২৫৬: ইয়েমেনে আগ্রাসন ও হত্যাকাণ্ড – নেতৃত্বে আলী!

আদি উৎসে মুসলিম ঐতিহাসিকদের বর্ণনা মতে, নবী মুহাম্মদের নির্দেশে আলী ইবনে আবু তালিব তিনশত অশ্বারোহী সৈন্যের এক বাহিনী নিয়ে হিজরি দশ সালের রমজান মাসে মদিনা থেকে ইয়েমেনের উদ্দেশ্যে রওনা হোন। সেখানে পৌঁছার পর মুহাম্মদের এই অনুসারীরা কী প্রক্রিয়ায় এই আগ্রাসনটি সম্পন্ন করেছিলেন; তারা তাঁদের কতজন নিরপরাধ লোককে হত্যা করেছিলেন; কী ভাবে তারা তাঁদের সম্পদ লুণ্ঠন করেছিলেন ও কী ভাবে তা ভাগাভাগি ও বণ্টন করা হয়েছিল; ভাগাভাগির পর কী কারণে মুহাম্মদ অনুসারীরা আলীর প্রতি মনক্ষুন্ন হয়েছিলেন; আগ্রাসন শেষে আলী যখন তাড়াহুড়ো করে আবু রাফি নামের এক সহচরের উপর তার সেনাবাহিনী ও এক-পঞ্চমাংশ লুটের মালের দায়িত্ব দিয়ে বিদায় হজ্জের প্রাক্কালে (জিলকদ-জিলহজ্জ মাস, বরাবার ফেব্রুয়ারি-এপ্রিল ৬৩২ সাল) মক্কায় মুহাম্মদের সাথে দেখা করতে এসেছিলেন, তখন পথিমধ্যে তার ঐ সেনাবাহিনী-তে কী ঘটনাটি ঘটেছিল; অতঃপর সেই ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করার পর আলী কী এমন কর্ম করেছিলেন, যে কারণে তার সহচররা তার বিরুদ্ধে মুহাম্মদের কাছে অভিযোগ করেছিলেন; ইত্যাদি বিষয়ের বিশদ বর্ণনা লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন আল-ওয়াকিদি, তাঁর ‘কিতাব আল-মাঘাজি’ গ্রন্থে।

অন্যদিকে, ইবনে হিশাম সম্পাদিত মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের ‘সিরাত রাসুল আল্লাহ’ গ্রন্থের A. GUILLAUME ইংরেজি অনুবাদ ও আল-তাবারীর বর্ণনায় এই আগ্রাসনের বিস্তারিত ইতিবৃত্ত অনুপস্থিত। তবে ইয়েমেন আগ্রাসন শেষে, বিদায় হজ্জের প্রাক্কালে আলী ইবনে আবি তালিব মক্কায় মুহাম্মদের সাথে সাক্ষাতের সময়টিতে যে ঘটনাটি ঘটেছিল, তা ইবনে হিশাম লিপিবদ্ধ করেছেন।

আর আল-তাবারী যা উল্লেখ করেছেন, তা হলো: “—আল্লাহর নবী, খালিদ বিন আল-ওয়ালিদ কে ইয়েমেনের জনগণের নিকট প্রেরণ করেন; সে ছয় মাস যাবত এ বিষয়ে বিরতিহীন পরিশ্রম করে, কিন্তু তারা সাড়া দেয় না। তাই আল্লাহর নবী আলী ইবনে আবু তালিব-কে প্রেরণ করেন। —-সে তাদের সম্মুখে আল্লাহর নবীর চিঠিটি পড়ে শোনায়। হামদানের সকল লোক একদিনেই ইসলাম গ্রহণ করে।— ”

আল-ওয়াকিদির (৭৪৭-৮২৩ সাল) বিস্তারিত বর্ণনায় ঘটনাটি ছিল নিম্নরূপ: [1]
পূর্ব প্রকাশিতের (পর্ব: ২৫৫) পর

‘তারা বলেছে: আল্লাহর নবী হিজরি দশ সালের রমজান মাসে [ডিসেম্বর, ৬৩১ সাল – জানুয়ারি, ৬৩২ সাল] আলী-কে অভিযানে প্রেরণ করেন। আল্লাহর নবী তাকে কুবায় শিবির স্থাপনের নির্দেশ দেন, তাই আলী তার সঙ্গীরা না আসা পর্যন্ত সেখানে শিবির স্থাপন করে।

সেই সময় আল্লাহর নবী আলীকে এক পাগড়ি প্রদান করেন, যা তিনি চার ভাঁজ করে তার বর্শার মাথায় ব্যানারের জন্য স্থাপন করেন ও তা তার হাতে দেন। তিনি বলেন, “এটিই হলো ব্যানার।” তিনি এক পাগড়ি সাজান, আলীর উপর তিনবার ঘুরান, তার দুই হাতের মাঝখানে এক হাত পরিমাণ ও তার পিঠের দিকে আধ হাত পরিমাণ লম্বা রাখেন ও বলেন, “এই হলো পাগড়ি!”

