হিজাব বিতর্ক, পর্দা প্রথার সৃষ্টি ও প্রাসঙ্গিক কিছু কথা- দ্বিতীয় পর্ব

পূর্ববর্তী পর্বে হিজাব বিতর্কের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট আলোচনা করা হয়েছে। বহু রাজনৈতিক দল, ভন্ড বুদ্ধিজীবী ও মিডিয়ার একাংশ হিজাব বিতর্কে হিজাবি নারীদের পক্ষে কথা বলছে এবং এতে বিষয়টি আরও জটিল হয়েছে। তবে মিডিয়ার কাজ হল উভয় পক্ষের কথা তুলে ধরা, আশাবাদী তারা সেই দায়িত্ব পালন করবে। যাইহোক ইন্টারনেটের যুগে হিজাবের বিরুদ্ধ মত যে আমরা তুলে ধরতে পারছি এটাই আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় অবদান। যে কোন গণতন্ত্রে সুস্থ আলোচনা অবশ্যই কাম্য। প্রশ্ন হল ইসলাম কি সেই আলোচনার অধিকার দেয়? হিজাব কি সত্যিই চয়েস না বাধ্যতামূলক?

হিজাব বিতর্কটি এখনও কর্ণাটক হাইকোর্টের বিচারাধীন এবং হাইকোর্ট তাঁর অন্তর্বর্তী রায়ে এটা স্পষ্ট বলেছে ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোন রূপ ধর্মীয় চিন্হ পরা যাবে না’। ধর্মনিরপেক্ষ দেশের পক্ষে এই রায় খুবই আশাপ্রদ, আমরা আশাবাদী আগামী দিনে হাইকোর্ট ও সুপ্রিমকোর্ট সর্বতোভাবে মুক্তচিন্তা ও ধর্মনিরপেক্ষতার পক্ষে থাকবে!

হিজাবি নারী ও হিজাবের পক্ষে যাঁরা কথা বলছে তাঁদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম ‘হিজাব ইজ মাই চয়েস’ দাবিটি সঠিক এখন প্রশ্ন হল হিজাব বা পর্দা প্রথার সৃষ্টি হল কিভাবে? দুঃখের বিষয় হল যাঁরা হিজাব ইজ মাই চয়েস বলে আন্দোলন করছে বা গলা ফাটাচ্ছে তাঁদের একজন ও হিজাব বা পর্দা প্রথার সৃষ্টি হল কিভাবে? এই ব্যাখ্যাটি পরিস্কার করছে না। আসলে যত সমস্যার সূত্রপাত ও সমাধান এই একটি প্রশ্নের মধ্যেই নিহিত রয়েছে। ‘হিজাব ইজ মাই চয়েস না হিজাব ফ্রি ক্যাম্পেন’ কোন দৃষ্টিভঙ্গী সঠিক তা এই একটি প্রশ্নের উওর পেলেই সমস্ত সমস্যার সমাধান সম্ভব। প্রশ্নটি হল, পর্দা প্রথার সৃষ্টি হল কিভাবে?

এটি জানতে গেলে আমাদের ইসলামের প্রাচীনতম যুগে যেতে হবে এবং নবী মহম্মদের জীবনী, সিরাত, কোরান, হাদিসের আলোকে প্রতিটি তথ্য সংস্কার মুক্ত মনে দেখতে হবে তবেই এই বিষয়টি পরিষ্কার হবে। উল্লেখ্য নবী মহম্মদের জীবনী, কোরান, হাদিস বা পর্দা প্রথার সৃষ্টি এগুলি সবই গোলমেলে বিষয় কারণ কোরান, হাদিসের আয়াত ও নবী জীবনীর নানা ঘটনা ইচ্ছা করেই উল্টো পাল্টা করে সাজানো হয়েছে যাঁর ফলে নবী জীবনী সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাওয়া যায় না। আসলে এখানে ইচ্ছা করেই নবীর জীবনকে লুকানোর চেষ্টা করা হয়েছে। প্রশ্ন হল কি লুকানোর জন্য ইসলামের আদিমতম গ্রন্থ গুলিকে এভাবে সাজানো হয়েছে? যাইহোক আজ আমরা গল্পের ছলে নবীর জীবনীকে দেখার চেষ্টা করব ও পর্দা প্রথার সৃষ্টি হল কিভাবে সেই উত্তরটি খোঁজার চেষ্টা করব!

প্রথমেই বলা ভালো নবী মহম্মদের মতো এত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব পৃথিবীর ইতিহাসে আর আছে কিনা সন্দেহ! এইসব কিছু বিবেচনা করেই মাইকেল এইচ. হার্ট তাঁর বিশ্বের শ্রেষ্ঠ একশ মনীষী নামক জীবনীগ্রন্থে মহম্মদকে পৃথিবীর সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসাবে বর্ণনা করেছেন। যদিও মুমিন ভাইয়েরা এটিকে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মনীষী হিসাবে আখ্যায়িত করার চেষ্টা করেন, উল্লেখ্য সর্বশ্রেষ্ঠ মনীষী ও সর্বাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি দুটির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। প্রভাবশালী কথার অর্থ হল প্রভাব বিস্তারকারী, প্রভাব বিস্তার ভালো ও মন্দ দুই অর্থেই হতে পারে। প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে হিটলার ও এই লিষ্টে উপরের দিকেই রয়েছে। তাই প্রভাবশালী মানেই সর্বোচ্চ মনীষী এটা বলা যৌক্তিক নয় বরং তাঁর কর্মকান্ড বিশ্লেষণ করলেই আমরা বুঝতে পারব তিনি কিসের জন্য এই খেতাবটি পেয়েছেন?

প্রকৃতপক্ষে এই মানুষটি পৃথিবীর প্রায় এক চতুর্থাংশ মানুষের উপর প্রভাব বিস্তার করে আছে, তাই আধুনিক বিশ্ব মহম্মদকে ছাড়া কল্পনাই করা যায় না। আজ পৃথিবীর যাবতীয় ভালো বা মন্দ সমস্ত কিছুর সঙ্গে মহম্মদের দৃষ্টিভঙ্গী প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত। আসলে সজ্ঞানে বা অজ্ঞতাবসত কোটি কোটি মানুষের কাছে তিনি আদর্শ স্বরূপ। পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ যখন এই মানুষটির মতো হতে চাই তখন মহম্মদ সম্পর্কে না জানলে আধুনিক পৃথিবীকে জানা সম্ভব নয়। তাই আমরা নিরপেক্ষভাবে নবী মহম্মদকে জানতে চেষ্টা করব।

