জয়িঃ ০৫

কাটায় কাটায় নটায় শুভ্র এসেছে। নেভি ব্লু গেঞ্জি আর জিন্স, দারুন লাগছে শুভ্রকে। জয়ির জন্য এমন কারও ফিরে আসার অপেক্ষা করাটা কি খুব বেশি বেমানান? এক সময় মিঠুনের জন্য করতো। মিঠুনের কথা মনে হলে মুখটা কেমন বিকৃত হয়ে যায়।

– কি ব্যপার? আমাকে দেখে মুখ এমন বাংলা পাঁচের মত করেছো কেন?
– না, না, হটাৎ মিঠুনের কথা মনে হয়ে গেলো। সেও এমন সময় ঘরে ফিরতো, আমি পথ চেয়ে থাকতাম। তোমাকে দেখে মনে পরে গেলো। বাদ দাও।

শুভ্রকে বসিয়ে খাবার পরিবেশন করে জয়ি। আয়োজন বেশি কিছু নয়; উচ্ছে ভাজা, কৈ মাছ ভুনা, একটা দেশি মোরগ আর ডাল। মিঠুন ডাল পছন্দ করতো খুব, তিনবেলা খাবারেই তার ডাল চাই। আজ মিঠুনের কথা মনে পড়ছে কেন বারবার? কিছুদিন আগে তো মিঠুনের মুখটাই ভুলে গেছিলো। মানুষের স্মৃতি বড় বিচিত্র। স্মৃতিতে রিসেট করা কিংবা কোন কিছু ডিলেট করার পদ্ধতি নাই, থাকলে বেছে বেছে মিঠুন সম্পর্কিত সকল স্মৃতি মুছে ফেলতো জয়ি। এক সময় হয়ত স্মৃতি রিসেট করার পদ্ধতি আবিষ্কার করবে মানুষ।

ইজি চেয়ারটা বেলকনি থেকে সরিয়ে দুটা প্লাস্টিকের চেয়ার নিয়ে বসেছে জয়ি আর শুভ্র। আজকের রাতে আকাশে কোন চন্দ্রিমা নেই, ঘোর অমাবস্যা। জয়ির অবশ্য অমাবস্যাই পছন্দ। বসেই একটা সিগারেট ধরিয়েছে শুভ্র, জয়ি সিগারেট চাইতে যেনো আকাশ থেকে পরলো, আরো মজার বিষয় জয়ির প্রতিটি টান দেখছিলো চোখ বড় বড় করে; কোন মেয়ে সিগারেট খাচ্ছে; দৃশ্যটা কি খুব দেখবার মত বিষয়? পুরুষতন্ত্র এখনও অনেক কিছু নিজেদের কাছেই রেখেছে; সিগারেটটা, মদটা, দুয়েকটা রক্ষিতা রক্ষন কিংবা ভক্ষনটা এখন পর্যন্ত পুরুষদেরই মানায়। নারীদেরকে এখনও পুরুষদের পাশে সহযোদ্ধা হিসেবে মানায় না, মানায় বংশবদ দাস হিসেবেই।

রাতের শেষ ট্রেনটি বিদায়ের হুইসেল শুনিয়ে গেছে অনেক আগেই। তবু গল্প শেষ হচ্ছে না জয়িতা আর শুভ্রের। নব-পরিচিত মানব-মানবী একবার একসাথে হলে কথা ফুরাতে চায় না। গল্পের পর গল্প, কাজ অকাজের কথাবার্তা চলতেই থাকে। কে কি খেয়েছে, পরেছে, পছন্দ করে না করে এসব নিয়ে কথার পিঠে কথা চলতেই থাকে। আর রাত বাড়ার সাথে সাথে যুবক-যুবতির গল্প রোমান্টিক হতে শুরু করে। তাদের এই রোমান্স অনেকটাই শরিরকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয় বারবার। জয়ি ভেবে পায় না, গভীর রাতে একটা মেয়ের পিরিয়ডিক বিষয়গুলো জানা ছেলেদের জন্য কি খুব জরুরী? ছেলেরা পিরিয়ড থেকে গল্প শুরু করে নারী শরীরের দিকে এগুতে থাকে, একটা সময় পিরিয়ড থামানোতেই ব্যস্ত হয়ে পড়ে। জয়িও যে এমন গল্প করতে চাচ্ছে না, তা নয়। কিন্তু মেয়েদের এই এক অদ্ভুত গুন, বুক ফাটে তবু মুখ ফুটে না।

আজকের সকালটা অদ্ভুত সুন্দর লাগছে জয়ির কাছে। শুভ্র এখনও ঘুমুচ্ছে, জয়িই আগে উঠেছে, মেয়েদেরই তো আগে উঠতে হয়। নিজে ফ্রেশ হয়ে, শুভ্রকে ডেকে চা-নাস্তা তৈরীতে লেগে পড়ে জয়ি। ঘুমন্ত শুভ্রের মুখটা একদম শিশুর মত লাগছে। এক ধরনের নিষ্পাপতা জুড়ে থাকে ঘুমন্ত মানুষের মুখে। জয়িকে কেমন লাগে দেখা হয়নি কখনও। চা-নাস্তা তৈরী হতে হতে শুভ্র উঠে ফ্রেস হয়। চা শেষে জয়িই শুভ্রকে বলে,
– আবার কবে আসবে?
– দেখা যাক, হয়ত আরও একবার আসবো, এমন আতিথেয়তা পেতে বড় লোভ হয়।
– তোমার তো শরীরটাই দরকার ছিলো, পেয়েছো, আর আসবে কেন?
– মানে?
– হ্যা শুভ্র, আমি সব জানি, তুমি কখন থেকে আমার পেছনে লেগেছো, কার কার সাথে আমার ব্যপারে কি কি কথা বলেছো সবই আমি জানি।
– জয়ি !!!
– শুভ্র, বলতে পারো, ভালবাসার জন্য আর কত নাজরানা দিতে হবে?

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “জয়িঃ ০৫

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 50 = 55