সে বলেছে: উসামা বিন যা্যেদ <তার পিতা হইতে < আতা বিন ইয়াসার হইতে <আবু রাফি হইতে [প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে] আমাকে বর্ণনা করেছে, যে বলেছে:

আল্লাহর নবী যখন তার মুখোমুখি হোন, তিনি বলেন, “বেরিয়ে পড়ো, আর পশ্চাদপসরণ করো না।” আলী বলে, “হে আল্লাহর নবী, আমি কি করবো?”

নবী বলেন,
“তুমি যখন তাদের এলাকায় পৌঁছবে, তখন তাদের সাথে যুদ্ধ করো না যতক্ষণ না তারা তোমার সাথে যুদ্ধ করে; যদি তারা তোমাদের আক্রমণ করে তবে তাদের সাথে যুদ্ধ করো না যতক্ষণে না তারা তোমাদের একজনকে হত্যা করে। যদি তারা তোমাদের একজনকে হত্যা করে, তবে তাদের সাথে যুদ্ধ করো না বা তাদের দোষারোপ করো না, বরং তাদের সাথে ধৈর্য প্রদর্শন করো। তাদের-কে বলবে, ‘তোমরা কি বলবে যে আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন মাবুদ নাই?’ অতঃপর যদি তারা বলে, ‘হ্যাঁ’, বলবে, ‘তোমরা কি নামাজ পড়বে?’ অতঃপর যদি তারা বলে ‘হ্যাঁ’, তবে বলবে, ‘তোমরা কি তোমাদের সম্পত্তি থেকে তোমাদের গরীবদের দান করবে?’ অতঃপর তারা যদি বলে ‘হ্যাঁ’ তবে আর কিছু চাইবে না। আল্লাহর কসম, আল্লাহ যেনো তোমার মাধ্যমে মানুষদের পথ দেখায়; এটি তোমার জন্য উত্তম তা সূর্য উদয় হোক বা অস্ত যাক, যাইই হোক না কেন!”

সে বলেছে: সে তিনশত অশ্বারোহী বাহিনী নিয়ে রওনা হয় ও তাদের অশ্বারোহী বাহিনীই সর্বপ্রথম তাদের এলাকায় প্রবেশ করে।

তার কাঙ্ক্ষিত এলাকাটির নিকট পৌঁছার পর, যেটি ছিল মাধিজদের এলাকা; সে তার সঙ্গীদের চতুর্দিকে পাঠিয়ে দেয় ও তারা জোরপূর্বক তাদের নারী ও শিশুদের বন্দী করে এবং গবাদি পশু, ভেড়া এবং অন্যান্য জিনিসগুলো লুণ্ঠন করে নিয়ে আসে।

আলী, বুরাইদা বিন আল-হুসায়েব কে লুণ্ঠন-সামগ্রীর দায়িত্বে নিযুক্ত করে। কোন গোষ্ঠীর সাথে দেখা করার পূর্বে, যে লুণ্ঠন-সামগ্রীগুলো পাকড়াও করা হয়েছিল তা সে জড়ো করে রাখে। অতঃপর সে এক গোষ্ঠীর সাথে সাক্ষাত করে ও তাদেরকে ইসলামের দাওয়াত দেয় ও তাদের প্রলুব্ধ করে। কিন্তু তারা তা প্রত্যাখ্যান করে ও তার সঙ্গীদের নিশানা করে।

আলী ব্যানারটি মাসুদ বিন সিনান আল-সুলামি কে হস্তান্তর করে ও সে এটি নিয়ে সম্মুখে অগ্রসর হয়। মাধিজদের এক ব্যক্তি তাকে দ্বন্দ্বযুদ্ধের আমন্ত্রণ জানায়, তাই আল-আসওয়াদ বিন আল-খুযায়ি আল-সুলামি তার সাথে দ্বন্দ্বযুদ্ধ করে। তারা ঘোড়ার পিঠে চড়ে কিছুক্ষণ একে অপরকে আক্রমণ করে। অতঃপর আল-আসওয়াদ তাকে হত্যা করে ও তার মালামাল লুণ্ঠন করে নিয়ে যায়।

অতঃপর আলী তার সঙ্গীদের নিয়ে তাদের আক্রমণ করে ও তাদের বিশজন লোককে হত্যা করে, অতঃপর তারা পরাজিত হয় ও তারা তাদের পতাকাটি দণ্ডায়মান অবস্থায় ফেলে রেখে ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে।

