২৫৮: মুসাইলিমা হত্যা: রিদ্দা – আবু বকর ও খালিদের নৃশংসতা!

জগতের প্রায় সকল ‘তথাকথিত’ মোডারেট মুসলমানদেরই এক সাধারণ বিশ্বাস এই যে, “ইসলাম শান্তির ধর্ম ও ইহাতে কোন জবরদস্তী নাই!” তাঁদের এই বিশ্বাস যে সম্পূর্ণরূপে ভ্রান্ত, তা ‘কুরআন’ ও আদি উৎসের সকল মুসলিম ঐতিহাসিকদের রচিত ‘সিরাত ও হাদিস’ গ্রন্থের বর্ণনায় অত্যন্ত সুস্পষ্ট। নিশ্চিতই তাঁদের এই বিশ্বাস ইসলাম বিশ্বাসী পণ্ডিত ও অপণ্ডিতদের শত শত বছরের মিথ্যাচার ও ইসলামী ‘প্রপাগান্ডার’ ফসল (পর্ব:৪৩)!

‘সুন্নি’ মুসলমানদের এক সাধারণ ধারণা এই যে, “আবু বকর (রাঃ) ছিলেন অতিশয় সুচরিত্র ও দয়ালু এক ব্যক্তিত্ব!” নবী মুহাম্মদের ‘তথাকথিত নবুয়ত’ পরবর্তী মক্কায় অবস্থানকালীন সময়ে (৬১০-৬২২ সাল) মক্কার অবিশ্বাসী কুরাইশ ও অন্যান্য জন-গুষ্টির লোকেরা তাঁর ও তাঁর অনুসারীদের উপর যে ‘তথাকথিত’ নির্যাতন-গুলো চালিয়েছিলেন, তার বর্ণনা কালে ইসলাম বিশ্বাসী পণ্ডিত ও অপণ্ডিতরা উমাইয়া বিন খালফের ক্রীতদাস হযরত বেলালের (রা:) উপর অত্যাচারের উদাহরণ পেশ করেন না, এমন ঘটনা বিরল। অতঃপর আবু-বকর কীভাবে বেলাল-কে তাঁর মনিবের কাছ থেকে ক্রয় করে তাঁকে দাসত্ব-মুক্ত করেছিলেন, তার উদাহরণ পেশ করে তাঁরা আবু-বকরের মহানুভবতার সনদ দান করেন (পর্ব: ৪১-৪২)। বাস্তবিকই, সাধারণ সুন্নি মুসলমানদের অনেকেই নবী মুহাম্মদের অমানুষিক নৃশংসতা (অসংখ্য উদাহরণ), উমর ইবনে খাত্তাবের উগ্র-মেজাজ ও নৃশংসতা (পর্ব: ১৩২), আলী ইবনে আবু-তালিবের বীরত্ব ও নৃশংসতা (পর্ব: ৮২); ইত্যাদি ঘটনার ইতিহাস সম্পর্কে কম-বেশী পরিচিত। কিন্তু তাঁরা আবু বকরের অপকর্ম ও তাঁর অমানুষিক নৃশংসতার ইতিহাস সম্পর্কে প্রায় সম্পূর্ণ অজ্ঞ।

ইসলামের ইতিহাস পর্যালোচনায় আমরা জানতে পারি, নবী মুহাম্মদের মৃত্যুকালীন অসুস্থতার সময় থেকেই আরব জনপদের লোকেরা একে একে ‘ইসলাম ত্যাগ’ শুরু করে ও তিন ব্যক্তি নিজেকে নবী হিসাবে ঘোষণা করে; যাদের-কে মুহাম্মদ ভণ্ড নবী হিসাবে আখ্যায়িত করেন। তারা হলেন আল-ইয়ামামায় বানু হানিফা গোত্রের মুসাইলিমা বিন হাবিব, ইয়েমেনের আল-আসওয়াদ আল-আনসি (Al-Aswad al-Ansi) ও বানু আসাদ গোত্রের তুলায়েহা ইবনে খুয়ালিদ (Tulayha ibn Khuwaylid)। মুহাম্মদের মৃত্যুর একদিন আগে ফিরোজ আল-দেইলামি (Fayruz Al-Daylami) নামের এক মুহাম্মদ অনুসারী ও তার সঙ্গীরা প্রতারণার আশ্রয়ে, আল-আসওয়াদের এক বিশ্বাসঘাতক স্ত্রীর সহায়তায়, আল-আসওয়াদ-কে হত্যা করে। অতঃপর মুহাম্মদের ‘অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক ও করুণ মৃত্যু (বিস্তারিত: পর্ব: ১৪৫)!

মুহাম্মদের মৃত্যু-সংবাদটি পাওয়ার পর আরবের বিভিন্ন অঞ্চলের লোকেরা দলে দলে “ইসলাম ত্যাগ” শুরু করে। আবু বকর ইবনে কুহাফা সমগ্র আরব অঞ্চলে এই “ইসলাম-ত্যাগী” মানুষদের কঠোর হস্তে কী অমানুষিক নৃশংসতায় দমন করেছিলেন, তা আদি উৎসের মুসলিম ঐতিহাসিকরা লিখে রেখেছেন। ইসলামের ইতিহাসে যা “রিদ্দার যুদ্ধ” নামে অভিহিত।

“ভণ্ড নবী মুসাইলিমা ও নবী মুহাম্মদ” বিষয়টির আলোচনায় রিদ্দার যুদ্ধের বিস্তারিত আলোচনা আবশ্যক নয়। তবে এই যুদ্ধের প্রাক্কালে আবু বকরের নির্দেশে খালিদ বিন আল-ওয়ালিদের নেতৃত্বে আবু-বকর অনুসারীরা কী অমানুষিক নৃশংসতায় মুসাইলিমা বিন হাবিব ও তাঁর গোত্রের লোকদের হত্যা করেছিলেন, তার আলোচনা প্রাসঙ্গিক; যাতে পাঠকরা মুহাম্মদের মৃত্যু পরবর্তী সময়ে ‘আবু বকর ও তাঁর অনুসারীদের’ নৃশংসতার কিছুটা ধারণা পেতে পারেন। অতি সংক্ষেপ:

