২৩৯: তাবুক যুদ্ধ-১২: দুমাতুল জান্দাল হামলা – প্রথম ও দ্বিতীয়!

“যে মুহাম্মদ (সাঃ) কে জানে সে ইসলাম জানে, যে তাঁকে জানে না সে ইসলাম জানে না।”

তাবুক অভিযানের প্রাক্কালে নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর নির্দেশে খালিদ বিন আল-ওয়ালিদ ‘দুমাত আল-জানদাল’ অঞ্চলে যে হামলাটি সংঘটিত করেছিলেন, সেটি ছিল অত্র অঞ্চলে মুহাম্মদের দ্বিতীয় আগ্রাসী হামলা! প্রথম হামলাটির নেতৃত্বে ছিলেন তিনি স্বয়ং, এই ঘটনার বছর পাঁচেক পূর্বে (সেপ্টেম্বর-অক্টোবর, ৬২৬ সাল); খন্দক যুদ্ধের (ফেব্রুয়ারি-মার্চ, ৬২৭ সাল) মাস ছয়েক আগে। ইসলামের ইতিহাসে এই হামলাটি গাযওয়া-ই ‘দুমাতুল জান্দাল (দুমাত আল-জানদাল)’ নামে অভিহিত।

যে কোন ইতিহাস পর্যালোচনায় “ঘটনার সময়ের ধারাবাহিকতা” এক অতি গুরুত্বপূর্ণ ও অবশ্য বিবেচ্য বিশয়, এই কারণে যে, ঘটনা পরস্পরায় পূর্ববর্তী ঘটনা প্রবাহের পরিণাম পরবর্তী ঘটনা প্রবাহে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। ঘটনা পরস্পরার এই ধারাবাহিকতা-কে উপেক্ষা করে কোন ইতিহাসের স্বচ্ছ ধারণা পাওয়া সম্ভব নয়। ইসলামের ইতিহাস পর্যালোচনায় এই বিষয়টি আরও বেশী গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ‘কুরআন ও হাদিস’ গ্রন্থের লেখকরা ইচ্ছাকৃত কিংবা অনিচ্ছাকৃত-ভাবে এই অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টির প্রতি কোন গুরুত্বই আরোপ করেন নাই। সে কারণে, “শুধু” এই গ্রন্থগুলো পড়ে নবী মুহাম্মদের জীবন, কর্মকাণ্ড ও তাঁর সর্বশেষ আদেশ ও নির্দেশ সম্বন্ধে সঠিক ধারণা পাওয়া অসম্ভব। ফলশ্রুতিতে, “তথাকথিত মোডারেট” ইসলাম বিশ্বাসী পণ্ডিত ও অপণ্ডিতরা তাঁদের সুবিধাজনক ‘রেফারেন্স ও বক্তৃতা বিবৃতির’ মাধ্যমে অতি সহজেই সাধারণ সরলপ্রাণ ইসলাম বিশ্বাসী ও অবিশ্বাসীদের বিভ্রান্ত করতে পারেন। তাঁদের এই মিথ্যাচার যে পদ্ধতিতে অতি সহজেই চিহ্নিত করা যায়, তা হলো: ইসলামের ইতিহাসের ‘ঘটনার সময়ের ধারাবাহিকতা’ সম্বন্ধে সম্মুখ জ্ঞান। [1]

অন্যদিকে, ‘সিরাত (মুহাম্মদের জীবনী)’ গ্রন্থের লেখকরা তাঁদের বর্ণনায় “ঘটনার সময়ের ধারাবাহিকতা” বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন। আল-ওয়াকিদির (৭৪৭-৮২৩ সাল) ‘কিতাব আল-মাঘাজি’ গ্রন্থে এই বিষয়টি সবচেয়ে স্পষ্ট। আর ইবনে হিশাম (মৃত্যু ৮৩৩ সাল) সম্পাদিত মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের ‘‘সিরাত রাসুল আল্লাহ” গ্রন্থের (পর্ব: ৪৪) বর্ণনায় তা স্পষ্ট, তবে অনেক ক্ষেত্রে তার ব্যত্যয়ও অত্যন্ত সুস্পষ্ট।

ইসলামের ইতিহাসের সবচেয়ে আদি উৎসে মুহাম্মদ ইবনে ইশাক ও আল-তাবারীর (৮৩৯-৯২৩ সাল) বর্ণনায় ‘প্রথম দুমাত আল জান্দাল’ হামলাটির বর্ণনা মাত্র লাইন ছয়েক; আর ‘দ্বিতীয় দুমাত আল জান্দাল’ হামলাটির বর্ণনা অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত। অন্যদিকে, আল-ওয়াকিদির বর্ণনায় এই দু’টি হামলারই বর্ণনা বিস্তারিত ও প্রাণবন্ত।

প্রথম দুমাত আল জান্দাল হামলা (পঞ্চম হিজরি):

আল-ওয়াকিদির বিস্তারিত বর্ণনা: [2]
(ইবনে ইশাক ও আল-তাবারীর বর্ণনা, আল-ওয়াকিদির বর্ণনার অনুরূপ।) [3] [4]

‘দুমাত আল জান্দাল হামলাটি সংঘটিত হয়েছিল রবিউল আউয়াল মাসে, হিজরতের উনপঞ্চাশতম মাসে। আল্লাহর নবী রবিউল আউয়াল মাসের শেষ পাঁচ রাত্রিতে রওয়ানা হন ও রবিউল আখির মাসের বাঁকি দশে ফিরে আসেন।

ইবনে আবি সাবরা <আবদুল্লাহ বিন আবি লাবিদ হইতে <আবু সালামা বিন আবদ আল-রহমান হইতে [প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে] আমাকে বর্ণনা করেছে। আর আবদ আল-রহমান বিন আবদ আল-আযিয আমাকে বর্ণনা করেছে <আবদুল্লাহ বিন আবি বকর হইতে [প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে]। তারা উভয়েই আমাকে এই উপাখ্যান সম্পর্কে অবহিত করেছে। তাদের মধ্যে একজন অধিক তথ্য দিয়েছে। অন্যরাও আমাদের-কে বর্ণনা করেছে।

তারা বলেছে: আল্লাহর নবী আল-শামের [বর্তমান সিরিয়া] নিকটতম স্থানে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন। তাকে যা বলা হয়েছিল, তা হলো, ‘আল-শামের প্রবেশের দ্বার প্রান্তে দুমাত আল-জান্দাল অবস্থিত;

