পাকিস্তানের শিয়ালকোটের ঘটনা ও প্রাসঙ্গিক কিছু কথা

সাম্প্রতিক পাকিস্তানের শিয়ালকোটে ঘটে যায় এক ভয়াবহ ঘটনা যা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকে ও হার মানায়! ঘটনাটি হল পাকিস্তানের শিয়ালকোটে এক বেসরকারি কারখানায় এক্সপোর্ট ম্যানেজার হিসাবে কাজ করতেন শ্রীলঙ্কার নাগরিক প্রিয়ান্থ কুমার তিনি তাঁর কারখানার সামনে কিছু পোস্টার দেখেন স্বভাবতই তিনি আরবি বা উর্দু ভাষা পড়তে পারতেন না তিনি এই পোস্টারটি অযৌক্তিক মনে করে ছিঁড়ে ফেলেন। এই পোস্টারটি পাকিস্তানের কট্টরপন্থী জঙ্গি সংগঠন ‘তেহরিক এ লাব্বাইকের’ লেখা, তাঁরা দাবি করে এই কর্মকান্ড ঘটার ফলে এই মানুষটি ইসলামের নবী মহম্মদের অবমাননা করেছেন। এরপরেই কারখানার কর্মীরা একে বেধড়ক মারধর করে এবং কারখানার সামনে জীবন্ত জ্বালিয়ে দেওয়া হয় উপস্থিত জনতা তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা না করে এই ঘটনার সমর্থন করে ভিডিও তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছাড়তে থাকে, মুহূর্তেই এই ঘটনাটি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে।

বলাইবাহুল্য এই ঘটনার ফলে পাকিস্তানের বর্তমান অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি বিশ্ববাসীর সামনে উন্মুক্ত হয়ে যায় এবং ধর্মকে গুরুত্ব দিলে একটা দেশ ও সমাজের কি পরিণতি ঘটতে পারে তা এই ঘটনা থেকেই প্রমাণিত হয়! পাকিস্তানে ‘ব্ল্যাসফেমি ল বা ধর্মদ্রোহী আইন’ বহুল প্রচলিত এই আইনকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও প্রগতিশীল মানুষদের শাস্তি দিতে বহুল ব্যবহৃত হয়! এই আইনের ফলে ‘আসিয়া বিবির’ মতো হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন হিংসার বলি হন, এই আইনের ফলেই ‘মাশাল খানের’ মতো এক মুক্তচিন্তককে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয় অথচ সরকার, প্রশাসন সেখানে বলার কেউ নেই! আসিয়া বিবির রায়ের সমালোচনা করার জন্য পাঞ্জাবের সাবেক গভর্নর সালমান তাসিরকে তাঁরই নিরাপত্তারক্ষী মুমতাজ কাদরি প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে, বিচারে তাঁর ফাঁসি হলেও একে শহিদের মর্যাদা দেওয়া হয় এবং বর্তমানে এই খুনির মাজার পর্যন্ত প্রতিষ্ঠা হয়েছে। অন্যদিকে আসিয়া বিবির আইনজীবী সাইফুল মুলুক দেশ ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়, সৌভাগ্যবশত আন্তর্জাতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করে আসিয়া বিবি ও পাকিস্তান ছেড়ে বিদেশে পাড়ি দিতে পেরেছে এই হচ্ছে পাকিস্তানের বর্তমান অবস্থা! বস্তুত পাকিস্তান এখন জঙ্গল রাজত্বে পরিণত হয়েছে। পাকিস্তানের প্রায় 23 কোটি মানুষ আজ চরম ধর্মান্ধতায় নিমজ্জিত যা বিশ্বের জন্য ও ভয়ংকর! তাই এই পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্বের জনগণের সচেতন হওয়া প্রয়োজন!

একই কথা ভারতের ক্ষেত্রে ও প্রাসঙ্গিক কারণ এখানে ও মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড, ‘ব্ল্যাসফেমি আইন’ চালু করার কথা বলছে, বলাইবাহুল্য এই আইনের কি পরিণতি হতে পারে সেটা পাকিস্তানে দেখা যাচ্ছে এবং আমরা এইরকম যে কোন বর্বর আইনের বিরোধী, দেশের সচেতন নাগরিকদের প্রতি অনুরোধ এমন কোন প্রচেষ্টা হলে তীব্রভাবে প্রতিবাদ সংগঠিত করতে হবে। ভারতের সংবিধানের 19 নম্বর অনুচ্ছেদ আমাদের বাক স্বাধীনতার অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত করে এই অধিকার কেউ কেড়ে নিতে পারে না, এর বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিবাদ সংগঠিত করতে হবে!

যাইহোক এই ঘটনার তীব্রতা এতই ভয়ংকর ছিল যে নিজেদের মুখ বাঁচাতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও টুইট করতে বাধ্য হন তিনি লেখেন- “আজ পাকিস্তানের জন্য অত্যন্ত লজ্জার দিন। আমি নিজে তদন্তের তদারকি করছি। যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের যে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে, এ ব্যাপারে কোন ও সন্দেহ নেই। ধরপাকড় পুরোদমে চলছে।” পাকিস্তানের অন্যান্য বহু নেতা, মন্ত্রী ও সচেতন মানুষ ও এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ করছে, অ্যামেনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন ও এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে! প্রশ্ন হল পাকিস্তানের এই ভয়াবহ অবস্থা কেন? এবং এখান থেকে আমাদের শিক্ষণীয় বিষয়গুলি কি কি?

