কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও দুইটি আইনী প্রশ্ন / আকরামুল হক শামীম

৫ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছে। ১৩২ পৃষ্ঠার রায়টিতে ৪২৯টি অনুচ্ছেদ রয়েছে। অবশ্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ সংক্ষিপ্ত রায় পাঠ করেছে। রায়ে ২টি অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ৩টি অভিযোগে ১৫ বছর ধরে কারাদণ্ড এবং ১টি অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অব্যহতি প্রদান করা হয়েছে।


৫ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছে। ১৩২ পৃষ্ঠার রায়টিতে ৪২৯টি অনুচ্ছেদ রয়েছে। অবশ্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ সংক্ষিপ্ত রায় পাঠ করেছে। রায়ে ২টি অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ৩টি অভিযোগে ১৫ বছর ধরে কারাদণ্ড এবং ১টি অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অব্যহতি প্রদান করা হয়েছে।

আদালতের রায়ে হতাশ হয়েছে বিচারপ্রত্যাশীরা। জাতির প্রত্যাশা এই রায়ে প্রতিফলিত হয়নি। অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত ছিল। আবুল কালাম আযাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকার ও কাদের মোল্লার রায় এবং অপরাধের মাত্রা বিচার করলেই এটি সুষ্পষ্ট হবে। উল্লেখ্য বাচ্চু রাজাকারের মামলার রায় গত ২১ জানুয়ারি হয়েছে। সেক্ষেত্রে এ রায় অন্যান্য মামলার ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত বলে ধরে নেওয়া যায়।

কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে উত্থাপিত অভিযোগগুলো এবং ট্রাইব্যুনালে তাতে কী রায় দিয়েছে তা প্রথমেই দেখে নেওয়া যাক।

প্রথম অভিযোগ – তিনি একাত্তরের ৫ এপ্রিল মিরপুর বাঙলা কলেজের ছাত্র পল্লবকে গুলি করে হত্যার নির্দেশ দেন।
রায় – ১৫ বছরের কারাদণ্ড।

দ্বিতীয় অভিযোগ – একাত্তরের ২৭ মার্চ তিনি সহযোগীদের নিয়ে কবি মেহেরুননিসা, তাঁর মা এবং দুই ভাইকে মিরপুর ৬ নম্বর সেকশনের বাসায় গিয়ে হত্যা করেন।
রায় – ১৫ বছরের কারাদণ্ড

তৃতীয় অভিযোগ – একাত্তরের ২৯ মার্চ বিকেলে সাংবাদিক খন্দকার আবু তালেবকে আরামবাগ থেকে কাদের মোল্লা ও তাঁর সহযোগীরা জল্লাদখানা পাম্পহাউসে নিয়ে জবাই করে হত্যা করেন।
রায় – ১৫ বছরের কারাদণ্ড

চতুর্থ অভিযোগ – ২৫ নভেম্বর কাদের মোল্লা ও ৬০-৭০ জন রাজাকার কেরানীগঞ্জ থানার ভাওয়াল খানবাড়ি এবং ঘাটারচরে (শহীদনগর) শতাধিক নিরস্ত্র গ্রামবাসীকে হত্যা করেন।
রায় – অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অব্যাহতি

পঞ্চম অভিযোগ – একাত্তরের ২৪ এপ্রিল পাকিস্তানি সেনা ও অবাঙালি রাজাকারদের সঙ্গে কাদের মোল্লা মিরপুরের আলোকদী (আলুব্দী) গ্রামে হামলা চালান। ওই ঘটনায় ৩৪৪ জনের বেশি নিহত হন।
রায়– যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ষষ্ঠ অভিযোগ – একাত্তরের ২৬ মার্চ কাদের মোল্লা, তাঁর সহযোগী এবং পাকিস্তানি সেনারা মিরপুরের ১২ নম্বর সেকশনে হযরত আলী লস্করের বাসায় যান। কাদের মোল্লার নির্দেশে হযরত, তাঁর স্ত্রী, দুই মেয়ে এবং দুই বছরের এক ছেলেকে হত্যা করা হয়, ধর্ষণের শিকার হন এক মেয়ে।
রায়– যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

এবার বাচ্চু রাজাকারের মামলার রায় ব্যাখ্যা করা যাক। ২১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ বাচ্চু রাজাকারের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করে। ১১২ পৃষ্ঠার রায়ে ৩৩৪টি অনুচ্ছেদ রয়েছে। বাচ্চু রাজাকারের বিরুদ্ধে দি ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) অ্যাক্ট ১৯৭৩ এর ৩(২) ধারায় আট ধরনের অভিযোগ গঠন করা হয়েছিল।