‘যদি আপনি এর কাছাকাছি যান, তা সিজারকে আতঙ্কিত করতে পারে।’

নবীকে উল্লেখ করা হয়েছিল যে অনেক লোক দুমাত আল-জান্দালে জড়ো হয়েছে ও তারা ‘দাফিত-দের’ (যারা শহরে পণ্য নিয়ে আসতো — তারা ছিল নাবাতিয়ান, আসতো আটা ও তেল নিয়ে) যারা তাদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল তাদের সাথে তারা খারাপ আচরণ করেছে। এটি ছিল এক বিশাল বাজার ও বহু ব্যবসায়ী ও আরব বেদুইনরা এখানে আশ্রয় নিতো, ও তারা মদিনা অভিমুখ যেতে চাইতো। আল্লাহর নবী লোকদের প্রতিনিধিত্ব করেন ও এক হাজার মুসলমানের সঙ্গে নিয়ে যাত্রা করেন। তিনি রাত্রিতে অগ্রসর হতেন ও দিনের বেলা লুকিয়ে থাকতেন। তাঁর সঙ্গে ছিল বানু উধরা গোত্রের মাধকুর নামের এক লোক। সে ছিল এক অভিজ্ঞ গাইড।

আল্লাহর নবী তাড়াহুড়া করে রওনা হোন। তিনি যখন দুমাত আল-জান্দালের নিকটবর্তী হোন, তিনি তাদের রাস্তা থেকে অন্য পথে যান। কোন দ্রুতগামী সওয়ারির জন্য তাঁর ও সেটির মধ্যে দূরত্ব ছিল এক দিন বা রাত্রির যাত্রাপথ। গাইডটি তাঁকে বলে, “বস্তুতই তাদের গবাদি পশুগুলো চড়ে বেড়াচ্ছে, তাই যতক্ষণে না আমি আপনার জন্য কিছু তথ্য জোগাড় করে আনতে পারি ততক্ষণ পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।” আল্লাহর নবী সম্মত হোন।

‘উধরি’ লোকটি রওনা হয়, উপরে আরোহণ করে, যতক্ষণে না সে গবাদি পশু ও ভেড়ার পালের গমনপথগুলো দেখতে পায়। অতঃপর সে নবীর কাছে ফিরে আসে ও তাঁকে তা অবহিত করায়, এইভাবে তিনি তাদের অবস্থা জানতে পারেন। আল্লাহর নবী অগ্রসর হন ও তাদের গবাদি পশুগুলো ও রাখালদের আক্রমণ করেন। আল্লাহর নবী তাদের-কে আক্রমণ করেন, যাদেরকে তিনি পেরেছিলেন। যারা পরিত্রাণ পেয়েছিল তারা চতুর্দিকে পালিয়ে যায়। দুমাত আল-জান্দালের লোকদের কাছে খবর পৌঁছে ও তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। আল্লাহর নবী তাদের অঙ্গনে আসেন, কিন্তু তিনি সেখানে কাউকে দেখতে পান না। তিনি সেখানে কয়েক দিন যাবত অবস্থান করেন ও বিভিন্ন দিকে হামলাকারী দল প্রেরণ করেন। তারা একদিনের জন্য যাত্রা করে ও অতঃপর ফিরে আসে। তারা তাদের কাউকেই খুঁজে পায় না। হামলাকারীরা তাদের উটগুলোর কিছু অংশ-কে ধরে নিয়ে আসে।

মুহাম্মদ বিন মাসলামা ছাড়া কেউই তাদের ধরতে পারে নাই, সে তাদের একজনকে ধরে নবীর কাছে নিয়ে আসে। নবী তাকে তার সঙ্গীদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। সে বলে, “তারা গতকাল পালিয়ে গিয়েছে যখন তারা শুনেছে যে আপনি তাদের গবাদি পশুগুলো নিয়ে গেছেন।” নবী তাকে কয়েক দিন যাবত ইসলামের প্রস্তাব দেন ও সে ধর্মান্তরিত হয়। নবী মদিনায় প্রত্যাবর্তন করেন। আল্লাহর নবী তাঁর অনুপস্থিতিতে সিবা বিন উরফুতা-কে মদিনার দায়িত্বে নিযুক্ত রেখেছিলেন।’

দ্বিতীয় দুমাত আল জান্দাল হামলা (নবম হিজরি):

মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের (ও আল-তাবারীর) বর্ণনা: [5] [6] [7]
(আল-ওয়াকিদির বর্ণনা, ইবনে ইশাকের বর্ণনারই অনুরূপ।)
পূর্ব প্রকাশিতের (পর্ব: ২৩৮) পর:

উকায়েদির বিন আবদুল মালিকের উপর হামলা:

‘—আল্লাহর নবী খালিদ বিন আল-ওয়ালিদ কে ডেকে পাঠান ও তাকে ‘দুমা’ অঞ্চলের উকায়েদির বিন আবদুল মালিকের নিকট প্রেরণ করেন। উকায়েদির বিন আবদুল মালিক ছিল ‘কিনদা’ উপজাতির এক লোক ও যে ছিল দুমার শাসনকর্তা; সে ছিল খ্রিস্টান। আল্লাহর নবী খালিদ-কে বলেন যে সে হয়তো তাকে বন্য গরু শিকার করা অবস্থায় খুঁজে পাবে। খালিদ যাত্রা শুরু করে ও তা অব্যাহত রাখে যতক্ষনে না সে তার দুর্গটি দেখতে পায়।

এটি ছিল গ্রীষ্মের এক উজ্জ্বল চাঁদনী রাত ও উকায়েদির তার স্ত্রীর সঙ্গে ছাদে অবস্থান করছিল। গরুগুলো সারারাত দুর্গের গেটের সামনে এসে তাদের শিংগুলো ঘষতে থাকে। তার স্ত্রী তাকে জিজ্ঞাসা করে যে সে ইতিপূর্বে এ ধরণের কিছু জেনেছে কিনা, ও সে তাকে তাদের পিছু ধাওয়া করার অনুরোধ জানায়। সে [উকায়েদির] তার ঘোড়াটি-কে আনার আদেশ করে ও সেটির পিঠে যখন জিন পরানো হয় সে তার উপর চড়ে বসে ও পরিবারের কিছু সংখ্যক লোকদের সঙ্গে নিয়ে যাত্রা শুরু করে, যাদের মধ্যে ছিল হাসান নামের তার এক ভাই।

