পত্রালাপ

অনিন্দিতা,
পত্রালাপে আমি অভ্যস্থ নই। তবু ইদানিং তোমাকে খুব লিখতে ইচ্ছে করছে। জানি না, এই পত্রগুলো তোমার কাছে পৌছবে কি না। একটা পত্র কি প্রাপকের কাছে পৌছলেই স্বার্থকতা পায়? প্রেরকের অব্যক্ত ব্যথামালার কথাগুলোরও তো একটা স্বার্থকতা আছে, তাই না?

তুমি খুব ভাল করেই জানো আমি লুতুপুতুদের দলে নই। আমি কখনই দুঃখিত বলি না, এ কারনে কেউ আমাকে দুঃখিত বলুক তাও আশা করি না। একটা কথা আমার খুব মনে লাগে, “ সুতো ছিড়ে গেলে তাকে আর জোড়া দেয়া যায় না, বড় জোর গেড়ো দেয়া যায়”। হ্যা, আমি ছিড়ে যাওয়া সুতো গেড়ো দিতে পছন্দ করি না, গেড়োটা প্রচন্ড চোখে লাগে। বারবার মনে করিয়ে দেয় একবার সুতোটা ছিড়ে গিয়েছিলো।

বিরহের পর রস নিগুড় হয় বলে রবী ঠাকুর একটা কথা বলেছিলেন। আমি বিরহ শব্দটাকেই মানি না। যাকে ভালবাসা যায়, তাকে ভূল বুঝার অবকাশ কোথায়? যারা বলেন ভূল বুঝাবুঝি স্বাভাবিক আমি তাদের দলে নই। আমি মনে করি, যাকে ভালবাসা যায়, তাকে ভূল বুঝা যায় কি? আমার নিগুড় রসের দরকার নেই, নিত্যরস থাকাটাই আমার কাছে স্বার্থক মনে হয়।

তুমি বলতে আমি খুব উদ্ধত বালক, আমার এই ঐদ্ধত্ব তোমার কাছে ভাল লাগে, আমাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে এই ঐদ্ধ্যত্ব। কিন্তু দেখো আজ এই ঐদ্ধত্ব আমাকে প্রতিনিয়ত একা করে দিচ্ছে। তা দিক, ভণ্ডামির মুখোশ আটা মানুষগুলোর সান্যিধ্যের চেয়ে একা থাকাটাই ভাল নয় কি? না, তোমাকে ভণ্ড বলছি না। তুমি তো আর ইচ্ছে করেই আমার শত্রুতাকে ধারন করোনি। তুমি হয়ত তাই লালন করতে, আমি স্রেফ জানতাম না। একটা সময় জেনে গেলাম, এই যা। ভণ্ড হলে তো আর জানতেই পারতাম না।

অনিন্দিতা,
আমার এমন পত্রগুলো কি তোমাকে খুব বেশি বিরক্ত করবে? করলেও আমি হয়ত জানতে পারবো না। উদ্ধত বালকের তুমিও এক উদ্ধত প্রেমিকা। তুমিও কখনোই বালকের দিকে ফিরে তাকাবে না, আর তাকালেই বা আমি ফিরবো কেনো? আমি যে উদ্ধত বালক।

আবারো তোমার শুভকামনা করে একপাক্ষিক পত্রালাপ শেষ করছি। তুমি খুব দ্রুত সেড়ে উঠো, খুব বেশি ভালো থেকো, থাকো।

ইতি
অর্বাচীন উদ্ধত বালক।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৮ thoughts on “পত্রালাপ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

3 + 1 =