২৩৮: তাবুক যুদ্ধ-১১: দলে দলে বশ্যতা স্বীকার – ‘বাঁচার আকুতি!’

“যে মুহাম্মদ (সাঃ) কে জানে সে ইসলাম জানে, যে তাঁকে জানে না সে ইসলাম জানে না।”

“ইসলামে” কোন কোমল, মোডারেট কিংবা উগ্রবাদী শ্রেণী বিভাগ নেই; ইসলাম একটিই আর তা হলো ‘মুহাম্মদের ইসলাম’, যার ভিত্তি হলো: কুরআন, সিরাত ও হাদিস। কিন্তু “ইসলাম বিশ্বাসী” মুসলমানদের মধ্যে তথাকথিত এই তিন ধরণের শ্রেণী বিভাগ আছে। সাধারণ ইসলাম বিশ্বাসী ও অবিশ্বাসীদের সাধারণ ধারণা এই যে ‘উগ্রবাদী ইসলাম বিশ্বাসীরাই’ হলো মানব সভ্যতার জন্য সবচেয়ে ভয়ংকর শ্রেণী-গুষ্টি, যা আদৌ সত্য নয়। সত্য হলো, সামগ্রিকভাবে ইসলামের ঊষালগ্ন থেকে বর্তমান কাল অবধি মানব ইতিহাস ও সভ্যতার সবচেয়ে ভয়ংকর ইসলাম-বিশ্বাসী গুষ্টিটি হলো “তথাকথিত মোডারেট শ্রেণিটি!” বস্তুত: এই শ্রেণীটিই হলো তথাকথিত উগ্রবাদী-মুসলমান শ্রেণীটির জনক ও প্রতিপালক।

আদি উৎসে এই “তথাকথিত মোডারেট” শ্রেণীটিই মূলত: ‘কুরআন’, সিরাত ও হাদিস গ্রন্থগুলোর লেখক, বর্ণনাকারী ও ব্যাখ্যা বা তাফসীর-কারী। যাদের মূল উদ্দেশ্য হলো: বিভিন্ন উপায়ে ‘নবী মুহাম্মদের চরম বৈষম্য-বাদী শিক্ষার প্রচার, প্রসার ও বাস্তবায়ন ও তাঁর অসংখ্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের (যার আলোচনা গত দুইশত দশটি [পর্ব:২৮-২৩৭] পর্বে করা হয়েছে) বৈধতা প্রদান! তাঁরা এই কাজটি করেছেন ইসলামী শাসকদের ছত্রছায়ায়। তাঁদের লিখিত ‘কুরআন’, সিরাত ও হাদিস গ্রন্থগুলোই হলো তথাকথিত উগ্রবাদী শ্রেণীটির শিক্ষা, বিশ্বাস ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মূল চালিকা-শক্তি। এই গ্রন্থগুলো রচিত না হলে বহু শতাব্দী পূর্বেই “ইসলাম” এর মৃত্যু ছিল অবশ্যম্ভাবী।

অতঃপর প্রজন্মের পর প্রজন্মের ‘তথাকথিত মোডারেট’ পণ্ডিত ও অপণ্ডিত (অধিকাংশই না জেনে) শ্রেণীর লোকেরাই সামগ্রিকভাবে তাঁদের পূর্বসূরিদের সেই ধারা অবলম্বন করে ‘নবী মুহাম্মদের সেই শিক্ষা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের’ বৈধতা দিয়ে চলেছেন শতাব্দীর পর শতাব্দী; তাঁদের লেখা, বক্তৃতা-বিবৃতি, ওয়াজ-মাহফিল ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে! তাঁরা তৈরি করে চলেছেন অসংখ্য ইসলামী শিক্ষা-কেন্দ্র, মাদ্রাসা ও মসজিদ! যেখান থেকে যুগে যুগে সৃষ্টি হয়েছে ও হচ্ছে অসংখ্য ‘তালেবান’ ও উগ্রবাদী মুসলমান। তাঁদেরই সৃষ্ট এই ‘তালেবানরা’ ইসলামের প্রকৃত স্বরূপ সাধারণ মুসলমানদের কাছে গোপন করে প্রতারণার আশ্রয়ে ‘যেখানে যেমন, সেখানে তেমন’ জাতীয় প্রচারণার মাধ্যমে তাঁদের জনক মোডারেটদের প্রতারিত করে আবার সৃষ্টি করে চলেছেন নব্য মডারেট। এ এক অদ্ভুত চক্র! ইসলামের সেই ঊষালগ্ন থেকে সর্বদায় সচল!