তবে এখানে একটি কথা উল্লেখ্য মহম্মদ বলে সত্যিই কোন মানুষ পৃথিবীতে এসেছিলেন না এটি কাল্পনিক চরিত্র তা নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। আসলে তৎকালীন সময়ে আরবে বহু মানুষই নবুয়ত প্রাপ্তির দাবি করত এবং মহম্মদের সঙ্গে তাদের জীবনীর বহু মিল রয়েছে। তাই অনেকেই মনে করেন মহম্মদ বলে কোন চরিত্র ছিল না কারণ মহম্মদের ব্যবহৃত কোন বস্তু, দ্রব্য, মুদ্রা বা কোন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন কিছুই পাওয়া যায় না। মহম্মদের যে কবর দেখানো হয় সেটা যে প্রকৃত মহম্মদেরই, এমন কোন তথ্য পাওয়া যায় না। এর কোন পরীক্ষা ও হয়নি এবং আরবের শাসকরা এটি করতে ও দেয় না। তাহলে প্রশ্ন হল মহম্মদের অস্তিত্ব কোথা থেকে পাই? মূলত ইসলামি গ্রন্থ, কোরান, হাদিস, সিরাত ইত্যাদি থেকেই মহম্মদের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। এই ইসলামি তথ্যসূত্র গুলি অনেক ঐতিহাসিকের কাছেই গ্রহণযোগ্য নয়। তবে যাইহোক মহম্মদ প্রকৃতপক্ষে ছিল, কি ছিল না এটি ভিন্ন প্রশ্ন তবে কোরান বা হাদিসে বর্ণিত যে মহম্মদের চিত্র আমরা পাই তার যৌক্তিক বিশ্লেষণ করা আমাদের কর্তব্য।

নবী মহম্মদের প্রকৃত নাম মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ তিনি 29 শে আগস্ট 570 খ্রিস্টাব্দে আরবের মক্কার, হেজাজ নামক অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন এবং 8 ই জুন 632 খ্রিস্টাব্দে প্রায় 63 বছর বয়সে (12 ই রবিউল আইয়াল, 11 ই হিজরি) মদিনার ইয়াসবির অঞ্চলে মৃত্যু বরণ করেন। আনুমানিক 570 খ্রিষ্টাব্দে মক্কা নগরীতে জন্ম নেওয়া মুহাম্মদ মাতৃগর্ভে থাকাকালীন পিতা আব্দুলাকে হারান। শৈশবে মাতা আমিনাকে হারিয়ে এতিম হন এবং প্রথমে তার পিতামহ আব্দুল মুত্তালিব ও পরে পিতৃব্য আবু তালিবের নিকট লালিত-পালিত হন। হেরা পর্বতের গুহায় 40 বছর বয়সে তিনি নবুয়ত লাভ করেন। কথিত রয়েছে জিব্রাইল ফেরেশতা এই পর্বতের গুহায় আল্লাহর তরফ থেকে তার নিকট ওহী নিয়ে আসেন। 610 খ্রিষ্টাব্দে মহম্মদ প্রকাশ্যে ওহি প্রচার করেন, এবং ঘোষণা দেন “আল্লাহ এক” ও তার নিকট নিজেকে সমর্পিত করে দেওয়ার মধ্যেই জাগতিক কল্যাণ নিহিত। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত মহম্মদের নিকট আসা ওহিসমূহ কোরআনের আয়াত হিসেবে রয়ে যায় এবং মুসলমানরা এই আয়াতসমূহকে “আল্লাহর বাণী” বলে বিবেচনা করেন। এই কোরআনের উপর ইসলাম ধর্মের মূল নিহিত। কোরআনের পাশাপাশি হাদিস ও সিরাত (জীবনী) থেকে প্রাপ্ত মহম্মদের শিক্ষা ও অনুশীলন (সুন্নাহ) ইসলামি আইন (শরিয়াহ) হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

এটা গেল মহম্মদের প্রাথমিক পরিচয়। নবুয়ত প্রাপ্তির আগে পর্যন্ত মহম্মদ আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতোই জীবন যাপন করতেন এবং নবুয়তের পর তাঁর জীবনে ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। নবুয়তের পরবর্তীতে ধর্মপ্রচারের ক্ষেত্রে মহম্মদের জীবনকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয় একটি হল মক্কা জীবন ও অন্যটি মদিনা জীবন। ধর্ম প্রচারের প্রারম্ভিক পর্বে যখন মহম্মদের লোক বল কম ছিল এবং শক্তি কম ছিল তখন মহম্মদের প্রকৃতি কিছুটা নরম ছিল যা আমরা কোরানের আয়াতের মধ্যে ও দেখি মূলত এই পর্বে অবতীর্ণ সুরাগুলিকে মাক্কি সূরা বলা হয়। যেমন-

□ সূরা কাফিরুন:6 – তোমাদের কর্ম ও কর্মফল তোমাদের জন্যে এবং আমার কর্ম ও কর্মফল আমার জন্যে।

অর্থাৎ কোরানের এই আয়াতে বলতে চাইছে ‘তোমার ধর্ম তোমার ও আমার ধর্ম আমার’ বলাইবাহুল্য কোরানের এই আয়াত গুলি মুমিন ভাইদের খুবই পচ্ছন্দ এবং এই আয়াতের মাধ্যমে তাঁরা দেখাতে চান ইসলাম কত সুন্দর এবং শান্তির কথা বলে ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু মহম্মদকে জানতে গেলে তাঁর কোরানের আয়াত গুলি বুঝতে হবে নবীর ক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কোরানের আয়াত গুলি ও হিংস্র হতে থাকে। তাই মহম্মদকে প্রকৃতপক্ষে জানতে গেলে তাঁর মদিনা পর্বের সুরা গুলিকে দেখতে হবে, এই পর্বে তিনি ছিলেন শক্তিশালী। তাই এই পর্বে কোরানের সুরাতে কোন রহম (ক্ষমা) দেখা যায় না এই পর্বের সুরা গুলি ছিল প্রচন্ড কঠোর তাই মহম্মদকে জানতে গেলে তাঁর মদিনি সুরা গুলিকে বিশ্লেষণ করতে হবে।

বলাইবাহুল্য এ প্রসঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ উক্তি হল।

“যে মুহাম্মদ (সাঃ) কে জানে সে ইসলাম জানে, যে তাঁকে জানে না সে ইসলাম জানে না।”

□ সূরা আল বাক্বারাহ:256 – দ্বীনের ব্যাপারে কোন জবরদস্তি বা বাধ্য-বাধকতা নেই। নিঃসন্দেহে হেদায়াত গোমরাহী থেকে পৃথক হয়ে গেছে। এখন যারা গোমরাহকারী তাগুত দেরকে মানবে না এবং আল্লাহতে বিশ্বাস স্থাপন করবে, সে ধারণ করে নিয়েছে সুদৃঢ় হাতল যা ভাংবার নয়। আর আল্লাহ সবই শুনেন এবং জানেন।

