সেই তারিক – ৫

ক্যাম্প দখল করা হয়েছে প্রায় দশ দিন। ক্যাম্পটি এখন ট্রেনিং সেন্টার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তারিক ও সেখানে ট্রেনিং নেয়। আরও কত জায়গা থেকে দলে দলে লোক এসে যোগ দিচ্ছে মুক্তিবাহিনীতে। পূর্ব অভিজ্ঞতা ও ট্রেনিং নিয়ে তারিক হয়ে উঠলো এক অদম্য যোদ্ধা। তারিক অল্প কয়েক দিনেই তার ট্রেনিং সম্পূর্ণ করতে পেরেছিল। তারিকের পরিকল্পনায় এর মধ্যে আরও কয়েক টি যুদ্ধ হয়ে গেল। নিখুঁত পরিকল্পনা ও দেশমাতৃকার প্রতি ভালবাসার বলে প্রতিবার ই জয়ী হয়েছে মুক্তিযোদ্ধারা। মাস খানেক কেটে গেল, অনেক যুদ্ধে প্রত্যক্ষ অংশ গ্রহণ করেছে সে। তারিক কিছুদিন আগেই যে এলাকায় গিয়েছিল যুদ্ধ করতে সেটা ছিল তার চিরপরিচিত তার জন্মস্থান। যেখানে সে তার মা-বাবা কে হারিয়েছে। যুদ্ধে মুক্তিবাহীনিরা জয়ী হল। তারিক তার বাবার খুনি সেই মিলিটারিটাকে নিজে গুলি করে মেরেছে।



(৫)
___________ ক্যাম্প দখল করা হয়েছে প্রায় দশ দিন। ক্যাম্পটি এখন ট্রেনিং সেন্টার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তারিক ও সেখানে ট্রেনিং নেয়। আরও কত জায়গা থেকে দলে দলে লোক এসে যোগ দিচ্ছে মুক্তিবাহিনীতে। পূর্ব অভিজ্ঞতা ও ট্রেনিং নিয়ে তারিক হয়ে উঠলো এক অদম্য যোদ্ধা। তারিক অল্প কয়েক দিনেই তার ট্রেনিং সম্পূর্ণ করতে পেরেছিল। তারিকের পরিকল্পনায় এর মধ্যে আরও কয়েক টি যুদ্ধ হয়ে গেল। নিখুঁত পরিকল্পনা ও দেশমাতৃকার প্রতি ভালবাসার বলে প্রতিবার ই জয়ী হয়েছে মুক্তিযোদ্ধারা। মাস খানেক কেটে গেল, অনেক যুদ্ধে প্রত্যক্ষ অংশ গ্রহণ করেছে সে। তারিক কিছুদিন আগেই যে এলাকায় গিয়েছিল যুদ্ধ করতে সেটা ছিল তার চিরপরিচিত তার জন্মস্থান। যেখানে সে তার মা-বাবা কে হারিয়েছে। যুদ্ধে মুক্তিবাহীনিরা জয়ী হল। তারিক তার বাবার খুনি সেই মিলিটারিটাকে নিজে গুলি করে মেরেছে।

এভাবে দেখতে দেখতে পুরো বাংলাদেশ যেন মুক্তিবাহিনীদের দখলে চলে আসলো।
১৬ ডিসেম্বর আজ। কোণঠাসা হয়ে যাওয়া পাকিস্তানীরা আত্মসমর্পণ করেছে। পুরো দেশ জয়ের আনন্দে ভাসছে আজ। তারিকের বাবার স্বপ্ন পূর্ণ হয়েছে আজ।

নাবিদ এর মুখে এখন হাসি। তার বাবার এই গৌরব ময় গাথা শুনে সে খুবই খুশি। নাবিদ স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ের গল্প শুনতে চাইছে। তারিক সাহেব ও বলতে লাগলো।

