ধর্ম মানুষ ভয়ে মানে।

ধর্ম মানুষ ভয়ে মানে,ভালবেশে মানে খুব কম।বেহেস্তের লোভ,আর দোজখের ভয় যদি না থাকতো তাহলে মানুষ ধর্ম বিশ্বাস করত না। অধিকাংশ ধার্মিক “গড ফিয়ারিং পিপল্”গড লাভিং পিপল্ নয়”। আব্রাহামিক ধর্মগুলো তো “ঈশ্বরকে ভয় কর” বলেই কথা শুরু করে। তাহলে অন্যধর্ম গুলোতে কি সবাই সাধু।মোটেই না।

ধরেন সনাতন ধর্ম,অসংখ্য মানুষ পরীক্ষায় পাশ করতে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করে। তারা নানা নানা এক্সচেঞ্জ অফার নিয়ে যায়। শিবলিঙ্গের উপর দুধ ঢালার আগে ভেবেও দেখেনা সেই দুধ রিসাইকেল হচ্ছে কিনা। ধর্মের জন্য

মানুষ এমন কোন ক্রাইম নেই যা করেনা।ঐশী ধর্ম যতগুলো আছে সবগুলোতেই সৃষ্টিকর্তাকে ভয়ের কথা বলা হয়েছে। যেমন ইহুদি,খৃষ্টান, ইসলাম ইত্যাদি।

ঈশ্বরের অস্তিত্ব প্রমাণ বা অপ্রমাণ করার মত যথেষ্ট তথ্য মানুষের হাতে এখনো নেই। তাই আজো ঈশ্বরে বিশ্বাস ও অবিশ্বাসের প্রশ্ন ওঠে। ঈশ্বর সম্পর্কিত কোন প্রকল্প (hypothesis) বা বিধিসম্মত অনুমান যাচাইযোগ্য নয়। এ কারণে ঈশ্বরের অস্তিত্বের ব্যাপারে যুক্তিসঙ্গতভাবে ও পরীক্ষণমূলকভাবে নিশ্চিত হবার কোন উপায় নেই। ঈশ্বরের ধারণা মূলত বিশ্বাসেরই বিষয়।একটা উদাহরণ দেয়া যাক। ধরেন আপনি যুক্তি দিলেন, ঈশ্বর যদি না থাকেন তবে সবকিছু এলো কোথা থেকে? উত্তরে ঈশ্বরে অবিশ্বাসী কেউ উল্টো প্রশ্ন করতে পারে, তাহলে ঈশ্বর আসলো কোথা থেকে? আপনি এ প্রশ্নের কোন সদুত্তর দিতে পারবেন না। উত্তরে যা বলবেন তা পরীক্ষণমূলকভাবে প্রমাণ করতে পারবেন না। আপনি ধর্মগ্রন্থকে প্রমাণ হিসেবে হাজির করতে পারেন, কিন্তু যিনি ধর্মগ্রন্থগুলোকে মানবসৃষ্ট মনে করেন তাঁর কাছে আপনার যুক্তি হাস্যকর মনে হবে। তাই বিশ্বাসী ও অবিশ্বাসী উভয়েরই উচিত অপরের মতামতকে শ্রদ্ধা জানানো। এই জায়গায় বিশ্বাসী আর অবিশ্বাসী উভয় দলই পিছিয়ে আছে,কিন্তু বিশ্বাসীরাই বেশি ভয়ংকর রকমের পিছিয়ে। তবে যারা সব ধর্মের অন্তর্নিহিত অর্থ খুঁজেন এমন যুক্তিনিষ্ঠ, উদারপন্থী ও বিজ্ঞানমনস্ক বিশ্বাসীদের কথা আলাদা।

এছাড়া ঈশ্বর বা স্রষ্টাকে নিয়ে প্রচলিত বহু মিথ ও গল্পকথাকে সফলভাবে মিথ্যা ও বানোয়াট বলে প্রমাণ করেছে আধুনিক বিজ্ঞান। এক্ষেত্রে বিজ্ঞান কী বলে এবং কীভাবে বলে সে সম্পর্কে প্রত্যেকেরই স্পষ্ট ধারণা থাকা উচিত।ধার্মিকরা অনেক ভাবে ঈশ্বরের অস্তিত্ব প্রমাণ করে থাকে,কিন্তু গ্রহণযোগ্য নয়।কাল্পনিক ঈশ্বরকে সৃষ্টি করেছে মানুষ।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

13 − = 4