মনে আছে দিনাজপুরে পুলিশ কর্তৃক ধর্ষণ ও হত্যার শিকার কিশোরী ইয়াসমিনকে

১৯৯৫ সালের ২৪ আগস্ট চীনের বেইজিং শহরে অনুষ্ঠিত শান্তি, উন্নয়ন ও সমতার দাবিতে বেইজিং সম্মেলনে বাংলাদেশের সরকার প্রধান বেগম খালেদা জিয়া, দুই শতাধিক নারী নেত্রী-সংগঠক, সরকারী কর্মকর্তাবৃন্দ সমবেত হয়েছিলেন, যে সম্মেলনে ৩৫ হাজার নারী-পুরুষ দাবি তুলেছিল নারীর নিরাপত্তা ও সম-অধিকার নিশ্চিত করতে সকল রাষ্ট্র অঙ্গীকারবদ্ধ হবে। ঘোষণা দিয়েছিল নারীর বিরুদ্ধে যে কোন সহিংসতার বিচার করতে হবে। নারীর অগ্রযাত্রায় যে কোন বাধা অপসারণ করতে হবে। নারীর শ্রমের স্বীকৃতি দিতে হবে। ঠিক সেই সময়েই ৯৫ সালের ২৪ আগস্টে বাংলাদেশের উত্তরের জেলা দিনাজপুরে সংঘটিত হয় এক ন্যক্কার জনক ঘটনা, যা তৎকালীন বি এন পি সরকারের ললাটে এক কলঙ্কের কালিমা লেপন করে। হত দরিদ্র কিশোরী ইয়াসমিনকে পুলিশ সদস্যরা জোরপূর্বক পুলিশ ভ্যানে তুলে নিয়ে দশ মাইল এলাকায় রাতভর ধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ রাস্তার পাশে ফেলে রেখে চলে যায়। এতে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে শান্তিপ্রিয় দিনাজপুরবাসী। খুনীদের বিচারের দাবী উত্তাল দিনাজপুরে আন্দোলনরত জনতার উপরে গুলি চালিয়ে পুলিশ সামু, কাদের, সিরাজসহ নাম না জানা সাত ব্যক্তিকে হত্যা করে। নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে এই যুগান্তকারী প্রতিবাদী ঘটনাকে স্মরণীয় করতেই প্রতিবছর ২৪ আগস্ট দিনটি ‘নারী নির্যাতন ও প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। তবে দিনাজপুরের মানুষ দিবসটি ইয়াসমিন হত্যা দিবস হিসেবেই পালন করে থাকে।

ইয়াসমিন হত্যা দিবস’ বা ‘নারী নির্যাতন ও প্রতিরোধ দিবস’র পটভূমি : দিনাজপুর শহরের রামনগর এলাকার রিকশাচালক মৃত এমাজ উদ্দিন ও শরিফা বেগমের একমাত্র কন্যা ইয়াসমিন বেগম। শহরের লালবাগ কোহিনূর স্কুলের পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ত সে। বাবা মারা যাওয়ার পর লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায় কিশোরী ইয়াসমিনের। সংসারে অভাবের তাড়নায় মাত্র ১২ বছর বয়সে ১৯৯২ সালে গৃহপরিচারিকার কাজ করতে ঢাকায় যায়। সে আবুল আহসান আহমদ আলী নামের এক ব্যক্তির ঢাকার ধানমন্ডি ১নং সড়কের ১৩নং বাসার এক পরিবারে গৃহপরিচারিকার কাজ করত। আবুল আহসান আহমদ আলীর গ্রামের বাড়িও দিনাজপুর জেলায়। টানা তিন বছরে একবারও দিনাজপুরে মায়ের কাছে আসা হয়নি ইয়াসমিনের। তাই বাড়িতে আসার জন্য বিশেষ করে মাকে দেখার জন্য ভীষণ উতলা ছিল সে। গৃহস্বামী তাকে দুর্গাপূজার ছুটিতে যাওয়ার কথা বলেন। কিন্তু বাড়ি যাওয়ার জন্য উতলা ইয়াসমিন সে বাক্যে সান্ত্বনা পায়নি। সম্ভবত তাই ওই বছরের ২৩ আগস্ট ওই পরিবারের ছেলেকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে কাউকে কিছু না জানিয়ে একাই দিনাজপুরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ে যায়। সে উঠে পড়ে দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁ গামী নৈশ কোচ হাছনা এন্টারপ্রাইজে।