আলী তাদের খোঁজ করা থেকে বিরত থাকে; সে তাদেরকে ইসলামের দাওয়াত দেয় ও তারা দ্রুত ফিরে আসে ও তাতে সাড়া দেয়। তাদের নেতাদের একদল নিকটে আসে ও ইসলামের আনুগত্য মেনে নেয়। তারা বলে,

“আমাদের জনগণের মধ্যে যারা আমাদের পেছনে আছে, আমরা দাঁড়িয়েছি তাদের পক্ষে। এটি আমাদের ‘সাদাকা’, অতএব এ থেকে আল্লাহর যা প্রাপ্য তা নিয়ে নাও।”

সে বলেছে: উমর বিন মুহাম্মদ বিন উমর বিন আলী < তার পিতা হইতে [প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে] আমাকে বর্ণনা করেছে, যে বলেছে:

যা লুণ্ঠন করা হয়েছিল তা আলী সংগ্রহ করে ও তা পাঁচ ভাগে ভাগ করে ও একটি বাছাই করে নেয়; সে এটির এক অংশে লেখে, ঈশ্বরের জন্য। সে অংশগুলির প্রথমটি, এক-পঞ্চমাংশ, বের করে নেয় ও সে কাউকে অতিরিক্ত কিছুই দেয় না। তার আগের নেতারা তাদের সাথে উপস্থিত সহচরদের, অন্যদের নয়, এই এক-পঞ্চমাংশ থেকে দান করতো। আল্লাহর নবী-কে এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছিল ও তিনি এর বিরোধিতা করেন নাই। তাই তারা আলীর কাছে এ বিষয়ে অনুরোধ করে, কিন্তু আলী তা প্রত্যাখ্যান করে। সে বলে, “আমি এই এক পঞ্চমাংশ আল্লাহর নবীর কাছে নিয়ে যাবো ও তিনি এ সম্পর্কে তাঁর অভিমত ব্যক্ত করবেন। আল্লাহর নবী উৎসবে আগমনে করছেন। আমরা তাঁর সাথে দেখা করবো ও আল্লাহ তাকে যা প্রকাশ করবে তিনি এ বিষয়ে তাই করবেন;” অতঃপর আলী প্রত্যাবর্তনের জন্য ঘুরে দাঁড়ায়।

সে এই এক-পঞ্চমাংশ ও পশুগুলোর যতটা পারে সেগুলো তাড়িয়ে নিয়ে আসে। আল-ফুতুক (al-Futuq) নামক স্থানে আসার পর সে তার যাত্রা তরান্বিত করে। সে আবু রাফিকে তার সহচর ও এই এক-পঞ্চমাংশটির দায়িত্বে নিযুক্ত করে। এই এক- পঞ্চমাংশের মধ্যে ছিল ইয়েমেনের কিছু পোশাকও।

যে লুণ্ঠন-সামগ্রীগুলো তারা হস্তগত করেছিল তা বস্তাবন্দী করে বোঝাই করা হয়েছিল ও লুণ্ঠিত গবাদি পশুগুলো তাড়িয়ে আনা হয়েছিল। আর তাদের সম্পদের সাদাকা সামগ্রীগুলোর – দান সামগ্রীগুলোর – মধ্যে ছিল তাদের গবাদি পশুগুলো।

আবু সাইদ আল-খুদরি, যে তার সাথে ঐ হামলায় ছিল, বলেছে:

‘আলী আমাদেরকে সাদাকা হিসেবে পাওয়া উটগুলো-তে চড়তে নিষেধ করেছিল। আলীর সঙ্গীরা আবু রাফি-কে অনুরোধ করে যে সে যেনো তাদেরকে লুণ্ঠিত পোশাকগুলো পরিধান করায়; ও

সে তাদের প্রত্যেক-কে দুটি করে পোশাক দেয়।

তারা যখন মক্কার প্রবেশদ্বার ‘আল-সিদরায় (al-Sidra)’ আসে, তখন আলী তাদের সাথে দেখা করার জন্য বের হয়ে আসে ও তাদের থাকার ব্যবস্থা করে; অতঃপর সে তাদের প্রত্যেকের গায়ে দুটি পোশাক দেখতে পায় ও পোশাকগুলো চিনতে পারে ও আবু রাফি-কে বলে, “এটা কী?” সে জবাবে বলে, “তারা আমার সাথে কথা বলেছিল, আর আমি তাদের অভিযোগে ভয় পেয়েছিলাম ও আমি ভেবেছিলাম যে এটি তোমার জন্য সহজ হবে, এই কারণে যে, তোমার আগে যারা ছিল তারা এটা করেছে।”

আলী বলে, “তুমি দেখেছো যে আমি তাদের প্রত্যাখ্যান করেছি, তা সত্বেও তুমি তাদের তা দিয়েছো। নিশ্চিতই আমি তোমাকে এই আদেশ দিয়েছিলাম যে আমি তোমার কাছে যা রেখে এসেছি তুমি তাই করবে, তথাপি তুমি তাদের দিয়েছো!”

