সেই তারিক – ৩

(৩)
_______আজ রাতে হামলা করবে মিলিটারি ক্যম্পে। তারিক আজ খুশি কারণ তার নিজের অজান্তেই সে মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য করবে। সে আজ যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করতে চেয়েছে। কিন্তু সে তো কিছুই পারে না। সিফাত মামা তারিক কে এবার নিষেধ করে যুদ্ধে যেতে। তারিক এবার যুদ্ধে যেতে পারবে না বলে ওর মন টা একটু খারাপ হল। কিন্তু ওকে একটি কাজের দায়িত্ব দেয়া হল।সেটা হল ঐ স্কুলের নকশা বা মানচিত্র তৈরি করার জন্য। তারিক মেধাবী ছাত্র সে যেমন সুন্দর আঁকতে পাড়ে তেমন সুন্দর হাতের লেখা তার। সে এই দায়িত্ব পেয়ে বেজায় খুশি। একে তো মুক্তিযুদ্ধের জন্য জন্য কিছু করবে, তার বাবার শেষ ইচ্ছা পূর্ণ করবে , তার ওপর তার সবচেয়ে পছন্দের কাজ আকা-আকি করার কাজ তার দায়িত্বে।



(৩)
_______আজ রাতে হামলা করবে মিলিটারি ক্যম্পে। তারিক আজ খুশি কারণ তার নিজের অজান্তেই সে মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য করবে। সে আজ যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করতে চেয়েছে। কিন্তু সে তো কিছুই পারে না। সিফাত মামা তারিক কে এবার নিষেধ করে যুদ্ধে যেতে। তারিক এবার যুদ্ধে যেতে পারবে না বলে ওর মন টা একটু খারাপ হল। কিন্তু ওকে একটি কাজের দায়িত্ব দেয়া হল।সেটা হল ঐ স্কুলের নকশা বা মানচিত্র তৈরি করার জন্য। তারিক মেধাবী ছাত্র সে যেমন সুন্দর আঁকতে পাড়ে তেমন সুন্দর হাতের লেখা তার। সে এই দায়িত্ব পেয়ে বেজায় খুশি। একে তো মুক্তিযুদ্ধের জন্য জন্য কিছু করবে, তার বাবার শেষ ইচ্ছা পূর্ণ করবে , তার ওপর তার সবচেয়ে পছন্দের কাজ আকা-আকি করার কাজ তার দায়িত্বে। তাই অনেক দিন পর আজ তারিক অনেক খুশি।
তারিক ভাল করে আকার জন্য স্কুলের ঐ দিকে গেল। পুরোটা দেখতে লাগলো আর মনের মধ্যেই চিত্র অঙ্কন করতে লাগলো। মিলিটারিরা সবাই জানে সে সিফাত মামার দোকানের লোক তাই কেউ তাকে কিছু বলে না। তার উপর সে এত টাই চুপ চাপ থাকে তারা কেউ তাকে কথা বলতেও শুনে নি। শুধু সিফাত মামার হুকুম তামিল করে গেছে। তাই তাকে দিয়ে কারো সন্দেহর কিছু নেই। স্কুল ভবনের যে ঘর টাকে মিলিটারিরা অফিস রুম হিসেবে বেছে নিয়েছে ঠিক তার পেছন দিয়ে যাচ্ছিল তারিক। হঠাৎ তারিকের মনোযোগ কাড়ল ঐ মিলিটারিদের মধ্যে দুই জনের কথা। তারিক শুনতে লাগলো তাদের কথা। যা শুনলো তাতে সে খুব ভয় পেল। কথাটি হল আরও এক ট্রাক সৈন্য আসছে আজ সেই ক্যাম্পে। আসলে এই ক্যাম্পটি ছিল অনেক গুরুত্ব পূর্ণ একটি ঘাটি এখান থেকেই আরও কিছু ঘাটির যুদ্ধের রসদ ও সেনা পাঠানো হয়। তারিক তো খুব ভয় পেল এমনিতেই তাদের সৈন্য সামর্থ্য অনেক কম তার উপর আরও সৈন্য আসছে। এত ক্ষণেও সেই লোক দুটির কথা শেষ হয়নি।