সন্ত্রাস নির্ভর ছাত্র রাজনীতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লাশের মিছিল (ফটো ব্লগ) – ০২

শিক্ষাঙ্গনে কতিপয় ছাত্র সংগঠনের অব্যাহত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষিতে সাধারণ মানুষ এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটা বিতৃষ্ণা এসে গেছে ছাত্র রাজনীতির উপরে। কিছুদিন আগে বিশ্বজিতের উপরে ছাত্রলীগ নামধারীদের হামলার দৃশ্য আমরা টিভিতে দেখেছি, যা ছাত্র রাজনীতির স্বরূপ উন্মোচিত করেছে আবারও। শিক্ষাঙ্গন তথা ছাত্ররাজনীতির বর্তমান অবস্থা দেখে প্রশ্ন উঠেছে, যে ছাত্র ভাষার জন্য জীবন দিল, যে ছাত্র সমাজ দেশের স্বাধীনতার জন্য রক্তের নদীতে সাঁতার দিল, তারা আজ চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী হয়ে গেল কেন? এ প্রশ্নের জবাব জানার জন্য আমাদের গোঁড়ায় ফিরে যেতে হবে।

১৯৭১ সালে পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠীর ২৪ বছর শাসন শোষণের বিরুদ্ধে গর্জে উঠে বাংলার গন মানুষ। শুরু হয় জাতীয় মুক্তির সংগ্রাম। সেই যুদ্ধে বিজয়ী হয়েই বাংলাদেশ নামক একটা স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র পেয়েছি। যুদ্ধ শেষে বিজয়ীর বেশী মুক্তিযোদ্ধারা যখন ফিরে আসছিল তখন তাদের হাতে ছিল অস্ত্র। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তরুণ মুক্তিযোদ্ধাদের অনেকেই কাঁধে স্টেনগান ঝুলিয়ে তার শিক্ষালয়ে যেত। শিক্ষাঙ্গনে যে শিক্ষকটি তার পড়ানোর দায়িত্বে ছিলেন, তিনি হয়তো মুক্তিযুদ্ধে যাননি; যুদ্ধের সময় চাকরি করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের আগুনে ঝলসানো তরুণ ছাত্রটি তার শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা রাখতে পারেননি, সেই শিক্ষক তাকে কী শিক্ষা দেবেন? কী পরীক্ষা নেবেন? এ সম্পর্কে রাজনৈতিক নেতৃত্বও কোনো দিকনির্দেশনা দেয়নি।

স্বাধীনতার পরপরই এজন্য শিক্ষাঙ্গনগুলোতে তখন অস্ত্রের ঝনঝনানি, রাজনীতিতে বিশেষ করে ছাত্ররাজনীতিতে ব্যাপক মতবিরোধ শুরু হয়েছে। সরকারি ছাত্র সংগঠনে ভাঙনের সানাই বাজে। ছাত্রলীগের দুই পক্ষ আলাদা আলাদাভাবে সম্মেলন করে, মারামারির মধ্য দিয়ে শেষ হয় সেই সম্মেলন। ছাত্রলীগের বৃহৎ অংশের নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে দেশের প্রথম বিরোধী রাজনৈতিক দল জাসদ। সেসময় শিক্ষাঙ্গনে জাসদ ছাত্রলীগ এবং মুজিববাদী ছাত্রলীগের মধ্যে মত বিরোধের জের ধরে অসংখ্য ছাত্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে আরেকটি যুদ্ধাবস্থা তৈরি করে ফেলেছিল। ’৭৩-এ ডাকসু নির্বাচনে সরকার দলীয় ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ পরাজয় এড়াতে ব্যালট বাক্স হাইজ্যাক করেছিল। ছাত্ররাজনীতি তথা জাতীয় রাজনীতির ইতিহাসে ব্যালট বাক্স হাইজ্যাকের ঘটনা সেই প্রথম। ছাত্রদের নৈতিকতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য এর চাইতে বেশি ক্ষতিকর কাজ আর কী হতে পারে?

ছাত্ররাজনীতিকে নষ্ট করে দেওয়ার এই প্রক্রিয়া কিন্তু সেখানে থেমে যায়নি, তা অব্যাহত ছিল। ’৭৫-এ বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর যখন জিয়াউর রহমান ক্ষমতা দখল করেন তখন তিনিও একটি অনৈতিক পথে ছাত্রদের সংগঠন গড়ে তোলেন। এক বছর ক্ষমতা এবং প্রশাসনকে ব্যবহার করে ১৯৭৯ সালের ১ জানুয়ারি তিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করেন। গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই জিয়াউর রহমানের এই প্রয়াসের সঙ্গে সবসময় ছিল। এনএসআই এর ডিজি সফদার ছাত্রদলের এই প্রথম কমিটিটি তৈরি করে জেনারেল জিয়াকে দেন। দেশ ও ছাত্রদের রাজনীতিতে সেই প্রথম গোয়েন্দা সংস্থা সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে শুরু করে। পার্থক্য বুঝতে কারও অসুবিধা হওয়া উচিত নয় যে পাকিস্তানি সামরিক শক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিজয়ী ছাত্র সমাজ কীভাবে দেশীয় সামরিক গোয়েন্দাদের কাছে বন্দি হয়ে গেল।

জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর সাত্তারের হাত ঘুরে যখন বিএনপির শাসনের অবসান হল তখন জেনারেল এরশাদ এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেন। তিনিও জিয়াউর রহমানের কায়দায় “নতুন বাংলা ছাত্র সমাজ” গঠন করেন। ডাকসু তথা চলমান ছাত্র আন্দোলনের ভাঙন সৃষ্টির চেষ্টা করেন এবং এ কাজে জিয়াউর রহমানের মতো গোয়েন্দা সংস্থাকে সর্বোচ্চ ব্যবহার করেন। ডাকসুর এক নেতাকে দলে ভেড়ানোর জন্য ছাত্র উপদেষ্টা থেকে শুরু করে তাকে পূর্ণ মন্ত্রী পর্যন্ত বানিয়ে দেন। ৯ বছর সেই নেতা মন্ত্রী ছিলেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি, পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন এরশাদ। কিন্তু এরশাদ সরকারের পতনের মুহূর্ত থেকে ভয়াবহ এক নৈরাজ্য দেখা দেয় ছাত্ররাজনীতির অঙ্গনে।

স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত আমরা যদি ছাত্ররাজনীতির ধারাবাহিক বিকাশকে পর্যালোচনা করি তবে দেখব ’৯০-এর আন্দোলনের পর থেকেই ছাত্র রাজনীতির অবক্ষয়ের অধ্যায় শুরু বললেও সম্ভবত ভুল করা হবে না। খুনোখুনি একটা ‘ফ্রি ফর অল’-এ পরিণত হয় এসময়েই। আশির দশকেও এই অবস্থা ছিল। পাশাপাশি ছিল মেধা ভিত্তিক ছাত্র রাজনীতির চর্চাও। সেই জন্যই দীর্ঘ নয় বছর স্বৈর শাসক এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন নব্বই সালে গণ অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। পতন হয় এরশাদের। এরশাদ পতনের পরে আমরা ভেবেছিলাম অবস্থার উন্নতি হবে। সন্ত্রাস এবং সন্ত্রাসী মুক্ত হবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। কিন্তু আমরা অবাক বিস্ময়ে দেখলাম পতিত স্বৈরাচার এরশাদের অপশাসনকে যারা সহযোগিতা করে এসেছে তারাই আশ্রয় পেয়ে গেলো দুই প্রধান দলে। বিশেষ করে একটি ঘটনার প্রতি আমি বিশেষভাবে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করব। ’৯০ দশকের শুরুতে গোলাম ফারুক অভির ছাত্রলীগে যোগদানের ব্যাপারটি বিস্মিত করে সবাইকে। কারণ, অভি ছিল ছাত্রদলের শক্তিশালী মাসল; যারা বিভিন্ন সময় ছাত্রলীগের ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছিল। সেই অভি হঠাত্ করে ছাত্রলীগে যোগ দিল কেন? ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রশ্ন দেখা দেয়। আজ পর্যন্ত যার কোনো সদুত্তর মেলেনি। আওয়ামী লীগের কর্তৃপক্ষ মহল থেকে বলা হয়, অভির পুরো পরিবার তো আওয়ামী পরিবার। ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে এসেছে, তাতে কী হয়েছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষের এই জবাবে সন্তুষ্ট হয় না কেউই। বিশেষ করে সংগ্রামী ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা, যার পরিণতিতে ছাত্র ঐক্য ভেঙে যায়। ছাত্রলীগের ব্যানারে অভি গ্রুপ আগের মতোই সক্রিয় থাকে। এবং ১৯৯১ সালের অক্টোবরে ছাত্রলীগের ব্যানারে অভি গ্রুপ ও ছাত্রদলের মধ্যে বন্দুক যুদ্ধে মারা যায় ছাত্রদলের মীর্জা গালিব, লিটনসহ চার জন। সেই ঘটনার পরে কয়েকজন সহযোগী অভি ছাত্রলীগ নিয়ন্ত্রিত জগন্নাথ হলের গেস্ট রুম থেকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার হন।

“সন্ত্রাস নির্ভর ছাত্র রাজনীতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লাশের মিছিল – ০১” শিরোনামে পূর্ববর্তী পোস্টে আমরা সত্তর ও আশির দশকে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডগুলো তুলে ধরেছিলাম। আসুন এবার দেখা যাক নব্বই এবং এই শতাব্দীর প্রথম দশকে ক্যাম্পাসে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডগুলো –

২০ জুন, ১৯৯১ : নব্বই এর গণ অভ্যুত্থানের পরে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার পরে ক্যাম্পাসে প্রথম নিহত হন মাহবুব। ২০ জুন সিট দখলসহ নিজেদের মধ্যে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের সূত্র ধরে আওয়ামী লীগ সমর্থক ছাত্রলীগ এবং জাসদ ছাত্রলীগের কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় তা মধুর ক্যান্টিন থেকে সব হলে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। জাসদ ছাত্রলীগের কর্মীরা মুহসীন হলে এবং আওয়ামী লীগ সমর্থক ছাত্রলীগ জহুরুল হক হল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাবে অবস্থান নিয়ে বন্দুক যুদ্ধে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষ চলাকালে আইইআর ভবনের পশ্চিম গেটের সামনে জাসদ ছাত্রলীগের নেতা মুহসীন হল ছাত্রলীগের সভাপতি ও নব্বইয়ের গণ অভ্যুত্থানের বীর সৈনিক মাহবুবুর রহমান গুলিবিদ্ধ হন। রক্তাক্ত অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে গেলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মাহবুব ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের এমএ শেষ পর্ব এবং মুহসীন হলের ৩২৪ নম্বর কক্ষের আবাসিক ছাত্র ছিলেন।

মাত্র ৬/৭ মাস আগে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের শেষ সময়ে যখন ডাঃ মিলন গুলিবিদ্ধ হন তখন কয়েকজন তরুণ তাকে রিক্সায় পিজি হাসপাতালে নেয়ার সময়েই রিক্সায় মারা যান ডঃ মিলন। সেদিন ঐ রিক্সায় মাহবুব ছিলেন এবং তাঁর কোলেই মৃত্যু হয় শহীদ মিলনের। ছয় মাস পরে তাঁকেও একই ভাগ্য বরুণ করতে হয়।

২৭ অক্টোবর, ১৯৯১ : দীর্ঘ ৪ মাস ধরে ছাত্রদল ও ছাত্রলীগ কর্মীদের মধ্যে বিভিন্ন সন্ত্রাসী ঘটনার জের ধরে ছাত্রদল জিএস ডাকসুতে বৈঠক শেষে একটি মিছিল বের করে। মিছিলটি লেকচার থিয়েটারে পৌঁছলে সূর্য সেন হল থেকে আসা ছাত্রলীগের আরো একটি মিছিলের মুখোমুখি হয়। এসময় উভয়ের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়। ঘন্টাব্যপী এই বন্দুক যুদ্ধে ভাষা ইন্সটিটিউটের সামনে ছাত্রদল কর্মী মির্জা গালিব গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। গালিবের মৃতদেহ সেখানেই পরে থাকলে এগিয়ে যায় ছাত্রদল কর্মীরা, এতে ছাত্রদল কর্মী লিটন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এই দুই জনের মৃত্যুর পরে বেপরোয়া হয়ে ওঠে ছাত্রদল এবং ছাত্রলীগের ওপর ব্যাপকভাবে গুলিবর্ষণ করলে রেজিস্টারের বাসভবনের সামনে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন ছাত্রলীগ কর্মী মিজানুর রহমান ও এক টোকাই। ভয়াবহ এই সংঘর্ষে কয়েক শত রাউন্ড গুলি বিনিময় হয় উভয় পক্ষের মধ্যে। সেদিনের সংঘর্ষের ভয়াবহতা এমনই ছিল যে ক্যাম্পাসে কারফিউ জারি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হয়।

৯ জানুয়ারি, ১৯৯২ : ৯২ সালের ০৯ জানুয়ারী ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন নিয়ে সৃষ্ট অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে শামসুন্নাহার হলের সামনে প্রতিপক্ষের গুলিতে প্রাণ হারান ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও নব্বই এর গণ অভ্যুত্থানের অন্যতম সেনাপতি ছাত্রনেতা মনিরুজ্জামান বাদল ঢাবির উল্লেখ্য, ঐ সময় ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর আলোচনা সভা চলছিল টিএসসিতে। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