আল-তাবারাীর (৮৩৯-৯২৩ সাল) বর্ণনা: [1]
পূর্ব প্রকাশিতের (পর্ব: ২৫৭) পর

‘উবায়েদুল্লাহ <তার আন্কেল < সাইফ; এবং আল- সারি <শুয়ায়েব <সাইফ আবু দামরা, আবু আমর ও অন্যান্যরা <আল-হাসান বিন আবু আল-হাসান আল-বাসরি [হইতে বর্ণিত]:

আল্লাহর নবী তাঁর মৃত্যুর আগে, মদিনা ও তার আশেপাশের লোকদের উপর এক অভিযান চাপিয়ে দিয়েছিলেন, যাদের মধ্যে ছিল উমর ইবনে আল-খাত্তাব। তিনি উসামা বিন যায়েদ-কে [মুহাম্মদের পালিত পুত্র যায়েদ বিন হারিথার পুত্র] তাদের নেতৃত্বে নিয়োজিত করেন,

কিন্তু তাদের শেষ ব্যক্তিটি ‘খন্দক’ [খন্দক যুদ্ধের সময় খনন করা (পর্ব: ৭৮)] অতিক্রম করার আগেই আল্লাহর নবীর মৃত্যু হয়।

তাই উসামা তার সেনাবাহিনী সহ থেমে যায় ও উমরকে বলে, “আল্লাহর নবীর খলিফার কাছে ফিরে যাও ও তার কাছে আমার সেনাবাহিনী সহ ফিরে আসার অনুমতি চাও; কারণ সেনাপ্রধানরা তাদের বাহিনী সহ আমার সাথে আছে, আর আমি অস্বস্তিতে আছি, পাছে মুশরিকরা খলিফা ও আল্লাহর নবীর পরিবার ও মুসলমানদের পরিবারকে ছিনিয়ে নেয়।” আনসাররা আরও যোগ করে, “আর তিনি যদি জোর দিয়ে বলেন যে আমরা এগিয়ে যাই, তাহলে আমাদের এই অনুরোধটি তাকে জানাবে যে তিনি যেন উসামার চেয়ে বয়স্ক কোন ব্যক্তিকে আমাদের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য নিয়োগ করেন।” —

>>> উমর, আবু-বকরের কাছে ফিরে আসে ও তাঁকে তাদের এই অনুরোধগুলো জানায়। কিন্তু আবু বকর তা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেন, এই বলে যে, তিনি মুহাম্মদের আদেশের কোনোরূপ পরিবর্তন করবেন না।

[পৃষ্ঠা-১৭] — ‘তাই উসামা ধু আল-মারওয়াহ [ওয়াদি আল-কুরায় অবস্থিত একটি গ্রাম] ও উপত্যকাটির অভিমুখে দ্রুত অগ্রসর হয় ও তার ঘোড়সওয়ারদের ছড়িয়ে দিয়ে কুদাহ গোত্র ও আবিল জনপদের লোকদের উপর অতর্কিত আক্রমণ (Raid) করে নবীর নির্দেশ মোতাবেক তার অভিযান সম্পন্ন করে। সে তাদের লোকদের বন্দী করে ও তাদের মালামাল লুন্ঠন করে নিয়ে আসে। ক্যাম্পিং ও ফিরে আসার সময় বাদে, তার এই অভিযানটি চল্লিশ দিনে শেষ হয়।’ ———

(‘উসামা, কুদাহ অঞ্চলের সূদূর মুতা পর্যন্ত ও অতঃপর উবনার লোকদের উপর অতর্কিত আক্রমণ করে; সম্পদ লুণ্ঠন, লোকদের বন্দী ও তার পিতা যায়েদের হত্যাকারীকে [পর্ব: ১৮৫] হত্যা করে; এবং চল্লিশ দিনের মধ্যে ফিরে আসে।’) [2]

[পৃষ্ঠা ৫২-৫৪] –’আল-সারি < শুয়ায়েব < সাইফ [ইবনে উমর আল-উসায়েদি আল-তামিমি] <আবদুল্লাহ বিন সাইদ বিন থাবিত বিন আল-জিধ ও হারাম বিন উসমান < আবদ আল-রহমান বিন কা'ব হইতে বর্ণিত:

উসামা বিন যায়েদের আগমনের পর আবু বকর তাকে মদিনার দায়িত্বে রেখে রওনা হোন। আল-রাবাদাহ স্থানটিতে আসার পূর্ব পর্যন্ত তিনি তার যাত্রা অব্যাহত রাখেন, (এবং) বানু আবস ও ধুবায়ান ও বানু আবদ মানাত বিন কিনানার এক দল লোকের সাক্ষাত পান। অতঃপর তিনি আল-আবরা নামক স্থানে এসে তাদের সম্মুখীন হোন, যেখানে তিনি তাদের সাথে যুদ্ধ করেন; যে কারণে আল্লাহ তাদের-কে ছত্রভঙ্গ ও বিতাড়িত করে। অতঃপর তিনি মদিনায় প্রত্যাবর্তন করেন।

ইতিমধ্যে, যখন উসামার সেনাদলের লোকেরা এসে জড়ো হয় ও মদিনার আশেপাশের লোকদের আনুগত্য ফিরে আসে, (আবু বকর) মদিনা থেকে নাজাদের দিকে এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে 'ধুল-কাসাহ' নামক স্থানে এসে তাদের সাথে শিবির স্থাপন করেন। অতঃপর তিনি সেখানে তাঁর সেনাবাহিনী-কে এগারো-টি ভাগে ভাগ করে এগারো-টি ব্যানার (ঝণ্ডা) বেঁধে দেন ও প্রত্যেক সেনাদলের কমান্ডারকে এই নির্দেশ দেন যে, যে সমস্ত সশস্ত্র মুসলমানরা তার পাশ দিয়ে যাচ্ছিল তারা যেন তাদেরকে সমবেত করে ও কিছু সশস্ত্র লোকদের-কে তাদের দেশ রক্ষার জন্য রেখে দেয়।