পাকিস্তানের সরকার ও সেদেশের জনগণকে বুঝতে হবে ‘ধর্মের নামে কালসাপ পুষলে, তাঁর পরিণতি কতটা ভয়ংকর হতে পারে তা পাকিস্তানের ঘটনা থেকেই বোঝা যায়।’ আজ হয়তো এই সাপ বাইরের মানুষকে ছোবল দিচ্ছে কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী সাপ যে প্রতিপালন করে তাঁকে ও ছোবল খেতে হয়! তাই সচেতন হওয়ার সময় এসেছে বস্তুত পাকিস্তানের সেনাশাসক জিয়াউল হকের আমল থেকে যে কট্টরপন্থী ইসলামের চর্চা শুরু হয় তা আজ দেশকে কতটা ধ্বংসের দিকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে তা বর্তমান পরিস্থিতিতেই তা সুস্পষ্ট! এখন ইমরান খানের মতো চরম ধর্মান্ধ ও দুর্নীতি গ্রস্থ শাসকের ফলে পাকিস্তানের সমস্যা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইমরান খান সরকার আফগানিস্তানে তালিবান শাসন প্রতিষ্ঠা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, অন্যদিকে তেহরিক এ লব্বাইকের মতো সন্ত্রাসবাদী সংগঠনকে নির্বাচনে লড়াই করার অধিকার দিয়ে, অর্থনৈতিক দিক থেকে দেউলিয়া হয়ে যাওয়া পাকিস্তানকে দ্রুত ধ্বংসের দিকে এগিয়ে দিচ্ছে!

পাকিস্তানের এই অবস্থা থেকে বাংলাদেশের মতো দেশের ও যথেষ্ট শেখার রয়েছে, তাই পাকিস্তানকে দেখে বাংলাদেশের মানুষের সচেতন হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে বলতে চাই, আপনি ও হেফাজতে ইসলামের মতো কালসাপ পুষবেন না, তা না হলে বাংলাদেশের অবস্থা ও পাকিস্তান হতে বেশি সময় লাগবে না বরং মুক্তচিন্তার প্রসার ঘটাতে সহায়তা করুন, ডিজিটাল আইন ও 57 ধারার মতো কালো আইন বাতিল করুন তবেই বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে পারবে।

ইতিহাস সাক্ষী, যে ধর্মের মানুষ যত বর্বর ও ধর্মান্ধ হয় তাঁদের ধর্মানুভূতি ততই প্রবল! তাই অতীতে খ্রিস্টান ধর্মের সমালোচনা করার অপরাধে ব্রুনোকে জীবন্ত জ্বালিয়ে দেওয়া হয়, সক্রেটিসকে সাপের বিষ পান করে জীবন আহুতি দিতে হয়, গ্যালিলিওকে অন্ধ করে দেওয়া হয় এবং স্বীকার করতে বাধ্য করানো হয় যে সূর্য পৃথিবীর চারিদিকে ঘোরে কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী এত বর্বরতা, এত উগ্রতার মধ্যে ও বিজ্ঞানের জয়যাত্রা থেমে থাকেনি। ক্যাথলিক ও প্রোটাস্ট্যান আন্দোলন ইত্যাদির মাধ্যমে বর্তমানে খ্রিস্টান ধর্মের বর্বরতা আর নেই তাই খ্রিস্টান ধর্মের সমালোচনা করলে বর্তমানে সেই অর্থে আর কারোর অনুভূতিতে আঘাত লাগে না।

হিন্দু ধর্মে ও একসময় জাতিভেদ প্রথা, কুসংস্কার তীব্র ছিল তাঁর ফলেই ভারতবর্ষে জৈন, বৌদ্ধ, আজিবিক প্রভৃতি প্রতিবাদী ধর্মমতের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। আধুনিক যুগে রাজা রামমোহন রায়, ডিরোজিওর ‘ইয়ং বেঙ্গল মুভমেন্ট’, বিদ্যাসাগর, পেরিয়ার, মহাদেব গোবিন্দ রানাডে, জ্যোতিবা ফুলে প্রভৃতি মহামানবের সংস্কার আন্দোলনের ফলে হিন্দু ধর্ম আজ অনেকটাই সংস্কার মুক্ত ও মানবিক ধর্মে পরিণত হয়েছে কিন্তু এখনও বিপদ পুরোপুরি কাটেনি তাই প্রগতিশীল হিন্দুদের সচেতন থাকার প্রয়োজন রয়েছে যাতে তাঁদের সমাজ আবার না ধর্মান্ধতায় নিমজ্জিত হয়! তবে এটা অনস্বীকার্য যে হিন্দু ধর্ম আজও যথেষ্ট সহিষ্ণু তাই প্রকাশ্যে হিন্দু ধর্মের সমালোচনা করা যায়, ও মাই গড, পিকের মতো যুগান্তরকারী সমালোচনা মূলক সিনেমা তৈরি করা যায়, এগুলি আসলে একটি ধর্ম, সমাজ ও সভ্যতার প্রগতিশীলতার লক্ষণ!

কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য পৃথিবীর সমস্ত ধর্মকে সমালোচনা করলে ও ইসলামকে সমালোচনা করা যায় না ইসলামকে নিয়ে নূন্যতম সমালোচনা করলেই মুন্ডু কাটার ভয় থাকে। তেহরিক ই লব্বাইকের মতো জঙ্গি সংগঠন মানুষকে দীক্ষিত করে, ‘গুস্তাখে রসুলকে সাজা, সার তান সে জুদা’ অর্থাৎ ইসলামের নবীর নামে সমালোচনা করলে তাঁদের মৃত্যুদন্ডই বিধান! বস্তুত এই বর্বর ও হিংস্র শিক্ষার জন্যই মুসলমানদের আজ এই দুরবস্থা! অথচ মুসলমানদের এই দুরবস্থা থেকে উদ্ধার করতে পারে একমাত্র মুক্তচিন্তার মানুষরা অথচ ইসলামের দৃষ্টিতে প্রশ্ন করাই গোনাহর কাজ এবং ধর্মত্যাগী ব্যাক্তির শাস্তি মৃত্যুদন্ড এইসব কারণেই মুসলমানদের এই পশ্চাদগামিতা! তাই আমাদের আরও সচেতন হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে!

তেহরিক এ লব্বাইক, হেফাজত ইসলাম বা জামায়েত ই ইসলামকে শুধু দোষ দিয়ে লাভ নেই ইসলামের এই উগ্রতার আসল কারণ হল নবী মহম্মদের হিংস্র, উগ্র ও বর্বর শিক্ষা যা মুসলমানদের চিন্তা চেতনা হারিয়ে বর্বর মানুষে পরিণত করে, এখন দেখা যাক নবীর শিক্ষা কেমন করে আধুনিক সমাজ গঠনে অন্তরায় সৃষ্টি করছে! নবী মহম্মদ নিজে সমালোচনা পচ্ছন্দ করতেন না এবং কেউ তাঁর কর্মকাণ্ডের প্রতি সন্দেহ প্রকাশ করলে বা সমালোচনা করলে তিনি তাঁদের হত্যা করতেন, তিনি জ্ঞানীদের মর্যাদা দিতেন না। তাঁর সমালোচনা করার জন্য 120 বছর বয়সী ইহুদি কবি আবু আফাক-কে সন্ত্রাসী কায়দায় রাতের অন্ধকারে নৃশংসভাবে হত্যা করেছিলেন, এছাড়া ও বহু গুণিজনকে তিনি হত্যা করেছিলেন তবে এই প্রসঙ্গে সবচেয়ে মর্মান্তিক ও বেদনাদায়ক ঘটনা হল আসমা বিনতে মারওয়ানের!

এই মহিলা কবি নবী মহম্মদের হিংস্রতার প্রতিবাদ স্বরূপ কবিতা লিখেছিলেন তাই নবী মহম্মদ তাঁর খুনি বাহিনী দিয়ে রাতের অন্ধকারে ঘুমন্ত অবস্থায় তাঁকে হত্যা করে, সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনা হল যখন হত্যাকারি এই কবিকে হত্যা করে তখন তিনি তাঁর সন্তানদের দুধ পান করাচ্ছিলেন, এই হল নবী মহম্মদের মানবতার নিদর্শন? এই বিষয়ে ইসলামি তথ্যগুলি তুলে ধরা হল।

□ আদি বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিক মুহাম্মদ ইবনে ইশাক (৭০৪-৭৬৮ সাল) ও মুহাম্মদ ইবনে সা’দের (৭৮৪-৮৪৫ খৃষ্টাব্দ) বর্ণনায় ঘটনা টি ছিল নিম্নরূপ:

পাঁচ সন্তানের মা আসমা-বিনতে মারওয়ান কে খুন

মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের বর্ণনা:

‘তিনি [আসমা-বিনতে মারওয়ান] ছিলেন বানু উমাইয়া বিন জায়েদ গোত্রের। আবু আফাক-কে হত্যার পর তিনি তাঁর বিদ্বেষ প্রকাশ করেন।

আবদুল্লাহ বিন হারিথ বিন আল-ফাদায়েল < তাঁর পিতা বলেছেন যে, তিনি বানু খাতমা গোত্রের ইয়াজিদ বিন জায়েদ নামক এক ব্যক্তিকে বিবাহ করেন। ইসলাম ও তার অনুসারীদের নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেছেন:

“আমি ঘৃণা করি বানু মালিক ও নাবিত

এবং আউফ ও বানু খাজরায গোত্রদের।

তোমারা মান্য করো এক বিদেশীকে কেউ নয় যে তোমাদের

নয় সে কেউ মুরাদ বা মাধহিজের।

কি ভালো আশা কর তোমরা তার কাছে যে করে নেতাদের খুন

ক্ষুধার্ত মানবের অপেক্ষা রাঁধুনির মাংসের ঝোলে যেমন?

নাই কি কোনও গর্বিত জন যে পারে করতে তারে আক্রমণ অতর্কিতে

ছিন্ন করতে আশা তাদের যারা করে কিছু পাওয়ার প্রত্যাশা সেই জন হতে?”

আল্লাহর নবী যখন তাঁর কথাগুলো জানতে পান, তখন তিনি বলেন, “কে পারে. যে আমাকে মারওয়ান কন্যার হাত থেকে পরিত্রাণ দেবে?”

উমায়ের বিন আদি আল-খাতমি তাঁর সাথেই ছিলেন এবং এই কথাটি শোনেন। সেই একই রাত্রে তিনি তার বাড়িতে যান এবং তাকে হত্যা করেন। পরের দিন সকালে তিনি আল্লাহর নবীর কাছে আসেন এবং তিনি কী করেছেন তা তাঁকে খুলে বলেন।

তিনি [মুহাম্মদ] বলেন, “হে উমায়ের, তুমি আল্লাহ ও তার নবীকে সাহায্য করেছ!”