১৩ মার্চ, ১৯৯২ : ১৯৯২ সালের ১৩ মার্চ বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্বরে বন্দুক যুদ্ধে লিপ্ত হয় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও আওয়ামীলীগ সমর্থিত ছাত্রলীগ (ম-ই) এর অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা। এই সন্ত্রাসের প্রতিবাদে তাত্ক্ষণিকভাবে সন্ত্রাসের প্রতিবাদে টিএসসি এলাকায় একটা সন্ত্রাস বিরোধী মিছিল বের করে গণতান্ত্রিক ছাত্র ঐক্য। গণতান্ত্রিক ছাত্র ঐক্যের সন্ত্রাস এবং সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সেই মিছিলের অগ্রভাগে ছিলেন ছাত্র ইউনিয়ন বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য মঈন হোসেন রাজু। সন্ত্রাস বিরোধী শ্লোগানে শ্লোগানে যখন প্রকম্পিত টিএসসি এলাকা ঠিক সেই সময় লাইব্রেরী এলাকায় অবস্থান নেয়া ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা মিছিলে গুলি বর্ষণ করলে টিএসসি সড়ক দ্বীপে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ও শহীদুল্লাহ হলের ১২০ নম্বর কক্ষের ছাত্র মঈন হোসেন রাজু। বিনা কারণে এই গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটে। ছাত্রদল এই হত্যার দায় অস্বীকার করলেও সেদিনের ঐ গুলি বর্ষণের সাথে পরবর্তীকালীণ ছাত্রদল সভাপতি হাবিবুন্নবী সোহেলের সংশ্লিষ্টতার কথা শোনা যায়। শহীদ মঈন হোসেন রাজু ৯০’র স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে অন্যতম সৈনিক ছিলেন। ছিলেন ছাত্র ইউনিয়ন ঢাবি শাখার সদস্য।

রাজুসহ সন্ত্রাস বিরোধী আন্দোলনের সকল শহীদের স্মরণে নির্মিত সন্ত্রাস বিরোধী রাজু ভাস্কর্য ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য এ কে আজাদ চৌধুরী উদ্বোধন করেন। এই ভাস্কর্য নির্মাণে জড়িত শিল্পীরা হলেন ভাস্বর শ্যামল চৌধুরী ও তার সহযোগী গোপাল পাল।

৩০ আগস্ট, ১৯৯২ : এদিন ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের বিবদমান দুই গ্রুপের মধ্যে ভয়াবহ গোলাগুলিতে অজ্ঞাত পরিচয় এক যুবক নিহত হন। ছাত্রদলের একটি গ্রুপের পক্ষ থেকে তাকে ক্যাম্পাসে আনা হয়েছিল বলে জানা যায়। (সুত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক – ৩১ আগস্ট ও ০৫ সেপ্টেম্বর ১৯৯২।)

৪ সেপ্টেম্বর, ১৯৯২ : সূর্যসেন হল দখলকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের দুটি গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে দুজন ছাত্র নিহত হয়। গ্রুপ দুটি হচ্ছে সূর্যসেন হল ও মুহসীন হল ভিত্তিক রতন গ্রুপ এবং অন্যটি মুজিব ও জসীম উদ্দিন হল ভিত্তিক ইলিয়াস গ্রুপ। মুজিব ও জসীম উদ্দিন হল ভিত্তিক গ্রুপটি সূর্যসেন হল দখল করার সময় ভূগোল বিভাগের অনার্স ফাইনাল ইয়ারের ছাত্র জিয়া হল শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফুল আজম মামুনকে ২৬৫ নম্বর কক্ষে গুলি করে হত্যা করা হয়। হত্যা করে তার লাশ একটা পরিত্যক্ত পানির ট্যাংকে গুম করা হয়। নিহত মামুন ছিলেন জাতীয় দাবায় রানার্স আপ ও মার্শাল আর্টে ব্ল্যাক বেল্ট। মেধাবী ছাত্র মামুন ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ থেকে ডাবল স্ট্যান্ড করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। তার মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা পর মুজিব হলের দেয়াল টপকানোর সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান ইতিহাস বিভাগের ছাত্র মাহমুদ হোসেন।

ভয়াবহ এই বন্দুক যুদ্ধে চারশো রাউন্ড গুলি বিনিময় হয়। পরিস্থিতি এতোটাই মারাত্মক ছিল যে তা নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাসে বিডিআর মোতায়েন করতে হয়। কথিত আছে সূর্যসেন হলের এক সময়ের ক্যান্টিন বয় এবং পরবর্তীতে শীর্ষ সন্ত্রাসী বনে যাওয়া সুব্রত বাইন এবং পরবর্তী সময়ে মন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর এই সংঘর্ষের সময় সূর্য সেন হল গেট পাহারায় ছিলেন। কিন্তু বেইমানি করে বড় অংকের অর্থের বিনিময়ে হল গেটের চাবি প্রতিপক্ষ ইলিয়াস গ্রুপকে দিয়ে দেয়। আর এজন্যই বিনা বাঁধায় সূর্য সেন হল দখলে নিতে পারে ইলিয়াস গ্রুপ। মামুনকে নিজ হাতে পিস্তল দিয়ে গুলি করে হত্যা করে ছিলেন ইলিয়াস আলী যা সেসময়ের পত্র পত্রিকায় ফলাও করে প্রকাশিত হয়েছিল।

