সেই তারিক – ৬

(৬)
__________ সকালে ঘুম ভাঙ্গতেই নাবিদের মনে পড়ল আজ কাদের মোল্লার বিচারের রায় দিবে। দেরি করলো না সে। ব্রাশ মুখে নিয়ে বসে গেল টিভির সামনে। আজ তারিক সাহেব অফিসে যায় নি। নাবিদ তাকে ডেকে আনতে গেল কিন্তু তার বাবা আগেই টিভির সামনে বসে আছে। নাবিদ ও বসে পড়ল। দুজনেই বসে আছে টিভির সামনে রায়ের প্রতীক্ষায়। ফাঁসি চায় সবাই। কিছুক্ষণের মধ্যেই রায় দিবে। গতকাল থেকেই ব্লগে আন্দোলনের ঝড় উঠেছে। ফাঁসি ব্যতীত অন্য রায় মেনে নিবে না কেউ। এখন শুধু রায়ের অপেক্ষা সময়ের গতিবেগের সাথে তাল মিলিয়ে হৃৎস্পন্দন বাড়তে থাকলো। শুধু নাবিদ ও তার বাবার নয়, রায়ের প্রতীক্ষায় রয়েছে পুরো জাতি।


(৬)
__________ সকালে ঘুম ভাঙ্গতেই নাবিদের মনে পড়ল আজ কাদের মোল্লার বিচারের রায় দিবে। দেরি করলো না সে। ব্রাশ মুখে নিয়ে বসে গেল টিভির সামনে। আজ তারিক সাহেব অফিসে যায় নি। নাবিদ তাকে ডেকে আনতে গেল কিন্তু তার বাবা আগেই টিভির সামনে বসে আছে। নাবিদ ও বসে পড়ল। দুজনেই বসে আছে টিভির সামনে রায়ের প্রতীক্ষায়। ফাঁসি চায় সবাই। কিছুক্ষণের মধ্যেই রায় দিবে। গতকাল থেকেই ব্লগে আন্দোলনের ঝড় উঠেছে। ফাঁসি ব্যতীত অন্য রায় মেনে নিবে না কেউ। এখন শুধু রায়ের অপেক্ষা সময়ের গতিবেগের সাথে তাল মিলিয়ে হৃৎস্পন্দন বাড়তে থাকলো। শুধু নাবিদ ও তার বাবার নয়, রায়ের প্রতীক্ষায় রয়েছে পুরো জাতি।

তারিক সাহেব কল্পনায় চলে গেল সেই একাত্তরের কাল রাতে। তার বাবাকে হত্যা করার দৃশ্য, মায়ের ধর্ষণের দৃশ্য যেন তার চোখের সামনে ভাসছে। চোখ বন্ধ করে ফেলল তারিক সাহেব। না তাতেও কোন কাজ হয় না। তার কানে তার মায়ের আত্ম চিৎকার ও বাবার সেই শেষ জয় বাংলা শ্লোগান যেন প্রচণ্ড শব্দে বাজতে লাগলো। তারিক সাহেব আর পারছেন না! বার বার সেই নর ঘাতক পাঞ্জাবি পড়া দাড়ি ওলা সেই লোকটির ছবি ভেসে উঠছে। এই সেই কাদের মোল্লা।
গতকাল রাতেই কাদের মোল্লার বিচারের রায়ের কথা শুনেছেন তিনি। তখন থেকেই একটু পর পর সেই অতীতে ফিরে যাচ্ছেন। তাই এত আবেগ আপ্লুত তিনি। নাবিদ কে তাই হঠাৎ করেই একাত্তরের ঘটনা গুলো বলেন তিনি।

নাবিদের ডাকে বর্তমানে ফিরে এলেন তিনি। নাবিদ বলল একটু পরই রায় দিবে। রায় প্রকাশ শুরু। অনেক বড় রায়। এখন রায়ের সারসংক্ষেপ দেয়া হচ্ছে।কাদের মোল্লার ফাঁসির হয়েছে এই কথা টা শুনার জন্য অধির আগ্রহে বসে আছেন তারা। কিন্তু হায় কাদের মোল্লার ফাঁসি দেয় নি। যাবজ্জীবন দেয়া হয়েছে। এটা কেন হল? লাখো বাঙ্গালীর আকাঙ্ক্ষা পূরণ হল না। ব্লগ ফেসবুক সহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় আন্দোলনের ঝর উঠে গেছে এর মধ্যেই। আন্দোলনের ডাক দেয়া হল, সবাই রাজধানীর শাহবাগ জর হবে। কাদের মোল্লা সহ সকল রাজাকারের ফাঁসির দাবী জানাবে তারা। আন্দোলনে সারা দিল যুব সমাজ তারা দেরি করলো না নেমে পড়ল রাজপথে। প্রথমে গুটি কয়েক মানুষ, সময়ের সাথে সাথে লোক সমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই সমাবেশ এক বিরাট আকার ধারণ করতে থকলো।

