দুইটি মনের মিলন- কি হবে সমাজের প্রতিক্রিয়া

গতকাল ঈদ ছিল। গতকাল ঘুরতে বের হওয়া হয়নি। আজ শ্রাবণ ও তার সব বন্ধুরা মিলে ঘুরতে বের হয়েছে। ঢাকা শহরে ঘুরার মত আর জায়গা কোথায়! ধানমন্ডি এলাকার বাসিন্দা ওরা। সবার ঘুরবার যায়গা এক ধানমন্ডি লেক আর বসুন্ধরা সিটি। শ্রাবণদের মত টিন এজের ছেলে-মেয়েরা তো আর শিশু পার্কে যায় না, অথবা যাদুঘরে যায় না। এদের মূল কাজ শুধু আড্ডা দেয়া।

গতকাল ঈদ ছিল। গতকাল ঘুরতে বের হওয়া হয়নি। আজ শ্রাবণ ও তার সব বন্ধুরা মিলে ঘুরতে বের হয়েছে। ঢাকা শহরে ঘুরার মত আর জায়গা কোথায়! ধানমন্ডি এলাকার বাসিন্দা ওরা। সবার ঘুরবার যায়গা এক ধানমন্ডি লেক আর বসুন্ধরা সিটি। শ্রাবণদের মত টিন এজের ছেলে-মেয়েরা তো আর শিশু পার্কে যায় না, অথবা যাদুঘরে যায় না। এদের মূল কাজ শুধু আড্ডা দেয়া।
শ্রাবণ তাদের বন্ধুদের সাথে আলোচনার প্রেক্ষিতে ঠিক করলো তারা ধানমন্ডি লেকেই আড্ডা দিবে। শ্রাবণ হিন্দু ছেলে। তবুও ঈদে ঘুরতে যাচ্ছে। আর কিছু মানুক আর নাই মানুক সে আমাদের প্রধান মন্ত্রীর একটা কথা শ্রদ্ধা ভরে স্বীকার করেছে। সেটা হল “ধর্ম যার যার উৎসব সবার”। যাই হোক আগের কথা মত সবাই যথা সময়ে চলে এসেছে। আড্ডা দিচ্ছে। বন্ধুদের মাঝে চলছে নানা আলাপ। এক জন আরেক জন কে খেপাচ্ছে। খুবই মজা করছিল সবাই। শ্রাবণদের সামনেই এক দল মেয়েও আড্ডা দিচ্ছিল। যা হবার তাই। সবাই সেটা নিয়েও মজা করছিল। কিন্তু শ্রাবণের চিন্তা অন্য দিকে।ততোক্ষণে সে এই দুষ্টামির বাইরের এক জগতে প্রবেশ করে গিয়েছে। ঐ মেয়েদের মধ্যে একটি মেয়ের দিকে শ্রাবণের দৃষ্টি স্থির হয়ে আছে। মেয়েটিকে দেখেই শ্রাবণের অনেক ভাল লাগে। মেয়েটিকে অসহায় মনে হচ্ছিল। এই দলের সাথে মানিয়ে উঠতে পারছে না সে। অনেকটা একাকীই পরে আছে। কিছুই বলছিল না সে। কিছুক্ষণ পর পর শুধু হাসছে,কিন্তু পরক্ষণেই তা বিলীন হয়ে যাচ্ছে। শ্রাবণের কেমন যেন মায়া হল। কিন্তু কিছু বলল না সে। আবার শ্রাবণ ওর বন্ধুদের সাথেই দুষ্টামিতে মেতে উঠলো,তবে বারবার দৃষ্টি সেই মেয়ের দিকে চলে যাচ্ছে নিজের অজান্তেই। এটাও তার বন্ধুদের কাছে লুকনো রইলো না। সবাই লক্ষ্য করলো বিষয় টি। এটা নিয়েও চলছে দুষ্টামি। ঐ মেয়েদের গ্রুপের একটা মেয়েকে আবার ভাল লাগে শ্রাবণের বন্ধু রাহতের। রাহাত ভালই বদ ছিল। ভয় পেত না কিছুতেই। সোজা গিয়ে মেয়েকে তার নাম জিজ্ঞাসা করলো। মেয়েটাও যে ওকে লক্ষ্য করছিল,ওর দিকে তাকাচ্ছিল সেটা রাহাত খেয়াল করেছিল তাই আগ বাড়িয়ে নাম জিজ্ঞাসা করতে গিয়েছে। মেয়েটা জানাল ওর নাম শামীমা। শামীমাও রাহাত কে হয়তো পছন্দ করে ফেলেছিল। এদের দুজনের উছিলায় সবার সাথেই পরিচয় হল শ্রাবণদের গ্রুপের সবার। শ্রাবণ এর মাধ্যমে জানতে পড়লো যে যে মেয়েটির দিকে এতক্ষণ তাকিয়ে ছিল ওর না সুপ্তি পাল। অর্থাৎ হিন্দু আরও জানতে পারলো যে সুপ্তি মোহাম্মদপুরেই থাকে। শ্রাবণের বাসা ও মোহাম্মদপুরে তাই তার জানার ইচ্ছে হচ্ছিল মোহাম্মদপুরের কোথায় সুপ্তির বাসা। কিন্তু শ্রাবণের সাহস হল না। তাই আর জিজ্ঞাসা করা হুল না।এদিকে রাহাত সানজিদার মোবাইল নম্বর নিয়ে নিলো। ঐ দিনের মত যে যার বাসায় চলে গেল।

