হিজাব বিতর্ক, পর্দা প্রথার সৃষ্টি ও প্রাসঙ্গিক কিছু কথা- প্রথম পর্ব

সাম্প্রতিক সময়ে ভারতবর্ষে হিজাব নিয়ে সবচেয়ে বড় বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই হিজাব বিতর্কের শুরু হয় কর্ণাটক রাজ্যের উদীপির এক কলেজে পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে কয়েক জন ছাত্রীকে হিজাব পরে কলেজে আসতে বাধা দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়। বিতর্কটি আরও বৃদ্ধি পায় যখন মান্দা প্রি ইউনিভার্সিটির কলেজের ছাত্রী মুসকান স্কুটি চড়ে বোরখা পরে কলেজ চত্বরে পা রাখতেই একদল ছাত্র বিক্ষোভ শুরু করে ও জয় শ্রীরাম শ্লোগান দিতে থাকে এবং এমন সময় মুসকান নামে ওই ছাত্রীটি আল্লা হুয়াকবর বলে শ্লোগান দিতে থাকে এবং এর ফলে বিষয়টি ব্যাপক প্রসার ঘটে, ঘটনাটি দেশ ছাড়িয়ে গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। একশ্রেণীর মিডিয়া ও বুদ্ধিজীবীরা এই ঘটনাটিকে সেকুলারিজম ও প্রতিবাদের স্বর বলে তুলে ধরছেন।

□ এখন প্রশ্ন হল এই মূল্যায়ন কি যথার্থ?

প্রথমেই বলা ভালো স্কুল ও কলেজ হল একটি শিক্ষা ক্ষেত্র সেখানে জয় শ্রীরাম বা আল্লাহুয়াকবর ধ্বনি উচ্চারণ করা উচিত নয় এগুলি বন্ধ হওয়া উচিত। এর ফলে স্কুল, কলেজে সাম্প্রদায়িক পরিবেশ গড়ে ওঠে যা পঠন পাঠন প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন সৃষ্টি করে এবং এর ফলে জাতীয় সংহতি বিনষ্ট হয়!এখন বেশ কিছু প্রশ্ন আসে। প্রথম কথা হল স্কুল, কলেজ কি হিজাব, বোরখা পরে আসার জায়গা? স্কুল, কলেজে মানুষ যায় কেন? স্কুল, কলেজে ইউনিফর্ম থাকে কেন?

স্কুল, কলেজে মানুষ যায় উচ্চতর শিক্ষা অর্জন করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য। স্কুল, কলেজ এমন একটি জায়গা যেখানে মানুষ চিন্তা করতে শেখে এবং ধর্মান্ধতার বেড়ি ভেঙে এগিয়ে যেতে শেখে। এখন যদি হিজাব পরে কেউ স্কুল বা কলেজ যায় তিনি কি নিজে থেকেই ধর্মান্ধতায় নিমজ্জিত হচ্ছেন না? স্কুলে ইউনিফর্ম থাকে কারণ সেখানে জাতি, ধর্ম, বর্ণ সকলে সমান, এই শিক্ষা দেওয়া হয় এবং এতে আমাদের জাতীয় ঐক্য গড়ে ওঠে। এখন প্রশ্ন হল হিজাব বা কোন ধর্মীয় চিন্হ কি এই সংহতিতে বাধা প্রদান করে না? সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল যাঁরা হিজাব ইজ মাই চয়েস বলে আন্দোলন করছে তাঁদের কাছে প্রশ্ন ইসলাম কি শিক্ষার অধিকার দেয়? হিজাব কি সত্যিই চয়েস না বাধ্যতামূলক?

এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য ইসলাম যেখানে বাড়ির বাইরে যাওয়ার অধিকার দেয় না সেখানে শিক্ষা তো অনেক দূরের বিষয়। এ প্রসঙ্গে কোরানের এই আয়াতটি উল্লেখযোগ্য।

□ সূরা আল আহযাব:33 – তোমরা গৃহাভ্যন্তরে অবস্থান করবে-মূর্খতা যুগের অনুরূপ নিজেদেরকে প্রদর্শন করবে না। নামায কায়েম করবে, যাকাত প্রদান করবে এবং আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করবে। হে নবী পরিবারের সদস্যবর্গ। আল্লাহ কেবল চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদেরকে পূর্ণরূপে পূত-পবিত্র রাখতে।

প্রকৃতপক্ষে বলা যায় কোরানের এই আয়তটি নবীর পরিবারের জন্য নাজিল হলে ও ধীরে ধীরে নবীর সুন্নত অনুযায়ী সমস্ত মুসলমান নারীর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

