“টিপ পরছোস কেন” “টিপ পরছোস কেন’

“টিপ পরছোস কেন” “টিপ পরছোস কেন’ বলেই বাজে গালি দেন পুলিশের পোশাক পরা ব্যক্তি”- প্রভাষক লতা সমাদ্দার। “টিপ পরছোস কেন” “টিপ পরছোস কেন’ বলেই বাজে গালি দেন পুলিশের পোশাক পরা ব্যক্তি”- প্রভাষক লতা সমাদ্দার।
গত এক দশকে, বাংলাদেশ একদিকে উগ্র ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর উত্থান এবং অন্যদিকে ধর্মীয় সহিংসতার ক্রমবর্ধমান শক্তি প্রদর্শনের এক অভয় অরণ্যে সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে কেউ কেউ এই উপসংহারে পৌঁছেছে যে দেশটি সহিংস পাকিস্তানের ন্যায় ধর্মনিরপেক্ষতা ধর্মীয় সহিংসতার যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হচ্ছে। এই চিত্রায়নে অনুমান করে যে ধর্মীয় উন্মাদনা বাংলাদেশে মৌলবাদের সহিংসতার প্রাথমিক উৎস হিসেবে কাজ করেছে। ধর্ম এবং মৌলবাদ প্রক্রিয়ার মধ্যে আইসিটি আইনটি ধর্ম অনুভূতির আঘাতকে ব্যবহার বা মোকাবেলা করা সুযোগ সন্ধানীদের কাছে একটি পরীক্ষিত চিত্র। বাংলাদেশে মৌলবাদের মূল উৎসগুলিও অন্বেষণ করা প্রয়োজন। এই অধ্যায়টি তিনটি প্রশ্নের উত্তর দেয়: কোন উপাদানগুলি মৌলবাদে অবদান রাখে এবং এই কারণগুলি ও ধর্মগুলিকে ব্যবহার করে কী? বাংলাদেশে ‘ধর্মীয় উগ্রকরণের’ বৈশিষ্ট্যগুলো কী কী? বাংলাদেশে মৌলবাদের কারণগুলো কী কী?
সামগ্রিকভাবে অনুসন্ধান করলে দেখা যায় যে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের মাত্রা অতিশয় দুর্বল, কারণ নির্বাচনী দলগুলোর দুর্বল সংগঠন ও সাংগঠনিক কর্ম তৎপরতা, বলা যেতে পারে অভিজাত বংশবাদী দলগুলি শক্তিশালী ও ক্ষমতা কেন্দ্রীকরণে এইসব নেতাদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। দলের নেতাদের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে দুর্বল প্রক্রিয়া। কাজেই বাংলাদেশে দলীয় রাজনীতির গণতন্ত্রী-করণ এবং গণতন্ত্রকে সুসংহত করার সম্ভাবনার ক্ষেত্রে রাজনীতিতে সাধারণত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণেও দুর্বলতা রয়েছে। মন্ত্রণালয়গুলোর কর্ম পদ্ধতির সমন্বয়ের অভাবে আন্তর্জাতিক সম্প্রীতি রক্ষা ও রাজনীতিতেও এর প্রভাব পরেছে।
অভ্যন্তরীণ দলীয় গণতন্ত্রের যৌক্তিকতা অন্বেষণ করা প্রয়োজন। সংসদদের জন্যে ‘গণতন্ত্র শিক্ষা বিদ্যালয়’ তৈরির যুক্তি তুলে ধরা যায়। দ্বিতীয়ত, এটি আন্তঃ-দলীয় গণতন্ত্রের স্তরের নির্ধারক হিসাবে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া চিহ্নিত করা প্রয়োজন যথা: নেতা নির্বাচন, নীতি প্রণয়ন এবং জোট গঠনের জন্য একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া।
শিক্ষা কারিকুলাম ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ খুবই দুর্বল, লক্ষ্য করা যায় যে পাঠ্য পুস্তকের রূপ রেখা ও দিন দিন পাঠ্য পুস্তকে ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতা সম্বলিত উক্তিগুলি নতুন প্রজন্মের শিক্ষা বিন্যাসে হুমকি সরূপ।