একটু খেয়াল করলেই বোঝা যায়: তথাকথিত’ এই মোডারেট ও উগ্রবাদী ইসলাম বিশ্বাসীদের ‘ইসলাম বিশ্বাসের’ মধ্যে কোন গুনগত মৌলিক পার্থক্য নেই। তাঁরা উভয়েই দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, “নবী মুহাম্মদের বর্ণিত আল্লাহই’ হলো এই অনন্ত মহাবিশ্বের একমাত্র সৃষ্টিকর্তা, আর হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) হলেন সেই স্রষ্টারই বার্তাবাহক বা নবী; ‘কুরআন’ হলো সেই আল্লাহর বাণী যা তাঁদের নবীর উপর অবতীর্ণ, যিনি হলেন জগতের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব; সে কারণেই তাঁর প্রদত্ত বানী ও শিক্ষাই হলো জগতের সকল মানুষের জন্য অবশ্য পালনীয় বিধান”; ইত্যাদি, ইত্যাদি।

তাঁদের উভয়েরই মূল লক্ষ্য অভিন্ন! আর তা হলো, “নবী মুহাম্মদ ও তাঁর মতবাদ ‘ইসলামের’ প্রচার ও প্রসার!”

ইসলামের ইতিহাসের সবচেয়ে আদি উৎসের মুসলিম ঐতিহাসিকদের বর্ণনায় আমরা জানতে পারি, নবী মুহাম্মদের তাবুকে অবস্থানকালীন সময়ে অত্র অঞ্চলের “ইসলাম অবিশ্বাসী” অনেক-গুলো গোত্র ও উপগোত্রের নেতৃস্থানীয় লোকেরা মুহাম্মদের কাছে এসে ‘শান্তি-চুক্তি’ সম্পন্ন করেছিলেনে। তাঁদের সেই বর্ণনায় ঘটনাগুলো ছিল নিম্নরূপ:

মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের (ও আল-তাবারীর) বর্ণনা: [1] [2] [3]
(আল-ওয়াকিদির বর্ণনা, ইবনে ইশাকের বর্ণনারই অনুরূপ।)
পূর্ব প্রকাশিতের (পর্ব: ২৩৭) পর:

‘আল্লাহর নবী যখন তাবুকে পৌঁছেন, আইলার গভর্নর ইউহাননা বিন রুবা তাঁর কাছে এসে এক চুক্তি স্বাক্ষর ও কর প্রদান (জিজিয়া) করে। জারবা ও আধরুর লোকেরাও আসে ও কর প্রদান করে। আল্লাহর নবী তাদের জন্য একটি দলিল লিখেছিলেন যা এখনও তাদের কাছে আছে। তিনি ইউহাননা বিন রুবার কাছে যা লিখেছিলেন, তা হলো: [4] [5] [6]

“আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময় ও অতিশয় দয়ালু। এটি আল্লাহ ও তার নবী মুহাম্মদের পক্ষ থেকে ইউহানা বিন রুবা ও আইলার জনগণের প্রতি তাদের জাহাজ ও কাফেলার স্থল ও সমুদ্রপথে চলাচলের এক গ্যারান্টি। তারা ও তাদের সাথে আর যা কিছু আছে, সিরিয়া ও ইয়েমেনের জনগণ ও নাবিকগণ; সকলেই আল্লাহর ও নবী মুহাম্মদের পক্ষ থেকে সুরক্ষা-প্রাপ্ত। তাদের মধ্যে যদি কেউ কিছু নতুন শর্ত প্রস্তাব করে চুক্তি ভঙ্গ করে, তবে তার সম্পদ তাকে রক্ষা করতে পারবে না; এটিই তার জন্য ন্যায্য পুরস্কার, যে তা গ্রহণ করবে। এটি অনুমোদিত নয় যে কূপের কাছে তাদের চলাচল ও তাদের স্থল বা সমুদ্রপথ ব্যবহার করাকে বাধাদান করা হবে।“