ফিরে দেখা ২৫ আগস্ট ১৯৯৫ ইং : ১৯৯৫ সালে ২৪ আগস্ট ভোরবেলা ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁও গামী ‘হাছনা এন্টারপ্রাইজ’ নামে রাত্রিকালীন কোচে ইয়াসমিন রাত তিনটার দিকে দিনাজপুরের দশ মাইল মোড়ে নামে। কোচের সুপারভাইজার দশ মাইল মোড়ের পান দোকানদার জাবেদ আলী, ওসমান গণি, রহিমসহ স্থানীয়দের কাছে কিশোরী ইয়াসমিনকে দিয়ে সকাল হলে মেয়েটিকে দিনাজপুর শহরগামী যেকোনো গাড়িতে তুলে দেওয়ার অনুরোধ জানান। কিন্তু এর কিছুক্ষণের মধ্যে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানা টহল পুলিশের একটি পিক আপ ভ্যান সেখানে আসে। তারা মেয়েটির পরিচয় জানতে চায়। একপর্যায়ে শহরের রামনগর এলাকায় বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পুলিশ ইয়াসমিনকে পিক আপে তুলে নেয়। এরপর পুলিশের টহল ভ্যানটি দশমাইলের কাছে সাধনা আদিবাসী প্রাথমিক স্কুলের সামনে এসে থামে এবং পুলিশ সদস্যরা ইয়াসমিনকে স্কুলের মধ্যে পালাক্রমে ধর্ষণের পর হত্যা করে। পরে তারা ইয়াসমিনের লাশ দিনাজপুর শহর থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে ব্র্যাক অফিসের পাশে একটি আদিবাসীর বাড়ির সামনে ফেলে চলে যায়।

পরের দিন সকালে ইয়াসমিনের লাশ পাওয়া যায় দিনাজপুর দশমাইল মহাসড়কে রানীগঞ্জ ব্র্যাক অফিসের সামনে। পরবর্তী সময় ডাক্তারি পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়, পুলিশ হেফাজতে ধর্ষণ শেষে খুন হয়েছিল দিনাজপুরের কিশোরী ইয়াসমিন। পুলিশের এ পৈশাচিক ঘটনা দিনাজপুরবাসীর মধ্যে জানাজানি হলে তারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। হাজার হাজার বিক্ষুব্ধ জনতা শহরে প্রতিবাদ মিছিল বের করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। দিনাজপুর কোতোয়ালী পুলিশ বিষয়টি সামাল দেয়ার জন্য ‘একজন অজ্ঞাত পরিচয় যুবতীর লাশ উদ্ধার’ মর্মে ঘটনাটি সাজিয়ে থানায় একটি ইউডি মামলা ফাইল করে। লাশের তড়িঘড়ি ময়নাতদন্ত শেষে আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে বালু বাড়ি শেখ জাহাঙ্গীর গোরস্থানে দাফন করা হয়। লাশের কোনো প্রকার গোসল ও জানাজা করা হয়নি। এখানে উল্লেখ্য যে, উত্তর গোবিন্দপুর এলাকায় পড়ে থাকা ইয়াসমিনের লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরির উদ্দেশ্যে কোতোয়ালী থানার এসআই স্বপন কুমার প্রকাশ্যে জনতার সামনেই লাশ উলঙ্গ করে ফেলে, যা উৎসুক জনতার মাঝে ক্ষোভ সঞ্চার করে।