তাদের সওয়ার হওয়ার সময়টিতে আল্লাহর নবীর অশ্বারোহী বাহিনী তাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ও তারা তাকে ধরে ফেলে এবং তার ভাই-কে হত্যা করে।

উকায়েদিরের [আল-ওয়াকিদি ও আল-তাবারী: ‘উকায়েদিরের ভাইয়ের’] পরিধানে ছিল এক আলখাল্লা, যেটি ছিল সোনা দিয়ে আচ্ছাদিত বুটিদার রেশমি কাপড়ের তৈরি। খালিদ এটি তার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয় ও তাকে তাঁর নিকট হাজির করার পূর্বেই (আল-তাবারী: ‘সে নবীর নিকট আসার আগেই’) সেটি সে আল্লাহর নবীর নিকট পাঠিয়ে দেয়।

আসিম বিন উমর বিন কাতাদা <আনাস বিন মালিক হইতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বলেছে: উকায়দিরের আলখাল্লা-টি যখন আল্লাহর নবীর কাছে আনা হয়েছিল, আমি তা দেখেছিলাম। মুসলমানরা এটি স্পর্শ করছিল ও প্রশংসা করছিল, আর আল্লাহর নবী বলছিলেন:

“তোমরা কি এটির প্রশংসা করছো? তার কসম, যার হাতে আমার জীবন, বেহেশতে সা’দ বিন মুয়াদের রুমালগুলো এর চেয়ে উত্তম।”

অতঃপর খালিদ উকায়দির-কে আল্লাহর নবীর কাছে ধরে নিয়ে আসে, তিনি তার জীবন ভিক্ষা দেন ও তার সাথে শান্তি স্থাপন করেন এই শর্তে যে সে তাঁকে জিজিয়া প্রদান করবে। অতঃপর তিনি তাকে মুক্তি দান করেন ও সে তার শহরে (আল-তাবারী; ‘তার গ্রামে’) ফিরে আসে।

বুজায়ের বিন বুজারা নামের তাঈ গোত্রের এক লোক খালিদ-কে বলা নবিজীর কথা ‘তুমি তাকে বন্য গরুগুলোর ডাক শুনা অবস্থায় খুঁজে পাবে’ স্মরণ করে বলেছিল যে সেই রাত্রিতে তাকে তার দুর্গ থেকে বের করে আনতে গরুগুলো যা করেছিল তা নবীর কথাটি-কে নিশ্চিত করেছে:

মহিমান্বিত সে যে গরুগুলোকে তাড়িয়ে নিয়ে এসেছে।
আমি দেখছি যে আল্লাহ প্রত্যেক নেতাকে দেখায় পথ।
যারা তাবুক থেকে সরে আছে দূরে, (তাদের থাকতে দাও)
কারণ আমাদের-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যুদ্ধের।’

আল্লাহর নবী তাবুকে প্রায় দশ রাত্রি অবস্থান করেন, তার বেশী নয় (আল-ওয়াকিদি: ‘বিশ রাত্রি’)। অতঃপর তিনি মদিনায় ফিরে আসেন।’ ——

আল-ওয়াকিদির অতিরিক্ত ও বিস্তারিত বর্ণনা: [7]

[পৃষ্ঠা ১০২৫-১০২৮] ‘সে বলেছে: ইবনে আবি হাবিবা <দাউদ বিন আল হুসায়েন হইতে <ইকরিমা হইতে <ইবনে আব্বাস হইতে, এবং মুহাম্মদ বিন সালিহ <আসিম বিন উমর বিন কাতাদা হইতে, এবং মুয়াধ বিন মুহাম্মদ < ইশাক বিন আবদুল্লাহ বিন আবি তালহা হইতে, এবং ইসমাইল বিন ইবরাহিম < মুসা বিন উকবা হইতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আমাকে অবহিত করিয়েছে। সকলেই আমাকে এই উপাখ্যানের কিছু অংশ অবহিত করেছে, যা ইবনে আবি হাবিবার বিবরণ দ্বারা সমর্থিত।

তারা বলেছে: আল্লাহর নবী তাবুক থেকে খালিদ বিন আল-ওয়ালিদ-কে চার-শত বিশজন ঘোড়সওয়ার-কে সঙ্গে দিয়ে দুমাতুল জান্দালে অবস্থিত উকায়েদির বিন আব্দুল মালিকের নিকট প্রেরণ করেন। উকায়েদির ছিল কিনদার [গোত্র] এক লোক, তাদের শাসক ও একজন খ্রিস্টান। খালিদ বলে, “হে আল্লাহর নবী, [বানু] কালবদের ভূখণ্ডের মাঝখানে আমার অবস্থা কেমন হবে, কারণ নিশ্চিতই আমি বিলাসী লোকদের সঙ্গে থাকবো?” আল্লাহর নবী বলেন, “তুমি তাকে গরু শিকার করা অবস্থায় দেখতে পাবে ও তুমি তাকে ধরতে পারবে।”

সে বলেছে: তাই খালিদ যাত্রা করে ও গ্রীষ্মের চাঁদনী রাতে হঠাৎ করে দুর্গটি তার দৃষ্টিগোচর না হওয়া পর্যন্ত তা অব্যাহত রাখে। উকায়েদির তার স্ত্রী আল-রাবাব, [বানু] কিনদার উনায়েফ বিন আমিরের কন্যা, এর সাথে ছাদে ছিল। গরমের কারণে সে দুর্গের ছাদে উঠেছিল। তার গায়িকাগুলো গান গাচ্ছিল, সে পানীয় আনতে বলেছিল ও তা পান করছিলো। গরুগুলো দুর্গের গেটের কাছাকাছি এসে তাদের শিংগুলো দুর্গের দরজায় ঘষছিল। তার স্ত্রী, আল-রাবাব, সামনে এগিয়ে আসে ও দুর্গ থেকে নীচে তাকিয়ে গরুগুলো দেখতে পায় ও বলে, “আমি এমন খোরাকী মাংসের রাত্রি দেখি নাই। তুমি কি এরকম কখনও দেখেছো?” সে জবাবে বলে, “না!” অতঃপর সে [স্ত্রী] বলে, “কেউ কি এটা হাতছাড়া করতে পারে?” সে জবাবে বলে, “কেউ না।”

