২৫৭: ভণ্ড নবী মুসাইলিমা ও নবী মুহাম্মদ – মিল ও অমিল!

নবী মুহাম্মদের জীবদ্দশায় তৎকালীন আরবে আর যে তিন ব্যক্তি নিজেকে নবী হিসাবে ঘোষণা দিয়েছিলেন, তার অন্যতম ছিলেন আল-ইয়ামামা অঞ্চলের বানু হানিফা গোত্রের মুসাইলিমা বিন হাবিব। অপর দু’জন ছিলেন: ইয়েমেন অঞ্চল থেকে আল-আসওয়াদ (যার অন্য নাম হলো ধু আল-খিমার আবহালাহ বিন কাব) ও বানু আসাদ অঞ্চল থেকে তুলায়েহা। মুহাম্মদ তাঁদের-কে “ভন্ড নবী” রূপে আখ্যায়িত করেছিলেন। মুহাম্মদের মৃত্যুর একদিন বা এক রাত্রি আগে তাঁর অনুসারীরা আল-আসওয়াদ-কে হত্যা করে, মুসায়লিমা ও তুলায়েহা যায় পালিয়ে। এ বিষয়ের আংশিক আলোচনা ‘নবীর অন্তরে আলী বিন আবু তালিব’ পর্বে (পর্ব: ২৩৩) করা হয়েছে।

আদি উৎসের মুসলিম ঐতিহাসিকদের বর্ণনায় আমরা জানতে পারি, হিজরি দশ সালে মুসাইলিমা বিন হাবিব তাঁর নিজ গোত্রের প্রতিনিধি দলের সাথে মদিনায় গিয়ে মুহাম্মদের সাথে সাক্ষাত করেছিলেন ও সেখান থেকে তাঁর নিজ এলাকায় প্রত্যাবর্তনের পর তিনি মুহাম্মদের কাছে চিঠি লিখেছিলেন। মুসাইলিমার এই চিঠিতে কী লিখা ছিল ও জবাবে মুহাম্মদ তাঁকে কী লিখেছিলেন এবং এই চিঠি বহনকারী লোকদের সাথে মুহাম্মদ কীরূপ আচরণ করেছিলেন, তা আদি উৎসের মুসলিম ঐতিহাসিকরা লিখে রেখেছেন। আদি উৎসের বর্ণনায় ঘটনাগুলো ছিল নিম্নরূপ।

মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের (৭০৪-৭৬৮ সাল) বর্ণনা: [1] [2]
(আল-তাবারীর বর্ণনা, ইবনে হিশাম সম্পাদিত বর্ণনারই অনুরূপ)
পূর্ব প্রকাশিতের (পর্ব: ২৫৬) পর

বানু হানিফা গোত্রের প্রতিনিধি দলটির সাথে মুসাইলিমার আগমন:

‘মহা-মিথ্যবাদী (arch-liar) মুসাইলিমা বিন হাবিব আল-হানাফি কে সঙ্গে নিয়ে বানু হানিফার প্রতিনিধি দলটি আল্লাহর নবীর নিকট এসেছিল। তারা আনসারদের বানু নাজজার গোত্রের আল-হারিথের কন্যার গৃহে অবস্থান নিয়েছিল। মদিনার আলেমদের একজন আমাকে বলেছে যে বানু হানিফার লোকেরা তাকে ঘোমটায় ঢেকে আল্লাহর নবীর কাছে নিয়ে আসে। আল্লাহর নবী তাঁর সাহাবীদের মধ্যে বসে ছিলেন ও তাঁর হাতে ছিল খেজুর গাছের এক ডাল, যার আগায় ছিল কিছু পাতা। তারা তাকে ঘোমটায় ঢেকে আল্লাহর নবীর কাছে নিয়ে আসার পর সে তাঁর সাথে কথা বলে ও তাঁর কাছে (উপহারের জন্য) অনুরোধ জানায়। আল্লাহর নবী জবাবে বলেন: “তুমি যদি আমার কাছে এই খেজুরের ডালটি চাইতে (আল-তাবারী: ‘যেটি আমি ধরে আছি’), আমি তোমাকে তা দিতাম না।” [3] [4] [5] [6]

বানু হানিফার এক নেতা < আল-ইয়ামামর লোকদের কাছ থেকে [প্রাপ্ত তথ্যে] আমাকে বর্ণনা করেছে যে এই ঘটনাটি ঘটেছিল অন্যভাবে। সে জানিয়েছে যে:

মুসাইলিমা-কে উট ও মালপত্রের সাথে পিছনে ফেলে রেখে এই প্রতিনিধি দলটি আল্লাহর নবীর কাছে এসেছিল। তারা ইসলাম গ্রহণ করেছিল ও অতঃপর তাদের মনে পড়েছিল যে সে কোথায় আছে; ও তারা আল্লাহর নবী-কে বলেছিল যে তারা তাদের এক সঙ্গীকে তাদের জিনিসপত্র পাহারা দেওয়ার জন্য পিছনে ফেলে রেখে এসেছে। আল্লাহর নবী এই আদেশ করেছিলেন যে তাকে যেন বাকিদের মতোই দেওয়া হয়, ও বলেছিলেন, “তার অবস্থান তোমাদের চেয়ে মন্দ নয়,” অর্থাৎ, এটি তার সঙ্গীদের সম্পদের বিষয়টি বিবেচনা করে। আল্লাহর নবী এটাই বোঝাতে চেয়েছিলেন।

অত:পর তারা নবী-কে ছেড়ে চলে যায় ও তিনি তাকে যা দিয়েছিলেন তা তার কাছে নিয়ে আসে। তারা যখন আল-ইয়ামামায় এসে পৌঁছে, আল্লাহর এই শত্রু ধর্মত্যাগী হয়ে যায় ও নিজেকে একজন নবী হিসাবে ভূষিত করে ও মিথ্যাবাদীর মত ব্যবহার করে। [7]

সে বলে, “আমি এ বিষয়ে তার একজন অংশীদার।”

অতঃপর সে তার সাথে থাকা প্রতিনিধি দলকে বলে, “তোমারা যখন তাকে আমার উল্লেখ করেছিলে তখন কি সে তোমাদের বলে নাই যে ‘তার অবস্থান তোমাদের চেয়ে মন্দ নয়?’, এর অর্থ তিনি জানেন যে এ বিষয়ে আমি তার একজন অংশীদার ছাড়া আর কি কিছু হতে পারে?” অতঃপর সে ‘সাজ (saj)’ ছন্দে কুরআনের উচ্চারণ অনুকরণ করে কথা বলতে থাকে:

“ঈশ্বর গর্ভবতী মহিলার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন; তিনি তার থেকে এমন একটি জীব বের করেছেন যা নড়াচড়া করতে পারে; তার মাঝখান থেকে।”

সে তাদের-কে মদ্য পান ও ব্যভিচার করার অনুমতি প্রদান করে, ও তাদের কে নামাজের বোঝা থেকে পরিত্রাণ দেয়। একই সাথে সে আল্লাহর নবীকে একজন নবী হিসাবে স্বীকার করে নেয় ও এ ব্যাপারে বানু হানিফা ছিল তার সাথে একমত। কিন্তু আল্লাহই জানে কোনটি ছিল সত্য।’—-

মুসাইলিমার চিঠি ও তার প্রতি আল্লাহর নবীর জবাব [পৃষ্ঠা: ৬৪৯]:

‘মুসাইলিমা, আল্লাহর নবী-কে লিখেছিল:

“আল্লাহর নবী মুসাইলিমার পক্ষ থেকে আল্লাহর নবী মুহাম্মদের প্রতি। আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক।

কর্তৃত্বের ব্যাপারে আমাকে আপনার সাথে অংশীদার করা হয়েছে। অর্ধেক ভূমি আমাদের এবং অর্ধেক কুরাইশদের, কিন্তু কুরাইশরা শত্রুতাপরায়ণ সম্প্রদায়।”

দুইজন বার্তাবাহক এই চিঠিটি নিয়ে এসেছিল।

আশজার এক নেতা আমাকে < সালমা বিন নুইয়াম বিন মাসউদ আল-আশজায়ী হইতে < তার পিতা নুইয়াম হইতে প্রাপ্ত তথ্যের উদ্ধৃতি সাপেক্ষে আমাকে বলেছে: [8]

‘চিঠি পড়ার সময় আমি আল্লাহর নবীকে তাদের-কে বলতে শুনেছি, “এ বিষয়ে তোমরা কী বলো?” তারা যা বলেছিল তা ছিল মুসাইলিমার মতই। তিনি জবাবে বলেছিলেন,

“আল্লাহর কসম, যদি এমন না হতো যে বার্তাবাহকদের হত্যা করা হয় না তবে আমি তোমাদের দু’জনকেই শিরশ্ছেদ করতাম!”