অতঃপর,

আল্লাহর নবী খালিদ বিন আল-ওয়ালিদ কে ডেকে পাঠান ও তাকে ‘দুমা’ অঞ্চলের উকায়েদির বিন আবদুল মালিকের নিকট প্রেরণ করেন।

উকায়েদির বিন আবদুল মালিক ছিল ‘কিনদা’ উপজাতির এক লোক ও যে ছিল দুমার শাসনকর্তা; সে ছিল খ্রিস্টান। আল্লাহর নবী খালিদ-কে বলেন যে সে হয়তো তাকে বন্য গরু শিকার করা অবস্থায় খুঁজে পাবে। খালিদ যাত্রা শুরু করে ও তা অব্যাহত রাখে যতক্ষনে না সে তার দুর্গটি দেখতে পায়।‘—- [7] [8]

আল-ওয়াকিদির অতিরিক্ত ও বিস্তারিত বর্ণনা: [3]

‘দুমা ও আইলা ও তেইমার লোকেরা যখন দেখতে পায় যে বেদুইনরা বশ্যতা-স্বীকার করেছে, তারা নবী-কে ভয় পায়। আইলার রাজা ইউহাননা বিন রুবা নবীজীর কাছে আসে।

তারা উদ্বিগ্ন ছিল এই আশঙ্কায় যে আল্লাহর নবী হয়তো তাদের কাছে এক বাহিনী পাঠাবেন যেমনটি তিনি উকায়েদিরের কাছে পাঠিয়েছিলেন।

জারবা ও আধরুর লোকেরা তাঁর সাথে যোগাযোগ করে। তারা তাঁর কাছে আসে ও তিনি তাদের সাথে শান্তি স্থাপন করেন ও তাদের জন্য জিজিয়া প্রতিষ্ঠা করেন; সেই জিজিয়া-টি ছিল অপরিবর্তনীয়। তিনি তাদের জন্য একটি দলিল লিখেন:

“পরম করুণাময় ও অতিশয় দয়ালু আল্লাহর নামে, এটি আল্লাহ এবং আল্লাহর নবী ও তার বার্তাবাহক মুহাম্মদের পক্ষ থেকে ইউহাননা বিন রুবা ও আইলার জনগণের প্রতি তাদের জাহাজ চলাচল ও যারা স্থল ও সমুদ্র পথে ভ্রমণ করে তাদের জন্য এক শান্তি চুক্তি। তাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে সুরক্ষা এবং সুরক্ষা আল্লাহর নবী মুহাম্মদ ও আল-শাম ও আল-ইয়ামেন ও সমুদ্রের লোকদের (people of the sea) মধ্যে যে সমস্ত লোকেরা তাঁর সাথে আছে তাদের পক্ষ থেকে। যে কেউ অনিষ্ট করার চেষ্টা করবে, তার সম্পত্তি তাকে রক্ষা করবে না। বস্তুত যে কারও কাছ থেকে সে জিজিয়া গ্রহণ করে তার জন্য এটি মঙ্গল। অবশ্যই তাদের ইচ্ছামতো পানি ব্যবহার কিংবা স্থল বা সমুদ্র পথের রাস্তাগুলোতে তাদের ইচ্ছামতো চলাচলে বাধাদান অনুমোদিত নয়।”

জুহায়েল বিল আল-সালত ও সুরাহবিল বিন হাসানার এই দলিলটি ছিল আল্লাহর নবীর অনুমতিক্রমে। আল্লাহর নবী আইলার লোকদের জন্য প্রতিবছর তিনশ দিনার জিজিয়া ধার্য করেন ও তাদের লোকদের সংখ্যা ছিল তিনশত জন।