ঘটনার পর পরই ভিসি ডঃ মনিরুজ্জামান মিঞার সভাপতিত্বে সিন্ডিকেট সভায় ঘটনাবলী নিয়ে আলোচনা এবং যথাযথ তদন্তের দাবি করা হয়। সেই সাথে দুই দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়। ছাত্রদলের এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে সারা দেশে নিন্দার ঝড় ওঠে। সকলে ধিক্কার জানাতে থাকে ছাত্রদল সন্ত্রাসীদের। দলীয় কোন্দলের জের ধরে ছাত্রদলের দুই নেতা নিহত হওয়ার ঘটনায় বিএনপির পক্ষ থেকে ছাত্রদলের সকল কর্মকাণ্ড সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করা হয়। উল্লেখ্য, এর মাত্র ৩ মাস আগে সাবেক রাকসু ভিপি রুহুল কবীর আহমেদ রিজভীকে সভাপতি এবং ইলিয়াস আলীকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছিল। শুধু তাই নয় বিএনপি ক্ষমতায় থাকা স্বত্বেও মামুন ও মাহমুদ হত্যা মামলায় গ্রেফতার হন ইলিয়াস আলী।

১ নভেম্বর, ১৯৯৩ : ঠিকাদারের কাছ থেকে চাঁদা আদায় ও ভাগবাটোয়ারাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক ভবনে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির নাট্য সম্পাদক আলী জিন্নাহকে গুলিতে হত্যা করে প্রতিপক্ষ গ্রুপের ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা।

২২ নভেম্বর, ১৯৯৩ : টেন্ডারের ভাগবাটোয়ারাকে কেন্দ্র করে মূল ছাত্রলীগ ও প্রভাবশালী যুবলীগ নেতা মোস্তফা মহসিন মন্টু গ্রুপের মধ্যে কোন্দলের জের ধরে ২২ নভেম্বর গুলি করে হত্যা করা হয় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছাত্রলীগ নেতা অলোক কান্তিকে। তিনি ছাত্রলীগের মোস্তফা মহসীন মন্টু গ্রুপের নেতা ছিলেন। এই ঘটনার পরে যুবলীগের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয় মন্টুকে। পরবর্তীতে মন্টু ডঃ কামাল হোসেনের দল গণফোরামে যোগ দিয়ে রাজনীতি থেকে এক প্রকার হারিয়েই যান।

১ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৪ : ডাসের অভ্যন্তরে একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের পরস্পরবিরোধী দুটি গ্রুপের গোলাগুলি শুরু হয়। এ সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। একটি শেল তথ্য ও গ্রন্থাগার বিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র কামরুল ইসলাম বুলবুলের বুকে লাগলে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এ হতাকান্ডের জন্য ছাত্রলীগ (বা-কা) সভাপতি ছাত্রনেতা রুহুল কুদ্দুস বাবু প্রতিপক্ষ গ্রুপের ১৪ জনকে আসামি করে রমনা থানায় মামলা করেন।

২ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৪ : ছাত্রদলের বিবদমান দুই গ্রুপের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান ডেমোগ্রাফি বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র সরোয়ার হোসেন মিঠু। একই মাসে

২২ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৬ : ১৯৯৬ সালের ২২ সেপ্টেম্বর ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে স্যার সলিমুল্লাহ হল শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্স শেষ বর্ষের ছাত্র জাকিরকে গুলি করে হত্যা করা হয় জগন্নাথ হলের গোবিন্দচন্দ্র দেব ভবনের ৭১ নম্বর কক্ষে।

১৩ মার্চ , ১৯৯৭ : ১৩ মার্চ ছাত্রদলের প্রভাবশালী নেতা কামরুজ্জামান রতন নিয়ন্ত্রিত গ্রুপ ও বরিশাল টিটো গ্রুপের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে মুজিব হলের ৩০৫ নং কক্ষে গুলিতে মারা যান আরিফ হোসেন তাজ। তিনি ছিলেন অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্র।

১১ জুলাই, ১৯৯৭ : ১৯৯৭ সালের ১১ জুলাই কার্জন হল এলাকায় খুন হন ছাত্রলীগের কর্মী তনাই। অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। একই বছর শাহীন নামে এক ছাত্রের মৃতদেহ পাওয়া যায় কার্জন হলে।

২৩ এপ্রিল, ১৯৯৮ : ১৯৯৮ সালের ২৩ এপ্রিল সূর্য সেন হল দখলকে কেন্দ্র করে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান সাংবাদিকতা বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র ছাত্রলীগ নেতা পার্থ প্রতিম আচার্য।

২৯ মার্চ, ২০০১ : ৫৬ ভরি স্বর্ণ ছিনতাই ও টাকা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে জহুরুল হক হলের পুকুরের পাশে গুলিতে নিহত হন খায়রুল আলম লিটন। নিহত লিটন ‘কুত্তা লিটন’ নামে পরিচিত ছিলেন।

১৭ আগস্ট, ২০০১ : অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান জিয়াউর রহমান হলের ছাত্রলীগ নেতা ফিরোজ আহমেদ। ফিরোজ ছিলেন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র এবং থাকতেন জিয়া হলের ৪২০ নম্বর কক্ষে।