অতঃপর তিনি মুসাইলিমা-কে লিখেছিলেন:

“আল্লাহর নবী মুহাম্মদের কাছ থেকে মিথ্যাবাদী মুসাইলিমার প্রতি। যে সৎপথ অনুসরণ করে, তার প্রতি শান্তি বর্ষিত হউক [কুরআন: ২০:৪৭]। পৃথিবীটি আল্লাহর। তিনি নিজের বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা এর উত্তরাধিকারী বানিয়ে দেন এবং শেষ কল্যাণ মুত্তাকীদের জন্যই নির্ধারিত রয়েছে [কুরআন: ৭:১২৮]।”

এই ঘটনাটি ঘটেছিল [হিজরি] ১০ সালের শেষে।’—-

আল-তাবারীর (৮৩৯-৯২৩ সাল) অতিরিক্ত বর্ণনা:

আবু জাফর (আল-তাবারী): ‘কথিত আছে যে, আল্লাহর নবীর সময়ে মুসাইলিমা ও অন্য যারা নবুয়তের মিথ্যা দাবী করেছিল, তা আসলে ঘটেছিল নবীর তীর্থযাত্রা থেকে ফিরে আসার পর, যাকে বলা হয় ‘বিদায় হজ্জ’ [জিলকদ-জিলহজ্জ, হিজরি ১০ সাল; বরাবর ফেব্রুয়ারি-মার্চ, ৬৩২ সাল]; ও ঐ অসুস্থতার সময়, যে কারণে তিনি মৃত্যু বরণ করেছিলেন।’ [পর্ব: ২৩৩]

– অনুবাদ, টাইটেল, ও [**] যোগ – লেখক।

>>> ‘মুসায়লিমাহ বিন হাবিব, যার সংক্ষেপ নাম ছিল মাসলামা (সেটি ছিল তার আসল নাম), ছিলেন এক পবিত্র হারামের ধর্মীয় নেতা। তিনি নবীর হিজরতের আগে ইয়ামামায় এই পবিত্র ছিটমহলটি স্থাপন করেছিলেন ও এভাবেই তিনি পূর্ব আরবের এক বিস্তৃত এলাকা নিয়ন্ত্রণ করতেন।’ [4]

আদি উৎসে মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় যে বিষয়টি অত্যন্ত সুস্পষ্ট, তা হলো: মদিনায় মুহাম্মদের সাথে সাক্ষাতের পর মুসাইলমা তাঁর নিজ এলাকায় ফিরে গিয়ে ‘নিজেকে মুহাম্মদের অংশীদার’ হিসাবে দাবী করেছিলেন; অতঃপর তিনি মুহাম্মদের সাথে ক্ষমতা ভাগাভাগি করার অভিপ্রায়ে মুহাম্মদের কাছে চিঠি লিখেছিলেন, এই বলে:

“অর্ধেক ভূমি আমাদের এবং অর্ধেক কুরাইশদের, —।”

আর মুসাইলামর এই চিঠিটি পাওয়ার পর মুহাম্মদ যখন জানতে পেরেছিলেন যে এই চিঠির দু’জন বার্তাবাহকই মুসাইলামার বক্তব্যের সাথে একমত, তখন তিনি তাঁদের প্রতি এতটায় ক্রোধান্বিত হয়েছিলেন যে তিনি তাঁদের দুজনকেই তৎক্ষণাৎ হত্যার হুমকি দিয়েছিলে, এই বলে:

“আল্লাহর কসম, যদি এমন না হতো যে বার্তাবাহকদের হত্যা করা হয় না তবে আমি তোমাদের দু’জনকেই শিরশ্ছেদ করতাম!”

অতঃপর তিনি দাবী করেছিলেন যে, “পৃথিবীটি আল্লাহর। তিনি নিজের বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা এর উত্তরাধিকারী বানিয়ে দেন এবং শেষ কল্যাণ মুত্তাকীদের জন্যই নির্ধারিত রয়েছে”; যার সরল অর্থ হলো:

“মুহাম্মদ, মুসাইলামার সাথে নবীত্ব ও ক্ষমতার ভাগাভাগিতে কোনভাবেই রাজী ছিলেন না।“

নবী মুহাম্মদ, মুসাইলামা-কে “মহা-মিথ্যাবাদী (arch-liar)” রূপে আখ্যায়িত করেছিলেন। অর্থাৎ, মুহাম্মদের বিবেচনায় মুসাইলিমা বিন হাবিব ছিলেন এক “ভণ্ড-নবী!”