তাই এখানে উল্লেখ্য, যে কোরান নারীকে বাড়ির বাইরে যাওয়ার অধিকার প্রদান করে না, সেখানে নারী শিক্ষা তো অনেক দূরের বিষয়। এইসব কারণেই তালিবানরা নারী শিক্ষাকে স্বীকার করে না। যদি ও নবীর যুগে কোরান মুখস্ত করার অধিকার ছিল কারণ ওটাই ছিল তখন শিক্ষা। বস্তুত এই ঘটনাটিকে কেন্দ্র করেই মুমিন ভাইয়েরা দাবি করে ইসলাম নারী শিক্ষা বিরোধী নয়। তাহলে প্রশ্ন হল তালিবানরা কেন নারীদের শিক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করে না? কেন তাঁরা সমস্ত, স্কুল, কলেজ বন্ধ করে দিয়েছিল? পাকিস্তানে মালালা ইউসুফজাইকে শিক্ষার অধিকারের জন্য কেন গুলি খেতে হয়েছিল? যদিও বর্তমানে আন্তর্জাতিক চাপের কারণে তালিবান শাসকদের ও ধীরে ধীরে স্কুল খোলার দিকে এগোতে হচ্ছে।

প্রকৃত পক্ষে ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গীতে কোরান, হাদিস ছাড়া অন্যান্য সমস্ত শিক্ষা হল কুফরি শিক্ষা যা নিষিদ্ধ। যদিও এখানে একটি হাদিস খুবই প্রচলিত যে নবী বলেছেন, ‘শিক্ষার জন্য সদূর চীনে যেতে হলে ও যেতে হবে’! বলাইবাহুল্য এগুলি মূলত ইসলামের মাধুর্যতা বৃদ্ধি করার জন্য রটনা, বাস্তবিক এমন কোন হাদিসের অস্তিত্ব পাওয়া যায় না। প্রকৃত সত্য হল ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গিতে সমস্ত ধরণের ভিন্ন শিক্ষা হল কুফরি শিক্ষা যা গ্রহণ করা যাবে না। এই কারণেই বহু বছর কাফেরদের ইংরেজি শিক্ষা গ্রহণ না করার ফলে ভারতের মুসলমান সমাজ পিছিয়ে পড়ে এবং পরবর্তীকালে সমাজে বৈষম্যের সৃষ্টি হয় এবং তাঁর শেষ পরিণতি হিসাবে দেশভাগের মতো মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে!

এখন প্রশ্ন হল এই হিজাবি নারীরা কেন শিক্ষা গ্রহণ করছেন? তাঁরা নিজেদের ইন্টারভিউতে বলেছেন যে তাঁরা শিক্ষা অর্জন করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই। এখন প্রশ্ন হল একদিকে হিজাব পালন করব অন্যদিকে নিজের পায়ে দাঁড়াবো ইসলাম কি এই শিক্ষা দেয়? প্রসঙ্গত বলা ভালো একদিকে হিজাব পালন করব আর অন্যদিকে স্বনির্ভর হব এটা কি স্ববিরোধতা নয়? ইসলাম কি এর অনুমতি দেয়? এইসব কারণেই সহি ইসলামি শাসন ব্যবস্থায়, তালিবানি শাসনে নারীদের কর্মক্ষেত্র থেকে বাতিল করে ঘরের অন্ধকারে বন্দি করে রাখা হয়েছে।

আসলে যারা প্রকৃত ইসলামি শাসন কি জিনিস তা সম্পর্কে সচেতন নয় তারাই মূলত শরিয়তি আইন, হিজাব, রোরখা এগুলির দাবি করে। এই কারণেই আমরা দেখি ভারত তথা ইউরোপ, আমেরিকা প্রভৃতি গণতান্ত্রিক দেশে মুমিনা নারীরা হিজাব ইজ মাই চয়েস বলে আন্দোলন করে আবার শরিয়তি আইনের দাবি করে। অন্যদিকে যখন প্রকৃতপক্ষে কোন দেশে ইসলামের শাসন শুরু হয় তখন তাঁরা বুঝতে পারে ইসলাম কি জিনিস এবং শরিয়তি আইন কি? তখন তাঁরা দেশত্যাগ করতে বাধ্য হয় এবং সেই গণতান্ত্রিক দেশগুলিতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।

আবার ওই সব গণতান্ত্রিক দেশে এসে পুনরায় শরিয়তি আইন ও ইসলামি শাসন ব্যবস্থার কথা বলে, এ এক অদ্ভুত দুষ্টচক্র যা থেকে সহজে নিস্তার পাওয়া যায় না। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় সিরিয়া, ইরাক, ইরান, আফগানিস্তান প্রভৃতি দেশ থেকে হাজার হাজার মানুষ শরণার্থী হিসাবে ইউরোপে যায় যখন তাঁরা কিছুটা ধাতস্থ হয় তখন তাঁরা আবার ইউরোপে শরিয়তি আইন চাই বলে দাবি তোলে, এর ফলে ইউরোপে নানা সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।