পুলিশ প্রকৃত ঘটনাকে ধামাচাপা দেয়া ও অন্যখাতে সরিয়ে নেয়ার জন্য নিহত ইয়াসমিনকে ‘পতিতা বানু’ বানাবার চক্রান্ত করে। একজন পরিচিত বালিকাকে ‘অজ্ঞাত পরিচয়’ ও ‘পতিতা’ বানানো, তাকে সর্ব সম্মুখে বেআব্রু করা, গোসল ও জানাজা ব্যতিরেকে লুকোছাপা সতর্কতার সঙ্গে লাশ দাফন করা, সেই কবরে প্রহরার ব্যবস্থা নেয়া, বানুকে মেরে কবরের লাশ বদলের পাঁয়তারা ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কিত পুলিশ ও প্রশাসনের রহস্যময় আচরণ জনমনে কৌতূহল ও বিক্ষোভ শতগুণে জাগিয়ে তোলে। এক পর্যায়ে ২৬ আগস্ট স্থানীয় জনতা কর্তৃক রামনগর মোড়ে সন্ধ্যার পরে ইয়াসমিনের গায়েবি জানাজা শেষে রাত দশটার দিকে বিক্ষোভ মিছিল সহকারে কোতোয়ালী থানা ঘেরাও করে অভিযুক্ত তিন পুলিশ কর্তৃক ইয়াসমিন ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদ, ন্যায্য বিচার ও শাস্তি দাবি করা হয়। হাজার হাজার জনতা কোতোয়ালি থানার সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলে এবং সারারাত থানা অবরোধ করে রাখে। এসময় পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ ও ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে। এতে আট-দশজন ব্যক্তি আহত হয়।


(ছবি – শহীদ সামু, কাদের ও সিরাজ)

২৭ আগস্ট শহরে থমথমে পরিস্থিতির মধ্যেই সকালে এই ন্যক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদ ও সব প্রশাসনিক কর্মকর্তার বদলি এবং দোষী পুলিশ কর্মকর্তাদের শাস্তির দাবীতে বিক্ষুব্ধ জনতা শহরে বিশাল মিছিল বের করলে মিছিলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। মুহূর্তেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। মিছিলকারীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষের এক পর্যায়ে পুলিশ শহরের বিভিন্ন স্থানে নির্বিচারে গুলি চালালে সামু, কাদের ও সিরাজসহ নাম না জানা ৭ জন নিহত হয়। আহত হয় প্রায় ৩ শতাধিক মানুষ। পরে বিক্ষুব্ধ জনগণ শহরের ৪টি পুলিশ ফাঁড়ি আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়। শহরের আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙ্গে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শহরে ১৪৪ ধারা (কার্ফু) জারি করা হয়। শহরে নামানো হয় বিডিআর। দিনাজপুর থেকে তৎকালীন জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।

মামলা ও বিচার প্রক্রিয়া : এসব ঘটনায় দিনাজপুরবাসীর পক্ষে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়। যার মধ্যে নিরাপত্তা জনিত কারণে ইয়াসমিন হত্যা মামলাটি দিনাজপুর থেকে স্থানান্তর করা হয় রংপুরে। ১৯৯৭ সালের ৩১ আগস্ট রংপুরের জেলা ও দায়রা জজ আব্দুল মতিন মামলার রায় ঘোষণা করেন। মামলার রায়ে আসামী পুলিশের এ,এস,আই মইনুল, কনস্টেবল আব্দুস সাত্তার ও পুলিশের পিক আপ ভ্যান চালক অমৃত লাল বর্মণের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ বিধান ‘৯৫-এর ৬ (৪) ধারায় ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুর আদেশ দেন। আলামত নষ্ট, সত্য গোপন ও অসহযোগিতার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ,এম,আই মইনুলকে আরো ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। অপর দিকে দণ্ডবিধির ২০১/৩৪ ধারায় আলামত নষ্ট, সত্য গোপন, অসহযোগিতার অভিযোগে অভিযুক্ত আসামী দিনাজপুরের তৎকালীন পুলিশ সুপার আব্দুল মোতালেব, ডাঃ মহসীন, এসআই মাহতাব, এসআই স্বপন চক্রবর্তী, এ,এস আই মতিয়ার, এসআই জাহাঙ্গীর-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাদের খালাস দেন।