সে বলেছে: আলী তা করতে অস্বীকৃতি প্রকাশ করে যতক্ষণে না তাদের কেউ কেউ তাদের সেই দুটি পোশাক খুলে ফেলে। তারা যখন আল্লাহর নবীর কাছে আসে ও অভিযোগ করে, আল্লাহর নবী তখন আলীকে ডেকে বলেন, “তোমার সাথীরা কেন তোমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে?”

সে জবাবে বলে, “আমি তাদের অভিযোগের কারণ নই! আমি যা লুণ্ঠন করেছিলাম তা আমি তাদের ভাগ করে দিয়েছি ও আমি আপনার সামনে না আসা পর্যন্ত এক-পঞ্চমাংশ আলাদা করে রেখেছিলাম, যাতে আপনি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। আমার আগের নেতারা ভিন্নভাবে কাজ করতো। তারা এই এক-পঞ্চমাংশ থেকে যাকে ইচ্ছা অতিরিক্ত দান করতো। তাই আমি এটি আপনার কাছে আনতে চেয়েছিলাম যাতে আপনি আপনার মতামত প্রদান করেন।” আল্লাহর নবী নীরব থাকেন।’ —–

ইবনে হিশাম সম্পাদিত মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের (৭০৪-৭৬৮ সাল) বর্ণনা: [2]

‘ইয়াহিয়া বিন আবদুল্লাহ বিন আবদুল রহমান বিন আবু আমরা < ইয়াযিদ বিন তালহা বিন ইয়াযিদ বিন রুকানা হইতে [প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে] আমাকে বলেছে:

ইয়েমেন থেকে ফিরে আলী যখন তাড়াহুড়ো করে মক্কায় আল্লাহর নবীর সাথে দেখা করতে এসেছিল, তখন সে তার সেনাবাহিনীর দায়িত্বভার তার এক সঙ্গীর উপর ন্যস্ত করেছিল যে সেই বাহিনীতে থাকা প্রতিটি মানুষকে আলীর রেখে দেওয়া পোশাক পরিধান করতে দিয়েছিল।

সেনাদলের লোকেরা যখন কাছে আসে, সে তাদের সাথে দেখা করতে যায় ও তাদের-কে ঐ পোশাকগুলো পরিধান করা অবস্থায় দেখে। সে জিজ্ঞাসা করে যে কী ঘটেছে, লোকটি বলে যে সে লোকদের পোশাক পরিধান করতে দিয়েছে যাতে তারা লোকদের সাথে মিলিত হওয়ার আগেই পোশাকগুলো খুলে ফেলতে পারে। সে [আলী] তাকে আল্লাহর নবীর সাথে দেখা করার আগেই তাদের পোশাকগুলো খুলে ফেলতে বলে এবং তারা তাই করে ও সেগুলো পুনরায় লুটের-মালগুলোর মধ্যে রেখে দেয়। সেনাবাহিনীর লোকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে, তাদের সাথে এমন ব্যবহারের কারণে।

আবদুল্লাহ বিন আবদুল রহমান বিন মামর বিন হাযম <সুলায়েমান বিন মুহাম্মদ বিন কা’ব বিন উজরা হইতে < তার ফুপু যয়নাব বিনতে কাব হইতে যে বিয়ে করেছিল আবু সায়েদ বিন আল-খুদরি কে, পরের জনের বরাত দিয়ে আমাকে বলেছে যে, লোকেরা যখন আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে, তখন সে আল্লাহর নবীকে দাঁড়িয়ে তাদেরকে সম্বোধন করে যা বলতে শুনেছে, তা হলো:

“আলী-কে দোষারোপ করবে না, কারণ সে আল্লাহর আল্লাহর বিষয়, বা আল্লাহর রাস্তায়, এত বেশি বিচক্ষণ যে তাকে দোষারোপ করা যায় না।” —-

‘আলী ইয়েমেনে দুই বার অভিযান চালিয়েছিলেন।’ [পৃষ্ঠা: ৬৭৮]

আল-তাবারীর (৮৩৯-৯২৩ সাল) বর্ণনা: [3]