হঠাৎ একজন বলল যে অন্য এক ঘাটিতে সৈন্য পাঠাতেই হবে খুব দুর্বল সেই ঘাটিটি। কিন্তু এমনেই সৈন্য কম আছে এই ক্যাম্পে। তাদের মধ্যে একজন বলল – “স্যার এই ঘাটিতে মুক্তিবাহিনীরা আক্রমণ করতে পারবে না। একে তো পাশের ঘাটি ও আমাদের, তার উপর এখানে আসার সব পথে আমাদের কঠোর নজর দারী আছে। কেউ অস্ত্র নিয়ে ঢুকতে পারবে না”। তারিক এখন বুঝতে পারলো সে কতো বড় একটা কাজ করেছে। তাই নিজের প্রতি একটু সন্তুষ্ট সে। তারিক এই চিন্তা বাদ দিয়ে লোক গুলোর কথা শুনতে লাগলো। সেই আগের লোক টিই অন্য লোককে বলতে লাগলো যে লোক পাঠাতে হবে এখনই আর সৈন্য আসবে রাত ৮টা ৩০ এ। তারিকের মুখে চিন্তার ছাপ। কারণ তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী রাত ৮ টার দিকে হামলা করবে তারা। কিন্তু এতে হামলা শুরুর ৩০ মিনিটের পর ই অন্য এক প্লাটুন সেনা তাদের পেছন দিক দিয়ে আসবে। এতে করে তারা দ্বিমুখী আক্রমণের সম্মুখীন হবে। এতে করে তাদের হারতে হবে। কি হবে এখন ভাবে লাগল তারিক।
তারিক তার বাবার একটি গুণ খুব ভাল মত পেয়েছে তা হল ব্যবস্থাপনার এক দক্ষ পারদর্শিতা। তারিক সিফাত মামার দোকানে ফিরে গেল। পথে আসতে আসতে সে অনেক চিন্তা করেছে। একটা পরিকল্পনাও করেছিল। এসে সৈন্য আসা যাওয়ার এই খবর টা দিল সবাইকে। সবার মুখে চিন্তার ছাপ স্পষ্টত লক্ষণীয়। এমন সময় তারিক রাস্তায় আসতে আসতে যে পরিকল্পনা করেছে তা জানালো। তারিকের পরিকল্পনা শুনে সবাই অবাক। এই ছেলে যে কিনা কোন ট্রেনিং নেয় নি, যুদ্ধ সম্পর্কে কোন ধারণা নেই যার সে কি করে এত সুন্দর পরিকল্পনা করতে পারে! আসলে অস্ত্র-শস্ত্রের প্রতি আগে থেকেই তারিক কের অনেক আগ্রহ। সে অনেক বই পড়েছে এই নিয়ে। সবগুলোর কার্য পদ্ধতি, কভার দেয়ার ক্ষমতা সবই জানে সে। কিন্তু চালায় নি কখনও। সে যুদ্ধের অনেক বই ও পড়েছে। তাই এত সুন্দর পরিকল্পনা। তারিকের পরিকল্পনা অনুযায়ী আরও যোদ্ধা ও অস্ত্রের প্রয়োজন। কারণ এতে প্রথমে ক্যাম্পে অবস্থিত সৈন্যের সাথে যুদ্ধ করতে হবে এর পর ক্যাম্প দখল করে পরে আগত সৈন্যদের সাথে যুদ্ধ করতে হবে। এখন অস্ত্র আনতে আবার ঐ দোকানে যেতে হবে। কিন্তু সিফাত মামা এখনও ব্যস্ত। এর আগের বার সেই মিলিটারিদের খাবার তৈরীর কাজে ব্যস্ত ছিল। এখন সে দোকান ছেড়ে যেতে পারবেন না। কারণ দোকানে এখন মুক্তি বাহিনীরা আছে। এখন এই কাজ শুধু তারিক ই করতে পারে কিন্তু একটু আগেই সে ময়দা নিয়ে এসেছে কিসের কথা বলবে এখন? অনেক ফন্দি করে ঠিক করলো যে ডালের কথা বলে যাবে। তারিক গেল আবার সেই দোকানে। দোকানে গিয়ে সিফাত মামার লিখে দেয়া চিঠি টা দিল। চিঠি পড়ে ঐ দোকানদার সেই অনুযায়ী অস্ত্র দিয়ে দিল ডালের মাঝে লুকিয়ে। আবার ভ্যানে করে নিয়ে আসছে।
