি, সুতরাং আমাকে অনুসরণ করো ও যেখানেই আমি প্রবেশ করবো, আমার পরে তুমি প্রবেশ করো। আমি যদি এমন কাউকে দেখতে পাই যে তোমার সাথে ঝামেলা করতে পারে, আমি দেয়ালের কাছে দাঁড়াবো ও আমার জুতা ঠিক করার ভান করবো (সতর্ক সংকেত হিসাবে), আর তুমি তখন দূরে চলে যাবে।’

আলী এগিয়ে চলে ও আমি তার সাথে গমন করি যতক্ষণে না সে এক স্থানে প্রবেশ করে, আমি তার সাথে নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) স্থানে প্রবেশ করি, যাকে আমি বলি, ‘আমার কাছে ইসলাম (মূলনীতি) উপস্থাপন করুন।’ তিনি যখন তা করেন, আমি তৎক্ষণাৎ ইসলাম গ্রহণ করি। তিনি আমাকে বলেন, ‘হে আবু যর, তোমার ধর্মান্তরের বিষয়টি গোপন রেখো ও তোমার নগরে ফিরে যাও; অতঃপর তুমি যখন আমাদের বিজয়ের কথা শুনবে, আমাদের কাছে ফিরে এসো।’

আমি বলি, ‘যে আপনাকে সত্য সহ প্রেরণ করেছে তার কসম, আমি প্রকাশ্যে তাদের (অর্থাৎ কাফেরদের) মধ্যে আমার ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেব।’ আবু যর মসজিদে গমন করে, যেখানে কুরাইশদের কিছু লোক উপস্থিত ছিল, অতঃপর বলে, ‘হে কুরাইশ সম্প্রদায়! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কারো ইবাদত করার অধিকার নেই, আর আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তার রাসূল।’

(এটা শুনে) কুরাইশরা বলে উঠে, ‘এই ধর্মত্যাগী (সাবি) লোকটিকে ধরো। তারা উঠে দাঁড়ায় ও আমাকে মারধর করে মৃতপ্রায় করে।

আল আব্বাস আমাকে দেখতে পায় ও আমাকে রক্ষার জন্য ছুটে এসে নিজেকে আমার উপর স্থাপন করে। অতঃপর সে কুরাইশদের উদ্দেশ্যে বলে, ‘ধিক তোমাদের! তোমারা গিফার গোত্রের এক লোককে হত্যা করতে চাও, যদিও তোমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগ সমস্তই গিফার অঞ্চলের ভিতর দিয়ে?’ তাই তারা আমাকে ছেড়ে দেয়।

পরদিন সকালে আমি (মসজিদে) ফিরে আসি ও আগের দিন যেমনটি বলেছিলাম তেমনই বলি। তারা আবারও বলে, ‘এই ধর্মত্যাগী (সা’বি) লোকটিকে ধরো!’ তারা আমার সাথে ঠিক আগের দিনের মতোই আচরণ করে; আর আল আব্বাস আবারও আমাকে দেখতে পায় ও আমাকে রক্ষার জন্য ছুটে এসে নিজেকে আমার উপর স্থাপন করে এবং তাদের-কে একই কথা বলে যেমনটি সে আগের দিন বলেছিল।’ সুতরাং, এটি ছিল আবু যর এর ইসলাম গ্রহণ (আল্লাহ যেন তার প্রতি দয়া করে)।”’

– অনুবাদ, টাইটেল ও [**] যোগ – লেখক।

আবু যর আল-গিফারী ছিলেন বানু আল-গিফার গোত্রের এক লোক, যে গোত্রের লোকেরা আরবের নিষিদ্ধ মাসগুলিতেও (যিলকদ, যিলহ্জ, মুহররম ও রজব [পর্ব: ২৯]) সহিংসতা বৈধ বলে বিবেচনা করতেন। লক্ষণীয় বিশয় এই যে, এই দুটি উপাখ্যানেরই সবচেয়ে আদি উৎস হলো, “আবু যর আল-গিফারী”, যার বর্ণনার ভিত্তিতেই আবদুল্লাহ বিন সামিত ও ইবনে আব্বাস ও এই উপাখ্যান দু’টি উদ্ধৃত করেছেন।