নাবিদ ও দেরি করলো না। এক বন্ধুর বাসার কথা বলে বেরিয়ে পড়ল সে। বাসায় কাউকে জানায় নি সে যদি তাকে যেতে বাধা দেয়া হয়! চলে গেল পকেটে তিনশ সাতাশ টাকা। বাসা থেকে বের হয়েই কিছু বন্ধুকে ফোন দিল।তার এক বন্ধু রায়ান। সে পরীক্ষার হলে ছিল। আগেই নাবিদ কে জানানোর কথা বলে রেখেছিল। নাবিদ রায়ান কে ম্যাসেজ দিল। রায়ান বুঝে গেল এ আর কেউ নয় নাবিদেরই ম্যাসেজ। নাবিদ টয়লেটে গিয়ে মোবাইল বের করে নাবিদ কে ফোন দিল। নাবিদ জানাল বিচারের কথা ও আন্দোলনের কথা। রায়ান জানাল সে পরীক্ষা শেষ করেই আসবে। সে পরীক্ষার হলে চলে গেল কিন্তু পরীক্ষায় আর মন বসলো না তার। খাতা জমা দিয়ে বেড়িয়ে পড়ল সে। নাবিদকে ফোন দিয়ে চলে গেল শাহবাগ। সেখানে গিয়ে অবাক হল রায়ান। এত মানুষ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে! এত মানুষ রাজাকারের ফাঁসি চায়? নাবিদের স্লোগানের সাথে তাল মিলিয়ে স্লোগান দিতে থাকল রায়ান ও অনেকেই। “জয় বাংলা। জয় বাংলা। তোমার আমার ঠিকানা পদ্মা মেঘনা যমুনা। তুমি কে আমি কে বাঙালি বাঙালি” আরও কত ঝাঁঝালো স্লোগান। শুনলেই কিসের যেন এক শক্তি এসে পড়ে।

সবাই রাতেও এখানে অবস্থান করবে। নাবিদ ও তার বন্ধুবান্ধব একটা হোটেলে গেল কিছু খেতে। সেখানে গিয় হাল্কা নাস্তা করে নিলো সবাই। নাবিদের বাসার কথা মনে পড়ল। সে তার বাবার নম্বরে ফোন দিয়েছে। তার বাবা ফোন ধরেই বলল-“কিরে বাসায় কখন আসবি? আমি তোর জন্য অপেক্ষা করছি,তোকে নিয়ে শাহবাগ যাব।সেখানে তো আন্দোলন হচ্ছে জানিস না?” নাবিদ উত্তরে শুধু বলল সে বাসায় আসছে এখনই। বন্ধুদের সবাইকে বলল নাবিদ। সবাই আগের অবস্থানে চলে গেল আর নাবিদ বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হল। বাটা সিগনাল পার হয়ে রিক্সা নিলো সে। বাবা আসতে দিবে না তাই বলে সে মিথ্যা বলে এখানে এসেছে, সেই তার বাবাই কিনা নাবিদ কে বাসায় যেতে বলছে শাহবাগ যাবে বলে। রিক্সা-ওলা নাবিদ কে ডাক দিল
– মামা এখানে কি হইতাছে?
-কাদের মোল্লার নাম শুনেছ?
-ঐ যে দাড়ি ওলা রাজাকার ডা?
-হুম তাকে ফাঁসি দেয় নি, তার ফাঁসির জন্য আন্দোলন।
-ও, কি রায় হইছে?
-যাবজ্জীবন
-কেন যে এই কুত্তা গুলারে খাওইয়া টাহা নষ্ট করে বুজবার পারি না। গুলি কইরা মাইরা লাইতে পারে না। মামা আপনে কি ঐ আন্দোলন থিকা আইলেন?
-হুম