যখন তিনি [উমায়ের] জানতে চান যে, এই কর্মের ফলে তার কোনো অমঙ্গলের সম্ভাবনা আছে কি না, আল্লাহর নবী বলেন,

“তার জন্য কোনো ছাগল ও ঢুসান করবে না [‘Two goats won’t butt their heads about her’]”।

অতঃপর উমায়ের তাঁর লোকজনদের কাছে প্রত্যাবর্তন করেন।

মারওয়ান কন্যার খুনের ঘটনায় সেইদিন বানু খাতমা গোত্রের লোকজনদের মধ্যে বিশাল মানসিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর ছিল পাঁচটি পুত্র সন্তান। উমায়ের আল্লাহর নবীর কাছ থেকে ফিরে তাদের কাছে যান এবং বলেন, “হে খাতমার বংশধর, আমি মারওয়ান কন্যাকে খুন করেছি তোমরা পারলে আমাকে ঠেকাও; আমাকে অপেক্ষায় রেখো না।”

ঐ দিনটিই ছিল প্রথম যেদিন বানু খাতমা গোত্রের লোকেদের মধ্যে ইসলাম ক্ষমতাবান হয়েছিল;

তার আগে যারা মুসলমান হয়েছিলেন, তাঁরা তাদের প্রকৃত পরিচয় গোপন রাখতেন। তাদের মধ্যে প্রথম যাঁরা ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, তাঁরা হলেন উমায়ের বিন আদি যাকে বলা হতো “পাঠক”, এবং আবদুল্লাহ বিন আউস ও খুজেইমা বিন থাবিত।

মুহাম্মদ বিন সা’দের বর্ণনা:

‘তারপর (সংঘটিত হয়) আসমা বিনতে মারওয়ানের ওপর উমায়ের ইবনে আদি ইবনে খারাশাহ আল-খাতমির হামলা (Sariyyah); সেটি ছিল আল্লাহর নবীর, তাঁর উপর শান্তি বর্ষিত হউক, হিজরতের ১৯তম মাসের প্রারম্ভে যখন রমজান মাসের পাঁচ রাত্রি অবশিষ্ট।

আসমা ছিল ইয়াজিদ ইবনে জায়েদ ইবনে হিসন আল-খাতমির স্ত্রী। সে ইসলামের বিরুদ্ধে কঠোর কটূক্তি করতো, নবীকে পীড়া দিত এবং (লোকজনদের) নবীর বিরুদ্ধে উত্তেজিত করতো। সে কবিতা লিখেছিল।

উমায়ের বিন আদি এক রাতে তার কাছে আসেন এবং তার বাড়িতে ঢুকে পড়েন। তার সন্তানরা তার আশেপাশেই ঘুমচ্ছিল। ‘সে তার সন্তানের একজনকে স্তন পান করাচ্ছিল।’

তিনি [উমায়ের] ছিলেন অন্ধ তাই তাঁর হাত দিয়ে তিনি তাকে খোঁজেন এবং তার সন্তানদের তার কাছ থেকে আলাদা করেন। ‘তিনি তাঁর তরবারি তার বুকের মধ্যে জোরে ঢুকিয়ে দেন যতক্ষণ না তা তার পিঠ পর্যন্ত পৌঁছে।’

তারপর তিনি আল্লাহর নবীর, তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হউক, সাথে মদিনায় সকালের নামাজ আদায় করেন।

আল্লাহর নবী, তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হউক, তাঁকে বলেন, “তুমি কি মারওয়ান পুত্রীকে হত্যা করেছ?”

তিনি বলেন, “হ্যাঁ। আমার আরও কিছু কি করতে হবে?”

তিনি বলেন, “না। তার জন্যে দুটো ছাগল গুঁতা মারবে (No. Two goats will butt together about her) না।” এই বাক্যটি আল্লাহর নবীর, তাঁর উপর শান্তি বর্ষিত হউক, কাছ থেকে প্রথম শোনা যায়।

তাহলে বুঝতে পারছেন নবী তাঁর সমালোচনা কারিদের কিরূপ শান্তি দিতেন?

নবী মহম্মদের হুকুম ছিল, যে ব্যাক্তি তাঁর দ্বীন পরিবর্তন করলো, তোমরা তাঁকে হত্যা কর। এ প্রসঙ্গে সহি হাদিসটি হল।

সহি বুখারি: 3017. ইকরামাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। ‘আলী (রাঃ) এক সম্প্রদায়কে আগুনে পুড়িয়ে ফেলেন। এ সংবাদ ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট পৌঁছলে তিনি বলেন, ‘যদি আমি হতাম, তবে আমি তাদেরকে জ্বালিয়ে ফেলতাম না। কেননা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা আল্লাহর আযাব দ্বারা কাউকে আযাব দিবে না। বরং আমি তাদেরকে হত্যা করতাম। যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে লোক তার দ্বীন বদলে ফেলে, তাকে হত্যা করে ফেল।’

তাহলে বুঝতে পারছেন মুসলমানরা কেন এত সংকীর্ণ হয় এবং ধর্মত্যাগ করতে পারে না? এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য ধর্মত্যাগীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান ও রয়েছে।