মদিনায় অবতীর্ণ এই সুরাতে নবী বলছেন দ্বীনের ব্যাপারে কোন জোর জবরদস্তি নাই। এটি বললে ও পুরো সুরাটি পড়লে বোঝা যায় এখানে প্রচ্ছন্নে নবী অবিশ্বাসীদের তাঁদের বিশ্বাসের জন্য ভৎসনা করেছে ও হেদায়েত দান করেছেন। বলাইবাহুল্য এই পর্যায়ে নবীর অনুসারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও তা নির্ণায়ক শক্তিতে পরিণত হয়নি।

□ সূরা হাজ্জ্ব:39 – যুদ্ধে অনুমতি দেয়া হল তাদেরকে যাদের সাথে কাফেররা যুদ্ধ করে; কারণ তাদের প্রতি অত্যাচার করা হয়েছে। আল্লাহ তাদেরকে সাহায্য করতে অবশ্যই সক্ষম।

এবার ধীরে ধীরে মুসলমানদের ক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এই সময় থেকে ধীরে ধীরে মহম্মদের প্রকৃত চরিত্র প্রকাশ পাচ্ছে।

□ সূরা আল বাক্বারাহ:216 – তোমাদের উপর যুদ্ধ ফরয করা হয়েছে, অথচ তা তোমাদের কাছে অপছন্দনীয়। পক্ষান্তরে তোমাদের কাছে হয়তো কোন একটা বিষয় পছন্দসই নয়, অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আর হয়তোবা কোন একটি বিষয় তোমাদের কাছে পছন্দনীয় অথচ তোমাদের জন্যে অকল্যাণকর। বস্তুতঃ আল্লাহই জানেন, তোমরা জান না।

□ সূরা আন নিসা:74 – কাজেই আল্লাহর কাছে যারা পার্থিব জীবনকে আখেরাতের পরিবর্তে বিক্রি করে দেয় তাদের জেহাদ করাই কর্তব্য। বস্তুতঃ যারা আল্লাহর রাহে লড়াই করে এবং অতঃপর মৃত্যুবরণ করে কিংবা বিজয় অর্জন করে, আমি তাদেরকে মহাপুণ্য দান করব।

উপরিউক্ত আয়াত থেকে বোঝা যায় তৎকালীন সমাজে সাধারণ মুসলমানরা ও আজকের মতোই জিহাদের নামে সাধারণ মানুষকে হত্যা করতে পচ্ছন্দ করত না কিন্তু নবী মহম্মদ ও তাঁর আল্লাহ কোরানে এই আয়াতের মাধ্যমে মানুষকে জিহাদ করতে উদ্বুদ্ধ করছে। এই পর্বে মহম্মদ তাঁর অনুসারীদের যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করছে এবং যুদ্ধ করছে এই পর্বে মহম্মদের অনুসারীদের সংখ্যা প্রচুর বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এবার আমরা দেখব মক্কা বিজয়ের পর, যখন  মহম্মদ ক্ষমতার সর্বোচ্চ স্থানে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে তখন কোরানের আয়াতগুলি কি রকম? বলাইবাহুল্য মহম্মদের জীবনের শেষ দিকের এই আয়াতগুলিই মহম্মদের প্রকৃত স্বরূপ প্রস্ফুটিত করে।

□ সূরা আত তাওবাহ:5 – অতঃপর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ কর। আর প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওঁৎ পেতে বসে থাক। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

□ সূরা আল-আনফাল:12 – যখন নির্দেশ দান করেন ফেরেশতাদিগকে তোমাদের পরওয়ারদেগার যে, আমি সাথে রয়েছি তোমাদের, সুতরাং তোমরা মুসলমানদের চিত্তসমূহকে ধীরস্থির করে রাখ। আমি কাফেরদের মনে ভীতির সঞ্চার করে দেব। কাজেই গর্দানের উপর আঘাত হান এবং তাদেরকে কাট জোড়ায় জোড়ায়।

□ সূরা আত তাওবাহ:29 – তোমরা যুদ্ধ কর আহলে-কিতাবের ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, আল্লাহ ও তাঁর রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম, যতক্ষণ না করজোড়ে তারা জিযিয়া প্রদান করে।

□ সূরা আল-আনফাল:39 – আর তাদের সাথে যুদ্ধ করতে থাক যতক্ষণ না ভ্রান্তি শেষ হয়ে যায়; এবং আল্লাহর সমস্ত হুকুম প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। তারপর যদি তারা বিরত হয়ে যায়, তবে আল্লাহ তাদের কার্যকলাপ লক্ষ্য করেন।

□ আবু দাউদ, হাদিস নং- 2640

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্র থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমি লোকদের বিরুদ্ধে ততক্ষণ পর্যন্ত যুদ্ধ করতে আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা এ সাক্ষ্য দেয় যে, “আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই”। তারা এ কালেমা পাঠ করলে তাদের জীবন ও সম্পদ আমার থেকে নিরাপদ থাকবে। তবে এ কালেমার হকের (ইসলামের দণ্ডবিধির) কথা ভিন্ন। তাদের চূড়ান্ত হিসাব মহান আল্লাহর উপর ন্যস্ত।

উপরিউক্ত কোরানের আয়াতগুলি ও হাদিস থেকে বোঝা যায় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নবী মহম্মদের প্রবর্তিত কোরানের আল্লাহ তাঁর হিংস্র রূপ দেখাতে শুরু করে। এই পর্বে অবিশ্বাসীদের আর তিনি রহম বা ক্ষমা করছেন না বরং এই পর্বে তিনি তাঁদের যেখানে পাও সেখানে হত্যার আদেশ দিচ্ছেন এবং গর্দানের উপর আঘাত করে জোড়ায় জোড়ায় কাটতে বলছেন। সেইসঙ্গে এই পর্বে তিনি অবিশ্বাসী ও অমুসলমানদের প্রতি যুদ্ধের ঘোষণা দিচ্ছেন যতক্ষণ না তাঁরা ইসলামে ঈমান আনছে বা জিজিয়া প্রদান করছে। প্রকৃতপক্ষে নবী মহম্মদের শেষ ইচ্ছা ছিল আরব ভূমি থেকে সমস্ত বিধর্মীদের বিতাড়িত করা হোক এবং পৃথিবীতে ততক্ষণ জিহাদ চলবে যতক্ষণ না একটি ও অমুসলমান অবশিষ্ট থাকবে। আর মজার বিষয় হল কোরানের আল্লাহ এই আয়াতের মাধ্যমে এমন একটি যুদ্ধের সূচনা করেন যেখানে পৃথিবীতে যতদিন একটি ও অমুসলমান অবশিষ্ট থাকবে ততক্ষণ যুদ্ধ চলবে!

