পনেরোই আগস্টঃ বাঙালি জাতীর এক কালো অধ্যায়।

১৫ আগস্ট,
বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক গভীরতম কালো অধ্যায়।

১৯৭৫ সালের
এই দিনটি শুরুর আগেই অর্থাৎ সূর্যোদয়ের পূর্বেই স্বপরিবারে হত্যা করা হয় বাঙালি জাতীর পিতা, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে।

এই
মহানায়কের হাত ধরেই মূলত বাঙালি জাতীর উত্থান ঘটে পৃথিবীর মানচিত্রে। এই মহামানবের হাত ধরেই বাঙালি তার নিজের স্বত্বার সন্ধান পেয়ছিলো। এই মহান বঙ্গ সন্তানের জন্ম না হলে বাংলা, বাঙালি, বাংলাদেশ শব্দগুলো হয়ত খুজেই পাওয়া যেতো না পৃথিবী নামক গ্রহের ইতিহাসে।

বলা হয়,
বাংলাদেশের হেন কোন জায়গা নেই যেখানে এই মহান পুরুষের পদধুলি পরেনি। বাঙালি জাতিকে ঐক্যের বন্ধনে দৃঢ় করতে, স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখাতে তিনি ছুটে গেছেন এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে। তাঁর এই ছুটে যাওয়া কোন লোক দেখানো খাল কাটা কিংবা মাটি কাটার জন্য না। এই ছুটে চলার পেছনে একটা মাত্র বিষয়ই ছিলো; বাঙালি জাতীর স্বাধিকার অর্জনের জন্য বৃহত ঐক্য গড়ে তোলা।

এই ছুটে চলা,
জীবনব্যপি শেখ মুজিবের এই ত্যাগ ব্যর্থ হয়নি। তার নেতৃত্বে বাঙালি জাতি ইতিহাসের সবচেয়ে বৃহৎ ঐক্যের মেল বন্ধনে আবদ্ধ হয়। ৬৯-এর গণ অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাঙালি শেখ মুজিবের কাধে তুলে দেয় তাদের মুক্তির গুরুদ্বায়িত্ব।

একাত্তরে,
শেখ মুজিবের ডাকে বাঙালি জাত , ধর্ম-বর্ন গোত্র নির্বিশেষে চলে আসে এক কাতারে। শুধু এক কাতারে নয়, শেখ সাহেব বলেছেন তাই জীবনটা পর্যন্ত বিলিয়ে দিতে দ্বিধা করেনি। তাদের চোখের সামনে এই স্বপ্ন দেখাতে পেরেছিলেন বাঙালি জাতীর প্রান ভোমরা এই শেখ সাব; জীবন গেলেও কিছু না, দেশ স্বাধীন হবেই, স্বাধীনতাই একমাত্র লক্ষ্য।

এই মহান পুরুষ সম্পর্কে,
হাজার বার বলা হলেও তা অপুর্ন থেকে যাবে। একটার পর একটা স্ট্যাটাস, ব্লগ লিখা যাবে, পাতার পাতা কাগজ ফুরিয়ে যেতে পারে কিন্তু বাংলার স্থপতি শেখ মুজিবের কীর্তি-কথা ফুরাবে না।

আমি,
শেখ মুজিবের কোন বন্ধনা করবো না, শুধু এটুকুই বলবো, পৃথিবীর ইতিহাসে এমন কোন মহানায়ক নেই, এমন কোন মহামানব নেই, নেই এমন কোন নেতা যে কিনা তার সহকর্মীদের, সমর্থকদের “তুমি” বলে সম্বোধন করেছে। পৃথিবী বিখ্যাত নেতারা তার লোকেদেরকে “আপনি” “আপনারা” বলেই বলেছেন। কিন্তু একমাত্র শেখ মুজিবই বলেছেন, ” মনে রাখবা… ” থাকবা…”। কতটুকু নিজের মনে করলে, বিশাল জনসমুদ্রকে নিজের সন্তানের মতই “তুমি” “তোমরা” বলে ডাকতে পারে, পিতার দ্বায়িত্ব নিতে পারে।