সহি ইসলাম কি জিনিস তা আফগানিস্তানের সাধারণ মানুষ হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে। বিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে আফগানিস্তানে যখন প্রেসিডেন্ট নাজিবুল্লাকে ল্যাম্প পোস্টে টাঙিয়ে দিয়ে মোল্লা ওমরের নেতৃত্বে তালিবানি শাসন শুরু হয় তখন প্রথম দিকে আফগানিস্তানের সাধারণ মানুষ খুব খুশি ছিল। কারণ তাঁরা মনে করত এই ইসলামি শাসন ব্যবস্থা খুব দ্রুত তাঁদের সমস্ত দুঃখ দুর্দশা দূর করবে এবং সহি ইসলামি শাসন প্রতিষ্ঠা হবে। কিন্তু খুব দ্রুতই তাঁদের সেই আশা ভাঙতে থাকে। তালিবান ক্ষমতায় এসেই সমস্ত নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয় এবং নারীদের কাজের অধিকার কেড়ে নেয়। দেশব্যাপী হিজাব ও বোরখা বাধ্যতামূলক করে এবং কেউ আইন ভঙ্গ করলে তাকে প্রকাশ্যে বেত মারা হত আবার কখনও কখনও প্রকাশ্যে হত্যা করা হত। নারীরা পুরুষ অভিভাবক ছাড়া বাড়ির বাইরে বের হতে পারবে না এবং প্রকাশ্যে প্রেমিক প্রেমিকাকে দেখতে পেলে তাঁদের কঠোর শাস্তির বিধান ছিল। চুরির শাস্তি হাতকাটা, ছোট ছোট সাজার জন্য প্রকাশ্যে টাঙিয়ে দেওয়া, বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের অপরাধে রজমের (পাথর ছুড়ে হত্যা) বিধান করা হয়।

এছাড়া ও টিভি, ইন্টারনেট, রেডিও, টেপ সব নিষিদ্ধ! তালিবান জামানাই টেপ, টিভি, রেডিও এগুলি কাবুলের ল্যাম্প পোস্টে ঝুলত, পুরুষদের ও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও দাড়ি রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়, এর ব্যতিক্রম হলে কঠোর শাস্তির বিধান ছিল। বস্তুত তালিবানি শাসনে আফগানিস্তান কয়েক হাজার বছর আগের মধ্যযুগে ফিরে গিয়েছিল। তারপর 2001 সালে আমেরিকার আক্রমণে আফগানিস্তানে তালিবান শাসনের পতন হয় এবং মানুষ আধুনিকতার ছোঁয়া পায়। দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হল দীর্ঘ কুড়ি বছর পর 2021 সালের 15 ই আগস্ট পুনরায় আফগানিস্তানে তালিবানের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয়। তাই আফগানিস্তান যেখান থেকে শুরু করেছিল আবার পুনরায় সেখানেই এসে উপস্থিত হয়। যদিও এবার তালিবান প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে যে তাঁরা আর আগের মতো বর্বরতা দেখাবে না কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে তালিবানের কোন পরিবর্তন হয়নি। এইসব কারণেই এখন ও পর্যন্ত পৃথিবীর কোন দেশই তালিবানি শাসনকে স্বীকৃতি দেয়নি!

যাইহোক আফগানিস্তানের মানুষ যাঁরা তালিবান শাসন দেখেছে তাঁরা জানে তালিবানি শাসন কি জিনিস! তাই তাঁরা মৃত্যুর পরোয়া না করেই এরোপ্লেনে উঠে দেশ ছেড়ে চলে যেতে চাই। প্লেনে জায়গা না পেয়ে বহু মানুষ প্লেন ধরে উঠে পড়ে এবং প্লেন শুরু হলে বহু মানুষের প্লেন থেকে পড়ে মৃত্যু হয়। ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে গোটা বিশ্বের মানুষ এমন হৃদয় বিদারক ঘটনা দেখতে পাই। এই হচ্ছে সহি ইসলাম! সহি ইসলাম কি জিনিস, যে আফগানিস্তানের মানুষ মৃত্যু পচ্ছন্দ করছে কিন্তু তালিবানি শাসনে থাকতে রাজি নয়। অন্যদিকে, সহি ইসলাম থেকে বাঁচতে আফগানিস্তান, সৌদি আরব, ইরান, ইরাক প্রভৃতি দেশে মুসলমান মহিলারা আন্দোলন করছে “ফ্রি হিজাব ক্যাম্পেন” শুরু করেছে। অন্যদিকে ভারতবর্ষের মতো দেশে চলছে তাঁর উল্টো পথ, এখানে হচ্ছে, “হিজাব ইজ মাই চয়েস”।