বলাইবাহুল্য নবীর সময় ও সকল মুসলমান এই হত্যাকান্ডকে সমর্থন করত না অনেকেই মনোকষ্টে ভুগত। এখানে কোরানের প্রাসঙ্গিক আয়াতটি হল।

□ সূরা আল-আনফাল:17 – সুতরাং তোমরা তাদেরকে হত্যা করনি, বরং আল্লাহই তাদেরকে হত্যা করেছেন। আর তুমি মাটির মুষ্ঠি নিক্ষেপ করনি, যখন তা নিক্ষেপ করেছিলে, বরং তা নিক্ষেপ করেছিলেন আল্লাহ স্বয়ং যেন ঈমানদারদের প্রতি এহসান করতে পারেন যথার্থভাবে। নিঃসন্দেহে আল্লাহ শ্রবণকারী; পরিজ্ঞাত।

কোরানের এই আয়াতটিতে দেখা যায় সাধারণ মুসলমানরা ও অমুসলমানদের হত্যা করে মনোকষ্টে ভুগত কারণ তাঁদের মনে হত কেন আমরা তাঁদের হত্যা করলাম, কেন শুধু শুধু নিরীহ মানুষ গুলিকে হত্যা করলাম? আসলে সাধারণ মুসলমানদের মধ্যে ও মানবিকতা কাজ করছিল এবং তাঁদের এরূপ কর্মকান্ড বিবেকের কাছে দংশিত হত! চতুর নবী মহম্মদ কোরানের এই আয়াতের মাধ্যমে তাঁদের এটা বোঝান তাঁরা কোন হত্যাকান্ড সংগঠিত করেনি বরং আল্লাহই তাঁদের হত্যা করেছেন, তাঁরা শুধু নিমিত্ত মাত্র! বলাইবাহুল্য এই আয়াতের মধ্যমে নবী তাঁর অনুসারীদের মনোবল ঠিক রাখেন, কারণ তা না হলে আগামীতে জিহাদের নামে অর্থ ও গণিমতের মাল লুঠ সংগঠিত হতে পারত না।

উল্লেখ্য কোরানের এই জিহাদের আয়াত গুলিকে কেন্দ্র করেই আজ পৃথিবীতে এত জঙ্গি গোষ্ঠী দেখা যায়। কারণ তাঁরা কোরানের এই বাণী সফল করতে চাই। প্রশ্ন হল কোরানের আল্লাহ এ কেমন সৃষ্টিকর্তা যে নিজের সৃষ্টিকেই ধ্বংস করতে চাই এবং যতক্ষণ না পৃথিবীর একটি মানুষ ও ইসলাম গ্রহণে অবশিষ্ট থাকছে ততক্ষণ যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার হুকুম দেয়? কোরানের আল্লাহর প্রকৃতি এত হিংস্র কেন? কোরানের আল্লাহর প্রকৃতি মানুষের মতো এত প্রতিহিংসা পরায়ণ কেন? কোরানের আল্লাহের প্রকৃতি মহম্মদের প্রকৃতির সঙ্গে এত মেলে কেন? কোরানের আল্লাহ প্রকৃত সৃষ্টিকর্তা না মহম্মদের সৃষ্ট কোন কাল্পনিক সৃষ্টিকর্তা? এ কেমন সৃষ্টিকর্তা যে মহম্মদকে নির্বিচারে হত্যার হুকুম দেয় ও মহম্মদের কামনা, বাসনা চরিতার্থ করতে নির্দেশ দেন?

এখন বেশ কিছু মুমিন ভাই ঠিকই এসে যাবে যুক্তি দিতে এগুলি যুদ্ধের সময় প্রাসঙ্গিক ছিল, এখনকার প্রেক্ষাপটে নয়, আগের আয়াত দেখুন পরের আয়াত দেখুন ইত্যাদি ইত্যাদি। তাঁদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন যদি ধরে নিই এগুলি যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে অবতীর্ণ তাহলে প্রশ্ন হল নিশ্চয়ই বর্তমানে এই আয়াতের কোন প্রয়োজন নেই, তাহলে কোরান থেকে এই আয়াতগুলি বাদ দেওয়া হচ্ছে না কেন? তাহলে একে পবিত্র গ্রন্থ না বলে ইতিহাস গ্রন্থ বলা উচিত, সেটা স্বীকার করবেন কি? আর প্রশ্ন হল কোরানের ওই আয়াতগুলি যদি অপ্রাসঙ্গিক হয় তাহলে রোজ পবিত্র জ্ঞানে কোরান পাঠ করা হয় কেন?

প্রকৃতপক্ষে আসল সত্যটি হল মডারেট মুসলমানরা স্বীকার না করলে ও জঙ্গি মুসলমানরা ঠিকই কোরান, হাদিসের এই কথা গুলিকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য এই অসম যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছে। এদের উদ্দেশ্যে হল বিশ্বব্যাপী ইসলামী খিলাফত প্রতিষ্ঠা করা এবং যতদিন না পৃথিবীতে একটি ও অমুসলমান অবশিষ্ট থাকবে ততক্ষণ যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া।

□ এখন তর্কের সাপেক্ষে ধরে নিলাম বিশ্বে যদি ইসলামি খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হয়ে ও যায় তাহলে কি বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে?

এর অপ্রিয় সত্য হল না তা কখনোই সম্ভব নয়। কারণ কোরানের আল্লাহর রাজনৈতিক হিংস্র মতবাদ মানুষকে এতটা হিংস্র করে তোলে যে সেখানে শান্তি স্থাপন প্রায় অসম্ভব! এর ফল স্বরূপ আমরা দেখি প্রথম দিকে জিহাদিদের লক্ষ্য থাকে দার উল হরব (অবিশ্বাসীদের দেশ) কে দার উল ইসলামে (মুসলমানদের দেশ) পরিণত করার। এখন দার উল হরব কে দার উল ইসলামে প্রতিষ্ঠা করলে ও সমস্যার সমাধান হয় না বরং সেখানে বেশি সমস্যা দেখা যায়। এর উদাহরণ হিসাবে আমরা দেখি ইরাক, ইরান, সিরিয়া, সৌদি আরব, পাকিস্তান প্রভৃতি দেশে অমুসলমানদের সংখ্যা প্রায় নেই বললেই চলে। কিন্তু এই সব মুসলমান দেশে শিয়া, সুন্নিদের মধ্যে বিবাদ লেগেই রয়েছে।  কখনও শিয়ারা সুন্নিদের মসজিদে বম ফেলে আবার কখনও সুন্নিরা শিয়াদের মসজিদে বম ফেলে। ইরাক ও ইরানের যুদ্ধ এই শিয়া সুন্নির ঘৃণার ফল। ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে যে যুগ যুগান্তর ধরে স্নায়বিক উত্তেজনা চলছে তা আসলে শিয়া সুন্নি ঘৃণার ফল। এর ফল স্বরূপ আমরা দেখি পাকিস্তানের মতো দেশে প্রকাশ্যে লক্ষ লক্ষ মানুষ ‘শিয়া কাফির, শিয়া কাফির’ বলে মিছিল করে!

