চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাসে মাওলানা মওদুদীর বই !!!

বিএনপি-জামায়াতীতে আমলে দেশ কি পরিমান চরমপন্থী ইসলামবাদীদের কবলে পড়ে হাবুডুবু খাচ্ছিল তা কি আমরা ভুলে গেছি? দেশটা প্রায়ই আফগানিস্তানের রূপ ধারন করে ফেলেছিল। সিরিজ বোমা হামলা, বাংলা ভাই, হুজি ইত্যাদি বিএনপি’র (অন্তরালে ঘুড্ডির নাটাই ছিল জামায়াতের হাতে) লালন-পালনে পুষ্ট হয়ে সিন্দাবাদের ঘোড়ার মত সওয়ার হয়েছিল ধর্মনিরপেক্ষ এই জাতির উপর। ক্রমশই আমরা পাকিস্তান-আফগানিস্তানের মত অকার্যকর রাষ্ট্র হতে চলেছিলাম। উদ্ভট ঘোড়ার পিঠে সওয়ার হয়ে অতলে তলিয়ে যাচ্ছিলাম। বিএনপি’র শেষ শাসনামলে এদেশে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি আতুড় ঘর থেকে চোখ ফুটে কদর্য জিহ্‌বার লকলকানী এই অসাম্পদায়িক জাতিটাকে অকার্যকর জাতি হিসাবে বিশ্বের দরবারে উজ্জ্বীবন ঘটিয়েছিল প্রায়ই। রানী ও রাজকুমারের কোলে বসে কুটুস কুটুস বাদাম চিবিয়ে ধর্মের ঠাকুমার ঝুলির মন ভোলানো গল্প শুনিয়ে প্রায়ই সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, পাঠাগারে ধর্মের বিষাক্ত বিষ উদগীরনকারী লেখক মাওলানা মওদুদীর বিষ্টাসর্বস্ব বানীগুলো আবশ্যকীয় পাঠ্য করে ফেলেছিলেন। সেই কাজের অংশ হিসাবে ২০০৩ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে সুকৌশলে পাকিস্তানি প্রতিক্রিয়াশীল লেখক ও বিশ্ব জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা সাইয়েদ আবুল আলা আল মওদুদীর বিভিন্ন প্রকাশনাকে সিলেবাসে অর্ন্তভুক্তির মাধ্যমে আবশ্যক পাঠ্য হিসাবে অর্ন্তভুক্ত করা শুরু করেন।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সাথে সাথে এদেশের অনেক সরকারী সিদ্ধান্ত রাতারাতি পরিবর্তন হওয়া শুরু হয়। সেটা যতই ভাল হোক কিংবা মন্দ হোক। দুই বছর সেনা শাসিত তক্তা সরকারের অনেক তেলেসমাতির পর গনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক পরিবর্তনের মাধ্যমে মন্দের ভাল হিসাবে মুক্তিযুদ্ধে নেতুত্বদানকারী আওয়ামী সরকার ক্ষমতায় আসে জনগণের নুন্যতম ও যৎসামান্য কিছু দাবী, চাওয়া-পাওয়া, আশা-আকাঙ্খা পুরণ করার ওয়াদা দিয়ে। আওয়ামীলীগের নির্বাচান ইসতেহারে ঘোষিত জনগণ তথা এদেশের ভোট ব্যাংকের প্রধান শক্তি তরুন সমাজের প্রধান চাওয়ার একটি ছিল যুদ্ধ অপরাধীদের বিচার ও এদেশের রাজনীতি থেকে এদের নির্মুল করা। সেই প্রত্যাশা কতটুকু পুরুন হয়েছে আওয়ামীলীগের শাসনামালের শেষ প্রান্তে এসে এটা মুল্যায়ন করার সময় হয়ত এখনো আছে। কিংবা মুল্যায়ন করা হবে অন্য কোন লেখায়। কিন্তু, যে মওদুদীবাদের তকমা ধারণ করে প্রতিক্রিয়াশীল রাজনীতির উত্থান হয়েছিল এই উপমহাদেশে, সেই মওদুদীবাদের প্রচারে জাতির মেরুদন্ডে, রক্তের শিরায়-উপশিরায় প্রবেশ করানোর জন্য বিএনপি’র ঘাড়ে সওয়ার হয়ে যে কর্মপন্থা তারা তৈরী করেছিল, তা কতটুকু নির্মুল করা হয়েছে?

সরকারের কর্তাব্যক্তিরা হয়ত এই উপলব্দি থেকে ১৬ই জুলাই ২০১০ সালে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সকল মসজিদ, পাঠাগার থেকে মওদুদীর বই অপসারণ করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাওলানা মওদুদীর বইকে নিষিদ্ধ ঘোষনা করেন। সরকারের এই নির্দেশ পালন করা সকল মসজিদ, পাঠাগার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নৈতিক ও আইনী দায়িত্ব বলেই মনে করছি। সরকারের এই নির্দেশ পালন হচ্ছে কিনা তার মনিটরিং করার দায়িত্ব নিঃশ্চয় সরকারের। এই দায়িত্ব কি এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব? একটু খোঁজ নিলেই এখনো অনেক মসজিদে মাওলানা মওদুদীর বিভিন্ন বই পাওয়া যাবে। দেশে শত শত বেসরকাররী উদ্যোগে গঠিত পাঠাগারে মাওলানা মওদুদীর বই সংরক্ষিত আছে। স্বয়ং মওদুদীর চেলাচামুন্ডাদের উদ্যোগে গঠিত অনেক পাঠাগার আছে, যেগুলিতে মাওলানা মওদুদী’র বইই হচ্ছে মুখ্য! এসব কি সরকারের কর্তাব্যক্তিরা জানেন না? প্রশ্ন রেখে গেলাম।