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০০৪ : ২০০৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে নিহত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের জহুরুল হক হল ছাত্রদলের নেতা মাহবুবুল ইসলাম খোকন। ওই হত্যাকাণ্ডের পর দুটি তদন্ত কমিটি গঠিত হলেও প্রতিবেদন জমা পড়েনি। শাহবাগ থানায় মামলা হলেও এর বিচারকার্য শেষ হয়নি।

১/৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১০ : সর্বশেষ ছাত্র হত্যার ঘটনা ঘটে ২০১০ সালের ১ ৩ ফেব্রুয়ারি এ দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এ এফ রহমান হলের আবাসিক ছাত্র ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের তখনকার তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবু বকর সিদ্দিক নিহত হন। এর আগে ১ ফেব্রুয়ারি ছাত্রলীগের তখনকার হল শাখার সভাপতি সাইদুজ্জামান ফারুক ও সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান মোল্লা গ্রুপের সংঘর্ষের সময় তিনি আহত হন। মৃত্যুর দু’ মাস পর ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃত বিভাগের শিক্ষার্থী আবু বকরের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের সমাপনী পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়। তাতে প্রথম হয়েছিলেন তিনি।

এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে একাধিক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে ঢাবি ক্যাম্পাসে যার প্রকৃত তথ্য পাওয়া যায় না। সব মিলিয়ে দেখা যায় স্বাধীনতার পর থেকে দুই ছাত্র সংগঠনের মধ্যে বন্দুক যুদ্ধ, অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের এবং প্রতিপক্ষের হাতে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে প্রায় ৬০টি। দেশের সর্ব শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠে প্রাণ প্রদীপ নিভে যায় ষাট জনের। প্রথম পর্ব থেকে লক্ষ্য করে দেখুন দশক হিসেবে, দেখা যাচ্ছে আশি ও নব্বই এর দশকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে সবচেয়ে বেশী। পক্ষান্তরে গত দশকে মৃত্যু হয় চারজনের। গত দশকে ছাত্র সংঘর্ষের জের ধরে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের ঘটনাও খুব বেশী ঘটেনি। আগের মতো মারাত্মক সংঘর্ষের ঘটনা খুব কম ঘটেছে। এই দিক বিবেচনা করেই লেখার শুরুতে বলেছিলাম বর্তমানে দেশের শিক্ষাঙ্গনগুলোতে পূর্বের যে কোন সময়ের তুলনায় ভালো পরিবেশ বিরাজ করছে। আবারও বলছি এটা আমার একান্ত নিজস্ব ভাবনা।

(বিঃ দ্রঃ : গত পর্বে দুইটি হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারিনি বলে মূল লেখায় যোগ করিনি। কিন্তু পরে জানতে পারি ডাকসু সংগ্রহশালা থেকে। ডাকসু সংগ্রহশালার তথ্য অনুযায়ী ১৯৭৭ সালে ক্যাম্পাসে আওরঙ্গ ও লুকু নামে দুটি গ্রুপ ছিল। ওই বছর লুকু গ্রুপের ইনু ও গোগা নামে দুই অনুসারীকে আওরঙ্গ গ্রুপের সমর্থকরা হত্যা করে। সে বছরেই আওরঙ্গের ভাই রুন্টু নিহত হয়। ১৯৮৭ সালের ৮ মার্চ দুপুরে মুহসিন হলের ৪২৬ নং কক্ষে বোমা বিস্ফোরণে ছাত্রদলের বাবলুসহ মইনউদ্দিন, নূর মোহাম্মদ মারা যায়।)

আগের পোস্ট – “সন্ত্রাস নির্ভর ছাত্র রাজনীতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লাশের মিছিল – ০১” এর লিংক
http://www.istishon.com/node/3966

তথ্য সূত্র : বিভিন্ন পত্র পত্রিকা, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্র নেতৃবৃন্দ, নিহত ছাত্রদল নেতা মামুনের পরিবার ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের কাছে পাওয়া তথ্য এবং নিজের স্মৃতির পাতা থেকে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৩৪ thoughts on “সন্ত্রাস নির্ভর ছাত্র রাজনীতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লাশের মিছিল (ফটো ব্লগ) – ০২

  1. আপনি একটা চমৎকার কাজে হাত
    আপনি একটা চমৎকার কাজে হাত দিয়েছেন। একটা দেশের রাজনীতিতে সুস্থ ছাত্ররাজনীতি চর্চার বিকল্প নেই। কিন্তু ছাত্ররাজনীতি যখন সন্ত্রাসবাদে আর দলীয় লেজুড়বৃত্তিতে নিমগ্ন হয় তখন কলুষিত হয় পুরো রাজনীতিই। কারন আজকের ছাত্রনেতা আগামীর দেশ পরিচালক। তাই ছাত্ররাজনীতির নষ্ট নিগড় থেকে মুক্তি পেতে হলে এর পেছনের ইতিহাস জানাটা জরুরী।
    আপনার পরের লেখার অপেক্ষায় রইলাম।