সহি বুখারি 10 ম খন্ড: হাদিস নাম্বার – 6348

মূসা ইবনু ইসমাঈল (রহঃ)……আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ উকল গোত্রের একদল লোক নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসল। তারা সুফফায় অবস্থান করত। মদিনার আবহাওয়া তাদের অনুকুলে না হওয়ায় তারা বলল, হে আল্লাহর রাসুল! আমাদের জন্য দুধ তালাশ করুন। তিনি বললেনঃ আমি তোমাদের জন্য এ ছাড়া কিছু পাচ্ছি না যে, তোমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উট পালের কাছে যাবে। তারা সেগুলোর কাছে আসল। আর সেগুলোর দুধ ও পেশাব পান করল। ফলে তারা মোটা তাজা হয়ে উঠল ও রাখালকে হত্যা করে উটগুলো হাকিয়ে নিয়ে চলল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে সংবাদ পৌছলে তাদের খোঁজে লোক পাঠালেন। রৌদ্র প্রখর হবার পূর্বেই তাদেরকে নিয়ে আসা হল। তখন লৌহ শলাকা আনার নির্দেশ দিলেন। তা গরম করে তদ্দ্বারা তাদের চক্ষু ফুড়ে দিলেন এবং তাদের হাত-পা কেটে দেওয়া হল। অথচ লৌহ গরম করে দাগ লাগাননি। এরপর তাদেরকে উত্তপ্ত মরুভূমিতে ফেলে দেওয়া হল। তারা পানি পান করতে চাইল কিন্তু পান করানো হল না। অবশেষে তারা মারা গেল। আবূ কিলাবা (রহঃ) বলেনঃ তারা চুরি করেছিল, হত্যাও করেছিল, আর আল্লাহ ও তার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল।

☆ এথেকেই বোঝা যায় নবী মহম্মদের কর্মকান্ড কতটা বর্বর ছিল, ধর্মত্যাগ ও চুরির অপরাধে উকল গোত্রের একদল লোকের হাত পা কেটে দেন এবং গরম শলাকা দ্বারা চক্ষু ফুঁড়ে দেন এবং উতপ্ত মরুভূমিতে তাদের পানীয় পর্যন্ত দেননি এভাবেই তাঁরা ছটফট করে মরতে থাকে, এটা কি কোন আল্লাহর নবীর কর্মকান্ড হতে পারে? এটাই কি দয়ার নবীর দয়ালুতার নমুনা? তাহলে বর্তমান যুগের আইএসআইএসের কর্মকান্ডের সঙ্গে নবী মহম্মদের কর্মকান্ডের পার্থক্য কোথায়? কেন জঙ্গি সংগঠনগুলি এত নির্মম ও নিষ্ঠুরতা দেখায় বুঝতে পারছেন কি?

শুধু তাই নয় কোরানের ছত্রেছত্রে বিধর্মীদের প্রতি ঘৃণা, বিদ্বেষ ও জিহাদের কথা বলা হয়েছে তাহলে বুঝতে পারছেন কি কেন মুসলমানরা এত সংকীর্ণ, উগ্র ও হিংস্রতা লালন করে? তেমনি কিছু কোরানের আয়াত তুলে ধরা হল।

□ সূরা বাইয়্যিনাহ:6 – আহলে-কিতাব ও মুশরেকদের মধ্যে যারা কাফের, তারা জাহান্নামের আগুনে স্থায়ীভাবে থাকবে। তারাই সৃষ্টির অধম।

□ সূরা আল বাক্বারাহ:65 – তোমরা তাদেরকে ভালরূপে জেনেছ, যারা শনিবারের ব্যাপারে সীমা লঙ্ঘণ করেছিল। আমি বলেছিলামঃ তোমরা লাঞ্ছিত বানর হয়ে যাও।

□ সূরা আল মায়েদাহ:60 – বলুনঃ আমি তোমাদেরকে বলি, তাদের মধ্যে কার মন্দ প্রতিফল রয়েছে আল্লাহর কাছে? যাদের প্রতি আল্লাহ অভিসম্পাত করেছেন, যাদের প্রতি তিনি ক্রোধাম্বিত হয়েছেন, যাদের কতককে বানর ও শুকরে রূপান্তরিত করে দিয়েছেন এবং যারা শয়তানের আরাধনা করেছে, তারাই মর্যাদার দিক দিয়ে নিকৃষ্টতর এবং সত্যপথ থেকেও অনেক দূরে।

□ সূরা আল আ’রাফ:166 – তারপর যখন তারা এগিয়ে যেতে লাগল সে কর্মে যা থেকে তাদের বারণ করা হয়েছিল, তখন আমি নির্দেশ দিলাম যে, তোমরা লাঞ্ছিত বানর হয়ে যাও।

□ সূরা আল ফাতহ:13 – যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলে বিশ্বাস করে না, আমি সেসব কাফেরের জন্যে জ্বলন্ত অগ্নি প্রস্তুত রেখেছি।

☆ কোরানের এ কেমন সৃষ্টিকর্তা যে তাঁরই সৃষ্টিকারী বিধর্মীদের শুধু মাত্র অন্য ধর্ম বিশ্বাসের কারণে কখনও সৃষ্টির অধম, কখনও শুকর, কখনও বানর ইত্যাদি বলে গালিবর্ষণ করছে? যাঁরা আল্লাহ ও রসুলে বিশ্বাসী নয় তাঁদের আগুনে পোড়ানোর হুমকি দিচ্ছে, এ কেমন সৃষ্টিকর্তা যার মনোভাব এত হিংস্র ও বর্বর? এই যদি কোরানের আল্লাহর শিক্ষা হয় তাহলে সাধারণ মুমিন মুসলমানরা কেন বিধর্মীদের ঘৃণা করতে শিখবে না? কোন সৃষ্টিকর্তার কি এমন মনোভাব হতে পারে?

