মানুষ যতো উন্নত হচ্ছে ততোই ইসলামীক শরীয়া আইন থেকে সরে আসছে।

শরীয়া আইন মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে পঞ্চম শতাব্দীর দিকে প্রচলিত থাকা বিভিন্ন অপরাধের জন্য যে শাস্তির ব্যবস্থা ছিল সেগুলোর কিছুটা পরিবর্তিত রূপ মাত্র।মানব সভ্যতা ক্রমে ক্রমে অগ্রসর হতে থাকে, সময়ের সাথে সাথে নানা রকম প্রযুক্তিগত উন্নতি হতে থাকে। সেই সাথে সমাজের সমস্যার ধরনগুলো বদলে যেতে থাকে। নতুন সমস্যার আগমনে যুগপোযোগী আইন প্রনয়ন করে যেতে হয়, যা পাশ্চাত্যে করা হয়ে থাকে। শরীয়া আইন প্রায় ১৪০০ বছর পূর্বে জারী করা হয়েছে যা পরিবর্তন যোগ্য নয় কিন্তু মানুষের জীবনযাত্রা ইতিমধ্যে অনেক পাল্টে গেছে ফলে পুরনো ফ্রেম বদ্ধ শরীয়া আইন সমূহ ধীরে ধীরে প্রজোয্যতা এবং গ্রহণযোগ্যতা হারাচ্ছে। যেমন, ছবি তোলা শরীয়া আইনে অগ্রহণযোগ্য কিন্তু বর্তমানে ছবি তোলা ছাড়া কোন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সহ অন্যান্য সামাজিক বিষয়ে অংশ নেয়া সম্ভব নয়।

গ্লোবালাইজেশনের ফলে মানুষ নানা সমাজের সংস্পর্শে আসছে, নানা নতুন বিষয়ে করা নতুন সব আইন সমন্ধে জানতে পারছে আর মানুষ অনুধাবন করতে পারছে যে পাশ্চাত্যের আইনের অধীনে বসবাস করা স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ আর অনেক বেশী আনন্দময়। পাশ্চাত্য আইনের অধীনে বাস করে আপনার ব্যক্তিগত রুচি অনুসারে জীবন নিজের মত যাপন করতে পারবেন যদি না তা অন্যের জন্য ক্ষতিকর হয়। কিন্তু শরীয়া আইনের অধীনে আপনার ব্যক্তিগত রুচি প্রাধান্য পায় না। যেমন শরীয়া আইনের অধীনে বাস করলে আপনি গান করার জন্য, প্রাণীর ছবি আঁকার জন্য বা সিনেমা দেখার জন্য বা দাঁড়ি না রাখার জন্য বা দাঁড়ির দৈর্ঘ্য কমবেশি হওয়ার জন্য দারুন নিগ্রহের শিকার হতে পারেন।

প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ফলে নানা বিধ নতুন পেশা, বিনোদনের নানা উপকরণ হাতের নাগালে আসছে যেমন, ইন্টারনেট, সিনেমা ইত্যাদি কিন্তু শরীয়া আইনের অধীনে থাকলে এগুলো আপনার হাতের নাগালের বাইরে থাকবে এমনকি আপনার পক্ষে জ্ঞান বিজ্ঞানের চর্চা করা সম্ভব হবে না কারণ আজকালকার প্রায় সব বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার বা আবিষ্কার প্রচেষ্টা সমূহ শরীয়ত বিরোধী। শরীয়া আইনের শাস্তিগুলো খুবই কঠোর ধরণের। যেমন, অবিবাহিত নরনারীর মেলামেশার জন্য পাথর নিক্ষেপে নিহত হওয়ার মত বিষয় ঘটতে পারে কিন্তু পাশ্চ্যাত্য আইনের বিবেচনায় এটা অপরাধ হিসাবে বিবেচিত নয়।এমন ধরণের নিপীড়ন মুখী শরীয়া আইন আর তার প্রয়োগ মানুষ এখন আর পছন্দ করছে না। তাছাড়া শরীয়া আইন কোন অঞ্চলে জারী হলে সেখানকার শাসকরা তা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে দেবার চেষ্টা করতে গিয়ে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে ফলে দেশের স্থিতিশীলতা বিনাশ হয়ে জীবনযাত্রা অচল হয়ে দারুন দুর্ভোগে পরতে হতে পারে। অপর দিকে শরীয়া আইন থাকা কোন দেশের ভিন্ন ধর্মের মানুষরা দারুন হেনস্তার স্বীকার হতে পারে।

সার্বিক বিবেচনায় বলা যায় আধুনিক মানুষ আর শরীয়া আইন পছন্দ করছে না। এমন কি সউদী আরবও আজকাল তাদের দেশের উদ্ভাবিত শরীয়া আইন থেকে নিজেরাই বের হয়ে আসতে চাইছে।

মেয়েদের জন্য শরীয়া আইনের অধীনে বাস করা আরও জটিল। যেমন শরীয়া আইনের অধীনে বাস করলে কোন মেয়েকে সতীনের সাথে বাস করতে হতে পারে বা পিতার সম্পত্তিতে তার অংশ অর্ধেক হতে পারে বা তার সাক্ষ্যর গুরুত্ব কোন পুরুষের সাক্ষ্যর তুলনায় অর্ধেক হতে পারে। আবার তার শিক্ষা ক্ষেত্রে বিচরণ করা অসম্ভব হতে পারে বা নিজের পছন্দের পেশা বেছে নিয়ে অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী হওয়া অসম্ভব হতে পারে। অর্থাৎ শরীয়া আইনের অধীনে থাকা নারী মানুষ হিসাবে নিজের অধিকার ব্যাপক আকারে খুইয়ে বসে।

শরীয়া আইনের আওতায় থাকা একজন সৌদি মেয়ে একা বাড়ির বাইরে যাতায়াত করতে পারে না, পাসপোর্ট পেতে পারে না, নিজের পচ্ছন্দ মত বিয়ে করতে পারে না বরং অভিভাবক অতি বৃদ্ধ লোকের সাথে বা তৃতীয় বা চতুর্থ কনে হিসাবে কারো সাথে বিয়ে ঠিক করলে তাতেই তাকে রাজি হতে হয়, শিশুকালে বিয়ে দিলেও কিছু করার থাকে না, পছন্দ মত পেশা বেছে নিতে পারে না, সে যত দক্ষই হোক সে নিজে নিজের অভিভাবক হতে পারে না, বিদেশে পড়তে যেতে পারে না, রাজনৈতিক অধিকার পেতে পারে না। সৌদি মেয়েরা বিপাকে পড়ে এসব মানতে বাধ্য হচ্ছে কিন্তু সুযোগ থাকলে এমন মধ্যযুগীয় বিষয়গুলো কোন মেয়েই মানতে রাজি হবে না বরং সকল মুসলিম মেয়েও পশ্চিমা আইনের অধীনে বসবাস করতে চাইবে।

শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published.