অনেক দিন কেটে গেল। রাহাত ও সানজিদার প্রেম ভালই জমেছে। রাহাত শ্রাবণ একই এলাকায় ছোট থেকে বড় হয়েছে। সেই হিসেবে বন্ধু। রাহাত ও শ্রাবণদের গ্রুপের মধ্যে শ্রাবণই পড়া লিখার দিক দিয়ে ছোট। রাহাত এবার ইন্টার সেকেন্ড ইয়ার ও শ্রাবণ ১০ম শ্রেণীতে। ওপর দিকে ঐ দিনের মেয়েদের ঐ গ্রুপের সবাই হল কলেজের বান্ধবী। ইন্টার প্রথম বর্ষের ছাত্রী তারা। রাহাত কোথাও গেলে শ্রাবণকে নিয়ে যায়, কিছু দিন আগেই সানজিদার সাথে দেখা করতে গিয়েছিল রাহাত। সাথে শ্রাবণকে নিয়ে যায়। ওদিকে সানজিদা নিয়ে আসে সুপ্তিকে। অবশ্য এটা রাহাত ও সানজিদার প্ল্যানই ছিল। শ্রাবণ ও সুপ্তি একে অপর কে পছন্দ করত কিন্তু কেউ কাউকে বলার সাহস পাচ্ছিল না। কথা বলার ও সাহস পাচ্ছিল না কেউ। তাই রাহাত ও সানজিদার এই বুদ্ধি। সানজিদা ও রাহাত কথা বলছে ওদিকে পাশে বসা সুপ্তি আর শ্রাবণ নিশ্চুপ। ঐ দিনের মত নিশ্চুপতা ভাঙ্গলো না কারো।