এছাড়া দেওবন্দি, বরেলি, আহলে হাদিস, আহমেদিয়া, কাদিয়ানি, জামাতি, সুফি, পীর প্রভৃতি ভিন্ন মতাদর্শের মানুষ সকলেই একে অপরকে কাফের মনে করে এবং একে অপরের গলা কাটতে চাই। বলাইবাহুল্য ইসলামের এই অসহিষ্ণু শিক্ষা প্রথম থেকেই রয়েছে। বলা ভালো যেমন শিক্ষা তেমন ফল এরই ফলশ্রুতি হিসাবে আমরা দেখি মুসলমানরা মুসলমানদের উপর যা অত্যাচার করেছে পৃথিবীর ইতিহাসে তাঁর আর দ্বিতীয় দৃষ্টান্ত নেই। নবী মহম্মদের পরিবারের নিষ্ঠুর মৃত্যু মুসলমানদের হাতেই সংগঠিত হয়। প্রধান চার খলিফার মধ্যে তিন খলিফার অতর্কিত হামলায় মৃত্যু মুসলমানদের হাতেই সংগঠিত হয়। অর্থাৎ ইসলামের এই অসহিষ্ণুতার ফল মুসলমানদেরই সবচেয়ে বেশি ভোগ করতে হয়। যাঁর সাম্প্রতিক উদাহরণ হিসাবে দেখি সিরিয়াতে আইএস শাসন বা আফগানিস্তানে তালিবান শাসনে সাধারণ মুসলমানদের কি পরিমাণ কষ্ট সহ্য করতে হয়! তাই ঐতিহাসিক সত্য হল ইসলাম কখনও শান্তির ধর্ম ছিল না, আর ইসলাম কথার প্রকৃত অর্থ হল নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ!

বলাইবাহুল্য কোরানের এই হিংস্র আয়াতগুলি মানব সভ্যতার ক্ষতি করে চলেছে। মুমিন ভাইয়েরা কোরানের কিছু তুলনামূলক মানবিক আয়াত তুলে ধরে বিষয়টিকে প্রতিহত করার চেষ্টা করলে ও এখানে একটি কথা উল্লেখ্য নবী মহম্মদ সময় সময় কোরানের নতুন আয়াত নাজিল করে পুরানো বহু আয়াত মনসুখ আয়াত বা দুর্বল আয়াত বলে বাতিল করে দেন। পন্ডিতেরা মনে করেন ক্ষমতাশালী হওয়ার পর নবী আদতে কিছুটা শান্তি পূর্ণ আয়াত গুলিকে মনসুখ আয়াত বা বাতিল করে দেন এবং কোরানের হিংস্র আয়াত গুলিকেই জারি রাখেন। এ প্রসঙ্গে কোরানের একটি আয়াত হল।

□ সূরা আল বাক্বারাহ:106 – আমি কোন আয়াত রহিত করলে অথবা বিস্মৃত করিয়ে দিলে তদপেক্ষা উত্তম অথবা তার সমপর্যায়ের আয়াত আনয়ন করি। তুমি কি জান না যে, আল্লাহ সব কিছুর উপর শক্তিমান?

এখন প্রশ্ন হল আল্লাহর কোরানের বাণী নবী মহম্মদ সময় সময় পরিবর্তন করেন কিভাবে? আর আল্লাহই বা সময় সময় নিজের সিদ্ধান্ত বদল করেন কেন?

নবী মহম্মদ তাঁর জীবনে বহু যুদ্ধ পরিচালনা করেছেন এবং অতর্কিতে আক্রমণ করে বহু কাফেলা লুঠ করে নিজের খুনি বাহিনী সংগঠিত করেন এবং মালামাল লুঠ ও গণিমতের মালের (নারী) লোভ দেখিয়ে নিজের প্রভাব বিস্তার করেন। যদিও মুসলিম ঐতিহাসিকরা দাবি করে মহম্মদ আসলে এগুলি করেনি বরং ইহুদি, খ্রিস্টান বণিক সম্প্রদায় তাঁর বিরুদ্ধে চক্রান্ত করত। উল্লেখ্য ইসলামি তথ্যগুলি থেকেই প্রমাণিত হয় যে মহম্মদই ছিল এক্ষেত্রে প্রথম আক্রমণকারী। আর তাঁর এই লুঠেরা কর্মকান্ডের সূত্রপাত হয় বদরের যুদ্ধে কাফেলা লুঠের মধ্যে দিয়ে। প্রথম দিকে সমস্ত লুঠের মাল মহম্মদ ও আল্লাহর ছিল কিন্তু চতুর মহম্মদ যখন বুঝলেন এভাবে জিহাদ পরিচালনা ও ক্ষমতা দখল সম্ভব নয় তখন কোরানের আল্লাহ লুঠের মাল ভাগের আয়াত অবতীর্ণ করলেন। প্রাসঙ্গিক কোরানের আয়াতগুলি হল।

□ সূরা আল-আনফাল:1 – আপনার কাছে জিজ্ঞেস করে, গনীমতের হুকুম। বলে দিন, গণীমতের মাল হল আল্লাহর এবং রসূলের। অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং নিজেদের অবস্থা সংশোধন করে নাও। আর আল্লাহ এবং তাঁর রসূলের হুকুম মান্য কর, যদি ঈমানদার হয়ে থাক।

□ সূরা আল-আনফাল:41 – আর এ কথাও জেনে রাখ যে, কোন বস্তু-সামগ্রীর মধ্য থেকে যা কিছু তোমরা গনীমত হিসাবে পাবে, তার এক পঞ্চমাংশ হল আল্লাহর জন্য, রসূলের জন্য, তাঁর নিকটাত্নীয়-স্বজনের জন্য এবং এতীম-অসহায় ও মুসাফিরদের জন্য; যদি তোমাদের বিশ্বাস থাকে আল্লাহর উপর এবং সে বিষয়ের উপর যা আমি আমার বান্দার প্রতি অবতীর্ণ করেছি ফয়সালার দিনে, যেদিন সম্মুখীন হয়ে যায় উভয় সেনাদল। আর আল্লাহ সব কিছুর উপরই ক্ষমতাশীল।