বস্তুত বলা যায় আফগানিস্তান, ইরাক, ইরান, সৌদি আরব এইসব দেশগুলি এগোচ্ছে অন্যদিকে আমরা পেছন দিকে হাঁটছি! আর এক্ষেত্রে মিডিয়া ও বুদ্ধিজীবীদের অদ্ভুত ভূমিকা আমরা লক্ষ্য করি আমাদের দেশের মিডিয়াতে ‘ফ্রি হিজাব ক্যাম্পেন’ নিয়ে কোন আলোচনা নেই। কত নারী নিজেদের সর্বোচ্চ ত্যাগ করে মৃত্যু পরোয়ানা মাথায় নিয়ে ‘ফ্রি হিজাব ক্যাম্পেন’ জারি রেখেছে সে নিয়ে কোন উচ্চবাচ্য নেই অন্যদিকে ভারতের মতো গণতান্ত্রিক দেশে কিছু নারী ‘হিজাব ইজ মাই চয়েস’ বলে ক্যাম্পেন শুরু করলে সেটা বিরাট মিডিয়া কভারেজ পাচ্ছে, বোঝানো হয় যেন সকল মুসলমান মেয়েরাই হিজাব বোরখা পরতে চাই?

বলাইবাহুল্য সামান্য কিছু সংখ্যক নারীরা হিজাব, বোরখার নামে ‘দাসত্বের কারাগারকে’ পচ্ছন্দ করলে ও বেশিরভাগ মুসলমান নারীই কিন্তু এগুলি অপচ্ছন্দ করে। সে নিয়ে কি কোন প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে? আসলে আমাদের দেশে সব কিছুই চলে রাজনীতি ও অর্থনীতিকে কেন্দ্র করে। বেশ কিছু ভন্ড বুদ্ধিজীবী, সংবাদমাধ্যম ও ভন্ড ধর্মনিরপেক্ষ দল এটিকে কাজে লাগাতে চাই রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্য। তাঁরা মনে করে মুসলমান সমাজ এভাবেই পিছিয়ে থাকলে তাঁদের রাজনৈতিক প্রতিপত্তি ধরে রাখতে সুবিধা হবে। অন্যদিকে মিডিয়ার একাংশ মনে করে জনগণের বেশিরভাগ যা পচ্ছন্দ করে সেটি প্রকাশ পেলেই ভিউ বৃদ্ধি পাবে ও বেশি মুনাফা অর্জন হবে।

এখন প্রশ্ন হল ভন্ড ধর্ম নিরপেক্ষতার নামে যা চলছে তা কি যৌক্তিক? আমরা কি মুসলমান সমাজকে আরও অন্ধকারের দিকে এগিয়ে দিতে চাই নাকি আলোর দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই? মোল্লাতন্ত্রের হাত শক্ত করে কি প্রগতিশীল মুসলমান সমাজের প্রকৃত উন্নতি সম্ভব? এই হিজাব, বোরখা ইত্যাদির জন্যই কি বেগম রোকেয়ায় মতো মহা মানবীকে এত কষ্ট সহ্য করতে হয়েছিল?

আসলে ভারতবর্ষে ও এক সময় মুসলিম নারীদের শিক্ষা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল, বেগম রোকেয়ার মতো মহা মানবীর প্রচেষ্টায় তাঁরা ঘরের অন্ধকার থেকে বের হয়ে শিক্ষা অর্জনের সুযোগ পেয়েছিল। অথচ শিক্ষা অর্জনের সেই সুযোগ পেয়ে তাঁর আগামী প্রজন্ম আবার সেই হিজাব, বোরখার মতো বিষয়কে আঁকড়ে ধরে অন্ধকারের দিকে নিমজ্জিত হতে চাই, এটি কি জাতির লজ্জা নয়? এটি কি বেগম রোকেয়ার মতো মহা মানবীর আদর্শের বিরুদ্ধে নয়? এটি কি বেগম রোকেয়াকে অশ্রদ্ধা নয়?

