শহীদুল ও রাশেদ এর জীবনের অন্ত

শহীদুল হক ঢাকায় থাকেন। জীবিকার তাগিদে ঢাকার পথে পা বাড়ান তিনি। ঢাকার পথে রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে সব পরিস্থিতিতেই তাকে দেখা যায় রিক্সা চালাতে। সামর্থ্য কম হলেও স্বপ্ন দেখেন অনেক বড়। তার ইচ্ছা তার একমাত্র মেয়েকে তিনি ডাক্তারি পড়াবেন। যদিও তার গ্রামে নারী শিক্ষার প্রতি এক বিরূপ প্রভাব বিদ্যমান। কিন্তু শহীদুল হক তার পরোয়া করেন না। সমাজের অনগ্রসরতার জঞ্জাল ঢেলে পরিষ্কার করতে চান তিনি। তার দেখা স্বপ্ন রূপ দেবার জন্যও তার মেয়ের অবদান অনস্বীকার্য। নানা মানুষের নানা কথা উপেক্ষা করে সে পড়ালেখা চালিয়ে যায় ।


শহীদুল হক ঢাকায় থাকেন। জীবিকার তাগিদে ঢাকার পথে পা বাড়ান তিনি। ঢাকার পথে রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে সব পরিস্থিতিতেই তাকে দেখা যায় রিক্সা চালাতে। সামর্থ্য কম হলেও স্বপ্ন দেখেন অনেক বড়। তার ইচ্ছা তার একমাত্র মেয়েকে তিনি ডাক্তারি পড়াবেন। যদিও তার গ্রামে নারী শিক্ষার প্রতি এক বিরূপ প্রভাব বিদ্যমান। কিন্তু শহীদুল হক তার পরোয়া করেন না। সমাজের অনগ্রসরতার জঞ্জাল ঢেলে পরিষ্কার করতে চান তিনি। তার দেখা স্বপ্ন রূপ দেবার জন্যও তার মেয়ের অবদান অনস্বীকার্য। নানা মানুষের নানা কথা উপেক্ষা করে সে পড়ালেখা চালিয়ে যায় ।

শহীদুল হক আজ গ্রামে যাচ্ছেন। ঈদ শেষ। কিছু টাকা জমিয়েছিলেন তা নিয়ে এখন গ্রামে যাচ্ছেন। না খেয়ে জমানো টাকা শুধু মেয়ের পড়ালেখার জন্য এত কষ্ট করেন তিনি। তা না হলে আরামেই কাটাতে পারতেন জীবন। বাসে উঠেছেন তিনি। পড়নে একটা নতুন লুঙ্গি ও নতুন সার্ট। গ্রামে যাচ্ছেন সেই ভেবেই তার মন আজ বেজায় খুশি। কত দিন পর তার মায়ের মত মেয়েটাকে দেখতে পাবেন,তার স্ত্রীকে দেখতে পাবেন। বাস ছাড়ার সময় হয়ে এলো প্রায়, তার পাশের ছিট টি এখনও খালি বাকি গুলো ভরে গিয়েছে। হয়ত তার এই সাদামাটা পোশাকই এর জন্য দায়ী। একজন আসলো, তার পাশের সিট ছাড়া বাসে আর কোন সিট খালি নেই।তাই লোকটি এখানেই বসলেন। ভাল দামী জামা কাপড় পড়ে আছেন লোক টি। হয়তো বড় কোন অফিসের কর্মকর্তা হবেন। এমন ধারণা শহীদুলের।

বাস যথা সময়ে ছেড়ে গেল, তাদের গন্তব্য স্থল কুমিল্লা। সেই যথারীতি যাত্রাবাড়ীর জ্যাম! ধীরে ধীরে গাড়ি এগুতে লাগলো। হালকা বৃষ্টি হয়েছে একটু আগে, এখন আবার রোদ উঠেছে। বাস ছেড়েছে প্রায় ঘণ্টা খানেক পার হয়ে গেল,কিন্তু শহীদুল সাহেব ও তার পাশের লোকের মধ্যে কোন কথা নেই। শহীদুল সাহেবের ধারণ সে গরিব মানুষ এমন অফিসারকে কিছু জিজ্ঞাসা করলে যদি রাগ করে, তাই শহীদুল সাহেব কিছু বললেন না। তার পাশের লোকটি কিছুক্ষণ পরে হঠাৎ শহীদুল সাহেব কে তার নাম জিজ্ঞাসা করলেন। শহীদুল সাহেব নিজের নাম জানালেন এবং পাশে বসা যাত্রীর নাম জিজ্ঞাসা করলেন। পাশের যাত্রী জানালেন তার নাম রাশেদ। শহীদুল রাশেদ কে জিজ্ঞাসা করলেন তিনি কি করেন। রাশেদ একটা ছোট চাকরি করেন। রাশেদ ও শহীদুলের মধ্য কথা হচ্ছে। শহীদুল নিজের সম্পর্কে বলে রাশেদ কে। রাশেদও শহীদুল কে বলতে থাকেন। ভদ্রতার খাতিরে ও নিজ সম্মানের চিন্তায় অনেক কথাই তাদের মধ্যে গোপন রয়ে যায়।