প্রথম উপাখ্যানটি-তে আবু যর আল-গিফারী বর্ণনা করছেন যে মক্কায় আগমনের পর তিনি মুহাম্মদের সাথে সাক্ষাত করেছিলেন সেই সময়টিতে, যখন মুহাম্মদ ও আবু বকর কাবায় এসে কালো পথরে চুমু ও কাবা প্রদক্ষিণ ও অতঃপর তথায় তাদের নামাজ আদায় সমাপ্ত করেছিলেন। অতঃপর তিনি গিয়েছিলেন আবু বকরের বাড়ীতে ও অতঃপর তিনি নবীর কাছে গিয়ে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হয়েছিলেন। আর দ্বিতীয় উপাখ্যানটিতে আবু যর গিফারী বর্ণনা করেছেন যে, আলী ইবনে আবু তালিব তাকে নবী মুহাম্মদের বাড়িতে নিয়ে যান ও সেখানে তিনি মুহাম্মদের সাথে সাক্ষাত ও কথা বলেন ও অতঃপর ইসলামে দীক্ষিত হোন। প্রশ্ন হলো,

“কী কারণে আবু যর গিফারী দু’টি সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী গল্প শুনিয়েছিলেন? তার এই দুই বিপরীত-ধর্মী বর্ণনার কোনটি সত্য আর কোনটি মিথ্যা?”

প্রথম উপাখ্যানটি-তে আবু যর আল-গিফারী বর্ণনা করছেন যে, মক্কায় আগমনের পর তিনি ‘এক নগণ্য ব্যক্তি-কে’ প্রশ্ন করেছিলেন, “সে কোথায়, যাকে তোমরা সা’বি বলে ডাকো?” তার এই প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে যখন ‘সেই নগণ্য ব্যক্তিটি’ তার দিকে ইশারা করে বলে যে আবু যরই হলো সা’বি, তখন কুরাইশরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত ও অজ্ঞান করে ফেলেছিলেন! এই বর্ণনায় যা সুস্পষ্ট, তা হলো:

“কুরাইশরা আবু যর আল-গিফারী-কে পিটিয়েছিলেন ‘তার ধর্মান্তরিত হওয়ার পূর্বেই’”!

আর দ্বিতীয় উপাখ্যানটিতে আবু যর গিফারী বর্ণনা করছেন, মক্কা আগমনের পর তিনি “নবী মুহাম্মদ সম্পর্কে কাউকে কোন কিছু জিজ্ঞাসা করা পছন্দ করেন নাই!” তিনি আলী ইবনে আবু তালিবের সাথে গমন করেন ও ইসলামে দীক্ষিত হোন। “ইসলামে দীক্ষিত হওয়ার পর” নবী মুহাম্মদ তাকে এই নির্দেশ দিয়েছিলেন যে সে যেন ‘তার ধর্মান্তরিত হওয়ার বিষয়টি গোপন রাখে’ যতক্ষণে না মুহাম্মদ বিজয় অর্জন করেন। কিন্তু আবু যর তাঁর নির্দেশ উপেক্ষা করে “কুরাইশদের সামনে প্রকাশ্যে” তার ইসলামে দীক্ষিত হওয়ার ঘোষণা দেয়। আর তা শোনার পর কুরাইশরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে পিটিয়ে মৃতপ্রায় অবস্থা করে! এই বর্ণনায় যা সুস্পষ্ট, তা হলো:

“কুরাইশরা আবু যর আল-গিফারী-কে পিটিয়েছিলেন ‘তার ধর্মান্তরিত হওয়ার পর’, আগে নয়!”

প্রশ্ন হলো, “আবু যর আল-গিফারীর এই দুই সম্পূর্ণ বিপরীত-ধর্মী ভাষ্যের কোনটি সত্যি আর কোনটি মিথ্যা? না’কি দুটোই মিথ্যা?