আল-সারি < শুয়ায়েব < সাইফ <সাহল বিন ইয়সুফ < আল-কাসিম বিন মুহাম্মদ হইতে বর্ণিত:

উসামা ও তার বাহিনী যখন তাদের উটগুলো-কে বিশ্রামে রেখে সমবেত হয় ও তাদের প্রয়োজনের তুলনায় অধিক ‘সাদাকা’ আনয়ন করে, তখন আবু বকর তার বাহিনী-কে অভিযানে প্রেরণ করেন ও তাদের ব্যানার-গুলো বেঁধে দেন; (সব মিলিয়ে) এগারোটি ব্যানার।

[১] তিনি খালিদ বিন আল-ওয়ালিদের জন্য একটি ব্যানার বেঁধে দেন ও তাকে এই নির্দেশ প্রদান করেন যে সে যেন তুলায়েহার বিরুদ্ধে (যুদ্ধ করে) ও তা সম্পন্ন করার পর সে যেনো 'আল-বুতাহ'-তে অবস্থানকারী মালিক বিন নুয়ায়েরাহের (Malik b. Nuwayrah) বিরুদ্ধে রওনা হয়, যদি সে তার বিরোধিতা করে। [3] [4]

[২] তিনি ইকরিমা বিন আবু জেহেলের জন্যও একটি ব্যানার বেঁধে দেন ও তাকে এই নির্দেশ প্রদান করেন যে সে যেন মুসাইলিমার বিরুদ্ধে (যুদ্ধ করে);

[৩] এবং আল-মুহাজির বিন আবি উমাইয়ার জন্য, ও তাকে এই নির্দেশ প্রদান করেন যে সে যেন (আল-আসওয়াদ) আল-আনসির সেনাদের বিরুদ্ধে (যুদ্ধ করে), এবং কায়েস বিন মাকশুহ ও ইয়েমেনের যে লোকগুলো তাঁকে সাহায্য করেছিল তাদের বিরুদ্ধে 'আবনার' লোকদের সাহায্য করে। অতঃপর সে (আল-মুহাজির) যেন হাদরামায় অবস্থিত কিনদার লোকদের কাছে যায়।

[৪] (তিনি একটি ব্যানার বেঁধে দেন) খালিদ বিন সাইদ বিন আল-আস এর জন্য, সেই সময়টি-তে যে তার গভর্নরের পদটি পরিত্যাগ করে ইয়েমেন থেকে চলে এসেছিল; অতঃপর তিনি তাকে সিরিয়ার উচ্চভূমি আল-হামকাতায়ানে (al-Hamqatayn) প্রেরণ করেন।

[৫] এবং আমর বিন আল-আসের জন্যও; তিনি তাকে কুদা ও ওয়াদিয়া (আল-কালবি) উভয় (গোত্র) এবং আল হারিথদের (আল-সুবায়ি) নিকট প্রেরণ করেন;

[৬] [৭] এবং হুদায়েফা বিন মিহসান আল-ঘালফানির জন্যও (তিনি একটি ব্যানার বেঁধে দেন) ও তাকে দা'বা (Daba) গমনের নির্দেশ প্রদান করেন; এবং আরফাজাহ বিন হারথামার জন্যও, তিনি তাকে মাহরাহ (Mahrah) গমনের নির্দেশ প্রদান করেন ও তাদের দুজনের প্রত্যেক-কে তাদের নিজ প্রদেশে গমনের ব্যাপারে তার সঙ্গীদের চেয়ে অগ্রাধিকার দেন। [5] [6] [7] [8]

[৮] তিনি শুরাহবিল বিন হাসানা-কে, ইকরিমা বিন আবু জেহেলের পিছু অনুসরণ করতে পাঠান, এই বলে যে, আল-ইয়ামামার কাজটি সম্পন্ন করার পর তার উচিত এই যে সে যেন ‘কুদা’ তে যায় ও তার অশ্বারোহী বাহিনী নিয়ে মুরতাদদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। [9] [10]

[৯] আর (তিনি একটি ব্যানার বেঁধে দেন) তুরায়েফা বিন হাজিয়ের জন্য, ও তাকে এই নির্দেশ দেন যে সে যেন বানু সুলায়েম গোত্র ও হাওয়াযিন গোত্রের যে সমস্ত লোকেরা তাদের-কে সমর্থন করেছিল, তাদের উপর (আক্রমণ) চালায়।

[১০] এবং (তিনি একটি ব্যানার বেঁধে দেন) সুওয়ায়েদ বিন মুকাররিনের জন্য, ও তাকে ইয়েমেনের উপকূলীয় জেলায় গমনের নির্দেশ প্রদান করেন;

[১১] এবং আল-আলা বিন হাদরামির জন্য, তিনি তাকে বাহরাইন গমনের নির্দেশ প্রদান করেন। [11]

তাই এই কমান্ডাররা ধু আল-কাসাহ থেকে তাদের যাত্রা শুরু করে ও [যাত্রার প্রাক্কালে] তারা শিবির স্থাপন করে, যেখানে প্রত্যেকটি সেনাপতি তাঁর সম্মুখ দিয়ে রওনা হয় ও তিনি তাদের-কে নির্দেশ প্রদান করেন। (এছাড়াও) যে সমস্ত ধর্মত্যাগীদের কাছে (বাহিনী) পাঠানো হয়েছিল, (আবু বকর) তাদের-কে চিঠি লিখেছিলেন।' —-

মালিক বিন নুয়ায়েরাহ হত্যা ও তার মস্তকের উপর রান্নার পাত্র রেখে রন্ধন-কর্ম: [12]

‘আবু জাফর <আল-সারি বিন ইয়াহিয়া <শুয়ায়েব বিন ইবরাহিম < সাইফ বিন উমর <খুজাইমা বিন শাজারাহ আল-উকফানি < উসমান বিন সুয়ায়েদ <সুয়ায়েদ বিন মাথাবাহ আল-রিয়াহী হইতে বর্ণিত: —-