এখন প্রশ্ন হল যাঁরা হিজাব ইজ মাই চয়েস বলে আন্দোলন করছে তাঁদের কাছে প্রশ্ন আপনারা কি আফগানিস্তানের মতো শাসন ব্যবস্থা চান? কদিন আফগানিস্তান থেকে ঘুরে এসে দেখুন না আফগানিস্তানের নারীরা কতটা স্বাধীনতা অর্জন করছে। এমনি সাধারণ পোষাক পরিহিত এইসব রমণীরা যাঁরা স্কুল, কলেজে হিজাব, বোরখা পরে যাওয়ার পক্ষপাতী সেইসব নারীদের কাছে প্রশ্ন আফগানিস্তান, ইরান প্রভৃতি দেশে সাধারণ পোষাক পরার সুযোগ রয়েছে কি? হিজাব ইজ মাই চয়েস না হিজাব কম্পালসারি? হিজাব পরা যদি অধিকার হয় তাহলে এইসব দেশে হিজাব না পরার অধিকার রয়েছে কি? এইসব দেশে জিন্স, টি শার্ট বা মনের মতো পোশাক পরার অধিকার রয়েছে কি? যদি এগুলির অধিকার না থাকে তাহলে প্রশ্ন হল ভারতবর্ষকে তালিবানি মতাদর্শে দীক্ষিত করার কি প্রয়োজন রয়েছে?

হাস্যকর বিষয় হল যাঁরা নারীর শিক্ষাকে স্বীকৃতি দেয় না সেই তালিবানরা ও হিজাব ক্যাম্পেনকে  সমর্থন করছে। পাকিস্তানের মতো দেশ যাঁরা ব্ল্যাসফেমির নামে হাজার হাজার মানুষকে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করে, সংখ্যালঘুদের অত্যাচার করে তারা ভারতকে হিজাব বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছে! যাইহোক এখন আমাদের গভীরভাবে চিন্তা করার সময় এসেছে আমরা কি ভাবি প্রজন্মকে তালিবানি শাসন ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে দিতে চাই? তাই প্রতিটি সচেতন নাগরিকের কর্তব্য হল আমাদের স্কুল প্রাঙ্গনে হিজাব, বোরখার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে তবেই আমাদের আধুনিক সমাজ ও সভ্যতা বাঁচবে।

□ এখন অনেকেই বলবেন একটা হিজাব পরলে কি সমস্যা রয়েছে? কে কি পরবে তা তাঁদের ব্যাক্তিগত বিষয়, এতে কি সমস্যা রয়েছে?

তাঁদের উদ্দেশ্যে বলি বিষয়টি এত সরল নয়, হিজাব একটি জঘন্য, বর্বর আরবীয় প্রথা তাই এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সংগঠিত করতে হবে। হিজাব নারীকে ভোগ্যপণ্য হিসাবে চিহ্নিত করে এটি পুরুষদের জন্য ও লজ্জাজনক! হিজাব যেন এই সত্যটিই প্রকাশ করে যে হিজাব না পরলে পুরুষটি তাঁকে ধর্ষণ করবে। তাই নারীত্বের এত বড় অপমান আর কোথাও দেখা যায় না। তাই সমস্ত শুভ বুদ্ধি সম্পন্ন মানুষকে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সংগঠিত করতে হবে ও রুখে দাঁড়াতে হবে।

এখন অনেকেই বলবেন তাহলে শিক্ষা ক্ষেত্রে শিখদের পাগড়ি ও অন্যান্য ধর্মীয় চিন্হের কি হবে? তাঁদের উদ্দেশ্যে বলি এ নিয়ে কোন সন্দেহ নেই যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সমস্ত রকম ধর্মীয় চিন্হ বন্ধ হওয়া উচিত। ধর্ম তাঁর ব্যক্তিগত পর্যায়ে থাক সামাজিক ক্ষেত্রে তা প্রকাশ করার কোন প্রয়োজন নেই। তবে এক্ষেত্রে বলা যায় শিখ ধর্মে পাগড়ি ধর্মের অবিচ্ছেদ্য অংশ তাই বেশিরভাগ শিখরা তা পালন করে। তবে বহু শিখ যাঁরা দাঁড়ি ও পাগড়ি রাখে না তাঁদের পরিবারের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যায়। এ বিষয়ে ধর্মত্যাগী শিখদের আরও এগিয়ে আসতে হবে। তবে বলা যায় এই বিষয়ে শিখদের সবচেয়ে বড় আদর্শ হলেন শহিদ এ আজম ভগৎ সিং। আমরা আশাবাদী শিখ সমাজে ও দ্রুত মুক্তচিন্তার প্রসার ঘটবে ও সমাজে পরিবর্তন আসবে।

এখন প্রশ্ন হল শিক্ষা ক্ষেত্রে হিজাবকে যদি অনুমতি দেওয়া হয়, তাহলে গেরুয়া উওরীয় বা গেরুয়া স্কার্ফ কি দোষ করল? বিভিন্ন ধর্মের মানুষ যদি তাঁদের ধর্মীয় চিন্হ পরে বিদ্যালয়ে আসে তাহলে বিদ্যালয়ের পঠন পাঠনের পরিবেশ আদেও থাকবে কি? বস্তুত কর্ণাটকের ছাত্র সমাজ ঠিক এই প্রতিবাদটাই সংগঠিত করছে। যদিও মিডিয়ার একাংশ এটিকে আরএসএস, বিজেপির ষড়যন্ত্র বলে চালিয়ে যেতে চাইছে। বস্তুত এইরকম একপাক্ষিক ধর্ম নিরপেক্ষতার কারণেই বর্তমানে ধর্ম নিরপেক্ষতা একটি হাস্যকর বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