শ্রাবণের মোবাইলে একটা ফোন। ওপর পাশ নিশ্চুপ।কোন কথা বলছে না অপর পাশ থেকে। শ্রাবণ ভাবল ভুলে হয়তো কেউ ফোন করেছে কেটে দিল সে।আবার ফোন আসলো সেই একই নাম্বার থেকে। শ্রাবণ এবার একটু রাগান্বিত হয়েই বলল -কে আপনি বলেন তো এভাবে ফোন দিয়ে চুপ করে আছেন কেন? হ্যালো ,হ্যালো,হ্যালো…। হঠাৎ অপর পাশ থেকে শুধু বলল হ্যালো। শ্রাবণ চিনতে পড়লো সেই মধুর কন্ঠস্বর। এতো আর কেউ নয় তারই স্বপ্নের সেই অপরূপ মেয়েটি,সুপ্তি। শ্রাবণ বলে ফেলল “সুপ্তি তাই না?”। মেয়েটি ফোন কেটে দিল। এই প্রথম কোন অন্য মেয়ের সাথে কথা বলল শ্রাবণ। ম্যাসেজ দিল মেয়েটিকে। ম্যাসেজের রিপ্লাই দিল মেয়েটি। শুরু হল তাদের কথা। তিন চার দিন ধরে কথা হচ্ছে মেয়েটির সাথে। একে অন্যের সাথে অনেক কিছুই শেয়ার করে তারা। অল্প কয়েক দিনেই অনেক কাছে এসে পড়লো তারা।তাদের ভাললাগা টা এখন ভালবাসায় পরিনত হল । কিন্তু কেউ কাউকে বললো না। আর বলার সাহস জোগালেও পিছিয়ে পড়ছে উভয়েই। তাদের পরিবারের কথা চিন্তা করে। উভয়ের কাছেই তাদের পরিবার অধিক গুরুত্ববহন করে। যা আজকাল-কার ছেলে-মেয়েদের মধ্যে বড়ই অভাব। উভয়ই বুঝতে পারলো যে তারা একে অপর কে ভালবাসে। কিন্তু উভয়ের মাঝেই এক দ্বিধা। সেটা হল এই সমাজ,এই পরিবার কি তাদের মেনে নিবে? শ্রাবণ,সুপ্তির থেকে ছোট। এটা কি মেনে নিবে এই সমাজ ব্যবস্থা! এই নানা প্রশ্নের মুখে তাদের সম্পর্কটা হয়ে উঠছিল না। কিন্তু একে অপরকে বলেই ফেলল সকল চিন্তা বাদ দিয়ে। দিনটি ছিল ১৯ শে আগস্ট ২০১১। না বলে থাকতে পারছিল না। এখন দুজনের মধ্যে প্রতিদিনই কথা হয়। কিন্তু তাদের এক ভয় এখনও কাটে নি, এই সমাজ কি তাদের মেনে নেবে?

আজকাল কার মত তারা পার্ট টাইম ভালবাসা করতে চায় না। তারা চায় একজনকেই ভালবাসবে এবং সেটাই হবে তাদের ভবিষ্যৎ। তাই এত চিন্তা দুজনেরই। আজ এক বছর পূর্ণ হল। কেউ কারো পরিবারকে জানাতে পারে নি। উভয়েরই একে অপরকে হারাবার ভয়। তারা পরিবার ছাড়তেও রাজী নন কেউই। দুই পরিবার মেনে নিলেই কেবল তারা বিয়ে করবে অন্যথায় নয়। যখনই এই সমাজ ব্যবস্থার চলমান রীতির কথা মনে পড়ে তখনই দুজনের আনন্দেই ভাটি পরে।

এখন প্রশ্ন হল এই দুইটি মনের মিলন কি মেনে নেবে সমাজ, তাদের পরিবার? তারা কি এক হতে পারবে? তাদের এই সম্পর্কের কি হবে ভবিষতে?

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১০ thoughts on “দুইটি মনের মিলন- কি হবে সমাজের প্রতিক্রিয়া

  1. শিরোনামের পতিক্রীয়া বানানটি
    শিরোনামের পতিক্রীয়া বানানটি সংশোধন করে নিন ।যা হওয়া উচিৎ প্রতিক্রিয়া ।

  2. ফিনিশিংটা আরও ভালো হতে পারত।
    ফিনিশিংটা আরও ভালো হতে পারত। ফিনিশিং প্রবন্ধের মতো হয়ে গেলো। এছাড়া বাকিটা ভালোই হয়েছে।