ফাঁসীর রায় কার্যকর : ২০০৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। মামলার অন্যতম আসামী এ.এস.আই মইনুল হক (পিতা-জসিমউদ্দীন, গ্রাম-বিশ্রাম পাড়া, উপজেলা-পলাশবাড়ী, জেলা-গাইবান্ধা) ও কনস্টেবল আব্দুস সাত্তার (পিতা-খতিবুর রহমান, গ্রাম-চন্দনখানা, উপজেলা-ডোমার, জেলা-নীলফামারী) কে রংপুর জেলা কারাগারের অভ্যন্তরে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় ১ সেপ্টেম্বর ’০৪ মধ্য রাত ১২টা ১ মিনিটে। অপর আসামী পিক আপ ভ্যান চালক অমৃত লাল বর্মণ ( পিতা-লক্ষ্মীকান্ত বর্মণ, গ্রাম-রাজপুর, উপজেলা-সদর, জেলা-নীলফামারী) কে রংপুর জেলা কারাগারে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ডাদেশ কার্যকর করা হয় ২৯ সেপ্টেম্বর ’০৪ মধ্য রাত ১২টা ১ মিনিটে।


(ফাঁসী কার্যকর হওয়া দুই ঘাতক এএসআই ময়নুল ও ভ্যান চালক অমৃত লাল)

নারী নির্যাতনের এই যুগান্তকারী প্রতিবাদী ঘটনাকে স্মরণীয় করতেই প্রতিবছর ২৪ আগস্ট দিনটি ‘নারী নির্যাতন ও প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। তবে দিনাজপুরের মানুষ দিবসটি ইয়াসমিন হত্যা দিবস হিসেবেই পালন করে থাকে। ইয়াসমিন হত্যা মামলার রায় ঘোষণা ও বাস্তবায়িত হলেও আজ পর্যন্ত ইয়াসমিন হত্যার প্রতিবাদে আন্দোলন করতে যাঁরা মারা গেছেন, তাঁদের হত্যাকারীদের বিচার হয়নি।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৩৭ thoughts on “মনে আছে দিনাজপুরে পুলিশ কর্তৃক ধর্ষণ ও হত্যার শিকার কিশোরী ইয়াসমিনকে

  1. হতভাগা বোনের হত্যার প্রতিবাদ
    হতভাগা বোনের হত্যার প্রতিবাদ করতে গিয়ে যেসব ভাই শহীদ হয়েছেন তাঁদের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই। পোস্ট প্রিয়তে

    1. পুলিশের বড় কর্তাদের রক্ষা
      পুলিশের বড় কর্তাদের রক্ষা করতেই এএসআই ময়নুল, কনস্টেবল সাত্তার ও ভ্যানচালক অমৃতলালকে ফাঁসীতে ঝুলতে হয়েছে। তিন পুলিশের ফাঁসীর পরে আর কি বেশী কিছু আশা করা যায় পুলিশের কাছে!! এই তিনজন তো ইয়াসমিন মার্ডারের সাথে সম্পৃক্ত ছিল কিন্তু যে সব কর্মকর্তার আদেশে গুলি করা হয়েছে তাঁদের কিছুই হয়নি। তখন তো ম্যাডামের বড় বোন চকোলেট আপার সাম্রাজ্য ছিল দিনাজপুর।

  2. দিনাজপুরের এই ঘটনা
    দিনাজপুরের এই ঘটনা শাসকশ্রেণীর জন্য একটা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। জনতা ক্ষেপলে কাউরে তোয়াক্কা করে না। এটা দিনাজপুরের মানুষ কমপক্ষে দুইবার প্রমাণ করে দেখিয়েছে।
    আপনাকে ধন্যবাদ পুরো ইতিহাস সামনে আনার জন্য। আমরা অনেকেই ইয়াসমিনের নাম হয়ত শুনেছি কিন্তু আসল ঘটনা অনেকেই জানিনা। তাই পোস্টের জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ।

    1. ধন্যবাদ আতীক ভাই। প্রায় পুরা
      ধন্যবাদ আতীক ভাই। প্রায় পুরা ছিয়ানব্বই সালটাই ফাঁসী হওয়া ঐ তিন পুলিশের সাথে আমাকে পাশাপাশি রুমে থাকতে হয়েছিল শ্বশুর বাড়ীতে। তাই ব্যাপারটা ভুলে যাইনি।

      1. প্রায় পুরা ছিয়ানব্বই সালটাই

        প্রায় পুরা ছিয়ানব্বই সালটাই ফাঁসী হওয়া ঐ তিন পুলিশের সাথে আমাকে পাশাপাশি রুমে থাকতে হয়েছিল শ্বশুর বাড়ীতে। তাই ব্যাপারটা ভুলে যাইনি।

        —— একটু বুঝিয়ে বলবেন ?