এখন সে চেকপোস্টের সামনে। একজন লোক এগিয়ে আসছে হয়তো তাকে চেক করবে,তার বস্তাটা চেক করবে। তারিক এখন খুব ভয় পাচ্ছে। তাদের এত সুন্দর পরিকল্পনা। সব শেষ! তারিক মনে মনে বলতে লাগলো যতই বিপদে পড়ুক শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত সে “পাকিস্তান জিন্দাবাদ” বলবে না। তার বাবার মতই সে “জয় বাংলা” বলবে। তাকে যতই অত্যাচার করুক সে তার সিদ্ধান্তে অটল থাকবে। তার ভ্যান এখন চেকপোস্টের সামনে বাঁশ টা উঠিয়ে নিয়েছে তাদের যাবার রাস্তা খোলা। কিন্তু ঐ যে মিলিটারিটা আসছে এগিয়ে সে থামে নি। এখন ও এগিয়ে আসছে তার দিকে। সবাই তার দিকেই তাকিয়ে আছে। তার হৃদয় স্পন্দন অনেক বেড়ে যাচ্ছে,ঘামাতে লাগল সে। মিলিটারিটা তারিকের পাশে এখন। উর্দুতে তারিক কে জজ্ঞাসা করলো সে এত ঘামছে কেন? তারিক কোন উত্তর দিল না। মিলিটারিটা তাকে অতিক্রম করে তার পেছনে চলে গেল। তারিক অবাক ,তার বস্তাটা চেক করলো না কেন? তারিক পেছন ফিরে তাকালো। দেখলো তার পেছনে কিছু লোক আসছে। তাদের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে সেই মিলিটারিটা। তারিক এগিয়ে যেতে লাগলো। সে এখন স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়ল।
ঐ মিলিটারি টা ঐ লোকগুলো কে কি যেন জিজ্ঞাসা করছে। লোকটিকে হঠাৎ বলল পাকিস্তান জিন্দাবাদ বলতে। লোকগুলো প্রথমে বলল না। পরে অস্তের মুখে বলল তারা । তারিকের দিকে লক্ষ্য করে সেই লোকটা বলল –“এ লাড়কা বোলো পাকিস্তান জিন্দাবাদ”। তারিক বুঝতে পারল যে এই মুহূর্তে কোন খারাপ কিছু করা যাবে না। মিশনের সম্পূর্ণ সফলতা তার উপর নির্ভর করে আছে। তার এই অস্ত্র গুলো মামার দোকানে নিয়ে যেতে না পারলে সব শেষ। তাই সে সিদ্ধান্ত নিলো সে পাকিস্তান জিন্দাবাদ বলবে। লোকটা এর মধ্যেই আবার বলল। তারিক যেন ইচ্ছা করেও বলতে পারছে না “পাকিস্তান জিন্দাবাদ” রুচিতে বাধছে তার। কিন্তু তাকে বলতেই হবে, লোকটি এগিয়ে আসছে তার দিকে। সে খুব কষ্টে বলতে চেষ্টা করল। খুব ভয়ে ও কষ্টে সে “পাকিস্তান” বলল। পাকিস্তান উচ্চারণ করতেই তার মুখে চলে আসলো এক গাদা থুথু। তারিকের ইচ্ছা করছিল সেই থুথু গুলো ঐ মিলিটারির মুখে ছুড়ে মারে। এমন সময় ঐ মিলিটারিকে উদ্দেশ্য করে আরেক মিলিটারি বলল –“ছোর দে উসে, মাত ছাতা। নেহি-তো আজ খানা বানানে মে দের হো জায়েগি”। মিলিটারি তারিক কে আর কিছু বলল না। তারিক যেন স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল। তাকে “পাকিস্তান জিন্দাবাদ” আর বলতে হল না।
সিফাত মামা দোকানে পৌছালো সে। সবাই ধরে ঐ বস্তা টা দোকানের ভিতরে নিয়ে গেল। পরিকল্পনা অনুযায়ী তাদের সব অস্ত্র আনা হয়ে গেছে। একটু পর পর যোদ্ধারা আসছে। এখন শুধু সন্ধ্যার অপেক্ষা। মাগরিবের আজান দেয়ার আগেই তারিক আবার গেল সব দেখতে। হ্যাঁ সবই তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী। সৈন্যরা চলে গিয়েছে অন্য ঘাটিতে। সৈন্য নেই বললেই চলে । মোট ৫০ জন সৈন্য। আর তারিকরা ২৫ জন মুক্তিযোদ্ধা । মুক্তিবাহীনিরা সংখ্যায় কম হলেও তাদের আছে অগাধ দেশপ্রেম ও বিশ্বাস,যা ওদের নেই। এখন শুধু ঘড়ির কাটায় ৬ টা ৩০ বাজার অপেক্ষা।