তারিকের এখন কেউ নেই শুধু আছে এই দেশ। অনাথ তারিককে আপন করে নিলো সিফাত মামা। নিজ সন্তানের মতই লালন পালন করে তারিককে।তারিক আবার পড়ালেখা শুরু করলো। সিফাত মামা তারিক কে নিয়ে ঢাকায় চলে আসে। এখানে একটি মিষ্টির দোকান দেয় সিফাত মামা। তারিক পড়ালেখার ফাকে সিফাত মামাকে দোকানের কাজে সাহায্য করে।স্বাধীনতা আসলেও জয়ের আনন্দ এখনও পূর্নাঙ্গ হয়নি কারণ যার ডাকে সবাই যুদ্ধে নেমেছিল ,সেই অবিস্মরণীয় নেতা এখনও দেশের মাটিতে পা রাখেনি। হ্যাঁ বঙ্গবন্ধু সেখ মুজিব দেশে ফিরে নি। তার খোজ কেউ জানে না। তিনি কি বেচে আছেন? না কি মরে গিয়েছেন? না না তিনি মরেন নি। তার মৃত্যুর কথা চিন্তা করাও পাপ। তার অবর্তমানে এই গড়বে কে? এই দেশের কি হবে। ভবতেই স্বাধীনতার সেই আনন্দ কোথায় যেন হারিয়ে যায়।

আজ তারিক খুব খুশি। শুধু তারিক নয় স্বাধীনতা কামী পুরো বাঙালি জাতি আজ খুব খুশি। আজ ১০ জানুয়ারি। আজ বাংলার সেই অবিসংবাদিত নেতা,বাঙ্গালি জাতির পিতা দেশে ফিরছেন আজ।১০ মাস কারা দণ্ডের পর দেশে ফিরবেন তিনি। পুরো বাঙালি জাতির ঘরে ঘরে আজ উৎসব। বাঙালি তার অভিভাবক কে খুঁজে পাবে। তারিক ও সিফাত মামা ভোর থেকেই এয়ারপোর্টের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। কখন সেই মহা পুরুষের দেখা মিলবে। প্রতীক্ষার প্রহর যেন আর শেষ হয়না। অবশেষে শেষ হল প্রতীক্ষার প্রহর দেশ গড়ার সেই নির্মাতা পা রাখলেন দেশের মাটিতে। অশ্রু সিক্ত হল কত বাঙ্গালির নয়ন। কিন্তু এটা ছিল খুশির অশ্রু।দেশ গড়ার কাজ হাতে নিয়েছেন তিনি। যুদ্ধাপরাধী ও রাজাকার আলবদরদের মধ্যে কয়েক জন কে বাদে বাকি সবাইকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন। নিষিদ্ধ করেন জামাত ইসলামি কে।
দেশের উন্নয়নের জন্য অনেক কর্মকাণ্ড হাতে নেন তিনি। তার নেতৃত্বে এগিয়ে যেতে থাকে নব্য স্বাধীন এই দেশ। কিন্তু বাংলাদেশ বিরোধী সেই অপশক্তির সহ্য হল না।আবার সেই শত্রুরা বাংলাদেশর এই নেতাকে হত্যার নীল নকশা তৈরি করছে। ১৫ ই আগস্ট, সেই দিন। সকালে তারিকের ঘুম ভাঙ্গে সিফাত মামার ডাকে। সিফাত মামা ডাকছে তারিক কে। তারিকের ঘুম ভাঙ্গে প্রথমেই দেখলো সিফাত মামার দুচোখ লাল হয়ে গিয়েছে। কান্না করছে সে। সিফাত মামাকে এই প্রথম কান্না করতে দেখল তারিক। তারিক হতভম্ব হয়ে জিজ্ঞাসা করলো সিফাত মামার কান্নার কারণ। সিফাত মামা শুধু বলল- শেখ মুজিবর সাহেব আর নেই। তারিকের মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়লো। কিভাবে কি হয়েছে জানতে চাইল তারিক। সিফাত মামা বলল সব কিছু খুলে। “গত কাল রাতে কারা যেন বঙ্গবন্ধুর বাসায় ঢুকে তাকে ও তার সম্পূর্ণ পরিবারকে হত্যা করেছেন।‘ আসলে এই একমাত্র নেতা যিনি বাঙ্গালির উপর এত বিশ্বাস করতেন। তিনি কখনও চিন্তাও করেননি যে এই বাংলাদেশের কেউ তাকে মারতে পরবে। তাই তেমন কোন বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না তার বাসা ঘিরে। এই সেই শেখ মুজিবই একমাত্র নেতা যিনি বাঙ্গালির মাঝে গিয়েছেন। সাধারণের মাঝে থেকে তিনি দেশ গড়ার কাজ করেছেন। কিন্তু কি ফল পেলেন তিনি! এই দেশেই জন্ম নেয়া কিছু জারজদের হাতে মরতে হল তাকে। এই কি তার প্রতিদান? হয়তো এই কারণেই বঙ্গবন্ধু পরবর্তী কোন নেতাই জনগণের মাঝে মিশে যেতে পারে নি।
বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুতে পুরো জাতি আজ কান্নায় ভেঙ্গে পরে। তিনি ছিলেন সবার পরিবারের একজন সদস্য স্বরূপ। তার মৃত্যু সকলের নিকট আপনজন বিচ্ছেদের চেয়ে কম কিছু নয়। দেশের এই অভিভাবক হারিয়ে জাতি যেন অনাথ হয়ে গেল। এখান থেকেই হয়তো সেই অপশক্তির নতুন করে শক্তি সঞ্চয় করে। তারা আবার হাত বাড়ায় রক্তে অর্জিত আমাদের এই সোনার বাংলার প্রতি।