সে বলেছে: ইয়াকুব বিন মুহাম্মদ আল-যাফারি আমাকে আসিম বিন উমর বিন কাতাদা হইতে <আবদুল রহমান বিন জাবির হইতে < তার পিতা হইতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বলেছে, যে বলেছে:

‘আমি ইউহাননা বিন রুবা-কে নবীজীর কাছে ধরে নিয়ে আসার দিনটিতে দেখেছি, তার পরিধানে ছিল একটি স্বর্ণের ক্রস ও তাকে আটকে রাখা হয়েছিল (restrained)।

নবীজীকে দেখার পর সে বিনীত হয় ও মাথা নিচু করে। নবীজী তাকে ইশারা করেন, “মাথা উঠাও!” সেই সময় সে তাঁর সাথে শান্তি স্থাপন করে। আল্লাহর নবী তাকে ইয়েমেন থেকে আনা একটি চাদর পরিয়ে দেন। তিনি তাকে বেলালের সাথে থাকার জায়গা করার নির্দেশ জারী করেন।

আল্লাহর নবী জারবা ও আধরুর লোকদের জন্য এই দলিলটি লিখেছিলেন:
‘আল্লাহর নবী মুহাম্মদের পক্ষ থেকে আধরুর লোকদের প্রতি। এই যে, তারা আল্লাহ ও মুহাম্মদের সুরক্ষায় নিরাপদ। এই যে, তাদের কাছ থেকে প্রতি রজব মাসে একশ দিনার অবশ্য প্রাপ্য, যথোচিত ও উপযুক্ত। আর আল্লাহ তাদের জন্য যথেষ্ট।’ —

‘তারা বলেছে: তিনি মাকনার (Maqnā) লোকদের জন্য লিখেছিলেন যে, তাদের প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে ও মুহাম্মদের পক্ষ থেকে সুরক্ষার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে ও তাদের জন্য তাদের নগদ সম্পদ ও ফলমূলের এক চতুর্থাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

উবায়েদ বিন ইয়াসির বিন নুমায়ের, সা‛দ আল্লাহ গোত্রের একজন, এবং যুধামের এক লোক, বানু ওয়াইল গোত্রের; তাদের দুজনেই তাবুকে নবীজীর সম্মুখে এসে ইসলাম গ্রহণ করে। আল্লাহর নবী তাদের উভয়-কে মাকনার আয় থেকে দান করেন, যা তিনি তাদের সমুদ্রের আয়, ফলমূল, খেজুর ও নগদ সম্পদের এক চতুর্থাংশ থেকে নিয়েছিলেন। উবায়েদ বিন ইয়াসির ছিল অশ্বারোহী, আর যুধামি লোকটি ছিল পদব্রজী। আল্লাহর নবী উবায়েদ বিন ইয়াসিরের ঘোড়াটির জন্য দিয়েছিলেন একশত রেশমি সুতায় বোনা কাপড়ের পাড় (বিনুনি)। বানু সা’দ ও ওয়াইল গোত্রের সাথে তারা তা চালু রেখেছে। জনগণ আজ পর্যন্ত এটি করে থাকে।’ —

সহি বুখারী: ভলুম ৪, বই নম্বর ৫৩, হাদিস নম্বর ৩৮৭: [9]

‘আবু হুমায়েদ আস-সাইদি হইতে বর্ণিত: আমরা গাজওয়ায়ে তাবুকের প্রাক্কালে নবিজীর সাথে ছিলাম ও আইলার শাসক নবিজী-কে এক সাদা খচ্চর ও একটি চাদর উপহার দিয়েছিল। আর নবীজী তাকে তার দেশের উপর তার কর্তৃত্ব বহাল রাখার অনুমতি দিয়ে এক শান্তি-চুক্তি লিখে পাঠিয়েছিলেন।’