(৪)
_________ এখন ৬টা ১০ বাজে। চারিদিক অন্ধকার হয়ে গেছে। পরিকল্পনা আবার খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কে কোথায় যাবে তাও ঠিক হয়ে গিয়েছে আগে। তারিকের পরিকল্পনা অনুযায়ী যুদ্ধ হবে। তারিক আবার সবাইকে সংক্ষেপে সব বলে দিল। দুটি চেক পয়েন্ট, সেখানে সাত জন করে মোট চৌদ্দ জন। বাকিরা সেই ঘাটিতে একটু আগে দেখে এসেছে সে ।এই সময় সিফট চেঞ্জ হয়ে আগে যারা চেক পোস্টে ছিল তারা এখন ঘুমায়।প্রতিদিনের রুটিন এটাই।তারিক এটাও মাথায় রেখে পরিকল্পনা করেছে।মুক্তিযোদ্ধারা তারিকের পরিকল্পনা অনুযায়ী ভাগ হবে এখন। দুই চেক পোস্টে………………..(চলবে)

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১৬ thoughts on “সেই তারিক – ৩

    1. আপনি আমার মাস্টার মশাই
      পজিটিভ

      আপনি আমার মাস্টার মশাই
      পজিটিভ মন্তিব্যের চেয়ে আপনার কাছ থেকে নেগেটিভ টাই বেশি কাম্য

      তাই ভুল ধরিয়ে দিন
      গত পর্বে কায়সার ভাই ধরিয়ে সমাধান দিয়েছিল তাই তাকে ওস্তাদ বলেছি .।
      মাস্টার মশাই কাজে লেগে যান

  1. ‘তারিক’ এর পোস্ট গুলো বেশ
    ‘তারিক’ এর পোস্ট গুলো বেশ কয়েকদিন হল দেখছিলাম কিন্তু পড়িনি। এখন দেখছি আগের গুলো বের পড়তে হবে। ভাল লিখেছেন। ক্যারি অন ম্যান। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  2. আগেই বলেছি ভালো হচ্ছে। তাছাড়া
    আগেই বলেছি ভালো হচ্ছে। তাছাড়া বিষয়টা অনেক সেনসেটিভ। চালিয়ে যান। তৃতীয় পর্বটাই ভালো লাগলো সবচেয়ে বেশী। পরের পর্বের অপেক্ষায়। :মুগ্ধৈছি: :থাম্বসআপ:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

13 − 3 =