আল্লাহ নামক স্বত্বাটি তাদের ধর্মগুরু কর্তৃক সৃষ্ট।

যখন মুসলমানেরা আল্লাহু আকবর বলে মন্দির ভাংগে তখন বুঝা যায় মন্দিরের রক্ষক মা কালী কতটা নিষ্ক্রিয় কতটা ক্ষমতাহীন,কতটা দূর্বল। আবার যখন হিন্দুরা বন্দে মাতরম বলে মসজিদ ভাংগে তখন বুঝা যায় মসজিদের রক্ষাকর্তা আল্লাহ কতটা নিষ্ক্রিয়,কতটা ক্ষমতাহীন,কতটা দূর্বল”-হুমায়ুন আজাদ

আল্লাহ নামক স্বত্বাটি তাদের ধর্মগুরু কর্তৃক সৃষ্ট,তিনি যেমন ফসল ফলাতে পারেন না,ফসল মানুষের পরিশ্রমের ফল৷ তিনি করোনা নিরাময় করতে পারেন না, মানুষই ক্রমাগত গবেষণা করে ভ্যাক্সিন বানায়, অথচ কল্পিত সেই স্বত্ত্বার নাম করে যুগ যুগ ধরে বাটপারি করে নিজেদের আখের গুছিয়েছেন ধর্ম নেতারা। লক্ষ লক্ষ বছরের বিভিন্ন জীবের মিথস্ক্রিয়া ও বিবর্তনের ফল মানুষ, বিবর্তনের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ বছরের যাত্রায় আজকের হোমো স্যাপিয়েন্স। এসব বিষয় জানতে অনুসন্ধিৎসা প্রয়োজন,প্রয়োজন পড়াশুনা, সত্য জানা ও মেনে নেয়ার সৎ সাহস। সোশ্যাল মিডিয়ায় যেসব বাংলাদেশি তরুণ ইসলাম প্রচার করে তারা বেশিরভাগই ব্যাক্তিজীবনে ইসলামিক জীবনধারার ধারে কাছেও যান না। শিক্ষিত বা অর্ধশিক্ষিত হওয়ায় গুগল করে নিজের পছন্দসই উত্তর খুজে এনে সেটা শেয়ার দিয়ে অপেক্ষাকৃত কম শিক্ষিত বা অশিক্ষিত শ্রেণির কাছে হিরো হওয়ার বাসনা থেকেই মূলত তারা ইসলাম প্রচার করেন। আর নিজের স্বল্প অভিজ্ঞতায় যতটুকু জেনেছি এরা বেশ হালকা ব্যাক্তিত্বের (lite personality) এরা জাকির নায়েক, তারিক জামিল,নোমান আলী খানদের লেকচার দেখে দেখে ইসলামিক জ্ঞান অর্জন করেন। এরা মাইকেল এইচ হার্ট এর 100 most influential persons of world history বই এর নাম শুনেছে এবং জেনেছে সেখানে ইসলামের শেষ নবীর নাম প্রথমে আছে। আর যায় কোথায়!

অথচ influential শব্দের অর্থ তারা জানে এবং সম্যকভাবে বুঝে কি না সেব্যাপারেও আমি সন্দিহান। যুদ্ধবাজ ও পৃথিবীর অন্যতম ঘৃণ্য ব্যাক্তি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ ও বেশ কয়েকবার টাইম ম্যাগাজিন এর দৃষ্টিতে most influential person of the world নির্বাচিত হন। এদের কাছে influential অর্থ best!

এরা রাসুলকে নিয়ে করা মহাত্মা গান্ধী, বার্নার্ড শ প্রমুখদের প্রশংসার বানী দিয়ে টাইম লাইন ভরে ফেলেন। একটু গভীরভাবে ভেবে দেখেন না এসব মনীষীরা যদি রাসুল আর তার জীবনাদর্শকে এতোটাই ভালোবাসতেন তাহলে নিজেরা কেনো ইসলাম গ্রহণ করে শরীয়া আইনের জন্য চেষ্টা করলেন না!

আমাদের সমাজ বাস্তবতা এখনো প্রাথমিক স্তরে, তাই পড়ুয়া,চিন্তক ও সংস্কৃতিমনা যে ছেলেটি ধর্ম নামক কুসংস্কার ছেড়ে এসেছে তাকে স্বাভাবিকভাবে নিতে পারে না। আর ধর্মান্ধ হিংস্র জংগীদের ভয় তো আছেই, একারণেই তারা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেদের পরিচয় লুকিয়ে আসেন। এসে ধর্ম নামক কুসংস্কার এর বিরুদ্ধে কথা বলেন, বিজ্ঞানের কথা বলেন, সংগীত শিল্প সাহিত্যের কথা বলেন। মানবতার কথা বলেন।ধর্ম নামক আফিম কিভাবে মানুষে মানুষে বিভেদ তৈরি করে রেখেছে সেই কথা বলেন। আর যারা বিশ্বাস করেন সাঈদীকে চাদে দেখা যায় কিংবা নীল আর্মস্ট্রং চাদে গিয়ে আজান শুনেছিলেন, কিংবা যারা ধর্মগ্রন্থে বলা গাজাখুরি গল্পগুলোর মধ্যে বিজ্ঞান খুজে বেড়ান সেই ছাগলদের মিথ্যাচারের প্রতিবাদ করেন।

অনলাইন মুমিনদের কাজই হচ্ছে তাদের অপবিজ্ঞান,কুসংস্কার আর বিকৃত তথ্যের প্রতিবাদ করলে সেই প্রতিবাদ কারকের বিরুদ্ধে রিপোর্ট করা।

শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published.