– অনুবাদ, টাইটেল ও [**] যোগ – লেখক।

>>> আদি উৎসে ওপরে বর্ণিত মুহাম্মদ ইবনে ইশাক (ও আল-তাবারী) ও আল-ওয়াকিদির বর্ণনায় যে বিষয়টি অত্যন্ত সুস্পষ্ট, তা হলো, ‘আইলার শাসক ইউহাননা বিন রুবা এবং জারবা, আধরু ও মাকনা অঞ্চলের লোকেরা মুহাম্মদের কাছে এসেছিলেন তাঁর কাছ থেকে “নিরাপত্তা লাভের” প্রত্যাশায়। আর মুহাম্মদ তাঁদের-কে নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এই শর্তে যে, “তাঁরা মুহাম্মদ-কে নিয়মিত ‘জিজিয়া’ প্রদান করবেন।” আর তাঁরা যদি মুহাম্মদের এই শর্তে রাজী না হয়, কিংবা ‘নতুন কোন শর্ত’ আরোপের চেষ্টা করে, তবে তাঁদের প্রতি মুহাম্মদের হুমকি এই যে,

“তবে তার সম্পদ তাকে রক্ষা করতে পারবে না!”

মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের বর্ণনায় যে বিষয়টি মোটেও স্পষ্ট নয়, তা হলো, “কী কারণে তাঁরা মুহাম্মদের কাছে ‘তাঁদের নিরাপত্তার’ প্রত্যাশায় হাজির হয়েছিলেন?” কারণ, তাঁর বর্ণনা মতে দুমার শাসনকর্তা উকায়েদির বিন আবদুল মালিকের বিরুদ্ধে মুহাম্মদ তাঁর অনুসারী খালিদ বিন আল-ওয়ালিদ-কে পাঠিয়েছিলেন এই ঘটনাগুলো সংঘটিত হওয়ার পর।

অন্যদিকে, আল-ওয়াকিদির বর্ণনায় “তাঁদের নিরাপত্তা শঙ্কার” কারণটি অত্যন্ত সুস্পষ্ট! আর তা হলো, “তারা উদ্বিগ্ন ছিল এই আশঙ্কায় যে মুহাম্মদ হয়তো তাদের কাছে এক বাহিনী পাঠাবেন যেমনটি তিনি উকায়েদিরের কাছে পাঠিয়েছিলেন।” অর্থাৎ মুহাম্মদ, খালিদ বিন আল-ওয়ালিদের নেতৃত্বে উকায়েদিরের বিরুদ্ধে যে বাহিনীটি পাঠিয়েছিলেন তা ছিল এই ঘটনাগুলো সংঘটিত হওয়ার পূর্বে।

আর খালিদ, উকায়েদিরের এমন হাল করেছিলেন যে যা জানার পর তাঁরা ছিলেন অত্যন্ত ভীত-সন্ত্রস্ত!

তাই তাঁরা তাঁদের ও তাঁদের পরিবারের নিরাপত্তার প্রত্যাশায় মুহাম্মদের কাছে হাজির হয়েছিলেন। আর তাঁদের মুক্তি মিলেছিল মুহাম্মদের বশ্যতা স্বীকার করে তাঁকে ‘জিজিয়া’ প্রদানের প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে!

শুধুমাত্র বিশেষ একটি ‘সিরাত ও হাদিস’ গ্রন্থ পড়ে মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের সন্ত্রাসী আগ্রাসী নৃশংস কর্মকাণ্ডের সঠিক ধারণা পাওয়া কী কারণে সম্ভব নয়, তার আলোচনা “রক্তের হোলি খেলা” পর্বে (পর্ব: ১৩৪) করা হয়েছে। মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের ওপরে বর্ণিত বর্ণনা (“অতঃপর, আল্লাহর নবী খালিদ বিন আল-ওয়ালিদ কে ডেকে পাঠান —“) তারই আর একটি উদাহরণ। মুহাম্মদের নির্দেশে খালিদ বিন আল-ওয়ালিদ, উকায়েদির বিন আবদুল মালিক ও তাঁর পরিবারের কী হাল করেছিলেন, তার আলোচনা আগামী পর্বে করা হবে।

