রাষ্ট্রের কোন ধর্ম থাকবে না সেক্যুলার সমাজ/রাষ্ট্রই আমাদের লক্ষ্য।

রাষ্ট্রের কোন ধর্ম থাকবে না সেক্যুলার সমাজ/রাষ্ট্রই আমাদের লক্ষ্য, যেখানে ধর্ম বা ধর্মহীনতা নাগরিকের ব্যক্তিগত ব্যাপার মাত্র। রাষ্ট্রের কোন ধর্ম থাকে না, এবং সেখানে রাষ্ট্র বৈষম্যমূলক আচরণ করে না কারো প্রতি। ধর্ম হবে মানুষের ব্যক্তিগত, এবং গোপনীয়। অস্ট্রেলিয়াতে প্রায় অর্ধেক মানুষ নাস্তিক, এইখানে কেউ কোনদিন নিজেকে নাস্তিক পরিচয় দিয়েছে বলে দেখলাম না। ধর্মের কারণে বাংলাদেশে যে সমস্ত কুসংস্কার, দূর্নীতি এবং গন্ডগোল চলছে, সাথে অপরাজনীতি, সেইটাই আমাদের সমস্যা। আইনের শাসন থাকলে এবং সেক্যুলার সরকার সব নাগরিককে এক চোখে দেখলে ধর্ম/নাস্তিকতা বড় ইস্যু নয় কখনোই। কেউ যদি কোন কিছুতে বিশ্বাস করতে চায়, সেই বিশ্বাস অযৌক্তিক হলেও বিশ্বাস করার অধিকার তার আছে। কিন্তু সেই বিশ্বাস যেন অন্যকে কোনভাবেই সমস্যায় না ফেলে কিম্বা ক্ষতিগ্রস্ত না করে। ধর্মের কারণে কেউ কোন বিশেষ সুবিধা পাবে না, বা কেউ বৈষম্যের স্বীকার হবে না।

কিন্তু কয়েক হাজার বছর ধরে ধর্ম যে আধিপত্য করে এসেছে, তা আমাদের দেশে একদিনে কি যাবে? যাবে না। আপাতত ধর্মের সামান্য বিচ্যুতি হলে মুরতাদ কিম্বা আন-সহীহ মুসলিম বলা হচ্ছে, কেউ ধর্মের যৌক্তিক সমালোচনা করলে তাকে উগ্র নাস্তিক বলা হচ্ছে। সেইখানে শুধু সরব না হলে সমাজ বদলের কোন আশা নেই। সেই সরবতা হতে পারে নানা রকমের। কেউ কেউ গান্ধী/নেহেরু হবেন, কেউ কেউ সুভাষ বা ক্ষুদিরামও হবেন। জেনে রাখুন, ক্ষুদিরাম/সুভাষেরা গান্ধী/নেহেরুর মিশনকে এগিয়ে দিয়েছিল। এই যে উগ্র ধার্মিক অবস্থান, “ধর্মের সামান্যতম যৌক্তিক সমালোচনাও করা যাবে না” তাকে কাউন্টার করবেন কি করে? অভিজিত রায় / হুমায়ুন আজাদেরা সেখানে গান্ধী-নেহেরু। কিন্তু ধাক্কায় সব বাঁধ ভেঙে দিয়ে ধর্মের অসারতা মানুষকে বুঝিয়ে দেওয়াটা তো একটা কার্যকর পন্থা। হাতে চাপাতি না থাকা সত্বেও যেহেতু উগ্র নাস্তিক বলা হচ্ছে, ধার্মিকদের দীর্ঘদিনের আধিপত্যে সামান্যতম আঁচড় লাগলেই যেহেতু কোপানো হচ্ছে, সেখানে নতুন প্রজন্মকে সাথে নিয়ে ব্যাপক স্কেলে ধর্মকে হাস্যস্পদ করে ফেলাটা বেশ কার্যকরী অস্ত্র, যাতে করে ধর্ম সমালোচনার ট্যাবুটা ভেঙে যায়।

থাবা বাবা ধর্মকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করতো, কঠোর সমালোচনা করতো। এই অপরাধে তাকে ইসলামিস্টরা জবাই করে খুন করেছে তার বাড়ির সামনে। পৃথিবীর সবকিছু নিয়ে, সবাইকে নিয়ে ব্যঙ্গ করা যায়, শুধু ইসলামকে নিয়ে কেন যায় না? কেন ইসলামের সমালোচনা করলে মানুষকে খুন হতে হয়। একবার ভাবুন। ইসলামিস্টরা বলে, থাবা ইসলাম নিয়ে নবীকে নিয়ে বাজে কথা বলেছে। পড়ে দেখুন কোরানে কি লেখা আছে। কোরানে বৌ পেটাতে বলা হয়েছে, দাসী সম্ভোগ করতে বলা হয়েছে, চোরের হাত কেটে ফেলতে বলা হয়েছে, প্রেম করলে পাথর ও দোররা মারতে বলা হয়েছে, বিধর্মীদের সাথে বন্ধুত্ব করতে মানা করা হয়েছে, বিধর্মীদের হাত পা কেটে ফেলতে বলা হয়েছে। বলা হয়েছে এরকম জঘন্য আরো অজস্র কথা। থাবা এই জঘন্য কথাগুলির সমালোচনা করেছিল, বিদ্রুপ করেছিল এই বাজে কথাগুলির। এটা যদি থাবার অপরাধ হয়, যে এই কথাগুলি লিখেছিলো সে কত বড় অপরাধী?

আমরা এমন দিনের প্রত্যাশা করি যেখানে বাংলাদেশে নাগরিকদের ধর্ম/ধর্মহীনতা অন্য কারো মাথাব্যাথা হবে না, যেখানে ধর্মের বিষবৃক্ষ ত্রাসের শোষনের অপরাজনীতির বা দুর্নীতির জাক্কুম ফল উপহার দেবে না, তখন ধর্মের সমালোচনা (মোটিভেশান) বা প্রণোদনা কমে আসবে। তখন তৈরী হবে নোয়াহ/প্রিন্স অফ পারসিয়ার মতন মোহাম্মদের জীবন নিয়ে ছবি। কোরানের অবস্থান হবে বাইবেলের সাথে, কিন্তু হুমায়ুন আজাদের অবস্থান হবে সেগুলোর উপরে। মানুষ প্রাচীন সমাজ-সংস্কারক হিসেবে হয়তো ঈসা-মুসা-মোহাম্মদের প্রশংসাই করবে, কিন্তু জীবন ও রাষ্ট্র চালাবে নিজেদের অর্জিত জ্ঞান/প্রজ্ঞার সাহায্যে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

74 + = 78