দেখুন কোরানের আল্লাহ ও সময়ে সময়ে তাঁর অবস্থান পরিবর্তন করে। প্রথমদিকে লুঠের মাল সব নবী ও আল্লাহর হলেও পরবর্তীতে আল্লাহ লুঠের মালের এক পঞ্চমাংশ নবীকে দিয়ে বাকিটা বন্টনের আদেশ দেয়। প্রশ্ন হল যে আল্লাহ গোটা বিশ্ব জাহানের মালিক তাঁর লুঠের মালের ভাগ বাটোয়ারার কি প্রয়োজন রয়েছে? এর সঙ্গে প্রসঙ্গিক হাদিসটি হল।

□ সহি মুসলিম, হাদিস নং- 4448

মাস’আব ইবনু সা’দ (রহঃ) তাঁর পিতা থেকে বর্ণিত,

আমার পিতা যুদ্ধলব্ধ সম্পদের এক পঞ্চমাংশ হতে কিছু বস্তু নিয়ে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে এসে বলেন, এটি আমাকে উপঢৌকন প্রদান করুন। তিনি অস্বীকার করেন। তখন আল্লাহ তা’আলা এ আয়াত নাযিল করেন : “তারা আপনার কাছে যুদ্ধলব্ধ দ্রব্য সম্ভার সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করে, আপনি বলে দিন, যুদ্ধলব্ধ দ্রব্য সম্ভার আল্লাহ ও রসূলের ” আয়াতটি শেষ পর্যন্ত নাযিল হলো।

অর্থাৎ এই হাদিস থেকেই স্পষ্ট বোঝা যায় মুহাম্মদ যুদ্ধে প্রাপ্ত মালামাল লুট ও গণিমতের জন্য বিভিন্ন গোত্রকে আক্রমণ করত এবং কোরানের আল্লাহ মুহাম্মদের হয়ে ভাগ বাটোয়ারার আয়াত নাজিল করে। আর আল্লাহ শুধু ভাগ বাটোয়ারা করেই ক্ষান্ত থাকেন না তিনি মহম্মদের জন্য ছলনা ও করেন।

□ সূরা আল-আনফাল:30 – আর কাফেরেরা যখন প্রতারণা করত আপনাকে বন্দী অথবা হত্যা করার উদ্দেশ্যে কিংবা আপনাকে বের করে দেয়ার জন্য তখন তারা যেমন ছলনা করত তেমনি, আল্লাহও ছলনা করতেন। বস্তুতঃ আল্লাহর ছলনা সবচেয়ে উত্তম।

□ আবু দাউদ, হাদিস নং- 2636

‘আমর (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি জাবির (রাঃ) এর নিকট শুনেছেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যুদ্ধ হচ্ছে ধোঁকা বা রণকৌশল।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

প্রশ্ন হল আল্লাহ ছলনা করেন কেন? যে গোটা বিশ্ব জাহানের মালিক তাঁর মানুষের মতো ছলনা করার কি প্রয়োজন রয়েছে? তিনি তো হও বললে সব কিছু হওয়ার কথা তা না করে তিনি সাধারণ মানুষের মতো ছলনার আশ্রয় নেন কেন? উপরিউক্ত আলোচনা থেকে সুস্পষ্ট মহম্মদ আসলে যুদ্ধের নামে অতর্কিতে আক্রমণ করে ধোঁকা দিত। এবার দেখা যাক মহম্মদ কিভাবে আক্রমণ করত?

□ সহি মুসলিম, হাদিস নং-4411

ইবনে ‘আওন (রহঃ) থেকে বর্ণিত,

তিনি বলেন, আমি নাফি’ (রহঃ) -কে এ কথা জানতে চেয়ে পত্র লিখলাম যে, যুদ্ধের পূর্বে বিধর্মীদের প্রতি দ্বীনের দা‘ওয়াত দেয়া প্রয়োজন কি-না? ইবনু ‘আওন বলেন, তখন তিনি আমাকে লিখলেন যে, এ (প্রথা) ইসলামের প্রারম্ভিক যুগে ছিল। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বানূ মুসতালিকের উপর অতর্কিত আক্রমণ করলেন এমন অবস্থায় যে, তাদের পশুদের পানি পান করানো হচ্ছিল। তিনি তাদের যোদ্ধাদের হত্যা করলেন এবং বাকীদের বন্দী করলেন। আর সেদিনেই তাঁর হস্তগত হয়েছিল- ইয়াহইয়া বলেন যে, আমার মনে হয় তিনি বলেছেন – ‘জুওয়াইরিয়াহ্’ কিংবা নিশ্চিতরূপে বলেছেন ‘হারিসের কন্যা’। বর্ণনাকারী বলেন, এ হাদীস আমাকে ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) বর্ণনা করেছেন। তিনি তখন সে সেনাদলের মধ্যে ছিলেন।

এখানে দেখুন আল্লাহর নবী বানু মুস্তাকিল গোত্রকে অতর্কিতে আক্রমণ করেন, যখন তাঁরা তাঁদের পশুদের জল পান করাচ্ছিল। আর তাঁদের হত্যা করে তাঁদের মালামাল লুট করেন ও তাঁদের নারীদের গণিমতের মাল বানিয়ে বন্দী করে ভোগ করেন। এটা কি কোন নবী সুলভ কাজ হতে পারে? আজকের দিনে ও যুদ্ধের কিছু নিয়ম, নৈতিকতা রয়েছে যে নিরস্ত্রকে হত্যা করা যাবে না, তাঁদের নারীদের বন্দী বানানো যাবে না ইত্যাদি ইত্যাদি। স্বঘোষিত নবী মহম্মদের মধ্যে কি মানবতার সামান্য ছাপটুকু ও ছিল? ডাকাত দলের সর্দারাও কি এতটা নিষ্ঠুর হতে পারে?

