তিনটা কবিতা

পটভূমি

সব কিছুরই একটা কনটেক্সট অবশ্যই কেন লাগবে
এই দায় থেকে বের হওয়ার দরকার আছে
নির্ধারিত রোবটের বাইরেও কিছু মানুষ আছে
একলা থাকে, একলা চলে
মাথায় বহন না করে আরোপিত কানুন
কুয়াশার ভেতরেও দৃষ্টি রাখে যোজন দূরে

একা লাগতে পারে মানুষের
কারো প্রয়োজন বা অভাব জরুরী উপাদান নয়
এই একাকীত্বকে কী বলা যায়?
পূর্বপুরুষের পায়ের ছায়া, জমে থাকা মিথ
পুরনো সব গল্প মানুষকে একই পটভূমে আটকে রাখে

গ্রাম থেকে শীত চোরাইপথে ঢুকে পড়তেসে নগরে
বেড়িবাঁধ থেকে পানির সীমা আরো কয়েক সেন্টিমিটার নিচে
ঐ পথ ধরে কখনো হাঁটি, বাতাসের কাঁটা গায়ে লাগে
তোমাকে মনে পড়তে পারে যখন তখন
তোমার থেকেও তোমার সোয়েটারের রঙ
স্মৃতিতে বেশি প্রকট হয়ে ওঠতে পারে

 

একটা ছায়াযুক্ত অ্যালোভেরার

একটা
ছায়াযুক্ত অ্যালোভেরার
সংশ্লেষণবিহীন বিকালের ভিতর

ফালা করে কাটা পলায়নপরতা
ও সূর্যের ম্লানে লেপ্টে আছে ত্বক

অনেকদিন বাদে, ফিরতেছি
লোকালয়

খানিকটা গ্লানি
বাকী ছিলো কুমিরের ভাষার

চামড়ার নিচে যেভাবে সেলাই করে
নিলাম সন্ন্যাস; সেই প্রকৌশলের কথা
কাউকেই বলতেসি না

ভেবেছি সমুদ্রে যাবো

ভেবেছি সমুদ্রে যাবো
ক্লান্ত পর্যটন সীমানা পেরিয়ে
প্রাচীন কোনো সূর্যডোবা ভূগোলে
কান পাতলেই শোনা যাবে
জলের গোপন অস্তিত্ব থেকে
বিপন্ন জাহাজের ডাক

অকৃত্রিম ঢেউয়ের মুদ্রায়
পৃথিবীর একমাত্র নর্তকী তুমি
(কতকালের চেনা একটা মুখ)
সন্ধ্যার নিমীলিত বক্রছায়া
ও প্রার্থিত ফুলের রেণু ভেদ করে
দ্যুতি ছড়িয়ে নিঃশব্দে হেঁটে আসো

জলের অব্যর্থ ক্যাকোফোনি
সভ্যতাপূর্ব আদিম এই সংগীত
রৌদ্রস্নাত আর্যরঙের যৌনতায়
আমাকে ভেঙে দিয়ে গেছে
নির্জন দ্বীপের হলুদ প্লুমেরিয়া
হাঙরের দাঁতের ট্যাবু ও টোটেম

চালতাফুলের বেদনারাঙা বিকেলে
দীর্ঘ পথ ঘুরে একবার সমুদ্রে যাবো
যদি ঘিরে ধরে হাজারো হিংস্র সাইক্লোপস
ফার্ণের পাতার ফাঁকে সূর্যাস্ত দেখতে দেখতে
আমরা মৃত্যু পর্যন্ত অপেক্ষা করবো

 

শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published.