‘এই বছর রমজান মাসে, আল্লাহর নবী এক সেনাবাহিনীসহ আলী বিন আবু তালিব-কে ইয়েমেনে প্রেরণ করেন।

আবু কুরায়েব ও মুহাম্মদ বিন আমর বিন হায়াজ < ইয়াহিয়া বিন আবদ আল-রহমান আল-আযজি < ইবরাহিম বিন ইউসুফ < তার পিতা < আবু ইশাক < আল-বারা বিন আযিব হইতে [প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বর্ণনা করেছে]: [4] [5] [6] [7] [8]

‘ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়ার জন্য আল্লাহর নবী, খালিদ বিন আল-ওয়ালিদ কে ইয়েমেনের জনগণের নিকট প্রেরণ করেন; যারা তার সঙ্গে গিয়েছিল আমি ছিলাম তাদেরই একজন। সে ছয় মাস যাবত এ বিষয়ে বিরতিহীন পরিশ্রম করে, কিন্তু তারা সাড়া দেয় না। তাই আল্লাহর নবী আলী ইবনে আবু তালিব-কে প্রেরণ করেন ও তাকে এই নির্দেশ দেন যে, খালিদ ও তার সাথে যারা আছে তারা যেন প্রত্যাবর্তন করে; কিন্তু কেউ যদি তাকে অনুসরণ করতে চায় তবে সে যেন তাদের-কে অনুমতি দেয়।

আল-বারা বলেছে, “আমি ছিলাম তাদের একজন যে আলীকে অনুসরণ করেছিল। আমরা যখন ইয়েমেনের সীমান্তে পৌঁছি, জনগণ সংবাদটি জানতে পারে। তারা তার চতুর্দিকে জড়ো হয় ও আলী সকালের নামাজে আমাদের ইমামতি করে। (নামাজ-টি) শেষ করার পর, সে আমাদের-কে একটি লাইনে সারিবদ্ধ করে। অতঃপর সে আমাদের সামনে চলে আসে, আল্লাহর মহিমাকীর্তন ও প্রশংসা করে ও অতঃপর,

সে তাদের সম্মুখে আল্লাহর নবীর চিঠিটি পড়ে শোনায়। হামদানের সকল লোক একদিনেই ইসলাম গ্রহণ করে।

এই বিষয়ে সে আল্লাহর নবীর কাছে চিঠি লেখে। আল্লাহর নবী যখন আলীর চিঠি-টি পড়েন, তিনি নিজেকে আল্লাহর কাছে সিজদা-রত করেন। অতঃপর তিনি উঠে বসেন ও বলেন, ‘হামদানের উপর শান্তি বর্ষিত হোক, হামদানের উপর শান্তি বর্ষিত হোক!’ [হামদানবাসীর ধর্মান্তরিত হওয়ার পর] ইয়েমেনের জনগণ ধারাবাহিকভাবে তা অনুসরণ করে ও ইসলামে দীক্ষিত হয়।” —–

– অনুবাদ, টাইটেল, ও [**] যোগ – লেখক।

>>> আদি উৎসে ওপরে বর্ণিত সকল মুসলিম ঐতিহাসিকদের বর্ণনায় যে বিষয়টি অত্যন্ত সুস্পষ্ট, তা হলো:

“ইয়েমেনের জনগণ মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ কিংবা তার কোন অনুসারী-কে আক্রমণ করতে আসেন নাই। বরাবরের মতই আগ্রাসী ও আক্রমণকারী গোষ্ঠীটি ছিল মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা।”

আর আল-ওয়াকিদির বিস্তারিত বর্ণনায় যা সুস্পষ্ট, তা হলো, ইয়েমেন আগ্রাসনে পাঠানোর আগে নবী মুহাম্মদ, আলী-কে যে নির্দেশ-গুলো দিয়েছিলেন, যথা: “তুমি যখন তাদের এলাকায় পৌঁছবে, তখন তাদের সাথে যুদ্ধ করো না যতক্ষণ না তারা তোমার সাথে যুদ্ধ করে; যদি তারা তোমাদের আক্রমণ করে তবে তাদের সাথে যুদ্ধ করো না যতক্ষণে না তারা তোমাদের একজনকে হত্যা করে। যদি তারা তোমাদের একজনকে হত্যা করে, তবে তাদের সাথে যুদ্ধ করো না বা তাদের দোষারোপ করো না, বরং তাদের সাথে ধৈর্য প্রদর্শন করো: –” ইত্যাদি; এর কোনটিই আলী ইবনে আবু তালিব ও তাঁর সঙ্গীরা পালন করেন নাই! তাঁর বর্ণনায় যা সুস্পষ্ট: সেখানে পৌঁছার পরই আলীর নির্দেশে তাঁর অনুসারীরা তাঁদের সম্পদ লুণ্ঠন করে, “অতঃপর” তাঁদের-কে ইসলামের দাওয়াত দেয়; যা তিনি বর্ণনা করেছেন, এই ভাবে,