          1. দুরন্ত জয়,
            বাপরে তোর মাথায়

            দুরন্ত জয়,
            বাপরে তোর মাথায় তো অনেক বুদ্ধি , ‘ শশুর বাড়ি মানে যে জেলখানা ‘ জানতাম নাতো (!!!) … হাহাহাহহাহা

          2. হাহাহা সত্যি জানতেন না?? বলেন
            হাহাহা সত্যি জানতেন না?? বলেন কি?
            আবার দেইখেন শ্বশুর বাড়ি গিয়ে বইলেন না যে জেল খানায় আসছি ভাবি রাগ করবে :হাহাপগে:

          3. ইউ আর রিয়েলি জিনিয়াস! আমারও
            ইউ আর রিয়েলি জিনিয়াস! আমারও প্রথমে মাথায় আসে নাই!
            :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে:

            তবে এই সুযোগে একটা কথা বলি-
            “সব মেয়েদের কেন বড় ভাই থাকে?” কথাটা কিন্তু ঠিক না! বড় ভাই সব মেয়েদের থাকে না। সুন্দরী মেয়েদের থাকে হয়তো!
            বাই দ্যা ওয়ে- আমি একটা বই লিখতেছি- “হাউ টু কনভেন্স ‘দ্যা গার্লস বিগ ব্রাদার” আপনার লাগলে ফেস বুকে আওয়াজ দিয়েন… 😛

        1. হা হা হা ……… উত্তর তো
          হা হা হা ……… উত্তর তো পেয়ে গেছেন রাহাত মুস্তাফিজ ভাই। জামাতীদের কল্যাণে জামাই আদরটা ভালোই জুটছিল এক সময়। 😀 😀

          1. উত্তর বাংলা,
            হুম বুঝছি…

            উত্তর বাংলা,
            হুম বুঝছি… আপনি ভাই জীবন্ত ইতিহাস ! আপনার সম্পর্কে কৌতূহল অনেক বেড়ে গেল । শ্বশুর বাড়ি মানে প্রথমেই বুঝেছি । আমি আসলে শশুর বাড়ি যাওয়ার পেছনের কাহিনী জানতে চাচ্ছিলাম …

          2. আপনাকে ফেসবুকে জানাবো রাহাত
            আপনাকে ফেসবুকে জানাবো রাহাত মুস্তাফিজ ভাই। আমি কিন্তু আপনার সাথে এ্যাড আছি।

          3. হাহাহাহাহাহ্যা … তুমি মনে
            হাহাহাহাহাহ্যা … তুমি মনে হয় আমার আর একটা ব্যাক গ্রাউন্ড জাননা জয় !!!
            জানলে শশুর বাড়ি চেনাতে অন্তত আমাকে সহায়তা করতে আসতে না 😀 :ভেংচি:

  3. আগে কখনও লক্ষ্য করি নাই তো
    আগে কখনও লক্ষ্য করি নাই তো দিনাজপুরবাসী এই আগস্টেই দুই বার গর্জে উঠেছিল। এমনিতে দিনাজপুরের লোকদের অনেক শান্তিপ্রিয় মনে হয়েছে সেখানে দুই বছর অবস্থানকালে। ইয়াসমিন ইস্যুতে জাতীয়ভাবে কোন কর্মসূচী পালিত হয় কি? জানা থাকলে জানাবেন। ধন্যবাদ, এতো কিছু জানা ছিল না এই বিষয়ে।

  4. তথ্যমূলক পোস্ট এর জন্য
    তথ্যমূলক পোস্ট এর জন্য ধন্যবাদ।
    আসল ঘটনাটা জানতাম না। ধর্ষণের শাস্তি না হয় হল, কিন্তু এর প্রতিবাদে যেই ৭ জন মারা গেল, সেইটার বিচার কই? হবে বলে তো মনে হয় না।