    1. ধন্যবাদ ডঃ আতীক ভাই। আমার এই
      ধন্যবাদ ডঃ আতীক ভাই। আমার এই লেখাগুলোর তথ্য যার কাছে সবচেয়ে বেশী পেয়েছি তার নামও আতীক। আমার বড় ভাই। তিরাশি থেকে একানব্বই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিল। অসাধারণ তার স্মরণ শক্তি।

  2. আমাদের ছাত্র রাজনীতির আজকের
    আমাদের ছাত্র রাজনীতির আজকের এই দুর্দিনের বীজটা জিয়ার আমলেই বপন করা হয়েছে। ডিজিএফআই যদি ছাত্র সংগঠনের কমিটি করে দেয় তাহলে আর কি বলার থাকতে পারে। ভালো লিখতেছেন। অনেক পরিশ্রম করতেছেন বুঝতে পারতেছি। তবে আপনার পরিশ্রম আমাদেরকে অনেক কিছু জানতে সাহায্য করতেছে। এজন্য ধন্যবাদ। একটা বিষয়ে জানার আগ্রহ ছিল। আপনি বলছেন –

    ডাকসুর এক নেতাকে দলে ভেড়ানোর জন্য ছাত্র উপদেষ্টা থেকে শুরু করে তাকে পূর্ণ মন্ত্রী পর্যন্ত বানিয়ে দেন। ৯ বছর সেই নেতা মন্ত্রী ছিলেন।

    কে এই মন্ত্রী?

  3. এ পর্বেও অনেক কিছু জানার
    এ পর্বেও অনেক কিছু জানার সুযোগ হলো। আপনার সংগ্রহের তারিফ না করে পারছি না। অক্লান্ত পরিশ্রম করে আমাদের অজানা তথ্যসমূহ জানার সুযোগ করার জন্য আপনাকে আবারও অসংখ্য ধন্যবাদ।

    তবে নয় বছরের মন্ত্রির নামটা জানালে ভাল হতো। অন্ততঃ আমরা জানতে পারতাম, কে এই মহান ব্যক্তিটি….

    1. সেই ডাকসু নেতা মন্ত্রী
      সেই ডাকসু নেতা মন্ত্রী হচ্ছেন, বর্তমান জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন বাবলু। ধন্যবাদ ভাই।

  4. আপনার পরিশ্রমের তারিফ না করে
    আপনার পরিশ্রমের তারিফ না করে পারছিনা।এই তথ্যবহুল পোস্টে ছাত্ররাজনীতি কীভাবে কলুষিত হয়েছে তার একটা ধারণা পাওয়া যায়।আমার মনে হয় ছাত্ররাজনীতিকে কলুষিত করেছে কিছু ছাত্রের নিজ স্বার্থ নিয়ে কাজ করার মানসিকতা এবং ছাত্র সংঘগুলো রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করার ফলে।যদি ছাত্রসংঘগুলো নিজেরা সম্মিলিত থাকতো এবং রাজনৈতিক দলগুলো ছাউনীর বাইরে দেশের স্বার্থে কাজ করত তবে হয়তো আমাদের দেশটা অন্যরকম হত।এটা আমার একান্তই ব্যাক্তিগত ধারণা।ভুলও হতে পারে।

    1. ভুল হওয়ার কোন কারণ নাই। এটাই
      ভুল হওয়ার কোন কারণ নাই। এটাই চূড়ান্ত সত্য। ছাত্র সংগঠনগুলো যদি দলীয় লেজুরবৃত্তি না করতো তাহলে এই দুর্দিন আসতো না। আর লেজুরবৃত্তি করলেও তা যে এমন নোংরাভাবে করতে হবে তাও তো না। কিন্তু কে শোনে কার কথা!! ধন্যবাদ।

  5. আপনি ভাল ও সময়োপযোগী কাজে হাত
    আপনি ভাল ও সময়োপযোগী কাজে হাত দিয়েছেন ।আপনার পোস্টগুলির প্রশংসা না করে পারা যায় না।চালিয়ে যান যতক্ষন পর্যন্ত স্বাধীনতা বিরুধীরা এ দেশ থেকে নিশ্চিহ্ন না হচ্ছে।
    সাথেই ছিলাম, সাথেই আছি ।জয় বাংলা

    1. আসলে এই পোস্টগুলার তথ্য
      আসলে এই পোস্টগুলার তথ্য সংগ্রহে সবচেয়ে বেশী সাপোর্টটা দিয়েছে আমার বড় ভাই। অসাধারণ তার স্মৃতি শক্তি। আশির দশকে ঢাবির ছাত্র ছিল। জয় বাংলা।