সে বলেছে: উকায়েদির বলেছে, “আমি এমন রাত দেখি নাই যেখানে গবাদি-পশুগুলো আমাদের কাছে এসেছে। পূর্বে যখন আমি তাদের ধরতে চাইতাম, আমি ঘোড়াগুলি প্রস্তুত করতাম ও তাদের এক মাস বা তারও বেশি সময় ধরে চর্বিহীন ও হালকা করে তুলতাম এবং লোকজন ও সরঞ্জামাদি নিয়ে সওয়ার হতাম।”

উকায়েদির নিচে নেমে এসে তার ঘোড়াটির পিঠে জিন পরানোর নির্দেশ দেয় ও তার বাড়ি থেকে একদল লোক তার সাথে সওয়ার হয়, যার মধ্যে ছিল তার ভাই হাসান ও দু’জন দাস। তারা তাদের শিকারের বল্লমগুলো নিয়ে তাদের দুর্গ থেকে বের হয়ে আসে। যখন তারা দুর্গ থেকে বেরিয়ে আসে, খালিদের অশ্বারোহীরা তাদের উপর নজর রাখে ও তাদের একটি ঘোড়াও চিঁহি করে ডাক দেয় না বা নড়াচড়া করে না।

যে মুহূর্তে উকায়েদির তার দুর্গ থেকে বের হয়ে আসে, খালিদের অশ্বারোহীরা তাকে পাকড়াও করে ও তাকে বন্দী করে, কিন্তু হাসান প্রতিরোধ ও লড়াই করে যে পর্যন্ত না তাকে হত্যা করা হয়। ক্রীতদাস দু’জন পালিয়ে যায়, আর তার বাড়ির যে সকল লোকজন তার সাথে ছিল তারা দুর্গের ভিতরে প্রবেশ করে।

হাসান সোনা দিয়ে খোদাই করা এক বুটিদার কাফতান পরিধান করে ছিল; খালিদ তা লুটের মাল (গনিমত) হিসাবে লুণ্ঠন করে ও তাদের ফিরে আসার আগেই সেটি আমর বিন উমাইয়া আল-দামরির হাতে আল্লাহর নবীর কাছে পাঠিয়ে দেয় ও উকায়েদিরের বন্দি করার বিষয়টি নবিজী-কে অবহিত করায়।

আনাস বিন মালিক ও জাবির বিন আবদুল্লাহ বলেছে: আমরা উকায়েদিরের ভাই আসলামের কাফতান-টি দেখেছি যখন এটি আল্লাহর নবীর কাছে নিয়ে আসা হয়েছিল। মুসলমানরা এটি হাত দিয়ে স্পর্শ করতে শুরু করেছিল এই কারণে যে তারা এটিতে বিস্মিত হয়েছিল। আল্লাহর নবী বলেছিলেন, “এটি কি তোমাদের বিস্মিত করে? তার শপথ যার হাতে আমার আত্মা, জান্নাতে সা’দ বিন মুয়াদের [পর্ব: ৮৩ ও ৯০] রুমালটি এর চেয়ে উত্তম।”

আল্লাহর নবী খালিদ বিন আল-ওয়ালিদ-কে বলেছিলেন,
“যদি তুমি উকায়দিরের বিরুদ্ধে বিজয়ী হও তবে তাকে হত্যা করো না, বরং তাকে আমার কাছে ধরে নিয়ে এসো। কিন্তু সে যদি তা প্রত্যাখ্যান করে তবে তাকে হত্যা করো।

সে তার নির্দেশ মান্য করে। বুজায়ের বিন বুজারা নামের তাঈ গোত্রের এক লোক খালিদ-কে বলা নবিজীর কথা ‘নিশ্চিতই তুমি তাকে গরুগুলো শিকার করা অবস্থায় খুঁজে পাবে’ স্মরণ করে বলেছিল যে, সেই রাত্রিতে গরুগুলো তার দুর্গের দরজায় যা করেছিল তা নবীর কথাগুলো-কে নিশ্চিত করেছিল। সে এক কবিতা আবৃতি করেছিল:

পবিত্রতা তার যে গরুগুলো-কে করেছে পরিচালিত,
বস্তুতই আমি দেখি যে আল্লাহ দেখায় পথ প্রত্যেক নেতাকে।
তোমাদের মধ্যে যারা তাবুকে অংশগ্রহণ করা থেকে আছ বিরত,
নিশ্চিতই আমাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে আল্লাহর পথে সংগ্রাম/লড়াইয়ের।

খালিদ বিন আল-ওয়ালিদ উকায়েদির-কে বলে, “আল্লাহর নবীর কাছে তোমাকে নিয়ে আসার পূর্ব পর্যন্ত যদি আমি তোমাকে হত্যা করা থেকে রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দিই, তবে কি তুমি আমার জন্য দুমা খুলে দেবে?” সে জবাবে বলে, “হ্যাঁ, আমি তা তোমার জন্য করবো।”

খালিদ যখন উকায়দিরের সাথে চুক্তিটি করেছিল, তখন উকায়দির ছিল শিকল-বাঁধা অবস্থায়।

খালিদ তার সাথে দুর্গের দরজার কাছে আসে ও উকায়েদির তার পরিবারের লোকদের ডেকে বলে: “দুর্গের দরজাটি খোল!” উকায়েদিরের ভাই মুদাদ তাদের-কে অগ্রাহ্য করে। উকায়েদির খালিদ-কে বলে, “আল্লাহর কসম তুমি জানো; যখন তারা আমাকে শিকলে বাঁধা অবস্থায় দেখবে, তারা আমার জন্য তা খুলবে না। আমাকে ছেড়ে দাও; আল্লাহর কসম আমার উপর এই ভরসা রাখো যে, আমি তোমার জন্য দুর্গের দরজা খুলে দেবো,

যদি তুমি আমাকে এর লোকদের নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দাও।”

খালিদ বলে, “নিশ্চয়ই, আমি তা করবো।” উকায়েদির বলে, “তুমি যদি চাও তবে আমি তোমাকে মধ্যস্থতাকারী নিযুক্ত করবো, আর তুমি যদি চাও তবে আমি মধ্যস্থতাকারী হবো।” খালিদ বলে, “বরং, তুমি যা দেবে আমরা তা গ্রহণ করবো।” তাই সে তাকে প্রতিশ্রুতি দেয় যে সে তাকে:

[১] এক হাজার উট;
[২] আট শত ক্রীতদাস;
[৩] চারশত বর্ম আবরণ, ও
[৪] চারশত বল্লম (বর্শা) প্রদান করবে;

এই শর্তে যে, খালিদ তাকে ও তার ভাইকে নিয়ে আল্লাহর নবীর কাছে যাবে, যিনি তাদের রায় নির্ধারণ করবেন।

খালিদ সে বিষয়ে সম্মত হয় ও উকায়েদির-কে মুক্ত করে ও উকায়েদির দুর্গটি খুলে দেয়। খালিদ তার ভিতরে প্রবেশ করে ও তার সহযোগীরা উকায়েদিরের ভাই মুদাদ-কে শিকল দিয়ে বেঁধে ফেলে। উকায়েদির তাকে যে উট, ক্রীতদাস ও অস্ত্রগুলো প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তা সে হস্তগত করে। অতঃপর সে উকায়েদির ও মুদাদ-কে সঙ্গে নিয়ে মদিনায় প্রত্যাবর্তনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।

আল্লাহর নবীর সামনে উপস্থিত হওয়ার পর উকায়েদির তাঁর সাথে ‘জিযিয়া’ বিশয়ে সম্মত হয়, তাকে ও তার ভাইকে হত্যা করা থেকে বিরত থাকা ও মুক্তি দানের বিনিময়ে।

আল্লাহর নবী তাদের সুরক্ষা ও শান্তির বিশয়ে একটি ডকুমেন্ট লিখেন ও সে সময় তিনি তাঁর নখের ছাপ দিয়ে তা সিল করে দিয়েছিলেন।’ ——–

[পৃষ্ঠা ১০২৯-১০৩০] আবু সাইদ আল-খুদরি, তার উপর শান্তি বর্ষিত হোক, এ সম্পর্কে বলতো: আমরা উকায়েদির-কে বন্দী করেছিলাম ও অস্ত্রগুলোর মধ্যে আমার অংশে ছিল একটি বর্ম, একটি শিরস্ত্রাণ ও একটি বর্শা; দশটি উটও আমার ভাগে পড়েছিল।

বেলাল বিন আল-হারিথ আল-মুযাননি বলতো: আমরা উকায়েদির ও তার ভাইকে বন্দী করেছিলাম ও তাদের-কে নবীর সামনে নিয়ে এসেছিলাম। ‘ফাই’ (বিনা যুদ্ধে অর্জিত লুটের মাল [পর্ব: ২৮]) থেকে কোন কিছু ভাগাভাগি করার পূর্বে সবচেয়ে সেরা অংশটি নবীজীর জন্য আলাদা করে রাখা হয়েছিল। অতঃপর তিনি লুটের মালগুলো পাঁচ ভাগে ভাগ করেন; এক পঞ্চমাংশ ছিল নবীর জন্য।

আবদুল্লাহ বিন আমর আল-মুযাননি বলতো: আমরা মুযায়েনা গোত্রের চল্লিশ জন লোক খালিদ বিন আল-ওয়ালিদের সাথে ছিলাম। আমাদের ভাগে ছিল পাঁচ অংশ। প্রত্যেক লোকের কাছে ছিল অস্ত্রশস্ত্র, আর বল্লমগুলো আমাদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়েছিল।

ইয়াকুব বিন মুহাম্মদ আল-যাফারি <আসিম বিন উমর বিন কাতাদা হইতে <আবদ আল-রহমান বিন জাবির হইতে <তার পিতা হইতে [প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে] আমাকে বর্ণনা করেছে, যে বলেছে, “আমি উকায়েদির-কে দেখেছিলাম যখন খালিদ তাকে ধরে নিয়ে এসেছিল। তার পরিধানে ছিল এক সোনার ক্রুশ ও বুটি দ্বারা খচিত করা রেশমি কাপড়।”

আল-ওয়াকিদি বলেছে: ‘দুমা’ অধিবাসীদের এক বৃদ্ধ লোক আমাকে বলেছে যে আল্লাহর নবী তাঁর জন্য এই দলিলটি লিখেছিলেন:

“পরম করুণাময় ও অতি দয়ালু আল্লাহর নামে। এটি আল্লাহর নবী মুহাম্মদের পক্ষ থেকে উকায়দিরের জন্য একটি দলিল, যখন সে দুমাত আল-জান্দাল ও এর সুরক্ষা কেন্দ্রগুলোতে আল্লাহর তরবারি খালিদ বিন আল-ওয়ালিদের সঙ্গে ইসলামে সাড়া দিয়েছিল ও অন্যান্য দেবতা ও মূর্তিগুলি অপসারণ করেছিল। অবশ্যই, আমাদের জন্য হলো অগভীর জলের উপকূল, অনাবাদী জমি, জনবসতিহীন এলাকা ও মরুভূমি অঞ্চলগুলো, বর্ম আবরণ, অস্ত্রশস্ত্র, উটগুলো ও ঘোড়াগুলো এবং নগরদুর্গ। তোমাদের জন্য হলো তোমাদের শহরগুলোর অন্তর্ভুক্ত তালগাছগুলো, চাষ-কৃত জমি থেকে উৎপন্ন ফসলগুলো – এক পঞ্চমাংশ পরিমাণ গৃহীত হওয়ার পর; তোমাদের উটগুলো বণ্টন করা হবে না, কিংবা দুধের জন্য তোমরা যে গবাদি পশুগুলো আলাদা করে রেখেছ তাও গণনা করা হবে না। তোমাদের জন্য কৃষিকাজ নিষিদ্ধ করা হয় নাই, কিংবা বাড়ির বাসনপত্রের এক দশমাংশও তোমাদের কাছ থেকে নেওয়া হবে না। তোমরা নামাজের জন্য উঠে দাঁড়াবে যখন এর সময় হবে, ও নির্ধারিত পরিমাণ যাকাত নিয়ে আসবে। এতে আছে তোমাদের এক প্রতিশ্রুতি ও এটি একটি চুক্তি। এটি তোমাদের জন্য সত্য ও পরিপূর্ণ।”