তার চেয়ে জঘন্য বিষয় হল যেভাবে কংগ্রেস, বাম সহ তথাকথিত ধর্ম নিরপেক্ষ দল গুলি ধর্ম নিরপেক্ষতার নাম করে হিজাবের পক্ষে দাঁড়িয়েছে তা সত্যিই জঘন্য! আসলে এই ভন্ড সেকুলারিজম থেকে মানুষ মুক্তি চাই। অন্যদিকে তথাকথিত দক্ষিণপন্থী দল বিজেপি কিন্তু সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কর্ণাটক সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে শিক্ষাক্ষেত্রে এমন কোন পোষাক চলবে না যা শিক্ষা ক্ষেত্রে বৈষম্য সৃষ্টি করে এবং তারা এক ইউনিফর্ম ড্রেস কোড জারি করে। কর্ণাটকের পাশাপাশি মধ্যপ্রদেশ, পুডুচেরি প্রভৃতি রাজ্য ও কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল ও ইউনিফর্ম ড্রেস কোড জারি করছে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হিজাব নিষিদ্ধ করছে যা সত্যিই খুবই আশাপ্রদ ঘটনা।

কংগ্রেস পার্টি, কমিউনিস্ট পার্টি বা অন্যান্য দলগুলি যেভাবে হিজাবের পক্ষে কথা বলছে তা দেশের ধর্মনিরপেক্ষতার ভিত্তি দুর্বল করছে। আদতে মুসলমানদের পাশে থাকার নাম করে এই ভন্ড ধর্ম নিরপেক্ষ দলগুলি মৌলবাদীদের তোষণ করে মুসলমান সমাজের প্রভূত ক্ষতি সাধন করছে। সেইদিক থেকে দেখতে গেলে বিজেপি সরকার প্রকৃত পক্ষেই ধর্মনিরপেক্ষতার পক্ষে দাঁড়াচ্ছে যা সাধুবাদ যোগ্য।

তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ দল কংগ্রেসের শাসনে রাজীব গান্ধীর আমলেই সাহাবানু মামলার রায় পাল্টে দিয়ে মুসলমান মহিলাদের চরম সর্বনাশ করেছিল! অন্যদিকে এই দক্ষিণপন্থী বিজেপি সরকারই ‘তিন তালাক’ বন্ধ করে মুসলমান সমাজকে বিশেষত মুসলমান নারীদের রক্ষা করেছে। এই কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রাপ্য! বলাইবাহুল্য আজও কেন্দ্রীয় সরকারের এরূপ অবস্থান আশা যোগায়। এইসব কারণেই বর্তমানে ভন্ড ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলির অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়ছে এবং অন্যদিকে বিজেপি আরও শক্তিশালী হচ্ছে। এমন চলতে থাকলে আগামী দিনে ভারতবর্ষের রাজনীতিতে বিজেপির বিকল্প পাওয়া যাবে না। আমরা আশাবাদী এই সরকার মুক্তচিন্তক মানুষদের বহু কাঙ্ক্ষিত, ‘অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা Uniform civil code প্রণয়ন করবে’!

□ এখন অনেকে প্রশ্ন করছে হিজাবের অধিকার না দিলে যদি মুসলিম মহিলারা পড়া ছেড়ে দেয় তাহলে কি হবে?

তাদের উদ্দেশ্যে বলি মুসলমান সমাজ ও বহু ভাগে বিভক্ত। সাধারণত মুসলমান নারীরা হিজাব, বোরখা ইত্যাদি ব্যবহার করে না। খুবই কম সংখ্যক নারী হিজাবের জন্য আন্দোলন করছে তাই তাদের বিষয় অতিরিক্ত গুরুত্ব দিয়ে লাভ নেই। বলাইবাহুল্য বেশ কিছু রাজনৈতিক দল তাঁদের ভোট ব্যাংক হিসাবে কাজে লাগাতে গিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করছে। সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়। এক শ্রেণীর ছাত্রীরা বলছেন ‘Hijab is first priority and Education is second’. এই যদি এক শ্রেণীর ছাত্রীর মানসিকতা হয় তাহলে বলতে বাধ্য হচ্ছি এদের শিক্ষা অর্জন করে লাভ কি? যাঁরা মানসিক দিক থেকে এত ধর্মান্ধ তাঁদের দ্বারা ভালো কিছু হবে এমন আশা করাই কষ্টকর। যাইহোক এই রকম অতি স্পর্শকাতর ছাত্র ছাত্রীদের উপর বিশেষ নজর রাখা সমাজের কর্তব্য। কারণ অতীতে আমরা দেখেছি এই সমস্ত ধর্মভীরু ছেলেমেয়েদের কাজে লাগিয়ে জঙ্গিরা নিজেদের কার্য সিদ্ধি করে। ভারত, ইংল্যান্ড, আমেরিকা ও ইউরোপ সহ বহু দেশ থেকে প্রচুর ছেলে মেয়ে জঙ্গি দলে নাম লিখিয়েছে। আইএস এর হয়ে জেহাদ লড়তে বিদেশ বিভূইয়ে পাড়ি দিয়েছে তাই এদের উপর বিশেষ নজর দিতে হবে।