আলোচনার খাতিরে যদি আমরা ধরেও নিই যে, “কুরাইশরা ক্ষিপ্ত হয়ে আবু যর আল-গিফারী-কে সত্যই পিটিয়েছিলেন”, তবে যে প্রশ্নের উত্তর জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তা হলো কুরাইশদের এই ক্ষিপ্ত হওয়ার প্রকৃত কারণটি কী ছিল? শুধুই কী আবু যরের এই ধর্মান্তরিত হওয়ার সংবাদ? না কী অন্য কিছু? The Devil is in the detail (পর্ব: ১১৩)!

আ’দি উৎসের বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকদের বর্ণনায় যা আমরা নিশ্চিতরূপে জানি, তা হলো, “মুহাম্মদ যখন তাঁর ধর্ম-প্রচারের নামে কুরাইশদের পূজনীয় দেব-দেবী, কৃষ্টি-সভ্যতা ও পূর্ব-পুরুষদের অসম্মান করা শুরু করেছিলেন তখন তাঁরা তাঁদের ধর্মরক্ষা ও অসম্মানের প্রতিবাদে মুহাম্মদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন (পর্ব ৪১-৪২)। আর, আবু যর আল-গিফারীর প্রথম উপাখ্যানটির বর্ণনায় আমরা জানতে পারি:

‘নিশুতি রাতে’ যখন দুজন কুরাইশ মহিলা তাঁদের ইসাফ ও নাইলার প্রতিমা পূজা ও কা’বা ঘর প্রদক্ষিণ করছিলেন, তখন এই আবু যর আল-গিফারী তার “ইসলামে দীক্ষিত হওয়ার পূর্বেই” তাঁদের এই প্রতিমা দু’টি সম্বন্ধে যে অশ্লীল মন্তব্য-টি করেছিলেন, তা হলো: “(প্রতিমাগুলোর লজ্জা স্থানে) কাঠ ঢুকিয়ে দাও।”

আবু যরের এই অশ্লীল আচরণ ও কুরাইশদের পূজনীয় প্রতিমা দু’টির অসম্মানের কারণে মহিলা দু’টি ভীষণ মনকষ্টে কাঁদতে কাঁদতে চলে যায় ও বলতে থাকে: “আমাদের লোকদের মধ্যে যদি কেউ একজন থাকতো, সে আমাদের প্রতিমাদের সম্বন্ধে আমাদেরই সামনে তোমার এই অশ্লীল কথাগুলো বলার জন্য তোমাকে একটা শিক্ষা দিতো!” পথে তাঁদের দেখা হয় ‘মুহাম্মদ ও আবু বকরের’ সাথে ও মহিলা দু’টি তাদের-কে বিষয়টি জানায়। কিন্তু তারা এই ঘটনার কোন গুরুত্বই না দিয়ে “কুরাইশদের ধর্ম অবমাননা-কারী ও অশ্লীল মন্তব্য-কারী” সেই ব্যক্তি-টি কে তাদের বাসায় নিয়ে আদর-আপ্যায়ন ও তাদের দলভুক্ত করে নেই।

“ক্রন্দনরত এই দুই মহিলা শুধু মুহাম্মদ ও আবু-বকর-কেই এই ঘটনা-টি অবহিত করিয়েছিলেন, লোকালয়ে ফিরে গিয়ে তাঁরা এই সংবাদটি অন্যান্য কুরাইশদের অবহিত করেন নাই, এমন চিন্তা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।”