এর সাক্ষী ছিল আল্লাহ ও উপস্থিত মুসলমানরা।’ —–

তারা বলেছে: তিনি তাকে একটি পোশাক উপহার দিয়েছিলেন ও আল্লাহর নবী তাকে সুরক্ষা ও শান্তি প্রদানের জন্য একটি দলিল লিখেছিলেন। তিনি তার ভাইকে সুরক্ষা প্রদান করেন ও তার জন্য ‘জিযিয়া’ নির্ধারণ করেন। আল্লাহর নবীর সাথে তাঁর সীল ছিল না, তাই তিনি এটি তাঁর নখের ছাপ দিয়ে সীলমোহর করেছিলেন।’

সুন্নাহ আবু দাউদ: বই নম্বর ১৯, হাদিস নম্বর ৩০৩১: [8]

‘আনাস বিন মালিক হইতে বর্ণিত; উসমান ইবনে আবু সুলায়েমান: নবী (সাঃ) খালিদ ইবনে আল-ওয়ালিদ কে ‘দুমার। উকায়দিরের কাছে পাঠিয়েছিলেন। তাকে বন্দি করা হয়েছিল ও তারা তাকে তাঁর (অর্থাৎ নবী) কাছে নিয়ে এসেছিল। তিনি তার জীবন রক্ষা করেছিলেন ও তার সাথে এই শর্তে শান্তি স্থাপন করেছিলেন যে তাকে জিযিয়া (মাথাপিছু-কর) প্রদান করতে হবে।’

– অনুবাদ, টাইটেল ও [**] যোগ – লেখক।

>>> ‘দুমাতুল জান্দাল’ ছিল ওয়াদি সিরহানের সম্মুখভাগে অবস্থিত একটি মরূদ্যান, যা মধ্য-আরব ও হাওরান ও সিরিয়ার পাহাড়গুলো সংযুক্ত। এই স্থানটি দামেস্ক ও মদিনার মধ্যবর্তী যাত্রা পথে অবস্থিত। বর্তমানে এই সমগ্র অববাহিকা ও বসতিগুলো ‘আল-জাওফ (al-Jawf) নামে পরিচিত। আর ‘কিনদা’ ছিল এক দক্ষিণ আরবীয় উপজাতি গোষ্ঠী, যা পঞ্চম ও ষষ্ঠ শতাব্দীতে আরবের দক্ষিণ অঞ্চল থেকে কেন্দ্র ও উত্তরের সমগ্র অঞ্চলগুলোতে ছড়িয়ে ছিল। ইসলামের উত্থানের আগে এরা আরবের ইতিহাসে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তমূলক ভূমিকা পালন করতো। [9]

আদি উৎসে উপরে বর্ণিত বর্ণনায় যে বিষয়টি অত্যন্ত সুস্পষ্ট, তা হলো, এই দু’টি হামলারই আগ্রাসী হামলাকারী গুষ্টিটি ছিল নবী মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা। ‘দুমাতুল জান্দাল’ অঞ্চলের কোন ব্যক্তি বা শাসকই নবী মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের উপর কখনোই কোনরূপ আক্রমণ চালান নাই। আল-ওয়াকিদির বর্ণনা মতে দুমার শাসনকর্তা উকায়েদির বিন আবদুল মালিকের উপর এই নৃশংস অতর্কিত হামলার পর ‘আইলার শাসক ইউহাননা বিন রুবা এবং জারবা, আধরু ও মাকনা অঞ্চলের লোকেরা মুহাম্মদের কাছে এসেছিলেন তাঁর কাছ থেকে “নিরাপত্তা লাভের” প্রত্যাশায়। তাঁরা ভীত ছিলেন এই আশঙ্কায় যে মুহাম্মদ হয়তো তাঁদের কাছে কোন বাহিনী পাঠাবেন যেমনটি তিনি উকায়েদিরের কাছে পাঠিয়েছিলেন। তাঁরা কী শর্তে মুহাম্মদের কাছ থেকে নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি পেয়েছিলেন তার বিশদ আলোচনা আগের পর্বে (পর্ব: ২৩৮) করা হয়েছে।

আদি উৎসের ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় আমরা জানতে পারি উকায়েদিরের ভাই হাসানের আলখাল্লা-টি (কাফতান-টি) যখন মুহাম্মদের কাছে নিয়ে আসা হয়েছিল ও তা দেখে যখন তাঁর অনুসারীরা বিস্মিত হয়েছিল, তখন মুহাম্মদের উক্তিটি ছিল:

“এটি কি তোমাদের বিস্মিত করে? তার শপথ যার হাতে আমার আত্মা, জান্নাতে সা’দ বিন মুয়াদের রুমালটি এর চেয়ে উত্তম।”

এই সেই সা’দ বিন মুয়াদ, যিনি ‘বানু কুরাইজার’ বীভৎস গণহত্যার রায় ঘোষণা করেছিলেন। যার আদেশে এই গোত্রের সকল প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষদের “একটা একটা করে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছিল” ও তাঁদের সকল নারীদের যৌন-দাসী রূপে ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক শিশুদের (যাদের যৌনাঙ্গের চুল গজায় নাই) দাস হিসাবে মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা ভাগাভাগি করে নিয়েছিলেন! পরবর্তীতে তাঁদের অনেক-কে নাজাদ অঞ্চলে নিয়ে গিয়ে করা হয়েছিল বিক্রি ও সেই বিক্রয়-লব্ধ সম্পদে মুহাম্মদ কিনেছিলেন যুদ্ধের জন্য ঘোড়া ও অস্ত্রশস্ত্র! এ বিশয়ের বিশদ আলোচনা ইতিমধ্যেই করা হয়েছে (পর্ব: ৮৭-৯৫)

[ইসলামী ইতিহাসের ঊষালগ্ন থেকে আজ অবধি প্রায় প্রতিটি ইসলাম বিশ্বাসী প্রকৃত ইতিহাস জেনে বা না জেনে ইতিহাসের এই অধ্যায়গুলো যাবতীয় চতুরতার মাধ্যমে বৈধতা দিয়ে এসেছেন। বিষয়গুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিধায় বাংলা অনুবাদের সাথে আল-ওয়াকিদির ওপরে বর্ণিত বর্ণনার মূল ইংরেজি অনুবাদটি সংযুক্ত করছি; অন্যান্য রেফারেন্সের ইন্টারনেট ডাউন-লোড লিংক: তথ্যসূত্র দ্রষ্টব্য।]

The narratives of Al-Waqidi:

THE FIRST RAID OF DŪMAT AL-JANDAL: [2]

‘The Raid of Dūmat al-Jandal took place in Rabī‛ al-Awwal, the forty-ninth month AH. The Messenger of God set out during the last five nights of Rabī‛ al-Awwal and returned with ten remaining in Rabī‛ al-Ākhir.