স্বাধীনতার পর,
শেখ মুজিব বলেছিলেন, ” বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে। এখন যদি কেউ বাংলাদেশের স্বাধীনতা হরণ করতে চায়, তাহলে স্বাধীনতা রক্ষার জন্য মুজিব সর্বপ্রথম তার প্রান দেবে।” ইতিহাস শেখ মুজিবকে তার কথা বাস্তবে পরিণত করেছে। স্বাধীনতা বিরুধী শক্তি বাংলাদেশ বিরুধী ষড়যন্ত্রের শুরুতেই তাকে সপরিবারে হত্যা করে। স্বাধীনতা রক্কার সংগ্রামে প্রথম শহীদ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব।

তাঁর মৃত্যুর পর থেকেই,
যে অসাম্প্রদায়িক দেশের স্বপ্ন নিয়ে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিলো, সে স্বপ্নের আকাশে কালো মেঘ জমতে শুরু করে। আজ আটত্রিশ বছর পরে বাংলাদেশ সম্পুর্ন সাম্প্রদায়িক একটি জাতিতে পরিনণত হতে চলেছে। লোকে এখন দেশ রক্ষার জন্য ভোট দেয়, অথচ ৬৯-এ এক কাতারে দাড়িয়েছিলো মুক্তির জন্য, একাত্তরে দাড়িয়েছিলো বাংলাদেশের জন্য তথাকথিত ধর্মের রক্ষকদের বিরুদ্ধের।

বর্তমান ধর্মিয় উন্মাদনার প্রেক্ষাপটে,
একজন শেখ মুজিবের খুব প্রয়োজন। শেখ মুজিবের শাহাদাতের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে অভিভাকত্বের যে সংকট তৈরী হয়েছে তা পূরন হবার নয়। একমাত্র শেখ মুজিবের আদর্শই পারে আমাদেরকে এই সংকট থেকে মুক্তি দিতে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৬ thoughts on “পনেরোই আগস্টঃ বাঙালি জাতীর এক কালো অধ্যায়।

  1. ছোট ছোট পয়েন্টে অসাধারণ সব
    ছোট ছোট পয়েন্টে অসাধারণ সব বিষয় তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে এটা খুব ভালো লাগল

    শেখ মুজিবের কোন বন্ধনা করবো না, শুধু এটুকুই বলবো, পৃথিবীর ইতিহাসে এমন কোন মহানায়ক নেই, এমন কোন মহামানব নেই, নেই এমন কোন নেতা যে কিনা তার সহকর্মীদের, সমর্থকদের “তুমি” বলে সম্বোধন করেছে। পৃথিবী বিখ্যাত নেতারা তার লোকেদেরকে “আপনি” “আপনারা” বলেই বলেছেন। কিন্তু একমাত্র শেখ মুজিবই বলেছেন, ” মনে রাখবা… ” থাকবা…”। কতটুকু নিজের মনে করলে, বিশাল জনসমুদ্রকে নিজের সন্তানের মতই “তুমি” “তোমরা” বলে ডাকতে পারে, পিতার দ্বায়িত্ব নিতে পারে।

  2. আপনার লিখাটি অসাধারন হয়েছে
    আপনার লিখাটি অসাধারন হয়েছে ।

    আসুন শোক শক্তিতে পরিনত করি ।স্বাধীনতা বিরুধীদের নিশ্চিহ্ন করতে ও বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে সকলে মিলে ঐক্যবদ্ধ হই।
    জাতির জনকের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলী ।
    জয় বাংলা ।
    জয় বঙ্গবন্ধু ।

  3. বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন

    বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে। এখন যদি কেউ বাংলাদেশের স্বাধীনতা হরণ করতে চায়, তাহলে স্বাধীনতা রক্ষার জন্য মুজিব সর্বপ্রথম তার প্রান দেবে।

    বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে। এখন যদি কেউ বাংলাদেশের স্বাধীনতা হরণ করতে চায়, তাহলে স্বাধীনতা রক্ষার জন্য আমি সর্বপ্রথম আমার প্রান দেবো।

    জয় বাংলা ।
    জয় বঙ্গবন্ধু ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

84 − = 78