□ সূরা আল ইমরান:28 – মুমিনগন যেন অন্য মুমিনকে ছেড়ে কোন কাফেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করে। যারা এরূপ করবে আল্লাহর সাথে তাদের কোন সম্পর্ক থাকবে না। তবে যদি তোমরা তাদের পক্ষ থেকে কোন অনিষ্টের আশঙ্কা কর, তবে তাদের সাথে সাবধানতার সাথে থাকবে আল্লাহ তাআলা তাঁর সম্পর্কে তোমাদের সতর্ক করেছেন। এবং সবাই কে তাঁর কাছে ফিরে যেতে হবে।

□ সূরা আল ইমরান:118 – হে ঈমানদারগণ! তোমরা মুমিন ব্যতীত অন্য কাউকে অন্তরঙ্গরূপে গ্রহণ করো না, তারা তোমাদের অমঙ্গল সাধনে কোন ক্রটি করে না-তোমরা কষ্টে থাক, তাতেই তাদের আনন্দ। শত্রুতাপ্রসুত বিদ্বেষ তাদের মুখেই ফুটে বেরোয়। আর যা কিছু তাদের মনে লুকিয়ে রয়েছে, তা আরো অনেকগুণ বেশী জঘন্য। তোমাদের জন্যে নিদর্শন বিশদভাবে বর্ণনা করে দেয়া হলো, যদি তোমরা তা অনুধাবন করতে সমর্থ হও।

□ সূরা আন নিসা:144 – হে ঈমানদারগণ! তোমরা কাফেরদেরকে বন্ধু বানিও না মুসলমানদের বাদ দিয়ে। তোমরা কি এমনটি করে নিজের উপর আল্লাহর প্রকাশ্য দলীল কায়েম করে দেবে?

□ সূরা আল মায়েদাহ:51 – হে মুমিণগণ! তোমরা ইহুদী ও খ্রীষ্টানদেরকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করো না। তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ জালেমদেরকে পথ প্রদর্শন করেন না।

□ সূরা আন নিসা:48 – নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন না, যে লোক তাঁর সাথে শরীক করে। তিনি ক্ষমা করেন এর নিম্ন পর্যায়ের পাপ, যার জন্য তিনি ইচ্ছা করেন। আর যে লোক অংশীদার সাব্যস্ত করল আল্লাহর সাথে, সে যেন অপবাদ আরোপ করল।

☆ এ কেমন সৃষ্টিকর্তা যে ভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে বন্ধুত্ব করতে বাঁধা সৃষ্টি করে অর্থাৎ মানুষের মধ্যে মানবিক সম্পর্ক গড়ে উঠুক তা কোরানের আল্লা চাই না! কোরানের আল্লাহর প্রকৃতি এত মানুষ মানুষ কেন? কোরানের আল্লাহর প্রকৃতির সঙ্গে নবী মহম্মদের চরিত্রের এত মিল কেন? কে তাকে মানল, কে কার সঙ্গে বন্ধুত্ব করল এই নিয়ে আল্লাহর এত মাথাব্যথা কেন? কোরানের আল্লাহ কি জাতি বিদ্বেষী নয়? শুধু মাত্র মূর্তিপূজার কারণে আল্লাহর এত ঘৃণা, এত বিদ্বেষ কেন? প্রশ্ন ওঠে কোরানের আল্লা প্রকৃত সৃষ্টিকর্তা না নবীর তৈরী কোন ভন্ড সৃষ্টিকর্তা?

এবার দেখা যাক নবী মহম্মদ প্রবর্তিত কোরানের আল্লাহর কিছু শান্তির বাণী!

□ সূরা আত তাওবাহ:5 – অতঃপর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ কর। আর প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওঁৎ পেতে বসে থাক। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

□ সূরা আল-আনফাল:12 – যখন নির্দেশ দান করেন ফেরেশতাদিগকে তোমাদের পরওয়ারদেগার যে, আমি সাথে রয়েছি তোমাদের, সুতরাং তোমরা মুসলমানদের চিত্তসমূহকে ধীরস্থির করে রাখ। আমি কাফেরদের মনে ভীতির সঞ্চার করে দেব। কাজেই গর্দানের উপর আঘাত হান এবং তাদেরকে কাট জোড়ায় জোড়ায়।

□ সূরা আত তাওবাহ:29 – তোমরা যুদ্ধ কর আহলে-কিতাবের ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, আল্লাহ ও তাঁর রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম, যতক্ষণ না করজোড়ে তারা জিযিয়া প্রদান করে।

□ সূরা আল-আনফাল:57 – সুতরাং যদি কখনো তুমি তাদেরকে যুদ্ধে পেয়ে যাও, তবে তাদের এমন শাস্তি দাও, যেন তাদের উত্তরসূরিরা তাই দেখে পালিয়ে যায়; তাদেরও যেন শিক্ষা হয়।

□ সূরা আত তাওবাহ:73 – হে নবী, কাফেরদের সাথে যুদ্ধ করুন এবং মুনাফেকদের সাথে তাদের সাথে কঠোরতা অবলম্বন করুন। তাদের ঠিকানা হল দোযখ এবং তাহল নিকৃষ্ট ঠিকানা।

□ সূরা আন নিসা:71 – হে ঈমানদারগণ! নিজেদের অস্ত্র তুলে নাও এবং পৃথক পৃথক সৈন্যদলে কিংবা সমবেতভাবে বেরিয়ে পড়।

☆ এ কেমন সৃষ্টিকর্তা যে শুধুমাত্র বিশ্বাসের কারণে বিধর্মীদের ঘৃণা করে ও তাঁদের রক্ত চাই? তাঁদের যেখানে পাও তাঁদের হত্যা করতে বলে এবং তাঁদের জোড়ায় জোড়ায় কাটতে বলে কোন সৃষ্টিকর্তা কি এত বর্বর, এত হিংস্র হতে পারে? মোহাম্মদ প্রবর্তিত আল্লাহ এত হিংস্র এত বর্বর কেন?