  6. আপনার এই অসাধারণ কাজের উদ্যোগ
    আপনার এই অসাধারণ কাজের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
    যদি সম্ভব হতো তবে এই লেখার একটি বই আকারে বেড় করে সবার মধ্যে বিতরণ করতাম।
    যারা এখন লীগ বলতেই সন্ত্রাসী বুঝে তাদের জানা উচিত এই ইতিহাস।
    মানুষ ভুলে বসে আছে কি কি নৈরাজ্য হয়েছিলো। সেগুলো মনে করিয়ে দিলে দেশেরই উপকার হতো।

    1. এক বিশ্বজিতের ভিডিও ফুটেজের
      এক বিশ্বজিতের ভিডিও ফুটেজের কারণে আজ ছাত্রলীগ নিয়ে এতো কথা এতো সমালোচনা। কিন্তু যখন টেকনোলজির এতো সুযোগ সুবিধা ছিল না তখন ছাত্রদল ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে অনেক অনেক বড় ধরণের ঘটনার জন্ম দিয়েছে। ছাত্র রাজনীতিতে সন্ত্রাসী আমদানী তাদের মাধ্যমেই ঘটেছে এটা চূড়ান্ত সত্য। ধন্যবাদ অবাস্তব স্বপ্নচারী।

  7. অনবদ্য… অসাধারণ
    অনবদ্য… :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: অসাধারণ কাজ করেছেন!! :bow: :bow: :bow:
    এইভাবেই মিথ্যার মুখোশ উন্মোচন করতে হবে তবেই সত্যের জয় হবে!!

    1. বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতির
      বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতির বর্তমান দুর্দশার জন্য যদি কাউকে এককভাবে দায়ী করতে হয় তো সেই জন হচ্ছে জিয়া।

      1. অসাধারণ কমপ্লিমেন্ট
        অসাধারণ কমপ্লিমেন্ট :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:
        :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow:

  8. এভাবে মুখোশধারীদের মুখোশ
    এভাবে মুখোশধারীদের মুখোশ উন্মাচন করা অব্যাহতভাবে চলতে থাকলে মানুষ সকল ঘটনা সম্পর্কে সঠিক ধারণা পেতে পারবে। পুনরায় ধন্যবাদ আপনাকে….

  9. আমার জানা মতে বাংলাদেশ ছাত্র
    আমার জানা মতে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সংগ্রামী ছাত্রনেতা শহীদ মইন হোসেন রাজু ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রিও কমিটির সমাজকল্যাণ সম্পাদক ছিলেন । তিনি জীবনানন্দ দাশের কবিতার দারুণ অনুরাগী ছিলেন এবং ঘটনার দিন তাঁর কাঁধে ঝুলানো ব্যাগে জীবনানন্দ দাশের কবিতার বই ছিল । অবশ্য বাম সংগঠনগুলোর ছাত্র নেতাদের বিদ্যা চর্চার অভ্যাস ঘটা করে বলার মতো কিছু নয় । দুঃখিত, কিছুটা আবেগ আপ্লুত হয়ে অপ্রাসঙ্গিক কয়েকটা কথা বলে ফেললাম ।

    আপনার এই প্রশংসনীয় কাজের জন্য পুনরায় আপনাকে অভিনন্দন জানাই । এরকম উদ্যোগ সত্যিকার অর্থে দেশের ছাত্র সংগঠন গুলোর চরিত্র বুঝতে দারুণ সাহায্য করবে । প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকুক ।

    1. শহীদ রাজু ভাই ছাত্র ইউনিয়ন
      শহীদ রাজু ভাই ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির সমাজকল্যাণ সম্পাদক ছিলেন কি না এই ব্যাপারে আমি শিওর না। আমি যেখান থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছি সেখানে সদস্যই বলা হয়েছে। আমি আবারও দেখলাম। তবে হতেই পারে তিনি কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন। আর ভাই আবেগ তো থাকবেই। আবেগ আছে বলেই আমরা এখনও পুরোপুরি অমানুষ হয়ে যাইনি। ধন্যবাদ আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য।

    1. ধন্যবাদ তানবীর। তোমার সাথে
      ধন্যবাদ তানবীর। তোমার সাথে কিন্তু আমার প্রতিদিনই দেখা হয়!! আজকেও হইছে। আগামীকালও হবে সব ঠিক থাকলে। হা হা হা ………

  10. অনেক তথ্যবহুল লেখা, আপনার
    অনেক তথ্যবহুল লেখা, আপনার পরিশ্রম সার্থক হোক। ছাত্র রাজনীতির অতীত আমাদের মতো অনেকের কাছেই এখনও অজানা রয়ে গেছে। জানার সুযোগ করে দেয়ার জন্য ধন্যবাদ উত্তর বাংলা ভাই। আপনার প্রত্যেকটা পোস্ট এক একটা ডাটা ব্যাংক। :salute: :salute: :salute:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

4 + 5 =