‘ভণ্ড-নবী’ মুসাইলিমার সাথে মুহাম্মদের মিল:

নবী মুহাম্মদের দাবীকৃত ‘ভণ্ড-নবী’ মুসাইলিমার সাথে তাঁর মিল এই যে:

[১] তাঁরা দু’জনই দাবী করেছিলেন যে ‘স্বয়ং ঈশ্বর’ তাঁদের কাছে বার্তা প্রেরণ করে! মুহাম্মদে দাবীকৃত সেই ঈশ্বরের নাম ‘আল্লাহ’, আর মুসাইলামার দাবীকৃত ঈশ্বরের নাম ‘আল-রাহমান।’ [9]

[২] তাঁরা দু’জনই “ঈশ্বর-কে” ব্যবহার করে ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি লাভের চেষ্টা করেছিলেন।

‘ভণ্ড-নবী’ মুসাইলিমার সাথে মুহাম্মদের অমিল:

নবী মুহাম্মদের দাবীকৃত ‘ভণ্ড-নবী’ মুসাইলিমার সাথে তাঁর অমিলগুলো এই যে:

(১) নবী মুহাম্মদ ছিলেন মুসাইলিমার চেয়ে অনেক বেশী সফল (পর্ব: ১৪)।
(২) নিজ উদ্দেশ্য সাধনের প্রয়োজনে স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) তাঁর সমালোচনা-কারী ও বিরুদ্ধবাদীদের বিরুদ্ধে:

(ক) হুমকি-শাসানী-ভীতি প্রদর্শন ও অসম্মান ও দোষারোপ করেছিলেন (পর্ব: ২৬-২৭);
(খ) রাতের অন্ধকারে অতর্কিত আক্রমণে তাঁদের সম্পদ লুণ্ঠন ও ভাগাভাগি করেছিলেন (পর্ব: ২৮-৪৩);
(গ) রাতের অন্ধকারে ঘাতক পাঠিয়ে তাঁদের-কে গুপ্তহত্যা করেছিলেন (পর্ব: ৪৬-৫০);
(ঘ) তাঁদের-কে ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ ও সমস্ত সম্পদ লুণ্ঠন ও ভাগাভাগি করেছিলেন (পর্ব: ৫১-৫২ ও ৭৫);
(ঙ) “বিনা অপরাধে” একটি গোত্রের সমস্ত প্রাপ্ত-বয়স্ক পুরুষদের হত্যা করে (৬০০- ৮০০ জন) তাঁদের নারী ও শিশুদের ধরে নিয়ে এসে দাস ও যৌন-দাসী-করন ভাগাভাগি ও বিক্রয় করেছিলেন (পর্ব: ৮৭-৯৫);

(চ) এক অতি-বৃদ্ধা মহিলার পা দুটি আলাদা আলাদা করে দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলে সেই দড়িগুলো দু’টি উটের সাথে বেঁধে দিয়ে তাদের-কে বিপরীত দিকে পরিচালনা করে, সেই “বৃদ্ধা মহিলাটির শরীর ছিঁড়ে দুই ভাগে বিভক্ত করে তাঁকে অমানুষিক নৃশংসতায় হত্যা” করে তাঁর গোত্র ও পরিবারের লোকদের বন্দি করে দাস ও যৌন-দাসী-করণ ও সম্পদ লুণ্ঠন করেছিলেন (পর্ব: ১১০);

(ছ) অতর্কিত আক্রমণে অমানুষিক নৃশংসতায় খায়বারের লোকদের খুন, জখম ও তাঁদের সমস্ত সম্পদ লুণ্ঠন ও তাঁদের মুক্ত মানুষকে ধরে নিয়ে এসে যৌনদাসীকরণ ও ধর্ষণ করেছিলেন (পর্ব: ১৩০-১৫২);

ইত্যাদি অসংখ্য মানবতা-বিরোধী কর্মকাণ্ডের সাথে স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কী ভাবে জড়িত ছিলেন, তার সবিস্তার আলোচনা ‘ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ’ অনুচ্ছেদের বিভিন্ন পর্বগুলোতে করা হয়েছে (পর্ব: ২৮-২৫৬)

“অন্যদিকে, মুসাইলামা বিন হাবিব ও তাঁর অনুসারীরা আক্রমণাত্মক ‘এমন একটি’ মানবতা-বিরোধী অমানুষিক নৃসংস ঘটনার সাথে কখনো জড়িত ছিলেন, এমন তথ্য জানা যায় না।”

বরং, তার উল্টোটি জানা যায়!

