পরীক্ষামূলক সংস্করনে পরীক্ষামূলক লেখা

হ্যালো ইস্টিশন কেমন আছো? আমি তোমার এই প্ল্যাটফর্মে নতুন এক যাত্রী,শুনেছি তুমিও নাকি নতুন।তাহলে বেশ ভালোই হলো নতুনে নতুনে বেশভালো সখ্য হবে বটে।

তবে কিছু অতীতের কথা তোমাকে আজ জানাতে চাই।বলতে চাই মনের গভীরের কিছু কথা,শুনবে কি? সময় হবে কি তোমার এই যাত্রীর জন্য?
শুরু থেকেই বলি তোমায় না বলা কিছু কথা তবে সেখানে মেশাবো বলে ফেলা অনেক কথা।

এই অনলাইন জগতে আমার প্রবেশ ২০০২ সালে,কোচিং ফাঁকি দিয়ে বন্ধুর সাথে নগ্নতা দেখতে ছুটে যেতাম সাইবার ক্যাফেতে ২০ টাকা ঘন্টায় চোখের ক্ষিধা মেটাতাম,দিন যায় ক্ষুধা বাড়ে,নেশার মতো হয়ে যায়।প্রতিদিন সেই একই জিনিস,সেই একই দেহ তবে ভিন্ন চেহারায়।একসময় লোপ পেয়ে আসে,অর্থনৈতিক হিসাব মতে একসময় যেমন চাহিদা কমে যায় তেমনি আমারও বোধ হয় কমে এসেছিল।কারন এলাকার বড় ভাইয়ের সাইবার ক্যাফে চালানোর দায়িত্ব অতদিনে পেয়ে গিয়েছিলাম,তাই সারাক্ষন একই জিনিস দেখতে ভালো লাগত না।ধীরে ধীরে চলে যাই মাল্টি ই-মেইল বানানোতে,কিন্তু কাজটা হুদাই দেখে সেটা ছেড়ে কেমনে জানি ওয়েব পেইজ বানানোতে ঝুঁকে পড়ি।বিশ্বাস করো কিছুই জানিনা,শুধু পড়ে পড়ে ছবি বসিয়ে বসিয়ে,কী-বোর্ডে টাইপ করে করে নিজের ছবিওয়ালা একটা পেইজ বানিয়ে ফেলি।

এরপর থেমে যাই চার চারটি বছরেরও অধিক সময় ধরে এই কম্পিউটার এই অনলাইন থেকে সরেই গিয়েছিলাম।মাঝে মধ্যে রাস্তায় কম্পিউটার দেখলে একটু থমকে দাঁড়িয়ে এই জাদুর বাক্সটিকে একবার দেখতাম তারপর দীর্ঘশ্বাস ফেলে চলে যেতাম।

একসময় আবারো ফিরে আসি আমি,ফিরে আসি এই জগতে।এবার আর সাইবার ক্যাফে নয় নিজের ঘরে নিজের কক্ষে।নেটের লাইন লাগিয়ে শুরু করি।কিন্তু তাও অকাম,যদিও ন্যুড কিন্তু অতটা দেখতাম না,তবে অকাম করতে ব্যবহার করতাম জাদুর বাক্সকে।অকাম স্থানটা কি জানো? মিগ৩৩, যদিও অনেক আগে থেকেই সেখানে ছিলাম কিন্তু শুধু মোবাইলে আর সেখানে স্ল্যাং হয়,আইডি আইডিতে যুদ্ধ হয়,মারামারি হয়,যার শক্তি বেশি সেই জিতে।সেখানে মাল্টির খেলা হয়।গ্রুপ আছে সেখানে,গ্রুপের জন্য অপরিচিতকেও মারতে হবে।এভাবে মিগেই কাটিয়ে দেই প্রায় কয়েকবছর।

এসবের ফাকেও মাঝে মাঝে সাইবার ক্যাফেতে যেতাম আড্ডা দিতে সেখানেই এক ছোট ভাইয়ের মাধ্যমে পরিচয় টেকটিউনসের সাথে দারুন দারুন ট্রিক্স পেতাম দৈনিক,ভালোই লাগতো পেয়ে।কিন্তু রেজিস্ট্রেশন না করেই সেখানে অনেকগুলো মাস কাটিয়ে দেই এরপর মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে একটা পোস্ট দেখে ভাবলাম ধন্যবাদ না দিয়ে উপায় নেই তাই রেজিস্ট্রেশন করে ধন্যবাদ দিয়ে দিলাম এরপর শুরু আর এভাবে তাদের সাথে সখ্যতা তৈরী হয়ে যায়।এর আগে যদিও বিভিন্ন ব্লগ সাইট দেখেছিলাম কিন্তু ঝামেলার কারনে এড়িয়ে চলতাম।টিটি’র হাত ধরে আস্তে আস্তে টেকি ব্লগিং শুরু করলাম।