রাশেদ ও জীবিকার তাগিদে ঢাকার পথে পা বাড়ান। রাশেদ ঢাকার একটি কাপড়ের দোকানে চাকরি করেন। তার গ্রামে তার মা ও বউ আছে। কয়েক মাস আগেই বিয়ে হয়েছে তাদের। অর্থের ক্রমবৃদ্ধি-মান চাহিদার কাছে হার মানে নব বধূর মায়া। বিয়ের কয়েক দিন পড় আবার ঢাকায় ফিরে আসেন রাশেদ। বিয়ের পর এটাই তার প্রথম ঈদ। অনেক দিন পর যাচ্ছেন তিনি। তার বউ এর জন্য একটা লালটুক টুকে শাড়ি নিয়েছেন তিনি। রাশেদ বাসে বসে সেই লাল শাড়িতে তার স্ত্রীকে কল্পনা করতে থাকেন এবং সাথে সাথে তার সারা গা শিহরিত হয়। সেই রাতের কথা মনে পড়ে যায় তার কিন্তু পরক্ষনেই বাসের ঝাঁকুনিতে বাস্তবতায় ফিরে আসেন তিনি।
রাশেদ,শহীদুল কে ডেকে জিজ্ঞাসা করেন বাড়িত জন্য কি কি কিনে নিয়া যাচ্ছেন। শহীদুল বলে , গত পরশু দিন গুলিস্তান থেকে লুঙ্গি ও শার্ট কিনেছেন। পড়নের শার্ট ও লুঙ্গির দিকে দেখিয়ে বলেন । আগের জামা কাপড় গুলো ছিরে গিয়েছে। ওগুলো পড়ে গেলে তার মেয়ে ও বউ এর বকা শুনতে হবে। সেই এক ঘ্যাঙ ঘেঙানি- আমরা কি তোমার কাছে এত কিছু চেয়েছি? নিজের জন্য একটা ভাল জামা কিনতে পারো না! এগুলো আর ভাল লাগে না শহীদুলের তাই সে সস্তায় কিনে নিয়েছে। তার মেয়ে এবার এসএসসি পরীক্ষা দিবে, মেয়ে আগে জানিয়েছিল কিছু বই এর কথা সেগুলো কিনে নিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া তার স্ত্রী ও মেয়ের জন্য জামা কাপড় নিয়েছেন ঈদের জন্য কিনেছিলেন কিন্তু ঈদের আগে গ্রামে যাওয়া হয় নি। এখন যাচ্ছেন তিনি। শহীদুল এবার রাশেদের কাছে জানতে চাইল সে কি নিয়ে যাচ্ছেন। রাশেদ তার স্ত্রী জন্য নিয়ে যাওয়া লাল শড়িটির কথা জানান, সাথে তার বিধবা মায়ের জন্য নেয়া শাড়ির কথা। আবার দুই জনের মাঝে সেই নিশ্চুপতা। হঠাৎ পেছন থেকে দ্রুত আশা এক বাসের ধাক্কা! তাদের বাসটি খাদে পড়ে গেল। তাদের নিশ্চুপতা আর কাটলো না। তাদের আর বাড়ি যাওয়া হল না।
রাশেদ লাল শাড়িতে আর তার বউ কে দেখতে পাড়ল না। তার বিধবা মায়ের হাতে টাকা দিতে পারলো না,শাড়ি দিতে পারল না। আর শহীদুল সাহেবের স্বপ্ন অঙ্কুরেই বিনষ্ট হল। তার মেয়েকে আর ডাক্তারি পড়ানো হল না। সবই শেষ এখন। রাশেদের নব বধূ-বিধবা মা কিংবা শহীদুলের মেয়ে-বউ এর কি হবে কেউ জানে না। রাশেদ, শহীদের মৃত্যুর খবর কি আদৌ তাদের কাছে পৌঁছাবে?

উৎসর্গ: সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হাড়নো ব্যক্তি বর্গকে।

এভাবেই হাজার হাজার শহীদুল ও রাশেদের মৃত্যু হয়। যা তাদের পরিবার হয়তো জানেও না। হয়তো ভুল বুঝে সারা জীবন এই শহীদুল ও রাশেদুল কে ঘৃনা করে কাটিয়ে দেয় তাদের পরিবার গুলো।এই ঈদে ও চলে গেল কত গুলো মূল্যবান প্রাণ। আর কত জীবন গেলে সচেতন হব আমরা? আর কত স্বপ্ন ভঙ্গবো আমরা? আর কত?