[ইসলামী ইতিহাসের ঊষালগ্ন থেকে আজ অবধি প্রায় প্রতিটি ইসলাম বিশ্বাসী প্রকৃত ইতিহাস জেনে বা না জেনে ইতিহাসের এই অধ্যায়গুলো যাবতীয় চতুরতার মাধ্যমে বৈধতা দিয়ে এসেছেন। বিষয়গুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিধায় বাংলা অনুবাদের সাথে আল-ওয়াকিদির বর্ণনার মূল ইংরেজি অনুবাদটি সংযুক্ত করছি; অন্যান্য রেফারেন্সের ইন্টারনেট ডাউন-লোড লিংক: তথ্যসূত্র দ্রষ্টব্য।]

The narratives of Al-Waqidi: [3]

‘Dūma and Ayla and Taymā’ were afraid of the Prophet when they saw the Bedouin submit. Yuḥanna b. Ru‛ba, the king of Ayla, arrived before the Prophet. They were concerned that the Messenger of God would send a force to them just as he had sent one to Ukaydir. The People of Jarbā’, and Adhruḥ approached with him. They came to him and he made a peace with them, and he established the jizya for them, and the jizya was fixed. He wrote a document for them: In the name of God the most gracious the merciful, this is a peace from God and Muḥammad, the prophet and Messenger of God, to Yuḥanna b. Ru‛ba and the people of Ayla for their ships and those traveling on land and sea. For them is a protection from God and a protection from Muḥammad, the Messenger of God, and to whoever is with him from the people of al-Shām, the people of Yemen and the people of the sea. Whoever tries to cause mischief, his property will not save him. Indeed it is good to whoever he takes jizya from. Indeed it is not permitted to restrain the water they desire or the roads they desire from land or sea. This is the document of Juhaym b. al-Ṣalt and Shuraḥbīl b. Ḥasana by the permission of the Messenger of God. The Messenger of God put down the jizya for the people of Ayla at three hundred dinar for every year, and they were three hundred men.

He said: Ya‛qūb b. Muḥammad al-Ẓafarī related to me from ‛Āṣim b. ‛Umar b. Qatāda from ‛Abd al-Raḥmān b. Jābir from his father, who said: I saw Yuḥanna b. Ru‛ba on the day he was brought to the Prophet, and he was wearing a cross of gold and he was restrained. When he saw the Prophet he was humble and lowered his head. The Prophet signed to him, “Raise your head!” He made peace with him at that time. The Messenger of God clothed him [Page 1032] in a cloak from Yemen. He ordered a place for him with Bilāl.

The Messenger of God wrote this document for the people of Jarbā’ and Adhrūḥ: From Muḥammad the Prophet and Messenger of God to the people of Adhrūḥ. That they are secure in the protection of God and Muḥammad. That from them is due a hundred dinars every Rajab, good and fulfilled. And God is sufficient for them. —-

They said: He wrote for the people of Maqnā that they are guaranteed the protection of God and the protection of Muḥammad and that for them is a quarter of what they spin and their fruits.

‛Ubayd b. Yāsir b. Numayr, one of the Sa‛d Allah, and a man from Judhām, one of the Banū Wā’il, both arrived before the Prophet in Tabūk and converted to Islam. The Messenger of God gave them both from the income of Maqnā, a fourth of what he took out of the sea and from the fruit, from their dates, and from their spinning. ‛Ubayd b. Yāsir was a rider, and the Judhāmī was on foot. The Messenger of God gave for the horse of ‛Ubayd b. Yāsir a hundred braids. They continued that with the Banū Sa‛d and Wā‛il. The people do this until today.’