□ আবু দাউদ, হাদিস নং- 2638

ইয়্যাস ইবনু সালামাহ (রহঃ) হতে তার পিতা থেকে বর্ণিতঃ

তিনি (সালামাহ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর যুদ্ধে আবূ বাকর (রাঃ) কে সেনাপতি নিয়োগ দিলেন। আমরা রাতের বেলা মুশরিকদের উপর আক্রমণ করে তাদেরকে হত্যা করলাম। ঐ রাতে আমাদের সাংকেতিক ডাক ছিল ‘আমিত, আমিত’। সালামাহ (রাঃ) বলেন, ঐ রাতে আমি নিজ হাতে সাতজন মুশরিক নেতাকে হত্যা করেছি।

□ সহি মুসলিম, হাদিস নং- 4443

সা’ব ইবনু জাসসামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত,

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, যদি অশ্বারোহীগণ রাতের অন্ধকারে হামলা চালায় এবং তাতে মুশরিকদের শিশু সন্তান নিহত হয়, (তবে এর হুকুম কী)? তিনি বললেনঃতারাও তাদের পিতা ও দাদার মধ্যে গণ্য।

এই দেখুন এখানে নবী মহম্মদের আর এক মহান কর্মকান্ড তিনি রাতের অন্ধকারে নিরস্তদের উপর আক্রমণ চালাতেন এবং শুধুমাত্র অবিশ্বাসী হওয়ার কারণে তাঁদের হত্যা করতেন। বলাইবাহুল্য নবীর এই কর্মকান্ডে নবীর সাহাবিরা ও সন্দিহান ছিলেন কারণ তাঁরা মনে করতেন এরূপ অতর্কিতে আক্রমণ করলে মুশরিকদের শিশুরা নিহিত হতে পারে, তাই তাঁরা এ বিষয়ে চিন্তিত ছিলেন এবং নবী মহম্মদকে কি করা উচিত তা জিজ্ঞাসা করেছিলেন। বলা ভালো নবীর সাহাবিদের মধ্যে ও মানবিকতা ছিল তাই তাঁরা শিশুহত্যার মতো ঘৃণ্য কর্মকান্ড থেকে দূরে থাকতে চাইছিলেন কিন্তু হায়! দ্বীনের নবী, দয়ার নবী মহম্মদের মধ্যে কিন্তু কোন প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়নি তিনি ওই সমস্ত নিরপরাধ শিশুদের হত্যার হুকুম দিলেন! তিনি বললেন তাঁরা ও অবিশ্বাসীদের সন্তান তাই তাঁদের ও ওই একই পরিণতি হওয়া উচিত! বাহ! এই নাহলে ন্যায় বিচার? কোথায় গেল দয়ার নবীর দয়ালুতা? কোথায় গেল মহান আল্লাহের মহানুভবতা? আল্লাহ যে পদে পদে মহম্মদকে কোরানের আয়াত পাঠিয়ে নির্দেশ দিতেন তিনি শিশু হত্যার মতো ঘৃণ্য কর্মকান্ড থেকে মহম্মদকে রুখতে পারলেন না কেন?

এ প্রসঙ্গে একটি কথা উল্লেখ্য আমরা প্রায়ই শুনি এক হাদিসের কথা যেখানে এক ইহুদি বুড়ি প্রতিদিন নবীর পথে কাঁটা ছড়িয়ে দিত, কিছুদিন কাঁটা ছড়ানো না দেখে নবী মহম্মদ তাঁর বাড়ি যায় গিয়ে দেখে বুড়ি অসুস্থ এবং মহম্মদ তাঁর খোঁজ খবর নেয় এবং সেবা শুশ্রূষা করে এবং মহম্মদের এই আচরণে মুগ্ধ হয়ে ইহুদি বুড়িটি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। বলাইবাহুল্য এগুলি আসলে নবীর শ্রীবৃদ্ধি করার জন্য জাল হাদিস বা রটনা। এরূপ কোন হাদিসের অস্তিত্ব পাওয়া যায় না। বরং কোরান, হাদিসে আমরা যে মহম্মদকে পাই সে তীব্র বিদ্বেষ পরায়ন ও হিংস্র! তিনি অন্য ধর্মের মানুষকে গালাগালি দেন ও তাদের হত্যার কথা বলেন। এরূপ কিছু কোরানের আয়াত তুলে ধরা হল।

□ সূরা বাইয়্যিনাহ:6 – আহলে-কিতাব ও মুশরেকদের মধ্যে যারা কাফের, তারা জাহান্নামের আগুনে স্থায়ীভাবে থাকবে। তারাই সৃষ্টির অধম।

□ সূরা আল মায়েদাহ:51 – হে মুমিণগণ! তোমরা ইহুদী ও খ্রীষ্টানদেরকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করো না। তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ জালেমদেরকে পথ প্রদর্শন করেন না।

□ সূরা আল মায়েদাহ:60 – বলুনঃ আমি তোমাদেরকে বলি, তাদের মধ্যে কার মন্দ প্রতিফল রয়েছে আল্লাহর কাছে? যাদের প্রতি আল্লাহ অভিসম্পাত করেছেন, যাদের প্রতি তিনি ক্রোধাম্বিত হয়েছেন, যাদের কতককে বানর ও শুকরে রূপান্তরিত করে দিয়েছেন এবং যারা শয়তানের আরাধনা করেছে, তারাই মর্যাদার দিক দিয়ে নিকৃষ্টতর এবং সত্যপথ থেকেও অনেক দূরে।

□ সূরা আল বাক্বারাহ:65 – তোমরা তাদেরকে ভালরূপে জেনেছ, যারা শনিবারের ব্যাপারে সীমা লঙ্ঘণ করেছিল। আমি বলেছিলামঃ তোমরা লাঞ্ছিত বানর হয়ে যাও।

□ সূরা আত তাওবাহ:113 – নবী ও মুমিনের উচিত নয় মুশরেকদের মাগফেরাত কামনা করে, যদিও তারা আত্নীয় হোক একথা সুস্পষ্ট হওয়ার পর যে তারা দোযখী।

উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বোঝা যায়, কোরানের আল্লাহ কখন বিধর্মীদের নিকৃষ্টতম প্রাণী বলছে, কখনও বানর, শুয়োর বলে গালাগালি করছে এবং ইহুদি, খ্রিস্টানদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে বারণ করছে, কোরানের আল্লাহ মুসলমানদের এরূপ ঘৃণার শিক্ষা দিলে তাঁরা মানবতার শিক্ষা পাবে কিভাবে? কোরান অনুসারে আপনি বিধর্মী কোন মানুষের জন্য দোয়া বা প্রার্থনা করতে পারবেন না কারণ বিধর্মী মানেই জাহান্নামি। তাই লতা মঙ্গেশকরের মৃত্যুর পর শাহরুখ খান তাঁর জন্য দোয়া প্রার্থনা করেছেন এটা তাঁর ব্যক্তিগত উদারতা ও মানবতার বহিঃপ্রকাশ হলেও ইসলাম কিন্তু এর অনুমতি দেয় না। ইসলামের দৃষ্টিতে বিধর্মী মানেই কাফের এবং তিনি জাহান্নামি! অর্থাৎ ইসলামের দৃষ্টিতে শুধুমাত্র অমুসলমান হওয়ার কারণে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, নেলসন ম্যান্ডেলা, আব্রাহাম লিঙ্কন, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার প্রমুখ মহামানবেরা জাহান্নামের আগুনে জ্বলবে! আর চরম মানবতাবিরোধী জঙ্গি আইএস প্রধান আবু বকর আল বাগদাদি, তালিবান প্রধান ওসামা বিন লাদেন প্রমুখ জঙ্গি, জিহাদি, খুনি, ধর্ষক, যতই মানবতা বিরোধী মানুষ হোক না কেন শুধুমাত্র মুসলমান হওয়ার কারণে ও আল্লাহর উপর ঈমান (বিশ্বাস) আনার জন্য তাঁরা জান্নাতবাসী হবেন! কোরানের আল্লাহর এ কেমন বিচার? ইসলাম কি ঘৃণার শিক্ষা দেয় না?