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক জিহাদি নেটওয়ার্কগুলিকে ভেঙে দিতে পারলেও, নতুন মৌলবাদীরা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নতুন ভাবে হুমকির সৃষ্টি করছে ও প্রসার বৃদ্ধি করেছে। সমাজ, সমাজের চিত্র, জনসাধারণের সামাজিক দৃষ্টি ভঙ্গি, সংস্কৃতি, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী, সরকারী কর্মকর্তা থেকে শুরু করে ক্ষমতা লোভী রাজনৈতিক দল ও দলের নেতা থেকে শুরু করে পুরো সমাজ ব্যবস্থাই এখন উগ্র ধর্মীয় অনুভূতিতে আক্রান্ত। অবস্থা এতটাই গুরুতর যে এই জায়গা থেকে উঠে আসতে চাইলে সেকুলারিজামকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করতে সরকারকে এখন একটি ইনস্টিটুশোনাল বা জনসাধারণের জন্যে শিক্ষামূলক কার্যক্রম হাতে নিতে হবে।
ট্রান্সন্যাশনাল সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক সব সময় বাংলাদেশে দীর্ঘস্থায়ী উপস্থিতি বজায় রেখেছে। ২০১৬ সালে হলি আর্টিসান হামলা, যেখানে পাঁচজন আততায়ী বিদেশী প্রবাস সহ একটি রেস্তরাতে রাতারাতি ২০ জনকে হত্যা করেছিল, এই সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ছিল দেশের ইতিহাসে একটি অন্ধকার অধ্যায়। তারপর থেকে, বাংলাদেশ দেশে সন্ত্রাসী সেলের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালিয়েছে, যার ফলে অন্তত ৭৯ জন সন্দেহভাজন মৌলবাদীর মৃত্যু হয়েছে, অন্য ১৫০ জনেরও বেশি গ্রেপ্তার হয়েছে এবং ইসলামপন্থী কট্টরপন্থী রাজনৈতিক দল হেফাজতে ইসলামকে বিলুপ্ত করা হয়েছে বলা হলেও এই ইসলামিক দল দেশের সর্ব ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত প্রভাব বিস্তার করছে জামাতের দলের একটি বৃহৎ অংশ এখন এই দলের ভেতর অবস্থান করছে, হেফাজত এখন ভোটের হাতে ট্রাম্প কার্ড। সকল রাজনৈতিক দলগুলো আড়ালে আবডালে বর্তমানে হেফাজতের তোয়াজ করে চলছে মনে রাখতে হবে আফগান-ফেরত বিদেশী যোদ্ধাদের সাথে এখন পর্যন্ত এই ধর্মীয় সংগঠনগুলোর যোগসূত্রের সন্ধান পাওয়া যায়।
ইউরোপ আমেরিকার মানবাধিকার সংগঠনগুলো প্রতিনিয়ত বাংলাদেশে উগ্র ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর উত্থান নিয়ে আবার উদ্বিগ্ন কারণ তালেবানের হাতে কাবুলের পতন ইসলামের বিজয় হিসেবে সোশ্যাল মিডিয়ায় বৃহত সংখ্যাক বাংলাদেশীরা উল্লাসের সাথে উদযাপন করেছে,তালেবানদের উৎসাহিত করে মন্তব্য পোস্ট করেছে,যা বর্তমানে খুব সহজেই প্রতীয়মান হচ্ছে। “টিপ পরছোস কেন” “টিপ পরছোস কেন’ খুব সহজেই বলে যায় বাংলাদেশের সর্বস্তরে উগ্র ধর্মপন্থী গোষ্ঠীর উত্থানের উদহারণ।
– মাহবুব আরিফ কিন্তু।

শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published.