ধরে নিলাম, পাঠাগার মসজিদ না হয় সরকারের নজর এড়িয়ে গেছে। কিন্তু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মত একটি বৃহৎ ও দেশের অন্যতম বিদ্যাপীঠের বিভিন্ন বিভাগের সিলেবাসে নিষিদ্ধ বই এখনও কিভাবে পাঠ্য হিসাবে অর্ন্তভুক্ত থাকে? ইংরেজী দৈনিক ‘ডেইলী স্টার’-এ এই রির্পোটটি পড়ার পর আমি হতবাক হয়ে যাই, দেশের একটা জনপ্রিয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনটি বিভাগে এখনো কিভাবে মাওলানা মওদুদীর নিষিদ্ধ বই পাঠ্য হিসাবে অর্ন্তভুক্ত থাকে? এর জন্য দায়ী কে? কে জবাবদিহী করবে?

প্রকাশিত সংবাদটির মাধ্যমে জানা যায়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনশাস্ত্র, ইসলামী ইতিহাস এবং সংস্কৃতি ও ইসলামিক স্টাডিজ এই তিনটি বিভাগে মাওলানা মওদুদী অনুদিত ৫৫ (পঞ্চান্ন) টি বই ১১ (এগার) টি কোর্সের সিলেবাসে অর্ন্তভুক্ত আছে। এছাড়া ২০০৯ সালে মাওলানা মওদুদী’র জীবনীকে একটি কোর্সের পাঠ্য তালিকায় অর্ন্তভুক্ত করা হয় (বর্তমান সরকারের আমলে)। সিলেবাসে অর্ন্তভুক্ত কোন বইকে অবশ্যই আবশ্যিক পাঠ বই হিসাবে বলা যায়? যেখানে সরকার ১৬ই জুন, ২০১০ সালে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাওলানা মওদুদী’র বইকে নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হয়েছে, সেখানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি বিভাগে এখনও নিষিদ্ধ বইকে পাঠ্য হিসাবে কাদের ইন্ধনে, কাদের খুশী করার জন্য অর্ন্তভুক্ত রাখা হয়েছে? সরকারের নির্দেশ অমান্য করে জনপ্রিয় একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন নিষিদ্ধ বইকে পাঠ্য হিসাবে অর্ন্তভুক্ত রাখা কি সরকারের শিক্ষানীতির প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলী প্রদর্শন নয়? এর দায়ভার কার উপর বর্তাবে? আমার এখন জানতে ইচ্ছে হচ্ছে আর কয়টি বিশ্ববিদ্যালয়/শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাওলানা মওদুদীর বই পাঠ্য হিসাবে অর্ন্তভুক্ত আছে? হউক সেটা পাবলিক বা প্রাইভেট! আমরা জড়িতদের উপযুক্ত শাস্তি দাবী করেই এই ঘটনাটি এড়িয়ে যেতে পারিনা। আমি মনে করি কোন নিষিদ্ধ বইকে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আবশ্যিক পাঠ্য হিসাবে অর্ন্তভুক্ত থাকা রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল। এর যথোপযুক্ত শাস্তি বিধান করা উচিত। প্রথমতঃ এর দায়ভার অবশ্যই সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও বিভাগীয় প্রধানদের গায়ে বর্তায়। এই মহুর্তে এদের অপসারণ করে রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধে বিচারের মুখোমুখী করা হোক। পরবর্র্তীতে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে এই অপকর্মের সাথে জড়িত সকলকে বিচারের মুখোমুখি করা হোক।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ঘটনাটি আশাকরি সরকারের কর্তাব্যক্তিদের জন্য একটি অশনি সংকেত দিতে পেরেছে বলেই আমি মনে করছি।। আমি সরকারের কাছে জোর দাবী জানাচ্ছি, রাষ্ট্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী, দেশে দেশে জিহাদী জস্‌বা উৎপাদনকারী মাওলানা মওদুদী’র সকল ভাষায় অনুদিত ও মুল উর্দু ভাষায় রচিত সকল বই এই মহুর্তেই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হোক। না হয় এর খেসারত সমগ্র জাতিকেই দিতে হবে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৬ thoughts on “চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাসে মাওলানা মওদুদীর বই !!!

  1. মওদুদী’র বই নিষিদ্ধের সাথে
    মওদুদী’র বই নিষিদ্ধের সাথে সাথে যেই সকল দোকানে উস্কানিমুলক লেকচার পাওয়া যায় ঐগুলো মার্কেট থেকে তুলে নেওয়া প্রয়োজন, সরকার চাইলেই হাজারো জাফর ইকবালের সিডি প্রকাশ করতে পারে, আফসুস আমাদের রাষ্ট্র যন্ত্র বড়ই বিচিত্র।

  2. ” মাওলানা সাইয়েদ আবুল আলা আল
    ” মাওলানা সাইয়েদ আবুল আলা আল মওদুদী” – আহা কি তার নামের বাহার / কর্মে তাহার নুরানী পাপের আকার :ভেংচি: :ভেংচি: :শয়তান: :শয়তান: :হাসি: :হাসি: :নৃত্য: :নৃত্য:

  3. দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয়
    দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বিদ্যাপীঠে এ ধরণের ঘটনা কখনই কাম্য নয়… একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েই যদি এভাবে মওদুদির বই পাঠ্য হতে পারে, তবে দেশের আনাচে কানাচে অবস্থা কতটা ভয়াবহ, সেটা সহজেই অনুমেয়…

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 80 = 87