নাবিদ আর কিছু বলল না। এই রিক্সা-ওলার রাজাকারদের প্রতি ঘৃণা ও তীব্র ক্ষোভ দেখে বিস্মিত হল। এই রিক্সা-ওলার ও রাজাকারদের প্রতি এত ক্ষোভ?
বাসার কাছে এসে পড়েছে তারা। বাসার সামনে এসে রিক্সা থামাতে বলল নাবিদ। নাবিদ রিক্সা থেকে নামলো। সে পকেট থেকে টাকা বেড় করলো ভাড়া দিবে । রিক্সা ওলা নাবিদের কাছ থেকে ভাড়া নিবে না। সে বলল-“মামা ভাড়া লাগবো না। আপনারা তো দেশের জন্যই করতাছেন। আমি কি এইটুকু করতে পারমু না” রিক্সা-ওলা গাড়ি ঘুরিয়ে চলে গেল। বাসায় উঠে বাবাকে ডাকলো সে। বাবা রেডি হয়ে বসে আছে। নাবিদ তার মায়ের জোরে বাধ্য হয়ে খেতে বসলো। খাওয়া শেষ হলে বেড়িয়ে পড়ল বাপ ছেলে। নিচে নেমে রিক্সা ডাক দিল নাবিদ। রিক্সায় উঠে পড়ল দুজনেই। প্রতীক্ষা শুধু শাহবাগ পৌঁছোবার।শাহবাগ পৌঁছলো তারা। তরুণদের মাঝে মিশে গেল তারিক সাহেব। এই নতুন প্রজন্মের মাঝে তারিক সাহেব একাত্তরের সেই মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দীপনা দেখতে পাড়ল। সেই একই উদ্দীপনা একই তেজ রাজাকারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সেই একই শক্তি।

সারা রাত কেটে গেল নির্ঘুম সবাই। ঘুম নেই কারো চোখে। তারিক সাহেব ও নাবিদ ভোর ছয়টায় বাসায় ফিরলো। তখনও স্লোগান মুখর শাহবাগ। কয়েক ঘণ্টা ঘুমিয়ে নিলো তারা। আবার চলে গেল শাহবাগ,এবার সাথে নাবিদের অসুস্থও মাও আছে। নারী পুরুষ নির্বিশেষে আজ সবাই এক কাতারে । সবার মুখে রাজাকারের ফাঁসির দাবি। শিশু,তরুণ-তরুণী ,বৃদ্ধ সবাই আজ রাজাকারে ফাঁসির জন্য রাজ পথে নেমেছে। এভাবে কেটে গেল কয়েক দিন। একটি মঞ্চ তৈরি করা হল নাম দেয়া হল গণজাগরণ মঞ্চ, আর এখানে আসা সবাইকে বলা হল প্রজন্ম যোদ্ধা।এই গণজাগরণ মঞ্চের সাথে একমত হয়ে আরো অনেক জেলায় গণজাগরণ মঞ্চ তৈরি হল। একযোগে আন্দোলন করে হল

কিছুদিন পরই রাজীব নামের এক প্রজন্ম যোদ্ধাকে খুন করলো রাজাকারের দল জামাত শিবিরের লোক। তাকে নাস্তিক ব্লগার হিসেবে প্রচার করা হল। এই যে দেশের শত্রুদের বিরুদ্ধে আন্দোলন এই আন্দোলনকে নাস্তিকদের আন্দোলন বলে প্রচার করা হল, এতে করে কিছু মৌসুমি দেশপ্রেমিক আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ালো। কিন্তু অনেকেই আছে এখন এদের সাথে। দীর্ঘ সতের দিন এক নাগারে অবস্থান করলো এই প্রজন্ম যোদ্ধারা, কোন সহিংসতা ছাড়াই। আইন সংশোধন করে হল আপিল করা হল কাদের মোল্লার রায়ের বিরুদ্ধে।

রাজপথ ছাড়ল এই যোদ্ধারা।

(৭)
___________এর মধ্যেই বেশ কিছু রাজাকারের বিচারের রায় দিল। কয়েক জনের ফাঁসি হল। কয়েক জনের যাবজ্জীবন। প্রত্যেক রায় ঘোষণার আগের দিনই সকল প্রজন্ম যোদ্ধারা এখানে সমবেত হত। সবাই ফাঁসির দাবী জানাতো। নাবিদ ও তারিক সাহেব ও আসে এখানে।

অনেক দিন হয়ে গিয়েছে এখনও রায় দিচ্ছে না কাদের মোল্লার। হঠাৎ নাবিদ ,তারিক সাহেবকে ফোন করে জানালো আগামী কাল কাদের মোল্লার রায় দেয়া হবে। তারিক সাহেবের আশার আলো প্রজ্বলিত হল। এখন অপেক্ষা ফাঁসির রায় শুনার।………………(চলবে)

বিঃদ্রঃ পর্ব (৭) লিখা হবে সেই দিন, যেই দিন কাদের মোল্লার রায় দেয়া হবে। প্রতীক্ষার প্রহর কবে শেষ হবে জানি না। তবুও প্রতীক্ষায় বসে আছি।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২৬ thoughts on “সেই তারিক – ৬