কর্ণাটকের এই ঘটনায় অনেকেই মনে করেন ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে হিন্দু সমাজ অসহিষ্ণু হয়ে যাচ্ছে ইত্যাদি ইত্যাদি। তাদের উদ্দেশ্যে বলি এটি শুধু ভারতেই নয় বরং গোটা বিশ্বে একই ঘটনা ঘটে চলেছে। প্রতিটি ক্রিয়ার সমান ও বিপরীত মুখি প্রতিক্রিয়া রয়েছে। এই ঘটনা থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট আমাদের মুসলমান সমাজকে বিশেষ সচেতন হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। ধর্মনিরপেক্ষতার নাম করে যা ইচ্ছা দাবি করব আর মুসলমান সংখ্যা গরিষ্ঠ দেশে অন্যান্য ধর্মের মানুষকে কোন অধিকার দেব না এই ধরণের ছেঁদো সেকুলারিজম আর চলবে না। আর প্রতিবাদ সংগঠিত করলেই ইসলামোফোবিয়ার মায়া কান্না কাঁদলে আর হবে না! বর্তমান ইন্টারনেটের যুগে মানুষ ইসলাম সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন তাই তাঁদের আর বোকা বানিয়ে রাখা যাবে না তাই মুসলমানদের নিজেদের পরিবর্তন করার প্রয়োজন রয়েছে।

বস্তুত এই সমস্ত কারণেই সৌদি আরবের মতো কট্টর ইসলামি দেশ ও পরিবর্তন হচ্ছে। আসলে সৌদি বুঝে গেছে আগামী দিনে আর তেল নির্ভর অর্থনীতি থাকবে না তাই নিজেদের পরিবর্তন না করলে নিজেরাই ধ্বংস হয় যাব। এইসব কারণেই সৌদি আরব বর্তমানে নারীদের উপর থেকে বহু নিয়ন্ত্রণ দূর করছে, এখন সৌদি নারীরা একা একা ঘুরতে বের হওয়া, হিজাব ছাড়া যেমন ইচ্ছে পোষাক পরিধান, গাড়ি চালানোর অধিকার পাচ্ছে। সেইসঙ্গে সৌদিতে আধুনিক সিনেমা হল, মল, ফ্লিম ফেস্টিভ্যাল ইত্যাদি হচ্ছে সৌদি আরবের মতো কট্টরপন্থী দেশে এটা ছোট বিষয় নয়। এছাড়া সৌদি আরব ‘তবলিগ জামাতের’ মতো কট্টরপন্থী সংগঠনকে ‘সন্ত্রাসবাদের প্রবেশদ্বার’ আখ্যা দিয়ে নিষিদ্ধ করেছে অথচ আমাদের এখানের ভন্ড বুদ্ধিজীবী ও ভন্ড সেকুলার দলগুলি তবলিগ জামাতের পক্ষে কথা বলে। ইসলাম আসলে আরবি ভাষা থেকে এসেছে তাই আরবরা ইসলাম যত বোঝে সেটা উপমহাদেশের মুসলমানরা ততটা বোঝে না। এমনকি সৌদি মুসলমানরা উপমহাদেশের মুসলমানদের মুসলমান বলেই মনে করে না।

যাইহোক সৌদি আরবের যুবরাজ মহম্মদ বিন সালমান বুঝে গেছে, সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন না হলে আমরা ধ্বংস হয়ে যাব, এই লক্ষ্যে তিনি ভিশন 2030 শুরু করেছেন। সেই লক্ষ্যে বর্তমানে বড় প্রয়াস হল সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় পতাকা থেকে কলেমা ও তলোয়ারের ছবি বাতিল করা। অর্থাৎ সৌদি আরব মনে করছে কলেমা ও তলোয়ার না বাতিল করলে গোটা বিশ্বের কাছে সৌদির ভাব মূর্তি পুনরুদ্ধার হবে না এবং তা না হলে বিনিয়োগ আসবে না। এইসব কারণে সৌদির মতো দেশ ও দ্রুত আধুনিকতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে যা বিশ্বের জন্য খুবই ইতিবাচক পদক্ষেপ।