“তার কাঙ্ক্ষিত এলাকাটির নিকট পৌঁছার পর, যেটি ছিল মাধিজদের এলাকা; সে তার সঙ্গীদের চতুর্দিকে পাঠিয়ে দেয় ও তারা জোরপূর্বক তাদের নারী ও শিশুদের বন্দী করে এবং গবাদি পশু, ভেড়া এবং অন্যান্য জিনিসগুলো লুণ্ঠন করে নিয়ে আসে। — অতঃপর সে এক গোষ্ঠীর সাথে সাক্ষাত করে ও তাদেরকে ইসলামের দাওয়াত দেয় ও তাদের প্রলুব্ধ করে। কিন্তু তারা তা প্রত্যাখ্যান করে ও তার সঙ্গীদের নিশানা করে।”

তিনশত সশস্ত্র অশ্বারোহী সৈন্য সম্বলিত এক আগ্রাসী দল “কোন এলাকায় এসে যখন জোরপূর্বক তাঁদের নারী ও শিশুদের বন্দী করে এবং গবাদি পশু, ভেড়া এবং অন্যান্য জিনিসগুলো লুণ্ঠন করা শুরু করে” তখন এলাকাবাসী তাঁদের ও তাঁদের স্ত্রী-পুত্র-কন্যা, পিতা-মাতা ও অন্যান্য পরিবার পরিজন ও সম্পদ রক্ষার প্রচেষ্টায় আত্মরক্ষার প্রয়োজনে যা করতে পারেন, মাধিজদের এলাকাবাসী তাইই করেছিলন। তাঁরা এই ডাকাত দলদের প্রতিহত করার চেষ্টা করেছিলেন (‘তারা তা প্রত্যাখ্যান করে ও তার সঙ্গীদের নিশানা করে’)। অতঃপর,

“আলী তার সঙ্গীদের নিয়ে তাদের আক্রমণ করে ও তাদের বিশজন লোককে হত্যা করে, অতঃপর তারা পরাজিত হয় –।”

অর্থাৎ, এই এলাকাবাসীর ইসলাম গ্রহণের প্রকৃত কারণ-টি ছিল, মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের নৃশংসতার কবল থেকে তাঁদের ও তাঁদের পরিবার-পরিজন ও সম্পদ রক্ষার প্রচেষ্টা। মুহাম্মদের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে নয়। মুহাম্মদের এই নির্দেশগুলো অমান্য করে ‘আগ-বাড়িয়ে’ তাঁদের নারী-শিশুদের বন্দী ও সম্পদ-লুণ্ঠনের কারণে স্বঘোষিত নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) আলী-কে কোনরূপ প্রশ্ন করেছিলেন, এমন ইতিহাস আদি উৎসে কোথাও বর্ণিত হয় নাই।

আল-তাবারীর উপরে বর্ণিত বর্ণনা “অত্যন্ত বিভ্রান্তিকর”:

আদি উৎসে আল-তাবারীর উপরে বর্ণিত বর্ণনা “অত্যন্ত বিভ্রান্তি ও হাস্যকর”, এই কারণে:

“যেখানে খালিদ বিন আল-ওয়ালিদ ‘ছয় মাস যাবত” বিরতিহীন পরিশ্রম করেও তাদের-কে মুসলমান বানাতে পারে নাই, সেখানে আলী ও তার অনুসারীরা সে তাদের-কে ‘কোনরূপ আক্রমণ ছাড়ায়, তাঁদের সম্মুখে “শুধু” মুহাম্মদের চিঠিটি পড়ে শোনানোর পর’ হামদানের “সকল লোক একদিনেই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন!”

এমন বর্ণনা আরব্য উপন্যাসের সবচেয়ে উদ্ভট বর্ণনাকেও হার মানাতে বাধ্য।

“শুধুমাত্র” মুহাম্মদ ইবনে ইশাক ও আল-তাবারীর সিরাত ও হাদিস গ্রন্থগুলো” পড়ে কী কারণে মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের অমানুষিক নৃশংসতার ইতিহাস সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাওয়া কেন সম্ভব নয়, তার আলোচনা “খায়বার যুদ্ধ: রক্তের হোলি খেলা” পর্বে (পর্ব: ১৩৪) করা হয়েছে। মুহাম্মদ ইবনে ইশাক ও আল-তাবারীর উপরে বর্ণিত আলী ইবনে আবু তালিবের ইয়েমেন আগ্রাসনের বর্ণনা তারই আর একটি উদাহরণ।