প্রতীয়মান হয় যে, নিশ্চিতরূপেই এই মহিলারা কুরাইশদের কাছে গিয়ে ‘আবু যর আল-গিফারীর এই অশ্লীলতার বিষয়টি’ অবহিত করেছিলেন। মক্কায় এসে এক বিদেশী লোক, “নিশুতি রাতে প্রার্থনারত কুরাইশ মহিলাদের সামনে তাঁদের পূজনীয় প্রতিমাগুলো-কে অশ্লীল ভাষায় অসম্মান করেছে,” সঙ্গত কারণেই কুরাইশরা এই ব্যাপারটি শোনার পর ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। ভুললে চলবে না, কুরাইশরা মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের এহেন কর্ম-কাণ্ডে ইতিমধ্যেই অতিষ্ঠ ও ক্ষুব্ধ। আদি উৎসের এই দু’টি উপাখ্যানের পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, কুরাইশরা যদি সত্যিই আবু যর আল-গিফারী-কে পিটিয়ে থাকেন, তবে তার প্রকৃত কারণ হলো আবু যরের এই অশ্লীল মন্তব্য। তাঁর ইসলামে দীক্ষিত হওয়া নয়।

একজন মিথ্যাবাদী যখন বানিয়ে বানিয়ে সত্য-মিথ্যার মিশ্রণে নিজের গল্প নিজেই বর্ণনা করেন, তখন তিনি তার বর্ণনায় “তার অন্যায় আচরণ ও কর্মকাণ্ড-গুলো” যথাসাধ্য গোপন বা বিকৃত উপস্থাপনায় বৈধতা দেয়ার চেষ্টা করেন। এই প্রচেষ্টায় তিনি বিভিন্ন লোকের কাছে ঘটনার বর্ণনা কালে “নিজের অজান্তেই” এমন কিছু অসঙ্গতি বা প্রমাণ রেখে যান, যা ঘটনার বর্ণনার পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনায় স্পষ্ট হয়ে উঠে।

গত পর্বের (পর্ব: ২৩৫) আলোচনায় আমরা ইতিমধ্যেই জেনেছি, ‘আবু যর আল-গিফারী-কে খলিফা উসমান মদিনা থেকে বিতাড়িত করেন নাই।’ খলিফা উসমান তার ‘কর্ম-কাণ্ডের সমর্থন না দেওয়ায় তিনি মনক্ষুন্ন হয়েছিলেন; একদা উসমানের দরবারে থাকা অবস্থায় তিনি কা’ব বিন আহবার নামের এক মুহাম্মদ অনুসারীর মাথায় আঘাত করে ও তার মাথাটি ফাটিয়ে দিয়েছিলেন, যে কারণে উসমান তার এই সহিংস কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর হুশিয়ারি প্রদান করেছিলেন; পরবর্তীতে তিনি নিজ ইচ্ছায় আল-রাবাধায় চলে গিয়েছিলেন। মদিনা থেকে চলে আসার পর, খলিফা উসমান তাকে প্রদত্ত রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা জারী রেখেছিলেন। বর্ণনায় আমরা আরও জেনেছি, মুয়াবিয়া যখন তার পরিবার-কে সিরিয়া থেকে বিতাড়িত করেছিলেন, তখন তাদের সাথে যে বস্তাটি ছিল “তা এত ভারী ছিল” যে তা বহন করায় ছিল কঠিন! আবু যরের স্ত্রীর ভাষায় “বস্তায় ছিল শুধুই তাম্র মুদ্রা!”

“সহি মুমিন” মুসলমানদের মিথ্যাচারের নমুনা:

বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশন তাদের www.Hadithbd.com ওয়েব-সাইটে উপরে বর্ণিত প্রথম উপাখ্যানটি বাংলায় অনুবাদ করেছেন [সহী মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) হাদিস নম্বরঃ ৬১৩৫], যে অনুবাদে তারা “এই একই ইংরেজি অনুবাদ” উদ্ধৃত করেছেন। এই ইংরেজি অনুবাদের কোথাও যে কোনরূপ ভুল বা বিকৃতি আছে, তা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অনুবাদকারীরা উল্লেখ করেন নাই। তাদের সেই বাংলা অনুবাদে, ইংরেজি অনুবাদের যে তথ্যগুলো বিকৃত করা হয়েছে, তা হলো: [5]