বস্তুত প্রগতিশীল চিন্তা ছাড়া পৃথিবীতে টিকে থাকা মুশকিল এটা চিন্তা করেই তুরস্ক, মিশর, তাজিকিস্তান, তিউনিসিয়া, কসোভো প্রভৃতি মুসলমান দেশ বহু আগেই হিজাব, বোরখা নিষিদ্ধ করেছে। যদিও ইদানিং এরদোগান তুরস্ককে অটোমান যুগে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চাই। বস্তুত তাঁর এরূপ কর্মকান্ডের ফলে তুরস্কের লিরা ও তুরস্কের অর্থনীতি তথা, রাজনৈতিক অবস্থা ধ্বংস হয়ে যেতে চলেছে। অন্যদিকে সিরিয়া, শ্রীলঙ্কা ও ফ্রান্সের মতো দেশ জঙ্গি হামলা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য গোটা দেশে হিজাব ও বোরখা নিষিদ্ধ করেছে! কারণ এইসব দেশে বহু জঙ্গি বোরখার আড়ালে ধরা পড়েছে। তাই এগুলি নিষিদ্ধ হয়েছে।

যাইহোক স্কুল, কলেজে হিজাব পরিধানের বিষয়টি এখন কর্ণাটক হাইকোর্টের বিচারাধীন বিষয়। হাইকোর্টের সর্বোচ্চ বেঞ্চ আপাতত অন্তবর্তী রায়ে বলেছেন স্কুলে কোন হিজাব বা গেরুয়া উত্তরীয় বা কোন ধর্মীয় চিন্হ পরা যাবে না। বলাইবাহুল্য আদালতের এই পর্যবেক্ষণ যথার্থ আমরা আশাবাদী আদালত প্রগতিশীল শিক্ষা ব্যবস্থার পক্ষেই রায় দেবে!

এখন আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে হিজাব ইজ মাই চয়েস এর আগুন যেন দেশের আর কোথাও ছড়িয়ে না পড়ে। এই সমস্ত মুমিন ভাই ও মুমিনা নারীদের প্রতি প্রশ্ন হিজাব ইজ মাই চয়েস তো বুঝলাম কিন্তু হিজাব, বোরখা বা পর্দা প্রথার সৃষ্টি হল কিভাবে? সে বিষয়ে জাতিকে একটু আলোকিত করবেন কি?

চলবে…

তথ্যসূত্র:-

1) উইকিপিডিয়া।

https://en.wikipedia.org/wiki/Saudi_Vision_2030

https://en.wikipedia.org/wiki/Afghanistan

https://en.wikipedia.org/wiki/Taliban

2) BBC News.

https://www.bbc.com/news/world-middle-east-44040236

https://www.bbc.com/news/blogs-trending-42788549

3) The print.

The real issue in Karnataka hijab row is how secularism is defined wrongly – Nehru to Modi

4) The Times of India.

https://timesofindia.indiatimes.com/india/bjp-govt-must-in-up-to-keep-state-riot-free-send-criminals-to-jail-pm-modi/articleshow/89474349.cms

https://timesofindia.indiatimes.com/world/middle-east/saudi-arabia-bans-tablighi-jamaat-calls-it-gate-of-terror/articleshow/88234611.cms

5) Indian Express.

https://indianexpress.com/article/india/supreme-court-hijab-row-karnataka-hc-order-7767383/

6) India.com.

https://www.india.com/news/india/explained-karnataka-hijab-controversy-high-court-rulings-karnataka-govt-order-on-wearing-hijab-5234542/

7) Republic world.

https://www.republicworld.com/world-news/rest-of-the-world-news/taliban-backs-hijab-in-india-as-row-spreads-links-it-to-defending-religious-values-articleshow.html

8) DW Tv.

https://www.dw.com/en/eu-funded-hijab-campaign-sparks-outrage/a-59725546

9) Hindustan Times.

10) Arambagh TV plus

শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “হিজাব বিতর্ক, পর্দা প্রথার সৃষ্টি ও প্রাসঙ্গিক কিছু কথা- প্রথম পর্ব

    1. সহমত পোষণ করি, আসলে ধর্ম রাজনীতির কারবারিরা নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য ছোট্ট একটি বিষয়কে এত বাড়িয়ে দিয়েছে। এটি সমাজ ও দেশের পক্ষে ভয়ংকর! আপনার মূল্যবান মতামতের জন্য ধন্যবাদ!

Leave a Reply

Your email address will not be published.