Ibn Abī Sabra related to me from ‛Abdullah b. Abī Labīd from Abū Salama b. ‛Abd al-Raḥmān. And ‛Abd al-Raḥmān b. ‛Abd al-‛Azīz related to me from ‛Abdullah b. Abī Bakr. Both of them related to me about this tradition. One of them provided more information. Others also related to us.

[Page 403] They said: The Messenger of God desired to approach the place closest to al-Shām. He was told that Dūmat al-Jandal was on the fringe of the entrance to al-Shām, and that if you drew near to it, this would terrify Caesar. It was mentioned to the Prophet that many gathered in Dūmat al-Jandal and that they ill-treated the Ḍāfiṭ (those who brought goods to the cities—they were Nabatean bringing flour and oil) who passed by them. It had a great market and traders, and many Arab Bedouin had recourse to it, and they desired to approach Medina. The Messenger of God delegated the people, and he set out with a thousand Muslims. He was marching by night and hiding by day. With him was a guide from the Banū ‛Udhra named Madhkūr. He was an experienced guide.
The Messenger of God set out in haste. When the Messenger of God drew near to Dūmat al-Jandal, he deviated from their road. There was between him and it a day’s or night’s journey for a speedy rider. The guide said to him, “Indeed their cattle are grazing, so stay until I get some information for you.” The Messenger of God agreed. The ‛Udhrī set out, ascending, until he found the tracks of cattle and sheep going out. Then he returned to the Prophet and informed him, so he knew their situation. The Messenger of God marched until he attacked their cattle and their shepherd. The Messenger of God attacked whomever he attacked. Those who escaped fled in every direction. News came to the people of Dūmat al-Jandal and they dispersed. The Messenger of God alighted in their yard, but he did not find anyone there. He stayed there for days and dispatched raids in different directions. They were gone for a day, then they returned. They did not find anyone of them. The raiders returned with a portion of their camels.

[Page 404] Except for Muḥammad b. Maslama who captured one of their men and brought him to the Prophet. The Prophet asked him about his companions. He said, “They fled yesterday when they heard that you had taken their cattle.” The Prophet offered him Islam for several days and he converted. The Prophet returned to Medina. The Messenger of God appointed Sibā‛b. ‛Urfuṭa over Medina during his absence.

THE SECOND RAID OF DŪMAT AL-JANDAL: [7]

‘He said: Ibn Abī Habība related to me from Dāwnd b. al-Ḥuṣayn, from ‛Ikrima, from Ibn ‛Abbās, and Muḥammad b. Ṣāliḥ from ‛Āṣim b. ‛Umar b. Qatāda, and Mu‛ādh b. Muḥammad from Isḥāq b. ‛Abdullah b. Abī Ṭalḥa, and Ismā‛īl b. Ibrāhīm from Mūsā b. Uqba. All have related portions of this tradition to me, and it is supported by the tradition of Ibn Abī Ḥabība.

They said: the Messenger of God sent Khālid b. al-Walīd from Tabūk with four hundred and twenty horsemen to Ukaydir b. ‛Abd al-Malik in Dūmat al-Jandal. Ukaydir was from Kinda and was their king, and was a Christian. Khālid said, “O Messenger of God, how will it be for me in the middle of the land of the Kalb, for surely I will be with a people of luxury?” The Messenger of God said, “You will find him hunting cows and you will take him.” He said: So Khālid went out until all of a sudden the fortress was in his sights in that night of a summer’s moon. Ukaydir was on the roof with his wife al-Rabāb, daughter of Unayf b. ‛Āmir from Kinda. He had ascended the roof of the fortress because of the heat. His songstress sang, and he called for a drink and drank it. The cows approached [Page 1026] rubbing their horns on the gate of the fortress. His wife, al-Rabāb, came forward, looked down from the fortress and saw the cows, and said, “I have not seen such a night of meat. Have you ever seen such as this?” He replied, “No!” Then she said, “Who would leave this?” He replied, “No one!”

He said: Ukaydir says, “I have not seen such a night when the cattle come to us. Before, I used to prepare the horses, making them lean and light for a month or more, when I wanted to catch them, and I would ride with men and tools.”

Ukaydir came down and ordered his horse to be saddled, and a group of people from his house rode with him, including his brother Ḥassān, and two slaves. They set out from their fortress with their hunting spears. When they left the fortress the cavalry of Khālid observed them and not a horse among them either neighed or stirred. The moment Ukaydir departed from the fortress, he was captured by the cavalry of Khālid and taken prisoner, but Ḥassān resisted and fought until he was killed. The two slaves fled, and those who were with him from the people of his house entered the fortress. Ḥassān was wearing a kaftān of brocade embossed with gold and Khālid captured it as plunder and sent it with ‛Amr b. Umayya al-Ḍamrī to the Messenger of God, to arrive before them, and inform the Prophet about the capture of Ukaydir.

Anas b. Mālik and Jābir b‛Abdullah said: We saw the Kaftān of Ḥassān the brother of Ukaydir when it was taken to the Messenger of God. The Muslims began to touch it with their hands for they were amazed by it. The Messenger of God said, “Does this amaze you? By Him who holds my soul in His hand, the handkerchief of Sa‛d b. Mu‛ādh in Paradise is better than this!”

The Messenger of God had said to Khālid b. al-Walīd, “If you are victorious with Ukaydir, do not kill him, but bring him to me. But if he refuses, kill him.” He obeyed him. Bujayr b. Bujara from Tayyi’, [Page 1027] mentioning the words of the Prophet to Khālid, “Surely you will find him hunting the cows,” said that what the cows did that night at the gate of the fortress confirmed the words of the Messenger of God. He recited a poem:
Blessed is the driver of the cows,
Indeed I see God guide every leader.
Those of you who stayed behind from taking Tabūk,
Indeed we have been ordered to strive/fight in the way of God.

