আফগানিস্তানে শরিয়া আইন।


আফগানিস্তানের বিভিন্ন জায়গা তালেবানরা দখল করে ফেলেছে ইতিমধ্যে।খুব শীগ্রই আফগানিস্তানে তালেবানরা শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠিা করবে। শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠা করতে পারলেই জোরপূর্বক সবাইকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে বাধ্য করবে, সমস্ত স্কুল-কলেজ ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে মাদ্রাসায় পরিনত হবে। কেউ চুরি করলে তার হাত কে -টে দিবে,যেনা ব্যভিচার করলে তাকে পাথর নিক্ষেপ করে হ -ত্যা করবে। নারীরা ঘর থেকে বের হতে পারবে না, যদি একান্ত প্রয়োজনে ঘরের বাইরে নারীদের বের হতে হয় তবে অবশ্যই পুরুষ সঙ্গীকে সাথে করে নিয়ে বের হতে হবে। মাথা থেকে পা পর্যন্ত সমস্ত ঢেকে, যদি শরীরের এক ফোঁটা অঙ্গ দেখা যায় তবে সাথে সাথে সেই নারীকে শাস্তি পেতে হবে। অমুসলিমদের জোর করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে বাধ্য করবে,নয়তো জিজিয়া কর দিয়ে তাদের টিকে থাকতে হবে। যে সকল নারীরা অফিস-আদালতে চাকরি করতো তাহলে সবাইকে চাকরীচ্যুত করবে, নারীদের কাজ হবে স্বামীদের সেবা-যত্ন করা আর বছরে বছরে বাচ্চা উৎপাদন করা। স্বামীর হাতে ইচ্ছামত প্যাদানি খাওয়া, ১২ বছর পার হবার আগেই তাদের বিয়ে দিয়ে দিবে একেকজন তালেবান পুরুষ চার টা করে বিয়ে করবে। ধর্ষিতা কে ধর্ষনের প্রমাণ করতে হলে চারজন পুরুষ সাক্ষী হাজির করতে হবে,এবার চিন্তা করুন একজন নারী ধর্ষণের শিকার হচ্ছে আর দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে চারজন পুরুষ ধর্ষণ হওয়া অবধি তা দেখবে এরপর ধর্ষণ সম্পন্ন হলে সাক্ষী দেবে এমনটা কি কখনো হয়? আর যদি ধর্ষিতা চারজন জন পুরুষ সাক্ষী হাজির করতে না পারে তাহলে উলটো সেই নারীকে পাথর ছুড়ে হত্যা করা হবে এই হচ্ছে ইসলামিক শরিয়া বর্বর আইন।

এই আইনের শুধু হাত কে-টে ফেলা,পা কেটে ফেলা, মাথা কেটে ফেলা সহ জীবন্ত মানুষকে পাথর ছুড়ে মেরে হত্যা করার মতো বহু মধ্য যুগের বর্বর নিয়মই থাকে এমন সব আইনে, তালেবানরা চাই মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করতে, আর সেই নিয়ন্ত্রণ করার সবচেয়ে সহজ উপাই হচ্ছে একটি ধর্ম ব্যবহার করে সেই ধর্মকে মেনে চলা মানুষদের মধ্যে ভয় ভীতি আতঙ্ক ছড়িয়ে তা বাস্তবায়ন করা। এবার আপনি একটু নিজেই মাথা খাটিয়ে দেখুন আপনি কি শরীয়া আইন চান?একদশক আগে যখন সরিয়া,ইরাকে ইসলামিক স্টেট শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল তখন মুসলমানরা ঠিক একইভাবে আইএস নিয়েও গর্ব বোধ করতো৷ আইএস এর জঙ্গিদের তখন ইসলামের সৈনিক ডাকা হতো এমনকি বিভিন্ন দেশ থেকে বহু মুসলমান সিরিয়াতে গিয়ে আইএস এ যোগদানও করেছিল। ইউরোপ থেকেও বিপুল সংখ্যাক মুসলমান জিহাদ করতে সিরিয়াতে গিয়েছিল। তখন মুসলমানরা বলতো আইএস পৃথিবীতে ইসলামী খেলাফত প্রতিষ্ঠা করবে, ইউরোপ আমেরিকা দখল করবে কিন্তু এখন আবার মুসলমানরাই বলে যে আইএসের সাথে ইসলামের কোন সম্পর্ক নেই, যেসব মুসলমান আইএস এ যোগ দেওয়ার জন্য সিরিয়াতে পাড়ি জমিয়েছিল তারা সহিহ ইসলাম যানে নাহ, তারা পথভ্রষ্ট ইত্যাদি ইত্যাদি।

তালেবানের ক্ষেত্রেও মুসলমানরা ঠিক একইভাবে পল্টি মারবে। তালেবানরা যখন আফগানিস্তানে সম্পন্ন রুপে শরীয়া আইনের বাস্তব প্রয়োগ শুরু করবে এবং মিডিয়াতে সেগুলো দেখানো হবে তখন মুসলমানরাই আবার বলবে যে তালেবান আসল ইসলাম যানে নাহ, তাদের সাথে ইসলামের কোন সম্পর্ক নেই ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু প্রকৃত সত্য হচ্ছে আজ তালেবান আইএস যা কিছু করছে সম্পূর্ণ ইসলাম মিনেই করছে এভাবেই নবী মোহাম্মদ চৌদ্দশ বছর আগে নারীদের এভাবে প্যাকেট করেছিলেন, অমুসলিমদের উপর অত্যাচার করে ইসলাম নামের বর্বর ধর্ম প্রতিষ্ঠা করেছেন। আসুন আমরা প্রত্যেকে এই বর্বর ধর্মকে বর্জন করে মানুষ হই।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

2 + = 4