(চলবে)

তথ্যসূত্র ও পাদটীকা:

[1] মুহাম্মদ ইবনে ইশাক: পৃষ্ঠা ৬০৭
http://www.justislam.co.uk/images/Ibn%20Ishaq%20-%20Sirat%20Rasul%20Allah.pdf

[2] অনুরূপ বর্ণনা: আল-তাবারী; ভলুউম ৯, পৃষ্ঠা ৫৮
https://onedrive.live.com/?authkey=%21AJVawKo7BvZDSm0&cid=E641880779F3274B&id=E641880779F3274B%21294&parId=E641880779F3274B%21274&o=OneUp

[3] আল-ওয়াকিদি, ভলুম ৩; পৃষ্ঠা ১০৩১-১০৩২; ইংরেজি অনুবাদ: Rizwi Faizer, Amal Ismail and Abdul Kader Tayob, পৃষ্ঠা ৫০৫-৫০৬
https://books.google.com/books?id=gZknAAAAQBAJ&printsec=frontcover&dq=kitab+al+Magazi-+Rizwi+Faizer,+Amal+Ismail+and+Abdul+Kader+Tayob&hl=en&sa=X&ved=0ahUKEwjo7JHd7JLeAhUkp1kKHTmLBGcQ6AEIKzAB#v=onepage&q&f=false

[4] Ibid আল-তাবারী; নোট নম্বর ৪০৮: ‘আইলা হলো আকাবা উপসাগরের উত্তর প্রান্তে অবস্থিত একটি সমুদ্রবন্দর, যা বাইবেলে বর্ণিত Ezion-geber ও Elath স্থানটির নিকটে অবস্থিত। এই স্থানটি মিসর ও মক্কার মধ্যবর্তী তীর্থযাত্রা পথের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি (ষ্টেশন)। এখন এটি-কে ‘আল-আকাবা’ বলা হয়।’

[5] Ibid আল-তাবারী; নোট নম্বর ৪০৯: ‘জারবা – এটি ছিল রোমান আমলে বুশরা থেকে লোহিত সাগরের দিকে যাত্রা পথের এক প্রাচীন দুর্গ, যা আধরু থেকে এক মাইলে উত্তরে অবস্থিত।’

[6] Ibid আল-তাবারী; নোট নম্বর ৪১০: ‘আধরু – এটি ছিল মা’ন ও পেট্রার মধ্যবর্তী জুধাম ভূখণ্ডে অবস্থিত রোমানদের একটি ক্যাম্প, যেখানে কুরাইশদের কাফেলাগুলো যাওয়া-আসা করতো। সিফফিনের যুদ্ধের পর সেখানে অনুষ্ঠিত সালিশি সম্মেলনের কারণে এই স্থানটি ইসলামী ইতিহাসে বিখ্যাত হয়ে উঠে।’

[7] Ibid আল-তাবারী; নোট নম্বর ৪১২: ‘দুমাতুল জান্দাল ছিল ওয়াদি সিরহানের সম্মুখভাগে অবস্থিত একটি মরূদ্যান, যা মধ্য-আরব ও হাওরান ও সিরিয়ার পাহাড়গুলো-কে সংযুক্ত করে; এই স্থানটি দামেস্ক ও মদিনার মধ্যবর্তী পথে অবস্থিত। এই সমগ্র অববাহিকা ও বসতিগুলি এখন ‘আল-জাওফ (al-Jawf) নামে পরিচিত।’

[8] Ibid আল-তাবারী; নোট নম্বর ৪১৩: ‘কিনদা – একটি দক্ষিণ আরবীয় উপজাতি গোষ্ঠী যা পঞ্চম ও ষষ্ঠ শতাব্দীতে আরবের দক্ষিণ থেকে কেন্দ্র ও উত্তরের সমগ্র অঞ্চলগুলোতে ছড়িয়ে ছিল। ইসলামের উত্থানের আগে এরা আরবের ইতিহাসে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তমূলক ভূমিকা পালন করতো।’

[9] সহি বুখারী: ভলুম ৪, বই নম্বর ৫৩, হাদিস নম্বর ৩৮৭:
https://quranx.com/hadith/Bukhari/USC-MSA/Volume-4/Book-53/Hadith-387/

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

49 + = 59