তারিক সাহেব ছেলেকে বলতে বলতে কান্না করে দিলেন তিনি। নাবিদ তার বাবাকে আগে কখনও এভাবে কান্না করতে দেখে নি। তার চেয়ে বড় কথা তারিক সাহেবর যে বঙ্গবন্ধুর প্রতি এত শ্রদ্ধা তাও কখনও বলেন নি তিনি। বরং নাবিদ এই স্বাধীনতা নিয়ে কিছু বলতে চাইলে তাকে চোখ রাঙ্গিয়ে কথা বন্ধ করার নির্দেশ দিতেন তিনি। নাবিদ আদৌ জানতো না যে তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা। সার্টিফিকেট ও সংগ্রহ করেন নি তিনি। নাবিদ এর পরের কথা গুলোও জানতে চাইল।

সেনা প্রধান মেজর জিয়া এখন ক্ষমতায়। পাকিস্তানি পাসপোর্টে দেশে ফিরে আসেন গোলাম আজম। এই সেই গোলাম আজম যে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় কেরে নিয়েছে শত শত প্রাণ। নিয়েছে শত শত মা বোনের সম্ভ্রম। সেই রাজাকার গোলাম আজম পাকিস্তানি পাসপোর্টে এসেও আর ফিরে যাননি দেশে। আবার শুরু করে রাজনীতি। জামাতের আমীর পদের নিযুক্ত হন তিনি। বাঙালি চুত থাকেনি আবার আন্দোলন করেছে তারা। চাপের মুখে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন তিনি। এই সময় শহীদ জননীর নেতৃত্বে রাজাকার আলবদরের বিচারের আন্দোলন তীব্র রূপ ধারণ করেন। এক সময় সেই শহীদ জননীকে দেশদ্রোহী বলে ঘোষণা করা হয়।
তারিক বুঝতে পারে এই দেশের জন্য আজ পর্যন্ত যারা কষ্ট করেছে লড়াই করেছে তাদের শুধু বিড়ম্বনাই সহ্য করতে হয়েছে। বঙ্গবন্ধু, জাতীয় চার নেতা এখন শহীদ জননী। তাই তারিক সিদ্ধান্ত নেন তিনি আর দেশ নিয়ে কোন কথা বলবেন না। সরে যাবেন সকল আন্দোলন থেকে।

নাবিদ এবার বুঝতে পারে এই কারণেই তার বাবা কাউকে কিছু বলে নি। তারিক সাহেবের এতদিনের পুঞ্জিভূত ক্ষোভ ধুয়ে গেল। রাত এখন তিনিটা। তারিক সাহেব ও নাবিদকে ফিরতে না দেখে নাবিদের অসুস্থ মা ছাদে চলে আসলেন। বাপ-ছেলের গল্পের ইতি ঘটলো। নাবিদ এতদিন যে মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধা করে এসেছে। ব্লগে ও বিভিন্ন জায়গায় তাদের গৌরব গাথা নিয়ে লিখে আসছে সেই মুক্তিযোদ্ধাদের একজন তার বাবা, এটা মনে করে তার মাথা গর্বে উঁচু হয়ে গেল। আর নিজ অজান্তেই সে তার বাবাকে শ্রদ্ধা ভরে অজস্র সালাম দিতে লাগলেন। নাবিদ চিন্তা করছে কিছুদিনের মধ্যেই সে তার বাবার গৌরব গাথা লিখবে। খাওয়া দাওয়া শেষ করে ঘুমাতে গেলেন তারা। কাল আবার রাজাকার কাদের মোল্লার বিচারের রায় দিবে।