খালিদ যখন আল-বুতাহই পৌঁছে, সে তার সেনাবাহিনীর কিছু অংশ ইতস্তত ছড়িয়ে দেয় ও তাদের এই নির্দেশ প্রদান করে যে তারা যেন [লোকদের] ইসলামের দিকে আহ্বান করে ও যারা (এখনও) সাড়া দেয়নি তাদের-কে সেখানে ধরে নিয়ে আসে; আর যদি সে বাধা দেয়, তবে তারা যেন তাকে হত্যা করে। (এটি) ছিল তারই এক অংশ যা আবু বকর তাকে আদেশ করেছিলেন:

“তুমি যখন কোথাও শিবির স্থাপন করবে, তখন নামাজের জন্য আজান ও ইকামাতের ডাক দিবে। অতঃপর লোকেরা যদি নামাজের জন্য আজান ও ইকামাতের ডাক দেয়, তবে তাদের-কে ছেড়ে দেবে। কিন্তু তারা যদি তা না করে, তবে তাদের-কে আক্রমণ করা ছাড়া আর কোন পথ নেই।

(সেক্ষেত্রে]) যে কোন উপায়ে তাদের-কে হত্যা করো, আগুন দিয়ে বা অন্য যে কোনো উপায়ে।

আর যদি তারা ইসলামের দাওয়াতের ব্যাপারে তোমার ডাকে সাড়া দেয়, তবে তাদেরকে (আরও) জিজ্ঞাসা করে তাদের সাদাকা (প্রদান) ব্যাপারটি নিশ্চিত করো। যদি তারা তা করে তবে তা তাদের কাছ থেকে গ্রহণ করো।

কিন্তু যদি তারা তা অস্বীকার করে, তাহলে কোনরূপ সতর্কীকরণ ছাড়ায় তাদের উপর (অবশ্যই) আক্রমণ চালাবে।”

অতঃপর অশ্বারোহী সৈন্যরা মালিক বিন নুয়ায়েরাহ-কে (খালিদের) কাছে ধরে নিয়ে আসে, সাথে ছিল বনু থালাবাহ বিন ইয়ারবু গোত্রের অন্তর্ভুক্ত আসিম ও উবায়েদ ও আরিন ও জাফর [উপগোত্র] এর কিছু লোক।

হামলাকারী দল তাদের ব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করে। যাদের মধ্যে ছিল আবু কাতাদা, যে ছিল সেই লোকদের একজন যে সাক্ষ্য দিয়েছিল যে তারা নামাজের আজান ও ইকামত দান ও নামাজ আদায় করেছিল।

তারা যখন তাদের ব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করে, তখন (খালিদ) তাদের এই নির্দেশ দেয় যে তাদের-কে যেন আটকে রাখা হয়। সেটি ছিল এক শীতের রাত যার মোকাবেলা করার [উষ্ণতা প্রদানের] যথেষ্ট কোন ব্যবস্থা ছিল না। ক্রমশ রাত্রি আরও শীতল হওয়া শুরু করে, তাই খালিদ এক ঘোষক-কে যে ঘোষণাটি করার নির্দেশ দেয়, তা হলো, “তোমাদের বন্দীদের উষ্ণ রাখো।” তখন কিনানাদের আঞ্চলিক ভাষায় (dialect) যখন কেউ বলে, “আদফিউ আল-রাজুল”, তার মানে হলো, “তাকে উষ্ণ রাখো” বা “তাকে আবৃত করে রাখো”; কিন্তু অন্যদের আঞ্চলিক ভাষায় এর অর্থ হলো “তাকে হত্যা করো।” তাই লোকেরা ভাবে, যেহেতু (এই শব্দটি) তাদের আঞ্চলিক ভাষায় ‘হত্যা করো’ বোঝায়, অতএব সে তাদের-কে হত্যা করতে চেয়েছে। তাই তারা সেটিই করে। দিরার বিন আল-আযওয়ার, মালিক-কে হত্যা করে।

খালিদ সেই আর্ত-চিৎকার শুনতে পায়, তারা তাদের-কে খতম করার পর তাই সে বাহিরে বের হয়ে আসে; অতঃপর সে বলে, “যদি আল্লাহ কিছু মনস্থ করে, তা সে বাস্তবায়ন করে।” লোকেরা তাদের [মৃত্যু নিন্দনীয় কিনা] ব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করে। আবু কাতাদা (খালিদকে) বলে, “এটি তোমার কাজ।” এতে খালিদ তার বিরুদ্ধে রুক্ষ ভাষণ দেয়, যে কারণে (আবু কাতাদা) রাগান্বিত হয় ও আবু বকরের কাছে আসার জন্য রওনা হয়। এতে আবু বকর (আবু কাতাদার উপর) রাগান্বিত হয় যতক্ষণে না উমর তার পক্ষ হয়ে তার সাথে কথা বলে। কিন্তু (আবু কাতাদা) খালিদের কাছে ফিরে না যাওয়া পর্যন্ত (আবু বকর) সন্তুষ্ট হয় না। তাই (আবু কাতাদা), (খালিদের কাছে) ফিরে যায়, —-।

খালিদ, উম্মে তামিম বিনতে আল-মিনহাল কে (মালিক বিন নুয়ায়েরাহর স্ত্রী) বিবাহ করে ও তার ঋতুস্রাব অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত সে তার কাছ থেকে বিরত থাকে। [13]

সেই সময় আরবরা যুদ্ধক্ষেত্রে নারীদের (গ্রহণ করা) কে লজ্জাকর মনে করত ও নিন্দা করত। উমর, আবু বকরকে বলে, “খালিদের তরবারিতে সত্যিই নিষিদ্ধ আচরণ রয়েছে; এবং যদি এটি (মালিক হত্যার ঘটনা) সত্য নাও হয়, তথাপি তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া আপনার জন্য আবশ্যক।” সে তাকে এই বিষয়ে অনুযোগ করে, কিন্তু আবু বকর তার (কোনও) ট্যাক্স এজেন্ট বা সেনাপতির বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করে নাই। অতঃপর তিনি [আবু বকর] বলেন,

“ওহে উমর, আমাকে বলো, (খালিদ) কিছু একটা সাফ করতে চেয়েছিল, কিন্তু (সেই প্রক্রিয়ায়) সে একটা ভুল করেছে; সুতরাং তাকে তিরস্কার করা বন্ধ করো।”