    1. ‘ক’ তে কাদের মোল্লা,তুই

      ‘ক’ তে কাদের মোল্লা,তুই রাজাকার তুই রাজাকার।ফাঁসি ফাঁসি ফাঁসি চাই,রাজাকারের ফাঁসি চাই,কাদের মোল্লার ফাঁসি চাই।

  1. আমরাও প্রতিক্ষায় রইলাম। ‘ক’
    আমরাও প্রতিক্ষায় রইলাম। ‘ক’ তে কাদের মোল্লা,তুই রাজাকার তুই রাজাকার।ফাঁসি ফাঁসি ফাঁসি চাই,রাজাকারের ফাঁসি চাই,কাদের মোল্লার ফাঁসি চাই।

  2. জানিনা অপেক্ষার পালা শেষ হবে
    জানিনা অপেক্ষার পালা শেষ হবে কি না তবে আশায় বুক বেধে সেই দিন পর্যন্ত অপেক্ষায় আছি…
    কথা হবে বন্ধু সেই দিন, কথা হবে ।এবারের মত নয়, হয়তো আনন্দ চিত্তে নয়তো নীল বেদনায়।

  3. সমালোচনা কী করব?আপনি তো ধরা
    সমালোচনা কী করব?আপনি তো ধরা ছোঁয়ার বাইরে চলে যাচ্ছেন।তবে আগের গুলোর তুলনায় আজকেরটা আরো একটু ভালো হতে পারতো মনে হয়।

    1. আর বইলেন না লিখতে বসছি ম্যসেজ
      আর বইলেন না লিখতে বসছি ম্যসেজ আসলো ভাই তোমার ম্যসেজ দেখে ফেলছে তাই এই অবস্থা দেখেন না সিগনেচার কি দিয়েছি!! :ক্ষেপছি: :মাথাঠুকি: সব দোষ তার !!!

  4. আমার ‘দুটি ফোনবন্ধুর গল্পে’র
    আমার ‘দুটি ফোনবন্ধুর গল্পে’র ২য় পর্ব কি পড়ছেন।না পড়ে থাকলে দয়া করে একটু পড়ে মন্তব্য করুন।

    1. হয়তোবা হ্যা হয়তোবা না!!
      এ যে

      হয়তোবা হ্যা হয়তোবা না!!
      এ যে বাংলার ইতিহাস শেষ নেই তার…

      আর তারিক ভাই ভুল ধরেন রে ভাই .। আতিক ভাই গেলেন কইল এই মাসের মাইনেটা দিতে পারিনি তাই মাস্টার মশাই ও ফাকি দেয় !!!!

  5. কাদের মোল্লার রায় যেদিন হলো,
    কাদের মোল্লার রায় যেদিন হলো, সেদিন ওই হারামজাদা বিজয় চিহ্ন দেখিয়েছিল। কি যে খারাপ লেগেছিল! যারা ওইদিন ঘরে বসে থাকতে পারেন নি, শাহবাগকে করে তুলেছিলেন বিবেকের কাঠগড়া- সেই ব্লগার ভাইদের শ্রদ্ধা। কিছু করতে না পেরে নিজেকে সেদিন খুব অপরাধী লাগছিল, মনে হচ্ছিল আবার হেরে যাচ্ছি। আপনারা আমাদের হারতে দেননি। ধন্যবাদ আপনাদের।

    ভালোই তো লাগছে পড়তে। কিন্তু লেখার মধ্যে কোন ঘটনা নেই এটা একটা খারাপ ব্যাপার।

    1. শুধু সেই ব্লগাররা না,সেদিন
      শুধু সেই ব্লগাররা না,সেদিন সেখানে যারা উপস্থিত ছিল সবাইকে স্যালুট।এই ঐতিহাসিক দিনের সাক্ষী হতে পেরে আমি সত্যিই গর্বিত।আর আপনারা যারা সেদিন সেখানে যেতে পারেন নি তাদের সমর্থন না পেলে কিন্তু এই গনজাগরন অসম্ভব ছিল

      1. আমি যেতে পারি নি এখনও
        আমি যেতে পারি নি এখনও আফসোস!!! পরিক্ষা ছিল। পরিক্ষা শেষ তার পর বাসার কড়া পাহাড়া। রায়ের বাজার বুদ্ধীজীবিতে পর্যন্ত যেতে পারি নি…

    2. হুম ভাই ধন্যবাদ।
      আসলে ভাই শেষ

      হুম ভাই ধন্যবাদ।
      আসলে ভাই শেষ করার খুব বেশি তাড়াহুড়া ছিল। আমার মাস্টার মশাই কে বললাম ভুল ধরিয়ে দিতে মাস্টার মশাই দিল না। যাক ওস্তাদ তো দিল!!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

14 − = 6