আল-তাবারীর বর্ণনা: [10]

‘আল-সারি < শুয়ায়েব <সাইফ < তালহা বিন আল-আলাম <উবায়েদ বিন উমায়ের < উথাল আল-হানাফি, যে ছিল থুমামা বিন উথালের সঙ্গে, হইতে বর্ণিত:

“মুসাইলিমাহ সবার সাথে নম্র আচরণ করতেন ও তার সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ ব্যবহার করতেন এবং তার কাছ থেকে খারাপ কিছু জানার কথা মানুষের মনে আসে নাই।”’ —-

(‘According to al-Sari-Shu`ayb-Sayf-Talhah b. al-A’lam- `Ubayd b. `Umayr-Uthal al-Hanafi, who was with Thumamah b. Uthal: Musaylimah used to treat everyone gently and be amicable with him, and it did not occur to the people to know evil from him.) —-

প্রশ্ন হলো, “মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের অনুরূপ ‘একটি’ ও আক্রমণাত্মক মানবতা-বিরোধী অমানুষিক নৃশংস ঘটনা সংঘটিত না করা সত্বেও যদি মুসাইলিমা বিন হাবিব-কে “ভণ্ড-নবী” রূপে আখ্যায়িত করা হয়, তবে ইসলামের নবী মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ-কে কী উপাধিতে ভূষিত করা যায়?”

[ইসলামী ইতিহাসের ঊষালগ্ন থেকে আজ অবধি প্রায় প্রতিটি ইসলাম বিশ্বাসী প্রকৃত ইতিহাস জেনে বা না জেনে ইতিহাসের এ সকল অমানবিক অধ্যায়গুলো যাবতীয় চতুরতার মাধ্যমে বৈধতা দিয়ে এসেছেন। বিষয়গুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিধায় বাংলা অনুবাদের সাথে ইবনে ইশালের বর্ণনার মূল ইংরেজি অনুবাদটি সংযুক্ত করছি; আল-তাবারীর বর্ণনা তথ্যসূত্র ইন্টারনেট ডাউন-লোড লিংক দ্রষ্টব্য।]

The narratives of Muhammad Ibn Ishaq: [1]

THE DEPUTATION FROM BANU HANIFA WITH WHOM WAS MUSAYLIMA

‘The deputation of B. Hanifa came to the apostle bringing with them Musaylima b. Habib al-Hanafi, the arch liar. They lodged in the house of d. al-Harith, a woman of the Ansar of B. al-Najjar. One of the scholars of Medina told me that B. Hanifa brought him to the apostle hiding him in garments. The apostle was sitting among his companions having a palm-branch with some leaves on its upper end. When he came to the apostle as they were covering him with garments, he spoke to him and asked him (for a gift). The apostle answered: `If you were to ask me for this palm branch (T. which I hold) I would not give it to you.’

A shaykh of B. Hanifa from the people of al-Yamama told me that the incident happened otherwise. He alleged that the deputation came to the apostle having left Musaylima behind with the camels and the baggage. When they had accepted Islam they remembered where he was, and told the apostle that they had left a companion of theirs to guard their stuff. The apostle ordered that he should be given the same as the rest, saying, `His position is no worse than yours,’ i.e. in minding the property of his companions. That is what the apostle meant.

Then they left the apostle and brought him what he had given him. When they reached al-Yamama the enemy of God apostatized, gave himself out as a prophet, and played the liar. He said, `I am a partner with him in the affair,’ and then he said to the deputation who had been with him, `Did he not say to you when you mentioned me to him “His position is no worse than yours”? What can that mean but that he knows that I am a partner with him in the affair?’ Then he began to utter rhymes in saj and speak in imitation of the style of the Quran: `God has been gracious to the pregnant woman; He has brought forth from her a living being that can move; from her very midst.’ He permitted them to drink wine and fornicate, and let them dispense with prayer, yet he was acknowledging the apostle as a prophet, and Hanifa agreed with him on that. But God knows what the truth was.’—

MUSAYLIMA’S LETTER AND THE APOSTLE’S ANSWER THERETO [Page-649]