    1. হওয়ার কোন সম্ভাবনাও নাই। তবে
      হওয়ার কোন সম্ভাবনাও নাই। তবে ঐ সাত জন সাধারণ মানুষ জীবন দিয়েছিলেন বলেই হয়তো ইয়াসমিন হত্যার বিচার সম্পন্ন এবং রায় কার্যকর করা হয়েছে। নাহলে সেটাও হতো না মনে হয়। ধন্যবাদ।

  5. আমরা অনেকে ইয়াসমিনের ঘটনা
    আমরা অনেকে ইয়াসমিনের ঘটনা জানলেও তৎসংশ্লিষ্ট অন্যান্য ঘটনা ও বিচার প্রক্রিয়া সম্পর্কে তেমন জানতাম না ।
    পুরো ইতিহাস আমাদের সামনে আনার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।

    1. নিরাপত্তাজনিত কারণে বিচার
      নিরাপত্তাজনিত কারণে বিচার প্রক্রিয়াটা দিনাজপুর থেকে রংপুর জজ কোর্টে আনা হয়। তখন দেখেছি দিনাজপুরের নারী নেত্রীরা বিশেষ করে বাংলাদেশ মহিলা সংস্থা ও পল্লীশ্রী নামের স্থানীয় একটা এনজিও মহিলা মাঠ কর্মীরা মামলার নির্দিষ্ট তারিখে বড় বড় বাস ভাড়া করে আদালতে আসতেন।

  6. হায়, যারা রক্ষক তারাই যদি এমন
    হায়, যারা রক্ষক তারাই যদি এমন নিষ্ঠুর কাজ করে তবে দেশে ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হবে কেমনে?
    কি নির্মম জাতি আমরা!!!!

  7. অনেক কিছু জানতে পারলাম ! এখন
    অনেক কিছু জানতে পারলাম ! এখন বুঝতে পারছি আমার জানার পরিধিটা যে কত ছোট!

    আপনাদের মত কিছু দুর্দান্ত ব্লগার ভাইদের জন্য অনেক কিছু জেনেছি
    এককথায় আপনাকে সেলুট !!

    আর আমাদের দেশের নারী রা কি এখনও শোষিত হচ্ছে না? এই দিবস পালন আর আইন তৈরী করলে কিছু হবে না আগে প্রোয়োজন সচেতনতা বৃদ্ধি ও বিদ্যমান আইনের সঠিক প্রয়োগ .।

    আজ সেই পূর্নীমার কথা মনে হচ্ছে সেই ধর্ষিত সেই ছোট্ট শিশুটির কথা মনে হচ্ছে এগুলো কত কাল যে আদালতে বারান্দায় ঘুর পাক খাবে এই নিয়ে এক দীর্ঘস্বাস!

    1. সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে আমরা খুব
      সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে আমরা খুব অস্থির প্রকৃতির। কোন কিছুতেই ধারাবাহিকতা রাখতে পারিনা। বছর তিনেক আগে ইভ টিজিং নিয়ে বেশ মাতামাতি হয়েছিল মনে আছে অবশ্যই। তো তখন কিন্তু একটা সামাজিক মুভমেন্ট দাঁড়িয়ে যাচ্ছিল নারীর প্রতি সব ধরণের সহিংসতার বিরুদ্ধে। কিন্তু আমরা তা ধরে রাখতে পারলাম না। সম্ভবত র‍্যাব এবং লিমন ইস্যু এসে সেই জায়গা দখল করলো। আমরা ঐ ইস্যুতেই ব্যস্ত হয়ে গেলাম। কিছুদিন পরে সড়ক দুর্ঘটনায় বেশ কয়েকটা প্রাণ যাওয়ার পরে শুরু হলো নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, নতুন একটা ইস্যু পাওয়ার সাথে সাথেই সেটাও থেমে গেলো। এমনই করেই তো চলছে। মনে পড়ে ২০০০ সালে ঢাকায় ডিবি পুলিশের অফিসের ছাদের পানির ট্যাংক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র রুবেলের লাশ পাওয়া গেলো। সেসময় পুলিশের এই বর্বরতার বিরুদ্ধে যেভাবে জেগে উঠেছিল সারা দেশ তা যদি একটা সফল পরিনতির দিকে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হতো তাহলে লিমনের ঘটনার জন্ম হতো না। কিন্তু আফসোস আমরা আসলেই অস্থির। …………… ধন্যবাদ আপনাকেও জয় ভাই।