এই আগ্রাসনে লুটের মালের পরিমাণ:

এই আগ্রাসনে লুটের মাল এর পরিমাণ কী পরিমাণ বিশাল ছিল, তার কিছুটা ধারণা পাওয়া যায় আদি উৎসের ওপরে বর্ণিত বর্ণনায়। বর্ণিত হয়েছে মুহাম্মদের এই “এক-পঞ্চমাংশ থেকে”, আবু রাফি এই তিনশত সৈন্যের প্রত্যেক-কে দু’টি করে পোশাক পরিধান করতে দিয়েছিলেন। অর্থাৎ, মোট ছয়শ পোশাক।

“যা ছিল নিশ্চিতরূপেই ‘এই মাত্র এক-পঞ্চমাংশের অতি নগণ্য অংশ’; শুধু পোশাকই!”

অতএব, “বাঁকি চার-পঞ্চমাংশের” মোট পরিমাণ যে কী বিশাল অংকের হতে পারে, তা অনুধাবন করার জন্য গণিতবিদ হওয়ার কোন প্রয়োজন নেই।

[ইসলামী ইতিহাসের ঊষালগ্ন থেকে আজ অবধি প্রায় প্রতিটি ইসলাম বিশ্বাসী প্রকৃত ইতিহাস জেনে বা না জেনে ইতিহাসের এ সকল অমানবিক অধ্যায়গুলো যাবতীয় চতুরতার মাধ্যমে বৈধতা দিয়ে এসেছেন। বিষয়গুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিধায় বাংলা অনুবাদের সাথে আল-ওয়াকিদির বর্ণনার প্রাসঙ্গিক অংশটির মূল ইংরেজি অনুবাদ সংযুক্ত করছি; মুহাম্মদ ইবনে ইশাকে ও আল-তাবারীর বর্ণনা তথ্যসূত্র ইন্টারনেট ডাউন-লোড লিংক দ্রষ্টব্য।]

The narratives of Al-Waqidi: [1]

THE EXPEDITION OF ‛ALĪ B. ABĪ ṬĀLIB TO YEMEN

‘They said: The Messenger of God sent ‛Alī during Ramaḍān in the year ten AH. The Messenger of God commanded him to camp in Qubā, so ‛Alī camped there until his companions arrived. At that time the Messenger of God offered ‛Alī a turban, which he folded in four and fixed on the top of his spear, for a banner and handed it to him. He said, “This is the banner.” He draped a turban, rolled thrice, on ‛Alī, placing an arm length between his hands and a span length on his back, saying, “Thus is the turban!”

He said: Usāma b. Zayd related to me from his father from ‛Aṭā b. Yasār from Abū Rāfi, who said: When the Messenger of God faced him, he said, “Depart and do not turn back.” ‛Alī said, “O Messenger of God, what shall I do?” The Prophet said, “When you alight in their courtyard, do not fight them until they fight you; if they attack you, do not fight them until they kill one of you. If they kill one of you, do not fight them or blame them, but show them patience. Say to them, ‘Will you say that there is but one God?’ And if they say, ‘Yes,’ say, ‘Will you pray?’ And if they say ‘Yes,’ say, ‘Will you take from your property and give charity to your poor?’ And if they say ‘Yes,’ do not desire anything else. By God, may God guide a man by your hand, it is better for you than whatever the sun rises or sets on!”

He said: He set out with three hundred riders, and their cavalry was the first to enter that land. When he reached near the land that he desired—which was the land of Maddhij—he dispersed his companions, and they brought plunder and prisoners and women and children and cattle and sheep and other things, by force. ‛Alī appointed Burayda b. al-Ḥuṣayb in charge of the plunder. He gathered what was taken before meeting any group. Then he met a group and invited them to Islam and enticed them with it. But they refused and aimed at his companions. ‛Alī handed the banner to Mas‛ūd b. Sinān al-Sulamī and he went forward with it. A man from the Madhḥij invited him to a duel, so al-Aswad b. al-Khuzā‛ī al-Sulamī dueled him. They attacked one another for a while on horseback. Then al-Aswad killed him and took his booty. Then ‛Alī attacked them with his companions and killed twenty of their men, and they dispersed defeated and left their flag standing. ‛Alī refrained from seeking them out; he invited them to Islam, and they hastened and responded. A group of their leaders approached and granted allegiance to Islam. They said, “We stand for those who are behind us from our people. This is our ṣadaqa so take what is due to God from it.”

