কোনও জাতিকে ধ্বংস করার জন্য পারমাণবিক বোমা বা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না, শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিলেই সেই জাতি পৃথিবীর মানচিত্র থেকে উধাও হয়ে যাবে

“কোনও জাতিকে ধ্বংস করার জন্য পারমাণবিক বোমা বা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না, শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিলেই সেই জাতি পৃথিবীর মানচিত্র থেকে উধাও হয়ে যাবে”
শিক্ষার কাজ হল একজনকে নিবিড়ভাবে চিন্তা করতে এবং সমালোচনামূলক ভাবে চিন্তা করতে শেখানো। বুদ্ধিমত্তা এবং চরিত্র – এটাই প্রকৃত শিক্ষার লক্ষ্য। শিক্ষার লক্ষ্য জ্ঞানের পরিমাণ বাড়ানো নয় বরং একটি শিশুর উদ্ভাবন ও আবিষ্কারের সম্ভাবনা তৈরি করা, নতুন জিনিস করতে সক্ষম এমন মানুষ তৈরি করা। এটি সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র যা আমরা বিশ্বকে পরিবর্তন করতে ব্যবহার করতে পারি। শিক্ষা মানে এমন এক ধরনের শিক্ষা যেখানে জ্ঞান, দক্ষতা এবং অভ্যাস এক প্রজন্ম থেকে পরবর্তী প্রজন্মে স্থানান্তরিত হয়। মানুষের শিক্ষা শুরু হয় যখন সে জন্ম নেয়। শিক্ষার প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং তৃতীয় স্তরের তিনটি স্তর রয়েছে বলে সমাজের উন্নয়নে প্রতিটি স্তর সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শিক্ষা মানুষকে দারিদ্র্য থেকে বা অন্য কথায় সমৃদ্ধিতে সাহায্য করার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা দেয়।
শিক্ষার জন্য জ্ঞানী ব্যক্তি দ্বারা রচিত সাহিত্য থেকে কিছু ধরণের নির্দেশনা প্রয়োজন। শিক্ষার সবচেয়ে সাধারণ ফর্মগুলি বছরের পর বছর ধরে স্কুলে পড়ালেখার ফলাফল যা বিভিন্ন বিষয়ের অধ্যয়নকে অন্তর্ভুক্ত করে। তাই শিক্ষাকে বিশ্ব মানের পর্যায়ে আনতে হলে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে এর দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শিক্ষা কারিকুলাম প্রয়োজন হয়। জ্ঞান অর্জনের কোন বয়স সীমা থাকে না মানুষ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত জ্ঞান অর্জনের চর্চা অব্যাহত রাখতে পারেন।
বাংলাদেশে শিক্ষার মান নিম্নগামী। একটি স্কুল ব্যবস্থায় মানের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় পরিমাপ হল এর শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতের সমস্ত শিক্ষার জন্য মৌলিক দক্ষতা শিখছে কিনা? বাংলাদেশে বেশির ভাগ শিশুই প্রাথমিক পাঠের সাবলীলতা অর্জন করতে পারছে না। বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশে ভুটানে একটি উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা থাকলেও দ্য গ্লোবাল কম্পিটিটিভনেস রিপোর্ট ২০১৭ অনুসারে বাংলাদেশে বিশ্বের সবচেয়ে কম মানের শিক্ষা ব্যবস্থার একটি। বাংলাদেশে প্রায় ৬৬ শতাংশ শিশু মৌলিক সাক্ষরতা অর্জন করতে পারে না। অপর্যাপ্ত সম্পদ, অপর্যাপ্ত এবং অযোগ্য শিক্ষক, সম্প্রদায়ের সম্পৃক্ততার অভাব এবং দুর্নীতির মতো অসংখ্য কারণ বাংলাদেশের শিক্ষার খারাপ অবস্থা থেকে এখন অচল অবস্থায় গিয়ে পরেছে। শিশু শিক্ষাকে যুগোপযোগী করতে হলে রাষ্ট্রীয় সহযোগিতায় অভিভাবক না পিতা মাতাদের শিশু জন্ম নেবার সাথে সাথে সাথেই শিশু লালন পালন ও পরিচর্যার ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন, এই গুরু দায়িত্ব সরকারের উপর বর্তায়।
আমাদের মাথা পিছু আয় নিয়ে বড় বড় বুলি না আওড়ে শিক্ষা ব্যবস্থায় উন্নয়ন করা উচিত ছিল সব চাইতে বেশী প্রয়োজন, প্রাক্তন শিক্ষা মন্ত্রী যখন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মচারীদের সহনীয় পর্যায়ে ঘুষ নেবার জন্যে উত্সাহিত করেছিলেন ঠিক তখনি জাতির বোঝা উচিত ছিল শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙ্গে যাচ্ছে আর আজ তা রসাতলে গেছে। ধর্ম শিক্ষাকে সাধারণ শিক্ষার সমপর্যায়ের মানে উন্নত করতে হেফাজতের সাথে সমঝোতা ছিল শিক্ষা ব্যবস্থায় এক চরম বিপর্যয়। দুর্নীতির মতো অসংখ্য কারণ বাংলাদেশের শিক্ষার খারাপ অবস্থার জন্য দায়ী। বর্তমান মন্ত্রী দীপুমনি শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব নেবার পর তেমন কোন অসাধ্যকে সাধন করতে সক্ষম হোন নাই। শিক্ষা যে কোনো আধুনিক সমাজে উন্নয়নের একটি প্রধান চালিকা শক্তি, কিন্তু বাংলাদেশে চলছে ভর্তি ব্যবস্থায় ঘুষ বাণিজ্য, প্রাক্তন অর্থ মন্ত্রীর ভাষায় বলতে হয় স্পিড মানি। একটি রাষ্ট্রের শিক্ষা ব্যবস্থায় দুই ধরনের শিক্ষা কারিকুলামের যে ব্যবস্থা এর পর বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে দুই কারিকুলামের সংযোজন করানোর যে কারিশমা তা আদৌ রাষ্ট্রের জন্যে কোন উন্নয়নের বার্তা বয়ে আনে নাই।
যে দেশে বিশ বছর যাবৎ হাজার হাজার ভুয়া ডাক্তারি সার্টিফিকেট বিক্রি হয়, এইসব ভুয়া ডাক্তারদের কারণে হাজার হাজার মানুষ মৃত্যু বরণ করার পর আমরা কখনই বলতে পারি না এদেশে কিঞ্চিত পরিমাণ উন্নয়ন হয়েছে। কারণ শিক্ষায় হচ্ছে জাতির মেরুদণ্ড, স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পর শিক্ষা ব্যবস্থায় বর্তমান সরকারের উদাসীনতা সব চাইতে বেশী লক্ষ্য করা গেছে।
-মাহবুব আরিফ কিন্তু।

শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published.