(আবু বকর) মালিকের রক্ত-মূল্য পরিশোধ করে ও খালিদ-কে তার সামনে আসার জন্য চিঠি লিখে। সে কারণে, সে তার ঘটনাটি ব্যাখ্যা করার জন্য তাই করে; যার ফলে (আবু বকর) তাকে ক্ষমা করে দেয় ও (তার ব্যাখ্যাটি) গ্রহণ করে। তথাপি (আবু বকর) এমন একজন-কে (তার) বিবাহ করার জন্য তাকে তিরস্কার করে, যাকে এভাবে (বিবাহ করা-কে) আরবরা লজ্জাকর মনে করতো। —-

আল-সারি <শুয়ায়েব < সাইফ <খুজাইমা <উসমান <সুয়ায়েদ হইতে বর্ণিত:

মালিক বিন নুওয়ায়েরাহ ছিল সবচেয়ে লোমশ লোকদের একজন। তখন সেনাদলটির লোকেরা তাদের রান্নার পাত্রগুলি ধরে রাখার জন্য (হত্যা করা বন্দীদের) মস্তক-গুলো ব্যবহার করেছিল। মালিকের-টি ছাড়া তাদের মধ্যে এমন কোন মস্তক ছিল না যার চামড়ায় আগুন গিয়ে পৌঁছায় নাই। পাত্রের-জিনিসগুলো ভালোভাবে সিদ্ধ হয়েছিল কিন্তু তার মস্তকটি সিদ্ধ হয় নাই, এই কারণে যে তার মাথায় চুলের পরিমাণ ছিল বেশী; (আগুনের) উত্তাপ তার চামড়ায় পৌঁছতে চুলগুলি বাধা দিচ্ছিল।

তার রোগা গড়নের বিষয়টি উল্লেখ করে মুতামমিম কবিতার মাধ্যমে তার সম্বন্ধে বর্ণনা করেছিল। সে যখন নবীর কাছে এসেছিল তখন উমর তাকে দেখেছিল, তাই সে বলেছিল, “হে মুতামমিম, সে কি সত্যিই এমনটি ছিল?” সে জবাব দিয়েছিল, “আমি যেটি বলেছি, হ্যাঁ।”

ইবনে হুমায়েদ < সালামাহ <মুহাম্মদ ইবনে ইশাক <তালহা বিন আবদুল্লাহ বিন আবদ আল-রহমান বিন আবু বকর আল-সিদ্দিক হইতে বর্ণিত:

আবু বকর তার বাহিনীকে যে নির্দেশগুলো দিয়েছিলেন তার মধ্যে ছিল (এটি):

“তোমরা যখন কোন লোকদের আবাসস্থলে গিয়ে পৌঁছো ও অতঃপর সেখানে নামাজের আজান শুনতে পাও, তখন সেখানকার লোকদের থেকে বিরত থেকো যতক্ষণে না তোমরা তাদের জিজ্ঞাসা করো যে কী কারণে তারা শত্রুতা করছিল। কিন্তু যদি তোমরা নামাজের আজান না শুনতে পাও, তাহলে এমনভাবে অতর্কিত আক্রমণ চালিও যাতে তোমরা হত্যা করো ও পুড়িয়ে ফেলো।”

যে সমস্ত লোকেরা সাক্ষ্য দিয়েছিল যে মালিক বিন নুয়ায়েরাহ ইসলাম (গ্রহণ করেছিল) তাদের মধ্যে ছিল আবু কাতাদা আল-হারিস বিন রিবি, বানু সালিমা গোত্রের এক ভাই। সে আল্লাহর কসম খেয়ে এই প্রতিজ্ঞা করেছিল যে এর পর সে আর কখনো খালিদ বিন আল-ওয়ালিদের সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করবে না। ——

খালিদ নিজেকে (মালিক) হত্যার জন্য অজুহাত দেখিয়েছিল (এই বলে) যে, সে যখন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছিল তখন (মালিক) বলেছিল, “আমি মনে করি যে তোমার সঙ্গীরা কেবল এই এই কথাই বলছিল।” (খালিদ) বলেছিল, “অতএব কেন তুমি তাকে তোমার সঙ্গী মনে করনি?” অতঃপর সে তাকে এগিয়ে আসতে বাধ্য করে এবং তার ও তার সঙ্গীদের কল্লা কেটে ফেলে। অতঃপর, উমর বিন আল-খাত্তাব যখন তাদের হত্যার ঘটনাটি জানতে পারে, সে আবু বকরের সাথে এ বিষয়ে বারবার কথা বলে, এই বলে:

“আল্লাহর এই শত্রুটি এক মুসলমান পুরুষের বিরুদ্ধে সীমা লঙ্ঘন করেছে, তাকে হত্যা করেছে ও অতঃপর তার স্ত্রীর উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে।”

(মদিনায়) ফিরে আসার পর খালিদ বিন আল-ওয়ালিদ মসজিদে প্রবেশ করে। তখন তার পরিধানে ছিল ঢিলা গাউন, যার উপর ছিল লোহার মরিচা; আর তার মাথায় ছিল পাগড়ি, যার মধ্যে লাগানো ছিল তীর। এই অবস্থায় যখন সে মসজিদে প্রবেশ করে, তখন উমর তার কাছে যায় ও তার মাথা থেকে তীরগুলো টেনে বের করে নিয়ে আসে ও অতঃপর সেগুলো চূর্ণবিচূর্ণ করে ভেঙ্গে ফেলে। অতঃপর সে বলে,

“কি ভণ্ডামি, একজন মুসলমান পুরুষকে হত্যা করা ও অতঃপর তার স্ত্রীর উপর ঝাঁপিয়ে পড়া! আল্লাহর কসম, আমি তোমাকে পাথর ছুঁড়ে হত্যা করবো।

