বেঁচে আছি

বেঁচে আছি!

কেন বেঁচে আছি?

কার জন্য বেঁচে আছি? কিসের জন্য বেঁচে আছি?

বেঁচে থাকার উদ্দেশ্য কি?

মাঝে মাঝে মনে হয় বড় হতাশ হয়ে গেছি!

জীবন কোন দিকে নিয়ে যাবে কোন উত্তর আছে কি?

চারিদিকের পরিস্থিতি কি?

ক্ষুধা, যন্ত্রণা, বেকারত্ব, চুরি, দুর্নীতি, ধর্মান্ধতা, যুদ্ধের ভয়াবহতা সমাজ তথা রাষ্ট্রকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রেখেছে!

মানুষের মননের সুক্ষ অনুভূতিগুলি কি আজ মরে গেছে?

তাই আগামী দিনে যুব সমাজের ভবিষ্যৎ কি?

শিশুকালের স্বপ্নগুলি ছিল বড়, বড় হওয়ার সাথে সাথে স্বপ্নগুলি ও ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে কি?

পরিচিত পৃথিবীটা দ্রুত বদলে যাচ্ছে, আর আমরা যেন যে অবস্থায় ছিলাম সে অবস্থাতেই রয়ে গেছি!

এই দুঃখ, যন্ত্রণা, দুর্দশার কি কোন পরিবর্তন হবে?

আগামী প্রজন্ম কি শুধুই মরুভূমির মরীচিকার পিছনে ছুটবে?

প্রতিবাদ করলেই লাশ হয়ে ঘরে ফিরতে হয়, রাষ্ট্রযন্ত্র যেখানে প্রতিবাদীকে ছিঁড়ে খায়, মেধাবীরা রাস্তায় পড়ে মার খায়! লুম্পেন বাহিনী ক্ষমতা দখল করে, অযোগ্যরা ক্ষমতার শীর্ষে অধিষ্ঠিত হয়!

এমন সমাজ ব্যবস্থার হবে কি?

যে দেশে, যে সমাজে শিক্ষার মূল্য নেই, মেধা যেখানে অর্থের কাছে বিক্রি হয়, মেধাবীরা যেখানে ভাত পায় না, বিচার ব্যবস্থা যেখানে সময়ের হাতে বন্দী, ন্যায় প্রতিষ্ঠা যেখানে প্রতীক্ষার অপেক্ষায়! সেখানে প্রকৃত বিচার মিলবে কি?

যেখানে বুদ্ধিজীবীরা ভাতাজীবিতে পরিণত হয়! তেমন সমাজ ব্যবস্থার হবে কি?

যেখানে বেশিরভাগ সংবাদমাধ্যম অনুগত দাস, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ আজ আক্রান্ত, পুলিশ শাসকের নিয়ন্ত্রিত, সাধারণ মানুষ মৃতপ্রায়, ভিক্ষাজীবি!

সেখানে আলো আসবে কি? মানুষের দুঃখ, দুর্দশার অবসান হবে কি?

স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে প্রকৃত গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা হবে কি?

মাঝে মাঝে মনে হয় এসব কথা লিখে আদেও হবে কি?

কার এত সময় আছে শোষিত, নিপীড়িত শ্রমজীবী মানুষ, ছাত্র যুবদের দুঃখ দুর্দশার কথা শোনার?

আদেও কি এতে সমাজের কোন পরিবর্তন হবে?

সত্যি বলতে কি জানি না আগামী দিনে কি হবে, শুধু এটাই জানি এটি বর্তমান সমাজ ব্যবস্থার অনন্য দলিল হয়েই থাকবে!

হয়তো কিছুই হবে না জানি, কিন্তু আমি নিশ্চিত লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন যন্ত্রণা ঠিকই একদিন কথা বলবে!

হাজার হাজার বেকার যুবক যুবতীদের, কষ্ট, যন্ত্রণা, আহাজারি একদিন প্রতিবাদের ভাষা হয়ে উঠবে!

ক্ষমতার সুউচ্চ মিনারে যাঁরা অধিষ্ঠিত হয়ে মানুষকে মানুষ মনে করে না, ইতিহাস ঠিকই এর বিচার করবে!

আমরা কি এমন সমাজ ব্যবস্থা চাইতে পারি না, যেখানে মানুষের মধ্যে সৌভাতৃত্ববোধ, মমত্ববোধ বেঁচে উঠুক!

যেখানে সব মানুষের হাতে কাজ হোক, সব পেটে ভাত হোক! মানুষের মতো মানুষের জীবনে বেঁচে থাকার অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত হোক!

মানুষের মতো বেঁচে থাকার স্বপ্ন কি আমাদের পূরণ হবে? ক্ষমতার দম্ভ চূর্ণ করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন কি সফল হবে?

শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published.