(৬)
__________ সকালে ঘুম ভাঙ্গতেই নাবিদের মনে পড়ল আজ কাদের মোল্লার বিচারের রায় দিবে। দেরি করলো না সে। ব্রাশ মুখে নিয়ে বসে গেল টিভির সামনে। আজ তারিক সাহেব অফিসে যায় নি। নাবিদ তাকে ডেকে আনলো। দুজনেই বসে আছে টিভির সামনে রায়ের প্রতীক্ষায়। ফাঁসি চায় সবাই। কিছুক্ষণের মধ্যেই রায় দিবে। গতকাল থেকেই ব্লগে আন্দোলনের ঝড় উঠেছে। ফাঁসি ব্যতীত অন্য রায় মেনে নিবে না কেউ। এখন শুধু রায়ের অপেক্ষা……………

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১৪ thoughts on “সেই তারিক – ৫

  1. ইতিহাস নির্ভর গল্প বা উপন্যাস
    ইতিহাস নির্ভর গল্প বা উপন্যাস লেখার সময় একটু সাবধানে থাকতে হয়। এক, ইতিহাস যেন বিকৃত না হয়। দুই, লেখাটা যেন ইতিহাস বইয়ের পাতা না হয়ে যায়। প্রথম সমস্যাটা নেই, কিন্তু দ্বিতীয় সমস্যাটা কাটিয়ে উঠতে হবে জয়।

    1. আতিক ভাই… চমৎকার বিশ্লেষণ!!
      আতিক ভাই… চমৎকার বিশ্লেষণ!! :bow: :bow: :bow:
      তবে জয় ভাই দুরন্ত কাজই করছেন শেষ পর্যন্ত :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

      1. তারিক ভাই শুধু চেষ্টা আর
        তারিক ভাই শুধু চেষ্টা আর কি!!
        আর আমার ব্লগিং জগতে আগমন এই নিয়ে লিখার উদ্দেশ্যেই। সেটাই চেষ্টা করি। তবে কি মনের কথা গুলো বুঝিয়ে উঠতে সম্পূর্ণ পেরে ঊঠি না…

        মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ

    2. মাস্টার মশাই আবার দ্বায়িত্ব
      মাস্টার মশাই আবার দ্বায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বলে ধন্যবাদ।

      ভাই আমার চিন্তা ছিল প্রথম টা নিয়ে যাক সেটা ঠিক আছে।

      আর দিতীয় টা নিয়ে আর কি লিখবো সবার অনুভুতি তো একই। ঘুরিয়ে পেচিয়ে সবাই এক কথাই বলি তাই না। তাই কারো না কারো সাথে মিলে যায়,

      তারপর ও আমার লিখা তো তাই এমন ভুল। আপনি আছেন না শিখিয়ে দিবেন
      নেক্সট টাইম খেয়াল রাখবো।

  2. চালিয়ে যান। ভাল হচ্ছে।
    তবে

    চালিয়ে যান। ভাল হচ্ছে।

    তবে সব জায়গায় চমক দেয়ার চেষ্টা না করলে ভাল হয়। যেমন- নাবিদ ব্লগার, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখে অথচ পরিবার থেকে কোন অনুপ্রেরণা পায়নি। কেনই বা তারিক সাহেব হঠাৎ করে এত পরিবর্তন হয়ে সব কিছু বলা শুরু করলেন।

    আতিক ভাই বানানের কিছু ভুলের কথা বলেছিলেন গত পোস্টে সেই ভুল কিন্তু এই পোস্টে ঠিক হয়নি। আমি উপরের অংশের কথা বলছি।

    এই সমালোচনা এই জন্য যে লেখাটা ভাল লাগছে।

    1. আমি প্রশংসার চেয়ে সমালোচনা
      আমি প্রশংসার চেয়ে সমালোচনা ভালবাসি
      তাই অফুরন্ত ধন্যবাদ

      ভাই কোণ বানানের কথা বলছেন একটু বলবেন? হয়তো সঠিক বানান টা জানি না।

      আর আমি এখানে আমার চিত্র তুলে ধরেছি, আমি যে ব্লগে লিখি মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আমাকে আমার বাসায় বিপরিত শ্রোতের মুখে পড়তে হয়,

      তবুও স্বীকার করছি অনেক দুর্বলতা আছে। ভাল লেখার চেষ্টা করি কিন্তু পেরে উঠি না

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 2 = 3