  3. এখন বয়সে বড় মেয়ের সাথে প্রায়ই
    এখন বয়সে বড় মেয়ের সাথে প্রায়ই সম্পর্ক হতে দেখা যায়। একটু বাধা তো আসবেই। আর সময়ের সাথে সাথে সমাজ এই বিষয়ের সাথে আরো বেশি পরিচিত হয়ে যাবে। তখন ব্যাপারটা সহজ হতে পারে। খুব সহজ না হলেও খানিকটা তো হবেই।

  4. এ পর্যন্ত নিজের অভিজ্ঞতার
    এ পর্যন্ত নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে যা দেখেছি, প্রেম কখনো মধ্যাঙ্গুলি এবং মধ্যাঙ্গুলির মাঝে হয় না ।মধ্যাঙ্গলির সম্পর্ক কনিস্টার সাথে কিংবা শাহাদাত আঙ্গুলের সাথেই ঘটে ।অর্থ্যাৎ সমানে সমানে প্রেম হয় না ।যদি হয়েও থাকে তবে দুজনের মিলনে কোন বাধা আসেনা ।
    আপনার গল্পের নায়ক নায়িকার পারিবারিক বা সামাজিক ব্যবধান জানা থাকলে কিছুটা অনুমান করেই বলা যেত তারা এক হতে পারবে কি না।তবে আমি বিশ্বাস করি, প্রেমে পবিত্রতা ও দুজনের ইচ্ছে থাকলে এক হওয়া অসম্ভব নয় ।
    Anyway, নায়ক যদি আপনি হোন তবে নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন!

  5. মেয়েটাও যে ওকে লক্ষ্য

    মেয়েটাও যে ওকে লক্ষ্য করছিল,ওর দিকে তাকাচ্ছিল সেটা রাহাত খেয়াল করেছিল তাই আগ বাড়িয়ে নাম জিজ্ঞাসা করতে গিয়েছে। মেয়েটা জানাল ওর নাম শামীমা। শামীমাও রাহাত কে হয়তো পছন্দ করে ফেলেছিল।

    রাহাত কাকে পছন্দ করে সানজিদা না শামিমা কে?

    লেখার ব্যাপারে—

    যেহেতু এটা ব্যাক্তিগত জীবন নিয়ে লেখা সেজন্য আমি সেভাবেই বলছি। প্রেম, ভালোবাসা একটি গভীর অনুভুতির ব্যাপার। একজনকে ভালো লাগলেই যে তার সাথে ভালোবাসা হয়ে যাবে এমন কোন কথা নাই। ভালো লাগতে পারে, কিন্তু ভালো লাগা আর ভালবাসার মধ্যে পার্থক্য অনেক।
    শ্রাবণ আর সুপ্তি যদি একজন আর একজনকে সত্যিকার অর্থে ভালবেসে থাকে তাহলে সেখানে বয়স, ধর্ম বা সমাজ কোন দিনই আসবে না। আর যদি আসে, তাহলে বুঝতে হবে কোথাও কোন সমস্যা ছিল।

    “দুইটি মনের মিলন কি মেনে নেবে সমাজ, তাদের পরিবার? তারা কি এক হতে পারবে? তাদের এই সম্পর্কের কি হবে ভবিষতে?”

    এই তিনটি প্রশ্নের জবাব একটি প্রশ্নের উত্তরের মাধ্যমে পাওয়া যাবে— “শ্রাবণ আর সুপ্তি কি একজন আরেকজনকে সত্যিকার অর্থে ভালোবাসে?”
    আর এই প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে সময় দিতে হবে, অনেক কঠিন পরীক্ষাও দিতে হবে।

    1. আপনি আসলেই একটা ভাল মানুষ ।
      আপনি আসলেই একটা ভাল মানুষ । আমাকে কথা দিয়েছিলেন এবং কথা মত পড়ে নিয়েছেন । । ।

      দেখি কি হয় ভালবাসা টা সত্যি কি না

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

91 − = 85