খালিদ বিন আল-ওয়ালিদ তার সাথে কোন কথা বলে না। আবু বকরের কাছে আসার পূর্ব পর্যন্ত সে ভাবে যে তার সম্পর্কে আবু বকরের মতামত হয়তো উমরের মতই। তার কাছে আসার পর সে তাকে ঘটনাটি শোনায় ও আবু বকর তাকে তার এই সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানে যা কিছু ঘটেছিল তার জন্য তাকে কোনরূপ শাস্তি দান ছাড়াই ক্ষমা করে দেয়। আবু বকরের এই পক্ষপাতের পর খালিদ বের হয়ে আসে। — এ থেকে উমর জানতো যে আবু বকর তাকে পক্ষপাতিত্ব করেছে, তাই সে তার সাথে কথা না বলে তার বাড়িতে চলে যায়।

যে ব্যক্তি মালিক বিন নুয়ায়েরাহ-কে হত্যা করেছিল, সে ছিল আবদ বিন আল-আযওয়ার আল-আসাদি।
ইবনে আল-কালবির মতে, যে ব্যক্তি মালিক বিন নুয়ায়েরাহ-কে হত্যা করেছিল, সে ছিল দিরার বিন আল-আযওয়ার।’—-

– অনুবাদ, টাইটেল, ও [**] যোগ – লেখক।

>>> আদি উৎসে আল-তাবারীর ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় যে বিষয়-টি অত্যন্ত সুস্পষ্ট তা হলো, “ইসলাম-ত্যাগী” কোন লোক, গোত্র কিংবা জন-গুষ্টি আবু বকর ও তাঁর অনুসারীদের উপর আক্রমণ করতে আসেন নাই। আক্রমণকারী দলটি ছিল আবু-বকর ও তাঁর অনুসারীরা। এই লোকগুলোর একমাত্র অপরাধ ছিল এই যে, “তাঁরা ইসলাম-ত্যাগী!” নিশ্চিতরূপেই এই লোকগুলো মুহাম্মদের আদর্শ ও কর্মকাণ্ডে উদ্বুদ্ধ হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন নাই। তাঁরা তা গ্রহণ করেছিলেন ভীত হয়ে! তাঁদের নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার আশংকায়! মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের করাল গ্রাস থেকে বাঁচার প্রচেষ্টায়! যার অকাট্য প্রমাণ হলো,

“মুহাম্মদের মৃত্যুর সংবাদ শোনার পরই তাঁরা দলে দলে ‘ইসলাম ত্যাগ’ করেছিলেন।”

ক্ষমতার দ্বন্দ্বে আবু-বকর যে মুহাম্মদের মতই “নিষ্ঠুর ও ভয়ঙ্কর” হতে পারেন, তা হয়তো তাঁরা কখনো কল্পনাও করতে পারেন নাই। বাস্তবিকই মুহাম্মদ তাঁর দশ বছরের মদিনা জীবনে যত “অবিশ্বাসীদের” হত্যা করেছেন, আবু বকর তাঁর দুই বছরের শাসন আমলে (৬৩২-৬৩৪) তার চেয়ে বহুগুণ বেশী “ইসলাম-ত্যাগীদের” হত্যা করেছে। ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় আমরা জানতে পারি, খালিদ বিন আল-ওয়ালিদ ও অন্যান্য সেনাপতিদের যাবতীয় নিষ্ঠুরতার “হুকুম দাতা” ছিলেন আবু বকর। কী নৃশংস বর্ণনা:

“–কিন্তু যদি তোমরা নামাজের আজান না শুনতে পাও, তাহলে যে কোন উপায়ে তাদের-কে হত্যা করো, আগুন দিয়ে বা অন্য যে কোনো উপায়ে।

আর যদি তারা ইসলামের দাওয়াতের ব্যাপারে তোমার ডাকে সাড়া দেয়, তবে তাদেরকে আরও জিজ্ঞাসা করে তাদের সাদাকা প্রদানের ব্যাপারটি নিশ্চিত করো। যদি তারা তা করে তবে তা তাদের কাছ থেকে গ্রহণ করো।

কিন্তু যদি তারা তা অস্বীকার করে, তাহলে কোনরূপ সতর্কীকরণ ছাড়ায় তাদের উপর অবশ্যই আক্রমণ চালাবে।”

আবু বকর ছিলেন মুহাম্মদের সবচেয়ে যোগ্য অনুসারী। তিনি মুহাম্মদের কাছ থেকে “পলিটিক্স” শিখেছিলেন। তারা দু’জনেই ছিলেন ঠাণ্ডা মস্তিষ্ক, ভয়ঙ্কর ও নিষ্ঠুর! “আল্লাহ-কে” ব্যবহার করে মুহাম্মদ পেয়েছেন ক্ষমতা, প্রতিপত্তি ও সফলতা; আর “আল্লাহ ও মুহাম্মদ-কে” ব্যবহার করে মুহাম্মদ পরবর্তী মুসলিম শাসকরা প্রতিষ্ঠা করেছেন “আরব সাম্রাজ্য-বাদ;” যার সর্বপ্রথম শাসক ছিলেন আবু বকর।

ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি লাভের লালসায় “আল্লাহর” নামে মুহাম্মদ যেমন তাঁর চাচা আবু-লাহাব কে দিয়েছেন অভিশাপ (পর্ব: ১২), সর্বাবস্থায় সাহায্যকারী চাচা আবু-তালিব, মা আমিনা ও দাদা আবদুল-মুত্তালিব কে পাঠিয়েছেন দোযখে (পর্ব: ৪‌১১৭৯); ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি লাভের লালসায় তেমনি আবু বকর, “মুহাম্মদের একান্ত পরিবার সদস্যদের সাথে করেছেন বেইমানী”, যার বিশদ আলোচনা ‘লুটের মালের উত্তরাধিকার ও পরিণতি (পর্ব: ১৫১), নবী-পরিবারের দাবী ও ‘আমি শুনিয়াছি’ বাদ্য (পর্ব: ১৫৭) ও মুহাম্মদের বিশাল সম্পদ – কারা ছিলেন স্বত্বভোগী (পর্ব: ১৫৮)’ পর্বগুলোতে করা হয়েছে।

যে ব্যক্তি নবী মুহাম্মদের পরিবারের বিরুদ্ধে এমন আচরণ করতে পারেন, তিনি ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি লাভের লালসায় ‘ইসলাম ত্যাগীদের’ বিরুদ্ধে প্রয়োজনে কী পরিমাণ ভয়ংকর ও নিষ্ঠুর হতে পারেন তা সহজেই অনুমেয়।