এদিকে প্রায় সময়ই অনলাইন পত্রিকা পড়তে বিডিনিউজই ছিলো ভরসা একদিন নিউজ পড়তে পড়তে নিচে চলে গেলাম আর সেখানে রাজাকার নিয়ে একটা লেখা দেখে সেই লিঙ্কে ক্লিক করে তাদের ব্লগে ঢুকে পড়লাম,পুরো লেখা পড়ে ভালোই লাগলো তাই অথিতি সেজে মন্তব্য করে দিলাম।কিন্তু ছাড়লেন না লেখক তিনি আমন্ত্রন জানালেন নিয়মিত হতে।তার আমন্ত্রন ফেলবার সাহস করতে পারলাম না।তাই সাড়া দিলাম,কিন্তু আমি তো তেমন কিছুই জানিনা তাই ভাবলাম শুধু মন্তব্য করেই ক্ষান্ত থাকবো কিন্তু এরই মাঝে দেশে শুরু হলো রোহিঙ্গা ঝামেলা..উফফফফফফ সে কি ভয়ানক দৃশ্য। ফেসবুক খুলতে বাকী কিন্তু ছবি দেখতে বাকী নেই।এমন একটা ভাব যেনো খুবই ভয়ানক অবস্থা চলছিলো সেখানে,তাই না পেরে কোন পক্ষে যাবো সেই সিদ্ধান্ত নিতে জীবনে প্রথম পোস্ট দেই সেখানে।

কুমারীত্ব চলে গেলো আমার,হাত খুলে গেলো,তাই মাথায় যাই আসে তাই নিয়ে লেখা শুরু।এভাবে লিখতে লিখতে একসময় সেখানে রাজাকার ও তার কন্যার চাতুর্য্যতা নয়ে একটা পোস্ট দেই কিন্তু সেটি ছাপে না,আবার দেই তাও ছাপে না।ভাবলাম লেখায় হয়তো সমস্যা আছে,আচ্ছা এইটা অন্য কোথাও দিয়ে দেখি তাহলে বুঝা যাবে সমস্যা কি।তাই ভেবে চিন্তে দিয়ে দিলাম,নাগরিকব্লগে।
ও হ্যা তোমাকে তো বলতেই ভুলে গিয়েছি আমাকে ব্লগে টেনে এনেছিলেন সুলতান মির্জা ভাই আর নাগরিকের সাথেও পরিচয় তিনিই করিয়েছিলেন।কিন্তু দেখলাম নাগরিকে সেটি হাজারবারের উপর পড়ে ফেলেছেন সেখানকার নাগরিকেরা এবং তাদের মন্তব্যগুলোও দেখি গঠনমূলক।রাগ চাপলো বিডির উপর নীতির সাথে কোন আপোস নয়,তাই রাগ করেই ছেড়ে দিলাম সেই স্থান।এরপর নাগরিকেই থেকে যাওয়া,অন্যান্য ব্লগগুলো যদিও চিনতাম কিন্তু ঝামেলার কারনে যেতাম না,প্রচুর ব্লগার সেখানে তাদের মাঝে আমার মতো নগন্য একজন লোক নিমিষেই হারিয়ে যাবে,খুজে পাবো না কিছুই তাই ভয়ে আর কোথাও যেতাম না।কিন্তু জানো যে নাগরিক আমাকে শিখালো এতো কিছু সেই নাগরিক আমার সাথে খুব অন্যায় আচরন করেছে,ভালোবাসার স্থান থেকে এমন আচরন পাবো কখনোই ভাবতে পারিনি।

জানো সেখানে তারা প্রথমে ঝামেলা পাকিয়েছিলো জোট বাধার কথা বলে,তাদের কয়েকজনের মতে একজনের সাথে আরেকজনের পরিচয় হওয়াটা ভীষণ পাপের কাজ,ভাঙ্গন দিয়েছিলো একটা সেই সময়ে কিন্তু নাগরিকেরা মিলে সেটা সামলে নিলো,ভাবলাম যাক আপদ চুকলো।কিন্তু না সেইবার সফল হতে না পেরে আবারো আটঘাট বেঁধে নামলো তারা।তারা দলহীন,গৃহহীন বলে অন্যেরা একতা হয়ে থাকবে এটা তারা মেনে নিতে পারলো না।তাই নোংরামির শেষটা পর্যন্ত তারা করলো।তাই নীরবে ভালোবাসার স্থানটি থেকে সরে দাড়ালাম।