Khālid b. al-Walīd said to Ukaydir, “If I promise to protect you from being killed until you come to the Messenger of God, would you open Dūma for me?” He replied, “Yes, I will do that for you.” When Khālid made the agreement with Ukaydir, Ukaydir was in shackles; Khālid departed with him until they were close to the gates of the fortress, and Ukaaydir called out to his family: Open the gate of the fortress! Muḍād the brother of Ukaydir refused them, and Ukaydir said to Khālid, “You know by God, they will not open to me when they see me in shackles. Leave me, and for you by God is the trust that I will open the fortress for you, if you will promise me the security of its people.” Khālid said, “Indeed, I do.” Ukaydir said, “If you wish I will appoint you arbitrator, and if you wish I will be the arbitrator”. Khālid said, “Rather, we will accept whatever you give.” he So promised him a thousand camels; eight hundred heads of slaves; four hundred armor plates and four hundred spears on condition that Khālid left with him and his brother to the Messenger of God who would pass judgement over them. Khālid agreed about that and set Ukaydir free, and Ukaydir opened the fortress. Khālid entered it, and his associates shackled Muḍād, the brother of Ukaydir. He took what Ukaydir promised him of camels and slaves and weapons. Then he set out returning to Medina taking Ukaydir and Muḍād with him.

When Ukaydir arrived before the Messenger of God he agreed with him about the jizya, and to spare his blood and the blood [Page 1028] of his brother and set them free. The Messenger of God wrote a document about their protection and their peace, and he sealed it at that time with imprint of his nail.’——-

‘Abū Sa‛īd al-Khudrī, may God bless him, used to relate saying: We captured Ukaydir, and my portion from the weapons were an armor, a helmet, and a spear; I was also apportioned ten camels. Bilāl b. al-Ḥārith al-Muzannī used to relate saying: We captured Ukaydir and his brother, and we brought them before the Prophet. Before anything was apportioned from the fay’, the best part was set aside for the Prophet. Then he apportioned the plunder into five parts and a fifth was for the Prophet. ‛Abdullah b. ‛Amr al-Muzannī used to say: We were forty men from Muzayna with Khālid b. al-Walīd. Our share was five portions. Every man had weapons for armor and spears were apportioned to us.

Ya‛qūb b. Muḥammad al-Ẓafarī related to me from ‛Āṣim b. ‛Umar b. [Page 1030] Qatāda, from ‛Abd al-Raḥmān b. Jābir from his father, who said, “I saw Ukaydir when Khālid brought him. He was wearing a gold cross and silk brocade which was embossed.”

Al-Wāqidī said: An old man from the people of Dūma told me that the Messenger of God wrote this document for him:

In the name of God most gracious most merciful. This is a document from Muḥammad, the Messenger of God, to Ukaydir when he responded to Islam and removed the other Gods and the idols with Khālid b. al-Walīd, the sword of God, in Dūmat al-Jandal and its protectorates. Indeed, to us are the outskirts of shallow water, uncultivated land, uninhabited areas and desert lands, coats of mail, weapons, camels and horses and the fortress. For you are the palm trees included within your towns, sources from the cultivated land after the fifth is taken; your camels will not be apportioned, nor will the cattle you set apart for milk be reckoned. Farming is not prohibited to you, nor will the tithe for the utensils of the homes be taken from you. You will stand for prayer when it is time, and will bring the zakāt as determined. To you in that is a promise and an agreement. For you with that is truth and fulfillment.

It was witnessed by God and those who attended among the Muslims.’—-

‘They said: He gave him a gift of a robe, and the Messenger of God wrote a document for him granting him protection and peace. He granted his brother protection and put down the jizya for him. The Messenger of God did not have his seal with him, so he sealed it with his fingernail.’

(চলবে)

তথ্যসূত্র ও পাদটীকা:

[1] আল-নাসিক ওয়া আল-মানসুক ও সুরা তাওবাহ:
https://istishon.blog/node/26973

[2] “কিতাব আল-মাগাজি”- আল-ওয়াকিদি, ভলুম ১; পৃষ্ঠা ৪০২-৪০৪; ইংরেজি অনুবাদ: Rizwi Faizer, Amal Ismail & Abdul Kader Tayob, পৃষ্ঠা ১৯৭-১৯৮
https://books.google.com/books?id=gZknAAAAQBAJ&printsec=frontcover&dq=kitab+al+Magazi-+Rizwi+Faizer,+Amal+Ismail+and+Abdul+Kader+Tayob&hl=en&sa=X&ved=0ahUKEwjo7JHd7JLeAhUkp1kKHTmLBGcQ6AEIKzAB#v=onepage&q&f=false

[3] অনুরূপ বর্ণনা: মুহাম্মদ ইবনে ইশাক: পৃষ্ঠা ৪৪৯
http://www.justislam.co.uk/images/Ibn%20Ishaq%20-%20Sirat%20Rasul%20Allah.pdf

[4] অনুরূপ বর্ণনা: আল-তাবারী; ভলুউম ৮, ইংরেজী অনুবাদ: Michael Fishbein, University of California, Los Angeles, নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি প্রেস, ১৯৮৭, ISBN 0-7914-3150—9 (pbk), পৃষ্ঠা ৪-৫
https://onedrive.live.com/?authkey=%21AJVawKo7BvZDSm0&cid=E641880779F3274B&id=E641880779F3274B%21292&parId=E641880779F3274B%21274&o=OneUp

[5] Ibid মুহাম্মদ ইবনে ইশাক: পৃষ্ঠা ৬০৭-৬০৮

[6] অনুরূপ বর্ণনা: আল-তাবারী; ভলুউম ৯, পৃষ্ঠা ৫৮-৬০
https://onedrive.live.com/?authkey=%21AJVawKo7BvZDSm0&cid=E641880779F3274B&id=E641880779F3274B%21294&parId=E641880779F3274B%21274&o=OneUp

[7] অনুরূপ বর্ণনা: Ibid “কিতাব আল-মাগাজি”- আল-ওয়াকিদি, ভলুম ৩; পৃষ্ঠা ১০২৫-১০৩০; ইংরেজি অনুবাদ: পৃষ্ঠা ৫০২-৫০৪

[8] সুন্নাহ আবু দাউদ: বই নম্বর ১৯, হাদিস নম্বর ৩০৩১
https://quranx.com/hadith/AbuDawud/Hasan/Hadith-3031/

[9] Ibid আল-তাবারী – ভলুউম ৯: নোট নম্বর ৪১২ ও ৪১৩

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

64 − 61 =