He said: ‛Umar b. Muḥammad b. ‛Umar b. ‛Alī related to me from his father, who said: ‛Alī collected what was taken in plunder and apportioned it into five parts and picked one; he wrote a portion of it, for God. He took out the first of the portions, the portion of the fifth, and he did not give anything extra to anyone. Those who were before him used to give their companions—those present, not others—from the fifth. The Messenger of God was informed about that and he did not oppose it against them. So they requested that from ‛Alī, but he refused. He said, “I will take the fifth to the Messenger of God and he will consider his opinion about it. This is the Messenger of God approaching the festivities. We will meet him and he will do with it what God shows him,” and ‛Alī turned to return. He carried the fifth and drove what animals he could. When he was in al-Futuq he hastened. He appointed Abū Rāfi over his companions and the fifth. Included with the fifth were some Yemenī garments.

The loads were packed up and the cattle were driven with what they plundered. And there were cattle from the ṣadaqa—charity—from their property.

Abū Sa‛īd al-Khudrī, who was with him during that raid, said:
‛Alī forbade us from riding the camels obtained as ṣadaqa. The companions of ‛Alī asked Abū Rāfi‛ to dress them in the plundered clothes, and he gave each of them two garments. When they were in al-Sidra at the entrance of Mecca, ‛Alī came out to meet them, and he brought them and settled them, and he saw two garments on every man, and he recognized the garments and said to Abū Rāfi‛, “What is this?” He replied, “They spoke to me, and I feared their complaints and I thought that this would be easy on you for those who were before you have done this.” ‛Alī said, “You saw me refuse them, yet you gave them. Indeed I commanded you to keep what I left with you, and yet you gave them!” He said: ‛Alī refused to do that until some of them removed the two garments. When they arrived before the Messenger of God, they complained, so the Prophet called ‛Alī and said, “Why are your companions complaining about you?” He replied, “I did not cause their complaints! I apportioned to them what I plundered, and I kept the fifth for until I arrived before you, so that you may make a decision about it. The leaders before me used to do differently. They gave extra to whomever they wished out of the fifth. So I thought to bring it to you for you to consider your opinion.” The Prophet was silent.’ ——

(চলবে)

তথ্যসূত্র ও পাদটীকা:

[1] আল-ওয়াকিদি ভলুম ৩, পৃষ্ঠা ১০৭৯-১০৮১; ইংরেজি অনুবাদ: পৃষ্ঠা ৫২৮-৫২৯
https://books.google.com/books?id=gZknAAAAQBAJ&printsec=frontcover&dq=kitab+al+Magazi-+Rizwi+Faizer,+Amal+Ismail+and+Abdul+Kader+Tayob&hl=en&sa=X&ved=0ahUKEwjo7JHd7JLeAhUkp1kKHTmLBGcQ6AEIKzAB#v=onepage&q&f=false

[2] ইবনে হিশাম সম্পাদিত ‘সিরাত রাসুল আল্লাহ’- পৃষ্ঠা ৬৫০
http://www.justislam.co.uk/images/Ibn%20Ishaq%20-%20Sirat%20Rasul%20Allah.pdf

[3] আল-তাবারী, ভলুউম ৯: পৃষ্ঠা ৮৯-৯০
https://onedrive.live.com/?authkey=%21AJVawKo7BvZDSm0&cid=E641880779F3274B&id=E641880779F3274B%21294&parId=E641880779F3274B%21274&o=OneUp

[4] Ibid আল-তাবারী- নোট নম্বর ৬০৯: ‘মুহাম্মদ বিন আলা বিন কুরায়েব আল-হামদানি আল-কুফি হিজরি ২৪৮ সালে (৮৬২ খ্রিস্টাব্দ) মৃত্যু বরণ করেন।’

[5] Ibid আল-তাবারী- নোট নম্বর ৬১০: ‘মুহাম্মদ বিন আমর বিন হায়াজ আল-হামদানি আল-কুফি হিজরি ২৫৫ সালে (৮৬৯ খ্রিস্টাব্দ) মৃত্যু বরণ করেন।’

[6] Ibid আল-তাবারী- নোট নম্বর ৬১২: ইবরাহিম বিন ইউসুফ হিজরি ১৯৮ সালে (৮১৩-৮১৪ খ্রিস্টাব্দ) মৃত্যু বরণ করেন।’

[7] Ibid আল-তাবারী- নোট নম্বর ৬১৩: ‘(তার পিতা) ইউসুফ বিন ইশাক বিন আবি ইশাক আল-সাবী হিজরি ১৫৭ সালে (৭৭৩-৭৭৪ খ্রিস্টাব্দ) মৃত্যু বরণ করেন।’

[8] Ibid আল-তাবারী- নোট নম্বর ৬১৪: ‘আল-বারা বিন আযিব ছিলেন খাযরাজ গোত্রের ও এক অত্যন্ত নিবেদিত আলী সমর্থক।’

শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published.