ইস্টিশন তোমাকে এই এতোগুলো কথা বলেছি কেন জানো? অন্যদের মতো তুমিও যদি আঘাত দাও তবে সেটা হবে আমার জন্য দুর্ভাগ্য।তোমার কাছে কিছু দাবী জানিয়ে গেলাম রাখা না রাখা একান্তই তোমার ব্যাপার।যদি পারো,যদি তোমার মনে আমার কথাগুলো ধরে তাহলে তোমার ইস্টিশনের দেয়ালে আমার কথাগুলো লিখে দিও।

  1. কখনো মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার বিপক্ষে যেও না,১৯৭১ এর চেতনার পক্ষে থেকো।
  2. যে নেতা না হলে এই বাংলা হতো না সেই নেতার অবমাননা সহ্য করো না।
  3. কোন নির্দিষ্ট দলের হয়ে কাজ করবে না।
  4. ছাগু পেলে ছাড় দিও না।
  5. নীতি বিসর্জন দিয়ে কারো পক্ষে কিনবা স্বজনপ্রীতি করো না।

ইস্টিশন অনেক রাত হয়ে গেলো,ঘুমোতে যেতে হবে এখন,কিছু মনে নিও না,তোমার প্যাসেঞ্জারদের বিরক্ত করে গেলাম বলে।
ভালো থেকো।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২১ thoughts on “পরীক্ষামূলক সংস্করনে পরীক্ষামূলক লেখা

      1. আইজক্যা সকালে দ্যাখলাম ঢাকা
        আইজক্যা সকালে দ্যাখলাম ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা তূর্ণা নিশিতা সকাল ৯.৩০ এরেও কিছু পরে করে দেওয়ানহাট ওভার ব্রীজের নিচ দিয়ে চট্টগ্রাম রেল স্টেশনে ঢুকছিলো। এই ট্রেন মহানগর প্রভাতী হয়ে সকাল ৮ টায় ছেড়ে যাওয়ার কথা।

  1. লেখা ভালো হইছে, মাজখানে এক
    লেখা ভালো হইছে, মাজখানে এক মাস ছিলাম না, তাই জানি না কি হইছে আর কি হয় নাই, আর কারো সাথে এই রকম পরিচয়ও হয় নাই, তাই কোন কিছুই বুঝতাছি না, শুধু বুঝছি শক্তির ক্ষয়, অনেককেই মিস করবো, কিছু আর বলার নাই।

    1. হুম,কিন্তু আপনার এই কথা প্রায়
      হুম,কিন্তু আপনার এই কথা প্রায় মুখস্থ হইবার জোগাড় :মুগ্ধৈছি: :মুগ্ধৈছি:
      বাই দ্য ওয়ে প্রথম কমেন্ট দাতা হিসেবে আপনাকে ধইন্যা :চা: :চা: :চা: খাইয়্যা নিয়েন

  2. ভাল লিখেছ সুমিত। তোমার মত
    ভাল লিখেছ সুমিত। তোমার মত আমিও ইস্টিশনকে দেখতে চাই। আশাকরি ইস্টিশন কর্তৃপক্ষ নিরপেক্ষ একটা প্লাটফরম হিসাবে কাজ করবে। সুমিতের পরামর্শগুলো ইস্টিশন কর্তৃপক্ষকে বিবেচনা করার জন্য অনুরোধ জানালাম।

  3. সুমিতের পরামর্শের সাথে আমিও
    সুমিতের পরামর্শের সাথে আমিও একমত। আমাদের অবশ্যই এক একটা রাজনৈতিক মতাদর্শ আছে। এবং থাকবে। কিন্তু ভিন্ন মতার্দশকে সহ্য করার ক্ষমতা ব্লগের থাকা উচিত।

  4. ইস্টিশনের চিপায় প্লাটফর্মে
    ইস্টিশনের চিপায় প্লাটফর্মে ফাকায় চায়ের স্টলে ব্লগের সবাই ঝড় তুলুক।। শুধু দেখে যাবনা , প্রয়োজনে ‘আমরা হব অসভ্য বুনো , প্রতরণা,নির্যাতনের সাধ নেব দুনো ‘। সবাইকে স্বাগতম । পাগলার স্যালুট এই প্রচেষ্টায় – ঠাটায়া

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 5 = 3