ভিক্ষে দেয়া ও নেয়া দুটিই অসম্মানজনক

সভ্য সমাজে ভিক্ষা বৃত্তিকে নিরুৎসাহ করা হয় কারণ ভিক্ষে দেয়া ও নেয়া দুটিই অসম্মানজনক, বিশেষ করে সাহায্যটা এমন ভাবে ঘটতে হবে তা শিশুদের চোখের আড়ালে বা শিশুদের দ্বারা ভিক্ষে দেয়াটা একজন ভিক্ষুককে করুণা দেখানো মোটেই যুক্তি সঙ্গত নয়, একজন শিশুকে ভিক্ষা একটি বৃত্তি সেটা বোঝানোর প্রয়োজন নেই। একজন অসহায় মানুষকে সম্মানের সাথে এমন ভাবে সাহায্য করা উচিত যেন সেটা ভিক্ষা দেয়া না বোঝায় আর সাহায্যটা এমন ভাবে দেয়া উচিত যেন তৃতীয় কেউই জানতে না পারে তাকে ভিক্ষা বা দান খয়রাত করা হচ্ছে, এটাই একজন অসহায়ের প্রতি মানবিক আচরণ।

দুপুরের দিকে কাজের ভীষণ চাপে লাঞ্চ খাওয়ার তাগিদে গুলশানের পিংক সিটির ওপরের তলাতে একটি বুফেতে যেই ঢুকতে যাবো খিড়কির নীচে একজন অতি ক্ষুধার্থ ভদ্রলোক হঠাত আমার পথ রোধ করে খাবার খেতে কিছু ভিক্ষা চাইলেন, আমি উনাকে আমার সাথে বুফেতে যেতে আমন্ত্রণ জানাই। তিনি খুব স্পষ্টত আমাকে জানালেন,
– ভাই, আমার পরনে পরিচ্ছন্ন কাপড় নেই যে রেস্তোরাতে আমাকে ঢুকতে দেবে।

আমি- তাহলে চলুন আমরা পাশের দোকান থেকে পরনের কিছু নতুন জামা কাপড় কিনে নেই, ব্যাস লেটা চুকে গেল, তাহলে তো আমার সাথে আপনার বুফেতে যেতে কোন অসুবিধা হচ্ছে না?

সবার চোখের আড়ালেই ভদ্রলোকের পকেটে কিছু টাকা কাপড় কেনার জন্যে গুজে দিলাম যেন তিনি নিজেই পাশের দোকান থেকে পরনের কিছু নতুন জামা কিনে নিতে পারেন, বুঝতে পারছি ভদ্রলোক এই শহরে আমার এরকম আচরণকে বেশ সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখছেন, চোখে মুখেও একটা জিজ্ঞাসা জিজ্ঞাসা ভাব তবে তিনি বেশ পুলকিত। বেশ, কাপড় কেনা হয়ে গেল এবার আমরা বুফেতে যাচ্ছি খাবার খাবো। বুফেতে ঢোকার আগেই আমি ভদ্রলোকের পকেটে আবারও কিছু টাকা গুজে দিয়ে বললাম,
আমি- ভাই, রেস্তোরাতে আমরা একটি টেবিলে বসে খাবো বটে তবে আপনার খাবারের বিলটা আপনি নিজেই দিয়ে দেবেন।

বুঝতে পারছি ভদ্রলোকের চোখে দিয়ে পানি গড়িয়ে পরছে, আমাদের লাঞ্চ খাওয়া হয়ে গেল ভদ্রলোক নিজের খাবারের বিলটা নিজেই দিলেন। এবার বিদায় নেবার পালা,
– ভাই, কিছু মনে করবেন না, আমি একজন প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষক ছিলাম, আজ বেকার হয়ে ভিক্ষে করছি কিন্তু আবার যদি কখনো শিক্ষকতার কাজ পেয়ে যাই তবে আমি আমার ছাত্রদের আজকে আপনার শেখানো মানবতা ও মানবিক সভ্য আচরণটি অবশ্যই শেখাবো।

ঢাক ঢোল পিটিয়ে ভিক্ষুকের সাথে ছবি খিচে ভিক্ষে দেয়াটা অসম্মানজনক, ভালো থাকবেন সবাই।

— মাহবুব আরিফ কিন্তু।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

39 − = 33