মুহাম্মদ যেমন খালিদ বিন ওয়ালিদের “মুসলমান হত্যার” কোন বিচার করেন নাই (পর্ব: ২০১), আবু বকরও তাই।

মালিক বিন নুয়ায়েরাহ-কে হত্যা করে “তাঁর ছিন্ন মস্তকের উপর” রান্নার পাত্র রেখে রান্না করা ও অতঃপর তাঁর স্ত্রী উম্মে তামিম বিনতে আল-মিনহাল কে বিবাহ ও যৌন-নির্যাতন করায় খালিদ বিন আল-ওয়ালিদের প্রতি উমর ইবনে খাত্তাবের আক্রোশ এই কারণে নয় যে, “তাঁরা ছিলেন মানুষ!” তাঁর আক্রোশ এই কারণে যে, “তাঁরা ছিলেন মুসলমান।” এটি মুহাম্মদের শিক্ষা, যার আলোচনা ইতিমধ্যেই করা হয়েছে (পর্ব: ১৭৯-১৮০)

[ইসলামী ইতিহাসের ঊষালগ্ন থেকে আজ অবধি প্রায় প্রতিটি ইসলাম বিশ্বাসী প্রকৃত ইতিহাস জেনে বা না জেনে ইতিহাসের এ সকল অমানবিক অধ্যায়গুলো যাবতীয় চতুরতার মাধ্যমে বৈধতা দিয়ে এসেছেন। বিষয়গুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিধায় বাংলা অনুবাদের সাথে আল-তাবারীর বর্ণনার প্রাসঙ্গিক অংশটির মূল ইংরেজি অনুবাদটি সংযুক্ত করছি।]

The narratives of Al-Tabari: [12]

According to Abu Jafar -al-Sari b. Yahya -Shu`ayb. b. Ibrahim -Sayf b. Umar -Khuzaymah b. Shajarah al-Uqfani-`Uthman b. Suwayd -Suwayd b. al-Math’abah al-Riyahi: —-

When Khalid reached al-Butah, he scattered portions of the army and ordered them to summon [the people] to Islam, and to bring to it whoever had not [yet] responded; and if he resisted, to kill him. [This] was part of that with which Abu Bakr had charged him: “When you encamp someplace, make the call to prayer and the iqamah. Then, if the people make the call to prayer and the iqamah, leave them alone; but if they do not do so, there is no [course] but to raid them. [In that case] kill them by every means, by fire or whatever else. And if they respond to you in the call to Islam, then question them [further]; if they affirm [payment of] the alms tax, then accept that from them; but if they deny it, then there is no [course] but to raid them without any word [of warning].”

Then “the cavalry brought Malik b. Nuwayrah to [Khalid], along with some people of Banu Tha’labah b. Yarbu’, of ‘Asim and `Ubayd and ‘Arin and Jafar. The raiding party disagreed about them; among them was Abu Qatadah, who was one of those who testified that they had made the call to prayer and the iqamah and had performed the prayer. So when they disagreed about them, (Khalid) ordered that they be locked up, on a cold night against which nothing was sufficient [for warmth]. [The night] began to get colder, so Khalid ordered a crier to call out, “Keep your captives warm.” Now in the Kinanah dialect, when one says, “adfi’u al-rajul,” it means “keep him warm” or “wrap him up,” but in the dialects of others it means ‘kill him.” So the people thought, since [the word] meant ‘kill” in their dialect, that he wanted them killed, so they did so; Dirar b . al-Azwar killed Malik. Khalid heard the outcry, so he went out after they had finished with them; whereupon he said, “If God desires something, He effects it.”

The people disagreed about them. Abu Qatadah said [to Khalid], “This is your doing.” At this Khalid countered him with rough speech, whereupon (Abu Qatadah) became angry and proceeded to Abu Bakr. At this Abu Bakr became angry at (Abu Qatadah) until ‘Umar spoke to him on his behalf, but (Abu Bakr) would only be content if (Abu Qatadah) returned to (Khalid); so [Abu Qatadah] returned to [Khalid], so that he came to Medina with him.

Khalid married Umm Tamim bt. al-Minhal, and abstained from her so that the period between her menstruations should elapse. Now the Arabs used to find [the taking of] women abhorrent in war, and condemn it. ‘Umar said to Abu Bakr, “In the sword of Khalid there really is forbidden behavior; and even if this [story about Malik’s execution] were not true, it is necessary for you to take retaliation on him.” He pestered him about that, but Abu Bakr did not take retaliation on [any of] his tax agents or commanders. Then he said, “Tell me, `Umar, (Khalid) sought to clear something up but [in the process) made a mistake;6 so stop berating him. (Abu Bakr) paid the blood price for Malik and wrote to Khalid to come before him; so he did that to explain his story, whereupon (Abu Bakr) pardoned him and accepted [his explanation]. But (Abu Bakr) did censure him over [his] marriage to one whom the Arabs considered it disgraceful [to marry] in that way. ——-

According to al-Sari -Shuayb -Sayf -Khuzaymah-`Uthman-Suwayd:676 Malik b. Nuwayrah was one of the hairiest of people. Now the men of the army used the heads [of the slain captives] to hold up their cooking-pots, and there was no head among them whose skin the fire did not reach except Malik’s; the pot became well-cooked but his head did not cook because of the amount of hair on it, the hair preventing [the fire’s] heat from reaching the skin. Mutammim described him in verse, mentioning his slenderness. `Umar had seen him when he came to the Prophet, so he said, “Was he really like that, Oh Mutammim?” He replied, “As for what I said, yes.”

According to Ibn Humayd -Salamah -Mubammad b. Ishaq- Talhah b. Abdallah b. Abd al-Rahman b. Abu Bakr al-Siddiq: Among Abu Bakr’s instructions to his armies was [this]: “When you come upon one of the peoples’ abodes, and then hear the call to prayer in it, desist from its people until you have asked them for what reason they were hostile. But if you do not hear the call to prayer, then launch a raid such that you kill and burn.”