□ সূরা আল বাক্বারাহ:193 – আর তোমরা তাদের সাথে লড়াই কর, যে পর্যন্ত না ফেতনার অবসান হয় এবং আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠিত হয়। অতঃপর যদি তারা নিবৃত হয়ে যায় তাহলে কারো প্রতি কোন জবরদস্তি নেই, কিন্তু যারা যালেম (তাদের ব্যাপারে আলাদা)।

☆ কোরানের এই আয়াতের মধ্য দিয়েই আল্লা বুঝিয়ে দিয়েছেন বিধর্মীদের প্রতি জিহাদ ততদিন চলবে যতদিন না গোটা বিশ্বে ইসলাম প্রতিষ্ঠা হবে, এই কারণেই আজ এত বেশি জেহাদি জঙ্গি গোষ্ঠী দেখতে পাওয়া যায়।

□ সূরা আন নিসা:95 – গৃহে উপবিষ্ট মুসলমান-যাদের কোন সঙ্গত ওযর নেই এবং ঐ মুসলমান যারা জান ও মাল দ্বারা আল্লাহর পথে জেহাদ করে,-সমান নয়। যারা জান ও মাল দ্বারা জেহাদ করে, আল্লাহ তাদের পদমর্যাদা বাড়িয়ে দিয়েছেন গৃহে উপবিষ্টদের তুলনায় এবং প্রত্যেকের সাথেই আল্লাহ কল্যাণের ওয়াদা করেছেন। আল্লাহ মুজাহেদীনকে উপবিষ্টদের উপর মহান প্রতিদানে শ্রেষ্ঠ করেছেন।

□ সূরা আল-আনফাল:17 – সুতরাং তোমরা তাদেরকে হত্যা করনি, বরং আল্লাহই তাদেরকে হত্যা করেছেন। আর তুমি মাটির মুষ্ঠি নিক্ষেপ করনি, যখন তা নিক্ষেপ করেছিলে, বরং তা নিক্ষেপ করেছিলেন আল্লাহ স্বয়ং যেন ঈমানদারদের প্রতি এহসান করতে পারেন যথার্থভাবে। নিঃসন্দেহে আল্লাহ শ্রবণকারী; পরিজ্ঞাত।

☆ বলাইবাহুল্য সাধারণ মুসলমানরা এত কিছু জানে না এবং তৎকালীন মুসলমান সেনাদল ও নিরীহ মানুষদের হত্যা করে মনোকষ্টে ও অনুশোচনায় ভুগত কিন্তু নবী মহম্মদ কোরানের এই আয়াতের মাধ্যমে বলেন তাঁরা হত্যা করেনি বরং আল্লাহই হত্যা করিয়েছেন এভাবে তাঁদের মানবতা ও বিবেক ধ্বংস করেন! আজ অনেক মুসলমান মনে করে জিহাদ হয়তো ইসলাম বিরোধী কাজ তাই তাঁরা নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত ইত্যাদিতেই ব্যস্ত থাকতে পচ্ছন্দ করেন কিন্তু কোরানের এই আয়াতেই স্পষ্ট আল্লাহর কাছে ঘরে উপবিষ্ট নামাজির থেকে জেহাদিদের মর্যাদা অনেক বেশি! তাহলে বুঝতে পারছেন কি, কেন হাজার হাজার মুমিন মুসলমানরা জিহাদে অংশগ্রহণ করতে জঙ্গিদলে নাম লেখায়?

উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বোঝা যায় ইসলাম আর পাঁচটা ধর্মের মতো নয় এটি একটি চরম প্রতিক্রিয়াশীল রাজনৈতিক ধর্ম যা অন্যান্য ধর্মের স্বাধীন অস্তিত্বকে স্বীকার করে না, তাই সকলকে সচেতন থাকতে হবে। এটি শুধু ইসলামের সমস্যা এরূপ ভাবলে চলবে না এটা সম্পূর্ণ মানবসভ্যতার সমস্যা তাই সকলকে একসঙ্গে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সংগঠিত করতে হবে এবং মুক্তচিন্তার প্রসারে সহযোগিতা করতে হবে।

তাই পাকিস্তানের শিয়ালকোটের ঘটনা বা বাংলাদেশের হিন্দুদের উপর অত্যাচারের ঘটনা কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং এটা বিশ্বব্যাপী ইসলাম প্রতিষ্ঠার নবীর যে শিক্ষা, সেই শিক্ষারই প্রতিফলন। তাই এর বিরুদ্ধে সচেতন হতে হবে এবং মুক্তচিন্তার সংগ্রামের পাশে থাকতে হবে। ধর্মের তোষণ, বিশেষত ইসলামের তোষণ করলে কি হতে পারে তা শিয়ালকোটের ঘটনা থেকেই পরিষ্কার! তাই যেসব রাজনৈতিক দল ধর্মনিরপেক্ষতার মুখোশ পরে মসজিদ, মাদ্রাসা ও তিন তালাকের পক্ষে কথা বলে তাঁদের বিরুদ্ধে সচেতন হওয়া উচিত বস্তুত এরা দেশ ধ্বংসের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এবং মুসলমান সমাজকে আরও পিছিয়ে দিচ্ছে। তাই এই ভন্ড ধর্মনিরপেক্ষতার মুখোশ খুলে যদি কোন রাজনৈতিক দল প্রকৃত মুসলমানদের উন্নয়ন করতে চাই তাহলে তাঁদের প্রধান কাজ হল মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা বন্ধ করা এবং দেশে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি প্রণয়ন করা (Uniform civil code). তাই সব বিষয়ে রাজনীতি না করে সাধারণ মুসলমানরাও যাতে সমাজের মূলস্রোতে আসতে পারে তাঁর ব্যবস্থা করা প্রতিটি রাজনৈতিক দলের কর্তব্য, তাই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত না নিয়ে মানবিক সিদ্ধান্ত নিন। মুসলমানদের প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব যখন তাঁরা ব্যাপক অর্থে মুক্তচিন্তায় দীক্ষিত হতে পারবে, সেই প্রচেষ্টা বিশ্বের সমস্ত দেশের শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ ও সরকারের করা প্রয়োজন!