(১) “–আমি ও আমার ভাই উনায়েস ও আমাদের মা আমাদের মামার সাথে থাকি যারা আমাদের সাথে ভাল ব্যবহার করত। তার গোত্রের লোকেরা ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়ে ও তারা বলে: ‘তুমি যখন তোমার বাড়ি থেকে দূরে থাকো, উনায়েস তোমার স্ত্রীর সাথে ব্যভিচার করে (The men of his tribe fell jealous and they said: When you are away from your house, Unais commits adultery with your wife)।”

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অনুবাদকারীদের অনুবাদ:
“—-এতে তাঁর গোত্রের লোকেরা আমাদের প্রতি হিংসা করতে লাগল। তারা বলল, তুমি যখন তোমার পরিবার থেকে বের হও তখন উনায়স (রাঃ) তোমার অনুপস্থিতিতে তাদের কাছে যাতায়াত করে।”

>> “–Unais commits adultery with your wife”- এর অনুবাদ কী, “উনায়স তোমার অনুপস্থিতিতে তাদের কাছে যাতায়াত করে?”

(২) “আমাদের মামা এসে আমাদেরকে সেই পাপের জন্য অভিযুক্ত করে, যা তাকে জানানো হয়েছিল (Our maternal uncle came and he accused us of the sin which was conveyed to him)।”

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অনুবাদকারীদের অনুবাদ:
“এরপর আমাদের মামা আসলেন এবং তাকে যা বলা হয়েছে তিনি তা আমাদের নিকট প্রকাশ করে দিলেন।”

>> “—he accused us of the sin which was conveyed to him”- এর অনুবাদ কী, “তাকে যা বলা হয়েছে তিনি তা আমাদের নিকট প্রকাশ করে দিলেন?”

(৩) “তারা আমার কাছে আসে ও আমি তাদের বলি: (প্রতিমাগুলোর লজ্জা স্থানে) কাঠ ঢুকিয়ে দাও (They came to me and I said to them: Insert wood (in the idols’ private parts)।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অনুবাদকারীদের অনুবাদ:
“তারা আবার আমার সম্মুখ দিয়ে এল। আমি (বিরক্ত হয়ে) বললাম, (ওদের) লজ্জাস্থান কাঠের মত।

(৪) “(এটি আমি তাদেরকে এরূপ স্পষ্ট ভাষায় বলি) যেহেতু আমি তা রূপক ভাষায় প্রকাশ করতে পারি নাই (I said this to them in such plain words) as I could not express in metaphorical terms)।”

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অনুবাদকারীদের অনুবাদ:
“—আমি তাদের নাম স্পষ্ট উচ্চারণ করিনি।

(৫) “এই মহিলারা কাঁদতে কাঁদতে চলে যায় ও বলতে থাকে: আমাদের লোকদের মধ্যে যদি কেউ একজন থাকতো (সে আমাদের প্রতিমাদের সম্বন্ধে আমাদের সামনে তোমার এই অশ্লীল কথাগুলো বলার জন্য তোমাকে একটা শিক্ষা দিতো) (These women went away crying and saying: Had there been one amongst our people (he would have taught a lesson to you for the obscene words used for our idols before us)।”

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অনুবাদকারীদের অনুবাদ:
“– এতে তারা অভিশাপ দিতে দিতে চলে গেল এবং বলতে লাগল এখানে যদি আমাদের লোকদের কেউ থাকত (তাহলে এই বেআদবকে শাস্তি দিত)!”

“ইসলাম প্রচার ও প্রসারের প্রয়োজনে” এই ধরণের প্রতারণা ও মিথ্যাচার মুমিনদের জন্য শুধু যে সম্পূর্ণরূপে বৈধ তাইই নয়, বরং তা বিবেচিত হয় সৎকর্ম হিসাবে। যুগে যুগে তা হয়ে এসেছে, এখনো হচ্ছে ও ভবিষ্যতেও তা হবে।