Among those who testified that Malik [b. Nuwayrah] [had embraced] Islam was Abu Qatadah al-Harith b. Ribi, a brother of Banu Salimah. He made a vow to God that he would never witness a war with Khalid b. al-Walid after that. —-

Khalid used to excuse himself for killing [Malik] [on the grounds] that [Malik] had said, when he was interrogating him, “I think your companion was only saying such and such.” (Khalid) said, “And why didn’t you reckon him a companion of yours?” Then he made him come forward and struck off his head and those of his companions. Then, when `Umar b. al-Khattab learned of their murder, he spoke of it with Abu Bakr repeatedly, saying, “The enemy of God transgressed against a Muslim man, killing him and then leaping upon his wife.” Khalid b. al-Walid approached [Medina] on his return until he entered the mosque, wearing a robe of his on which was iron rust, and with his head wrapped in a turban of his in which arrows had become planted. So when he entered the mosque, `Umar went to him and pulled the arrows from his head and smashed them. Then he said, “What hypocrisy, to kill a Muslim man and then leap upon his wife! By God, I would pelt you with stones.” Khalid b. al-Walid did not speak to him, and thought that Abu Bakr would only have the same opinion about him as Umar, until he entered upon Abu Bakr. When he entered upon him, he told him the story and Abu Bakr pardoned him and forgave him without punishment for whatever had happened in his recent campaign. So Khalid went out when Abu Bakr favored him. —- From this, Umar knew that Abu Bakr had favored him, so he did not speak to him and went into his house.

The one who killed Malik b. Nuwayrah was ‘Abd b. al-Azwar al-Asadi.
According to Ibn al-Kalbi, the one who killed Malik b. Nuwayrah was Dirar b. al-Azwar.’

(চলবে)

তথ্যসূত্র ও পাদটীকা:

[1] আল-তাবারী, ভলুউম ১০: পৃষ্ঠা-১৪-১৫; ১৭ ও ৫২-৫৪

The Conquest of Arabia; translated and annotated by Fred M. Donner; The University of Chicago State University of New York Press; ISBN 0-7914 -1071-4.-ISBN 0-7914-1072- 2 (pbk.)
https://onedrive.live.com/?authkey=%21AJVawKo7BvZDSm0&cid=E641880779F3274B&id=E641880779F3274B%21293&parId=E641880779F3274B%21274&o=OneUp

[2] Ibid আল-তাবারী – নোট নম্বর ৯৯

[3] Ibid আল-তাবারী – নোট নম্বর ৩৩৮: “মালিক বিন নুয়ায়েরাহ ছিলেন তামিম গোত্রের অন্তর্ভুক্ত আল-ইয়ারবু উপগোত্রের এক নেতা, যাকে নবী মুহাম্মদ তামিম গোত্রের এক অংশের ‘কর-আদায়কারী (tax collector) হিসাবে নবী নিযুক্ত করেছিলেন; তবে কিছু লোকের ভাষ্য মতে (কিন্তু সকল লোকেরা নয়) নবীর মৃত্যুর পর তিনি তা স্থগিত রেখেছিলেন।”

[4] Ibid আল-তাবারী – নোট নম্বর ৩৩৯: “আল-বুতাহ হলো নাজাদের বানু আসাদ অঞ্চলের একটি কুপ, মদিনা থেকে আনুমানিক ৪০০ কিলোমিটার পূর্ব-উত্তর পূর্বে অবস্থিত।”

[5] Ibid আল-তাবারী – নোট নম্বর ৩৪৪- “হুদায়েফা বিন মিহসান আল-ঘালফানি – আল-তাবারীর মতে তিনি ছিলেন হুমায়ের। পরবর্তীতে তিনি উমরের শাসন আমলে ওমান ও আল-ইয়ামামার গভর্নরের দায়িত্ব পালন করেন ও ইরাক বিজয়ে অংশগ্রহণ করেছিলেন। অন্যদিকে, ইবনে আল-কালবি তাকে ইউয়েনা বিন হিসন আল-ফাজারী বলে বিবেচনা করেছেন।–”

[6] Ibid আল-তাবারী – নোট নম্বর ৩৪৫: “দা’বা – একটি বাজার শহর ও ওমানের সাবেক রাজধানী।”

[7] Ibid আল-তাবারী – নোট নম্বর ৩৪৬- “আরফাজাহ বিন হারথামা ছিলেন খুজা গোত্রের অন্তর্ভুক্ত বারিক (Bariq) উপগোত্রের এক নেতা।”

[8] Ibid আল-তাবারী – নোট নম্বর ৩৪৭: ‘মাহরাহ – দক্ষিন আরবের হাদরামাত ও উমানের মধ্যবর্তী অঞ্চল অবস্থানকারী একটি গোত্র।”

[9] Ibid আল-তাবারী – নোট নম্বর ৩৪৮: ‘”শুরাহবিল বিন হাসানা ছিলেন কুরাইশদের বানু যুহরা কিংবা বানু জুমাহ গোত্রের মিত্র এক ব্যক্তি, যার উপজাতির পরিচয় অজ্ঞাত। তিনি ইসলামের প্রাথমিক সময়ে ধর্মান্তরিত হোন।”

[10] Ibid আল-তাবারী – নোট নম্বর ৩৪৯: “আল-ইয়ামামা – মদিনা থেকে প্রায় ৭৫০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত মধ্য পূর্ব আরবের এক মরূদ্যান জেলা; দাহনা বালুকার ঠিক পশ্চিমে।”

[11] Ibid আল-তাবারী – নোট নম্বর ৩৫১: আল-আলা বিন হাদরামি – ‘দক্ষিণ আরবের বানু সাদিফ গোত্রের এক লোক, যিনি ছিলেন বাহরাইনে আল্লাহর নবীর গভর্নর।’

[12] Ibid আল-তাবারী, ভলুউম ১০: পৃষ্ঠা ১০০-১০৪

[13] Ibid আল-তাবারী – নোট নম্বর ৬৬৯: “উম্মে তামিম বিনতে আল-মিনহাল ছিলেন নিহত মালিক বিন নুয়ায়েরাহর স্ত্রী, যার ডাক নাম ছিল উম্মে মুতামমিম।”

শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published.