পরিশেষে একথা বলতে পারি পাকিস্তানের শিয়ালকোটের ঘটনা আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে এই বিষয়টি নিয়ে চুপ করে বসে থাকার সময় নয় বরং এই নিয়ে গভীর ভাবে চিন্তা করার সময় এসেছে না হলে সমাজ সভ্যতা কিছুই বাঁচবে না। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার ও গণতান্ত্রিক সংগঠনের কাছে অনুরোধ আপনারা কোথাও ‘ব্ল্যাসফেমি আইনের’ মতো কালো আইনের অস্তিত্ব স্বীকার করবেন না এর ফল কি হতে পারে তা পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মৌলবাদী তালিবান শাসন থেকেই বোঝা যায়। আপনারা মুক্তচিন্তা ও বাক স্বাধীনতার পক্ষে থাকুন এবং ধর্ম মানার সঙ্গে সঙ্গে ধর্ম না মানা ও যে মৌলিক অধিকার তা স্বীকার করুন।

প্রতিটি ক্রিয়ার সমান ও বিপরীত মুখি প্রতিক্রিয়া রয়েছে আমরা আশাবাদী শিয়ালকোটের এই ঘটনার ফলে সাধারণ মুসলমানরা চিন্তা করতে বাধ্য হবে এবং এই ধর্মের বর্বরতা দেখে ধর্ম থেকে বের হয়ে আসবে আর এভাবেই আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত মুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে পারব! একটি কথা উল্লেখ্য মুমিন ভাইয়েরা প্রায়ই বলে থাকেন এগুলি ইসলাম বিদ্বেষ থেকে লেখা কিন্তু আসল সত্যটি হল আমাদের লেখার মূল উদ্দেশ্য হল বিশ্বের সামনে সত্য কথাটি তুলে ধরা আশাবাদী এর ফলে বহু মুমিন ভাইয়েরা ধর্মান্ধতা মুক্ত হয়ে মানবিক মানুষে পরিণত হবেন!

ইসলামের এত প্রসার ও এতদিন টিকে থাকার মূল কারণ হল অজ্ঞতা, মুসলমানরা এতদিন বিশ্বের বিভিন্ন ধর্মের মানুষের কাছ থেকে ইসলামের মূল ভাবাদর্শ কি তা দূরে রাখত। তাই তাঁরা ইসলামের প্রকৃত স্বরূপ বুঝতে পারত না এবং যেহেতু ইসলামে প্রশ্ন করার অধিকার নেই এবং ধর্ম ত্যাগের শান্তি মৃত্যুদন্ড তাই বহু মুক্তচিন্তক মুসলমানের মনে ইসলাম নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও তা করার সাহস ও সুযোগ পেতেন না, বস্তুত এই হুমকি ও মৃত্যুদন্ডের ভয়ের ফলেই ইসলাম এতদিন টিকে ছিল! পৃথিবীর ইতিহাস বলে ধর্ম কোন দিনই বিজ্ঞান, সমাজ ও সভ্যতার অগ্রগতি রুখে দিতে পারেনি। তাই বর্তমান ইন্টারনেটের যুগে শুধুমাত্র কল্লা কেটে ইসলামের মতো এক বর্বর ধর্মীয় মতাদর্শ টিকিয়ে রাখা যাবে না! আমি আশাবাদী আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব এবং আগামীর জন্য ধর্মান্ধতা মুক্ত এক সুন্দর পৃথিবী রেখে যেতে পারব!

তথ্যসূত্র:-

1) Dawn.

https://www.dawn.com/news/1661728/sialkot-mob-lynches-sri-lankan-factory-manager-burns-corpse-over-blasphemy-allegations

https://www.dawn.com/news/1149558/the-untold-story-of-pakistans-blasphemy-law

https://www.dawn.com/news/1662043/horror-in-sialkot

https://www.dawn.com/news/1326729

2) The Guardian.

https://www.google.co.in/amp/s/amp.theguardian.com/world/2020/feb/25/asia-bibi-the-pakistani-christian-exiled-to-canada-still-dreams-of-going-home?espv=1

3) The Indian Express.

https://www.google.co.in/amp/s/indianexpress.com/article/cities/mumbai/muslim-organisation-aimplb-anti-blasphemy-law-7645036/lite/?espv=1

4)  ধর্মকারী।

(বিশেষ কৃতজ্ঞতা গোলাপ মাহমুদ ভাইয়ের প্রতি।)

http://www.dhormockery.org/2014/08/blog-post_55.html?m=1

5) সহি হাদিস।

https://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=27356

শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published.