[ইসলামী ইতিহাসের ঊষালগ্ন থেকে আজ অবধি প্রায় প্রতিটি ইসলাম বিশ্বাসী প্রকৃত ইতিহাস জেনে বা না জেনে ইতিহাসের এই অধ্যায়গুলো যাবতীয় চতুরতার মাধ্যমে বৈধতা দিয়ে এসেছেন। বিষয়গুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিধায় বাংলা অনুবাদের সাথে ইমাম মুসলিমের ওপরে বর্ণিত প্রথম উপাখ্যানটির মূল ইংরেজি অনুবাদটি সংযুক্ত করছি; অন্যান্য রেফারেন্সের ইন্টারনেট ডাউন-লোড লিংক: তথ্যসূত্র দ্রষ্টব্য।]

সহি মুসলিম: বই নম্বর ৩১ ও হাদিস নম্বর ৬০৪৬ [1]

‘Abdullah b. Samit reported that Abu Dharr said:
We set out from our tribe Ghafir who look upon the prohibited months as permissible months. I and my brother Unais and our mother stayed with our maternal uncle who treated us well. The men of his tribe fell jealous and they said: When you are away from your house, Unais commits adultery with your wife. Our maternal uncle came and he accused us of the sin which was conveyed to him. I said: You have undone the good you did to us. We cannot stay with you after this. We came to our camels and loaded (our) luggage. Our maternal uncle began to weep covering himself with (a piece of) cloth. We proceeded on until we encamped by the side of Mecca. Unais cast lot on the camels (we had) and an equal number (above that). They both went to a Kahin and he made Unais win and Unais came with our camels and an equal number along with them. He (Abu Dharr) said: My nephew, I used to observe prayer three years before my meeting with Allah’s Messenger (may peace be upon him). I said: For whom did you say prayer? He said: For Allah. I said: To which direction did you turn your face (for observing prayer)? He said: I used to turn my face as Allah has directed me to turn my face. I used to observe the night prayer at the time of the end of night and I fell down in prostration like the mantle until the sun rose over me. Unais said: I have a work in Mecca, so you better stay here. Unais went until he came to Mecca and he came to me late. I said: What did you do? He said: I met a person in Mecca who is on your religion and he claims that verily it is Allah Who has sent him. I said: What do the people say about him? He said: They say that he is a poet or a Kahin or a magician. Unais who was himself one of the poets said. I have heard the words of a Kahin but his words in no way resemble his (words). And I also compared his words to the verses of poets but such words cannot be uttered by any poet. By Allah, he is truthful and they are liars. Then I said: you stay here, until I go, so that I should see him. He said: I came to Mecca and I selected an insignificant person from amongst them and said to him: Where is he whom you call as-Sabi? He pointed out towards me saying: He is Sabi. Thereupon the people of the valley attacked me with sods and bows until I fell down unconscious. I stood up after having regained my consciousness and I found as if I was a red idol. I came to Zamzarn and washed blood from me and drank water from it and listen, O son of my brother, I stayed there for thirty nights or days and there was no food for me but the water of Zamzam. And I became so bulky that there appeared wrinkles upon my stomach, and I did not feel any hunger in my stomach. It was during this time that the people of Mecca slept in the moonlit night and none was there to circumambulate the House but only two women who had been invoking the name of Isafa, and Na’ila (the two idols). They came to me while in their circuit and I said: Marry one with the other, but they did not dissuade from their invoking. They came to me and I said to them: Insert wood (in the idols’ private parts). (I said this to them in such plain words) as I could not express in metaphorical terms. These women went away crying and saying: Had there been one amongst our people (he would have taught a lesson to you for the obscene words used for our idols before us). These women met Allah’s Messenger (may peace be upon him) and Abu Bakr who had also been coming down the hill. He asked them: What has happened to you? They said: There is Sabi, who has hidden himself between the Ka’ba and its curtain. He said: What did he say to you? They said: He uttered such words before us as we cannot express. Allah’s Messenger (may peace be upon him) came and he kissed the Black Stone and circumambulated the House along with his Companion and then observed prayer, and when he had finished his prayer, Abu Dharr said: I was the first to greet him with the salutation of peace and uttered (these words) in this way; Allah’s Messenger, may there be peace upon you, whereupon he said: It may be upon you too and the mercy of Allah. He then said: Who are you? I said: From the tribe of Ghifar. He leaned his hand and placed his finger on his forehead and I said to myself: Perhaps he has not liked it that I belong to the tribe of Ghifar. I attempted to catch hold of his hand but his friend who knew about him more than I dissuaded me from doing so. He then lifted his head and said: Since how long have you been here? I said: I have been here for the last thirty nights or days. He said: Who has been feeding you? I said: There has been no food for me but the water of Zamzam. I have grown so bulky that there appear wrinkles upon my stomach and I do not feel any hunger. He said: It is blessed (water) and it also serves as food. Thereupon Abu Bakr said: Allah’s Messenger, let me serve as a host to him for tonight, and then Allah’s Messenger (may peace be upon him) proceeded forth and so did Abu Bakr and I went along with them. Abu Bakr opened the door and then he brought for us the raisins of Ta’if and that was the first food which I ate there. Then I stayed as long as I had to stay. I then came to Allah’s Messenger (may peace be upon him) and he said: I have been shown the land abounding in trees and I think it cannot be but that of Yathrib (that is the old name of Medina). You are a preacher to your people on my behalf. I hope Allah would benefit them through you and He would reward you. I came to Unais and he said: What have you done? I said: I have done that I have embraced Islam and I have testified (to the prophethood of Allah’s Messenger). He said: I have no aversion for your religion and I also embrace Islam and testify (to the prophethood of Muhammad). Then both of us came to our mother and she said: I have no aversion for your religion and I also embrace Islam and testify to the prophethood of Muhammad. We then loaded our camels and came to our tribe Ghifir and half of the tribe embraced Islam and their chief was Aimi’ b. Rahada Ghifirl and he was their leader and hall of the tribe said: We will embrace Islam when Allah’s Messenger (may peace be upon him) would come to Medina, and when Allah’s Messenger (may peace be upon him) came to Medina the remaining half also embraced Islam. Then a tribe Aslam came to the Holy Prophet (may peace be upon him) and said: Allah’s Messenger, we also embrace Islam like our brothers who have embraced Islam. And they also embraced Islam. Thereupon Allah’s Messenger (may peace be upon him) said: Allah granted pardon to the tribe of Ghifar and Allah saved (from destruction) the tribe of Aslam.’