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১৩ thoughts on “শহীদুল ও রাশেদ এর জীবনের অন্ত

  1. [অর্থের ক্রমবৃদ্ধি-মান
    [অর্থের ক্রমবৃদ্ধি-মান চাহিদার কাছে হার মানে নব বধূর মায়া।]

    এই কথাটা অসাম লেগেছে।

    1. একটূ শৈল্পিক হতে চেয়েছিলাম
      একটূ শৈল্পিক হতে চেয়েছিলাম পুরো লেখাটিতেই কিন্তু পারি নি। এটা ঐ চেষ্টার সামান্য অংশ।

      পড়ার জন্য ধন্যবাদ

  2. ভালো লাগলো।কিন্তু আপনার ঐ
    ভালো লাগলো।কিন্তু আপনার ঐ বানান ভুল ব্যাপারটা চোখে লাগছে একটু।’পর’ শব্দটাকে বারবার আপনি ‘পড়’ লিখেছেন।

    1. অভ্র যেমন উপকারী অপকারীও
      :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: অভ্র যেমন উপকারী অপকারীও বটে!!
      বার বার এই ভুল হচ্ছে!! অভ্র তে পর লিখলে প্রথমে পড় হয়ে যায় আবার ঠিক করতে হয়! কি মুশকিল!! :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি:

  3. জয় ভাই,কয়েকটা বানানে সমস্যা
    জয় ভাই,কয়েকটা বানানে সমস্যা আছে,দুর্ঘটনার অংশটুকু ভাল হয়নাই,পুরো গল্পের রাশেদ শেষে এসে রাশেদুল হয়ে গেছে এবং প্রথমদিকে সে আর আপনি তে সমস্যা আছে
    লিখতে থাকুন,আপনার জন্য শুভকামনা রইল

    1. হ্যা ভাই আমি পরে রিভিউ করে
      হ্যা ভাই আমি পরে রিভিউ করে দেখলাম ভুল গুলো। আসলে খুব তাড়াহুড়া করে লিখার কারণে এই ভুল। ধন্যবাদ আপনাকে।

    1. হাহা। আমি মনে করি প্রশংসা
      হাহা। আমি মনে করি প্রশংসা করার চেয়ে সমালোচনা করা খুবই কঠিন কাজ। আর রবী ঠাকুর বলে গিয়েছে।-

      সমালোচকরে বাসি আমি সবার চেয়ে ভাল
      বিনা পয়শায় ধুয়ে ফেলে সকল ধুলি কালো।

      {হুবহু মনে নেই, তবে এমনই}

  4. আমার মাস্টার মশাই আতিক সাহেব
    আমার মাস্টার মশাই আতিক সাহেব ও ওস্তাদ কায়সার ভাই গেলেন কোথায়??
    মিসিং রিপোর্ট দাখিল করতে হবে মনে হচ্ছে!!!

  5. লেখা ভালো হয়েছে। কিন্তু কয়েক
    লেখা ভালো হয়েছে। কিন্তু কয়েক লাইন পড়লেই বোঝা যায় কোন এক অস্থির ছেলের কাঁচা হাতের লেখা। খুব সাদা মাটা ঘটনার বর্ননা। লেখায় বিশেষ কোন ম্যাসেজও নেই। ব্যাপারটা হতাশাজনক। কারন যে ছেলেটা এতো ধৈর্য্য নিয়ে, এতো লেখা লিখছে তার লেখা এমন পালবিহীন নৌকার মতন কেন হবে?

    আমার মনে হয় আপনি পড়েন কম। আপনার যেহেতু মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে খুব কৌতূহল সেক্ষেত্রে আমি বলবো, ইন্টারনেটে মুক্তিযুদ্ধের ওপর অসংখ্য বই আছে। সেগুলো পড়া শুরু করুন। আমি এই মুহূর্তে “বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র” পড়ছি। অসাধারণ বই। প্রায় ১১০০০ পৃষ্ঠার বই। পড়তে খবর হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কেমন যেন নেশা ধরে গেছে।
    ট্রাই ইট। ভালো লাগবে আশা করি। অনেক কিছু জানতেও পারবেন, লেখার ইন্সপিরেশনও পেয়ে যাবেন আশা করি।

    যাই হোক, নিজের লেখা নিজের কাছে কেমন লাগছে?

    1. নিজের লিখা নিজের কাছে কেমন

      নিজের লিখা নিজের কাছে কেমন লাগলো

      এটা জিজ্ঞাসা করা বোকামির কাজ কারণ নিজের ভুল কি নিজে ধরা যায়?
      আসলে আমি চেয়েছিল প্রত্যেক মানুষের যে ইচ্ছা আকাঙ্গখা থাকে সেগুলো এই সব দুর্ঘটনার জন্য অপুরনায় থেকে যায় .।

      শহীদুলের মেয়ের পড়া লিখা রাশেদের নব বধূ এই

      আমি সর্বদা আপনার আর আতিক ভাই এর মন্তব্যের অপেক্ষায় থাকি! আপনারা ভুল গুলো ধরিয়ে দেন ধন্যবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 40 = 44