□ সূরা আল ইমরান:85 – যে লোক ইসলাম ছাড়া অন্য কোন ধর্ম তালাশ করে, কস্মিণকালেও তা গ্রহণ করা হবে না এবং আখেরাতে সে ক্ষতি গ্রস্ত।

□ সূরা আত তাওবাহ:111 – আল্লাহ ক্রয় করে নিয়েছেন মুসলমানদের থেকে তাদের জান ও মাল এই মূল্যে যে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত। তারা যুদ্ধ করে আল্লাহর রাহেঃ অতঃপর মারে ও মরে। তওরাত, ইঞ্জিল ও কোরআনে তিনি এ সত্য প্রতিশ্রুতিতে অবিচল। আর আল্লাহর চেয়ে প্রতিশ্রুতি রক্ষায় কে অধিক? সুতরাং তোমরা আনন্দিত হও সে লেন-দেনের উপর, যা তোমরা করছ তাঁর সাথে। আর এ হল মহান সাফল্য।

□ সূরা আন নিসা:89 – তারা চায় যে, তারা যেমন কাফের, তোমরাও তেমনি কাফের হয়ে যাও, যাতে তোমরা এবং তারা সব সমান হয়ে যাও। অতএব, তাদের মধ্যে কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, যে পর্যন্ত না তারা আল্লাহর পথে হিজরত করে চলে আসে। অতঃপর যদি তারা বিমুখ হয়, তবে তাদেরকে পাকড়াও কর এবং যেখানে পাও হত্যা কর। তাদের মধ্যে কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না এবং সাহায্যকারী বানিও না।

উপরিউক্ত আয়াত থেকে বোঝা যায় যাঁরা অন্যধর্ম তালাশ করছে আল্লাহ তাঁদের প্রতি লালত বর্ষণ করছেন এবং আল্লাহের রাহে জান ও মাল দিয়ে জিহাদ করতে উদ্বুদ্ধ করছেন, এতে যদি মৃত্যু হয় সোজা জান্নাত যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। আর যাঁরা ইসলাম ত্যাগ করছে তাঁদের যেখানে পাও তাঁদের হত্যার আদেশ দিচ্ছেন! ইসলাম ধর্মত্যাগীদের বলা হয় মুরতাদ এবং ইসলামের দৃষ্টিতে এদের হত্যা করা যে কোন মুমিন মুসলমানদের কর্তব্য। এই প্রসঙ্গে একটি প্রাসঙ্গিক হাদিস হল।

□ আবু দাউদ, হাদিস নং- 4351

‘ইকরিমাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

‘আলী (রাঃ) কিছু সংখ্যক মুরতাদকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেন। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) তা জানতে পেরে বলেন, আমি কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর বাণী অনুসরণ করে এদের আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করতাম না। কেননা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা কাউকে আল্লাহর শাস্তির উপকরন দ্বারা শাস্তি দিও না। তবে আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর বক্তব্য মোতাবেক এদের মৃত্যুদণ্ড দিতাম। কারণ, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি নিজের ধর্ম (ইসলাম) পরিবর্তন করে তোমরা তাকে হত্যা করো। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বর্ণিত হাদিস শুনে ‘আলী (রাঃ) বলেন, আহ! ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সত্য বলেছেন।

এইসব কারণেই আমরা দেখি আইএস এর মতো জঙ্গি সংগঠন অনেক সময় গলাকেটে বা পুড়িয়ে হত্যা করে। এখান থেকেই প্রমাণিত হয় ইসলাম সমালোচনা ও বিরুদ্ধ মতে বিশ্বাসী নয়। আপনি ইসলাম ত্যাগ করলে বা বিরুদ্ধ মত পোষণ করলে আপনাকে হত্যা করা ওয়াজিব (অবশ্য কর্তব্য)! আসলে এভাবেই মিথ্যা, ঘৃণা ও চাপাতির জোরে ইসলাম টিকে রয়েছে তবে এভাবে ইসলামকে আর টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। কারণ যা সত্য তা ইন্টারনেটের যুগে ঠিকই প্রকাশিত হবে।

যাইহোক উপরিউক্ত আলোচনা থেকে আমরা নবী মহম্মদের রাজনৈতিক মতাদর্শ সম্পর্কে অবগত হলাম। আর কোরানের আল্লাহ প্রতিটি বিষয়ে নবী মহম্মদকে সমর্থন করে। এখন প্রশ্ন হল নবী মহম্মদ সম্পর্কে আমাদের এগুলি জানা কেন প্রয়োজন? আসলে নবী মহম্মদ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন না করলে আমরা ইসলাম সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন করতে পারব না। ইসলামের যা কিছু সমস্যা ও তাঁর সমাধান সব কিছুই নবীর জীবনী থেকে উদ্ভুত তাই সঠিক ইসলাম জানতে হলে নবী জীবনী জানা আবশ্যিক কর্তব্য। এখন প্রশ্ন হল আমাদের প্রাসঙ্গিক আলোচনা পর্দা প্রথার সৃষ্টি হল কিভাবে? এর উওর পাব কোথায়? তার উত্তর পেতে গেলে আমাদের নবী মহম্মদের ব্যাক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনা করতে হবে এবং এখানেই যাবতীয় প্রশ্নের যৌক্তিক উত্তর রয়েছে। এতক্ষণ আমরা মহম্মদের রাজনৈতিক জীবন সম্পর্কে আলোচনা করলাম, এবার তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনা করব। এখন প্রশ্ন হল পর্দা প্রথা সম্পর্কে জানতে হলে মহম্মদের ব্যক্তি জীবন এত গুরুত্বপূর্ণ কেন?

চলবে…

তথ্যসূত্র:-

1) উইকিপিডিয়া।

https://en.m.wikipedia.org/wiki/Muhammad

https://en.m.wikipedia.org/wiki/Islam

https://en.m.wikipedia.org/wiki/Shia%E2%80%93Sunni_relations

2) ANI NEWS.

https://www.aninews.in/news/world/asia/sea-of-people-at-anti-shia-protest-jolts-pakistans-karachi20200912093939

3) আল কোরআন।

4) সহি হাদিস ও অন্যান্য ইসলামি তথ্যসূত্র।

শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published.