(চলবে)

তথ্যসূত্র ও পাদটীকা:

[1] সহি মুসলিম: বই নম্বর ৩১; হাদিস নম্বর ৬০৪৬:
https://quranx.com/hadith/Muslim/USC-MSA/Book-31/Hadith-6046/

http://hadithcollection.com/sahihmuslim/Sahih%20Muslim%20Book%2031.%20The%20Merits%20Of%20The%20Companions%20(PBUT)%20Of%20The%20Holy%20Prophet%20(PBUH)/sahih-muslim-book-031-hadith-number-6046.html

[2] অনুরূপ বর্ণনা: সহি মুসলিম: বই নম্বর ৩১; হাদিস নম্বর ৬০৪৮
https://quranx.com/hadith/Muslim/USC-MSA/Book-31/Hadith-6048/

[3] সহি বুখারী: ভলুম ৪, বই নম্বর ৫৬; হাদিস নম্বর ৭২৫:
https://quranx.com/Hadith/Bukhari/USC-MSA/Volume-4/Book-56/Hadith-725

অনুরূপ বর্ণনা: সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)- হাদিস নম্বরঃ ৩৫২২:
https://www.hadithbd.com/hadith/filter/?book=1&hadith=3522

[4] অনুরূপ বর্ণনা: সহি মুসলিম: বই নম্বর ৩১; হাদিস নম্বর ৬০৪৯:
https://quranx.com/hadith/Muslim/USC-MSA/Book-31/Hadith-6049/

[5] সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)- হাদিস নম্বরঃ ৬১৩৫:
https://www.hadithbd.com/hadith/filter/?book=2&hadith=6135

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

56 − 52 =