‘Musaylima had written to the apostle: `From Musaylima the apostle of God Muhammad the apostle of God. Peace upon you. I have been made partner with you in authority. To us belongs half the land and to Quraysh half, but Quraysh are a hostile people.’ Two messengers brought this letter.
A shaykh of Ashja `told me on the authority of salma b. Nu`aym b. Mas`ud al-Asja`i from his father Nu`aym: I heard the apostle saying to them when he read his letter `What do you say about it?’ They said that they said the same as Musaylima. He replied, `By God were it not that hearlds are not to be killed I would behead the pair of you!’ Then he wrote to Musaylima: `From Muhammad the apostle of God to Musaylima the liar. Peace be upon him who follows the guidance. The earth is God’s. He lets whom He will of His creatures inherit it and the result is to the pious. This was at the end of the year 10.’—-

(চলবে)

তথ্যসূত্র ও পাদটীকা:

[1] ইবনে হিশাম সম্পাদিত ‘সিরাত রাসুল আল্লাহ’- পৃষ্ঠা ৬৩৬-৬৩৭ ও ৬৪৯
http://www.justislam.co.uk/images/Ibn%20Ishaq%20-%20Sirat%20Rasul%20Allah.pdf
[2] অনুরূপ বর্ণনা: আল-তাবারী, ভলুউম ৯: পৃষ্ঠা ৯৫-৯৭ ও ১০৬-১০৭
https://onedrive.live.com/?authkey=%21AJVawKo7BvZDSm0&cid=E641880779F3274B&id=E641880779F3274B%21294&parId=E641880779F3274B%21274&o=OneUp
[3] Ibid আল-তাবারী – নোট নম্বর ৬৪৬ – বানু হানিফা: ‘এই প্রাচীন আরব উপজাতির এক বড় অংশ মুসাইলিমার নেতৃত্বে মদিনার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন।’

[4] Ibid আল-তাবারী – নোট নম্বর ৬৪৭ – মুসায়লিমাহ বিন হাবিব: যার সংক্ষেপ নাম ছিল মাসলামা (সেটি ছিল তার আসল নাম), যিনি ছিলেন এক পবিত্র হারামের ধর্মীয় নেতা। এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি নবীর হিজরতের আগে ইয়ামামায় এই পবিত্র ছিটমহলটি স্থাপন করেছিলেন। এভাবেই তিনি পূর্ব আরবের এক বিস্তৃত এলাকা নিয়ন্ত্রণ করতেন।’

[5] Ibid আল-তাবারী – নোট নম্বর ৬৪৮: আল হারিথের কন্যা: ‘তার নাম ছিল রামালাহ বিনতে আল-হারিথ।’

[6] Ibid আল-তাবারী- নোট নম্বর ৬৪৯: বানু নাজজার: ‘বানু খাযরাজ গোত্রের এক উপগোত্র।’

[7] Ibid আল-তাবারী নোট নম্বর ৬৫১ (৪০৭) – পৃষ্ঠা ৫৮: “আল-ইয়ামামা হলো মধ্য আরবের একটি জেলা, যেখানে খালিদ বিন ওয়ালিদের নেতৃত্বে মুসলমান ও ‘ভণ্ড নবী’ মুসাইলিমার নেতৃত্বে বানু হানিফা গোত্রের আল-ইয়ামামার যুদ্ধটি সংঘটিত হয়েছিল।”

[8] Ibid আল-তাবারী নোট নম্বর ৭২৪- ‘নুইয়াম বিন মাসুদ আল-আশজায়ি, উসমানের খেলাফত (৬৪৪-৬৫৬ সাল) কিংবা উটের যুদ্ধকালীন সময় মৃত্যুবরণ করেন।’

[9] আল-তাবারী, ভলুউম ১০: পৃষ্ঠা ১০৯:
মুসাইলামার দাবীকৃত ঈশ্বরের নাম ‘আল-রাহমান।’

The Conquest of Arabia; translated and annotated by Fred M. Donner; The University of Chicago State University of New York Press; ISBN 0-7914 -1071-4.-ISBN 0-7914-1072- 2 (pbk.)
https://onedrive.live.com/?authkey=%21AJVawKo7BvZDSm0&cid=E641880779F3274B&id=E641880779F3274B%21293&parId=E641880779F3274B%21274&o=OneUp

[10] Ibid আল-তাবারী: ভলুউম ১০; পৃষ্ঠা ১০৭

শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published.