      1. ইস্যু গুলো তুলে ধরার জন্য
        ইস্যু গুলো তুলে ধরার জন্য ধন্যবাদ ! তবে আমার যেটা মনে হয় – এই ধরণের ইস্যুতে মূলত বেসরকারি এন জিও সবথেকে সরব ভূমিকা পালন করে মিডিয়ার সহয়তায় । তো, এন জিও চলে বিদেশি প্রভুদের ডনেশনে এবং মিডিয়া চলে দুর্নীতিবাজের কালো টাকায় । এন জিও মন রক্ষা করে বিদেশি প্রভুর আর দেশিও মিডিয়াবাজ বোঝে নতুন ইস্যু বেশি প্রচার বেশি কাটতি বেশি মুনাফা । এইসব ইস্যুতে বিশেষ করে ধারাবাহিক রাজনৈতিক আন্দোলন দরকার হতো । কিন্তু বড় দুই দল যে তা করবেনা সে তো স্পষ্ট ।

        কৃষকের ক্ষেতের ৫ টাকা কেজি দরের বেগুন কেন শহরের বাজারে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয় এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, প্রতিরোধ হওয়ার চেয়ে তত্ত্বাবধায়ক ইস্যু দেউলিয়া রাজনীতির কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ।

  8. উত্তর বাংলা আপনাকে ধন্যবাদ
    উত্তর বাংলা আপনাকে ধন্যবাদ চমৎকার পোস্টটির জন্য !!! গণ মানুষের শক্তির প্রচণ্ডতার কাছে সংখ্যালঘু শোষকের সশস্ত্র শক্তি নস্যি ! মাহামুদুজ্জামান বাবুর গানটির কথা মনে পড়ে যাচ্ছে –
    ” দানবের হুঙ্কারে দাননের জয়
    যেন এই পৃথিবী মানুষের নয়
    ……… শেস রাতে মারা যায় ধর্ষিতা ইয়াসমিন … ”

  9. OMG! গানটা বহুবার
    OMG! গানটা বহুবার শুনেছি-গেয়েছি! আমার খুব প্রিয় একটা গান! অথচ এই ইয়াসমিনের পরিচয় জানতাম না! ধন্যবাদ মুস্তাফিজ ভাই!
    :বুখেআয়বাবুল:

  10. অত্যন্ত তথ্যমূলক পোস্ট! নতুন
    অত্যন্ত তথ্যমূলক পোস্ট! নতুন করে ধন্যবাদ দেব না আর… জাস্ট :salute:

    মনের সকল পঙ্কিলতাকে পাশ কাটিয়ে জেগে উঠুক বিশ্ব মানবতা…

    1. ধন্যবাদ সফিক এহসান ভাই। আপনি
      ধন্যবাদ সফিক এহসান ভাই। আপনি গান শুনেছেন কিন্তু ইয়াসমীণের পরিচয় জানতেন না আর আমি ঠিক তার উল্টাটা।

  11. সেসময় যদিও জন্মই হয়নি ,
    সেসময় যদিও জন্মই হয়নি , দিনাজপুরে বাসা হওয়ার কল্যাণে ইয়াসমিন হত্যা দিবস দেখছি ছোট থেকেই ।

    এই ঘটনাটা একটা ইতিহাস । একটা বিদ্রোহ । দূর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য , এই ঘটনা ভুলে গেছে মানুষ

    1. গত ২০১১ সালে খোদ দিনাজপুরেই
      গত ২০১১ সালে খোদ দিনাজপুরেই সেভাবে পালিত হয়নি দিবসটি। আমি ঐ সময় দিনাপুরে ছিলাম, ভেবেছিলাম দিনাজপুরবাসী দিবসটা ভালোভাবে পালন করবে। কিন্তু সেবার তেমন কোন উৎসাহ ছিল না। দিনাজপুর থেকে এসে একটা রিপোর্ট করেছিলাম এই বিষয়ে স্থানিয় একটা পত্রিকায়। তবে গতবার এবং এবার বেশ ভালো ভাবেই পালিত হয়েছে, ধন্যবাদ আপনাকে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

56 − = 50