প্রথম অভিযোগ– একাত্তরের জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে আযাদ ও তাঁর সহযোগীরা ফরিদপুর শহরের খাবাশপুর থেকে রণজিত্ নাথ ওরফে বাবুনাথকে ধরে নির্যাতন করেন। তবে রাত দুইটা-আড়াইটার দিকে তিনি পালাতে সক্ষম হন।

দ্বিতীয় অভিযোগ – ২৬ জুলাই আলফাডাঙ্গা থেকে আবু ইউসুফ পাখিকে ধরে এনে ফরিদপুর স্টেডিয়ামে আটক রাখা হয়। আযাদ পাকিস্তানি মেজর আকরামের সঙ্গে আলোচনা করে পাখিকে আটক রাখেন এবং অমানবিক নির্যাতন করেন।

তৃতীয় অভিযোগ– ১৪ মে আযাদ ফরিদপুরের বোয়ালমারী থানার কলারন গ্রামের জমিদার সুধাংশু মোহন রায় ও তাঁর বড় ছেলে মণিময় রায়কে বাড়ির পাশের রাস্তায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বাড়ি ফিরতে বলেন। তাঁরা বাড়ির দিকে রওনা হলে আযাদ পেছন থেকে রাইফেল দিয়ে গুলি করেন। এতে সুধাংশু নিহত ও মণিময় গুরুতর আহত হন।

চতুর্থ অভিযোগ– ১৬ মে আযাদ রাজাকারদের নিয়ে সালথা থানার (সাবেক নগরকান্দা) পুরুরা নমপাড়া গ্রামে মাধবচন্দ্র বিশ্বাসের বাড়িতে লুটপাট করেন। মাধবকে বাড়ি থেকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে আযাদ গুলি করে হত্যা করেন।

পঞ্চম অভিযোগ – ৮ জুন আযাদ ও তাঁর চার-পাঁচজন সহযোগী বোয়ালমারীর নতিবদিয়া গ্রামের এক হিন্দু বাড়িতে দুই নারীকে গণধর্ষণ করেন।

ষষ্ঠ অভিযোগ – ৩ জুন আযাদ ও তাঁর সহযোগীরা সালথা থানার ফুলবাড়িয়া গ্রামের হিন্দুপাড়ায় লুটপাট শেষে চিত্তরঞ্জন দাসকে গুলি করে হত্যা করেন।

সপ্তম অভিযোগ – ১৭ মে আযাদ ৩০-৩৫ জন রাজাকারকে নিয়ে বোয়ালমারীর হাসামদিয়া গ্রামের হিন্দুপাড়ায় নির্বিচারে গুলি ছুড়ে শরত্চন্দ্র পোদ্দার, সুরেশ পোদ্দার, শ্যামাপদ পোদ্দার, জতীন্দ্র মোহন সাহা, নীল রতন সমাদ্দার, সুবল কয়াল ও মল্লিক চক্রবর্তীকে হত্যা করেন। সেখান থেকে হরিপদ সাহা ও প্রবীর কুমার সাহা ওরফে পুইট্যাকে অপহরণ করে ময়েনদিয়া বাজারের নদীর ঘাটে নিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়।

অষ্টম অভিযোগ – ১৮ মে আযাদ সাত-আটজন রাজাকারকে নিয়ে সালথা থানার উজিরপুর বাজারপাড়া গ্রামের এক সংখ্যালঘু তরুণীকে অপহরণ করে খাড়দিয়া গ্রামের চান কাজীর বাড়িতে আটকে রেখে নির্যাতন করেন। সাত-আট দিন পর ওই তরুণী মুক্তি পান।

আদালতের রায়

তৃতীয়, চতুর্থ, ষষ্ঠ ও সপ্তম অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। প্রথম, পঞ্চম ও অষ্টম অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে। তবে ইতিমধ্যে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়ার কারণে এসব অভিযোগে আলাদা করে কারাদণ্ড দেওয়া হচ্ছে না। দ্বিতীয় অভিযোগটি প্রমাণিত হয়নি। তাই ওই অভিযোগ থেকে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

এবার দুটি রায়ের যুগপৎ আইনী বিশ্লেষণ করা যাক। বাচ্চু রাজাকারের মামলায় তৃতীয় অভিযোগ অনুযায়ী- একাত্তর সালের ১৪ মে সুধাংশু মোহন রায়কে খুলি করে হত্যা করার জন্য মৃতু্দণ্ড প্রদান করা হয়। চতুর্থ অভিযোগ অনুযায়ী-১৬ মে মাধবচন্দ্র বিশ্বাসের বাড়িতে লুটপাট ও তাকে গুলি করে হত্যা করার জন্য মৃত্যু দণ্ডাদেশ প্রদান করা হয়। ষষ্ঠ অভিযোগ অনুযায়ী-৩ জুন হিন্দুপাড়ায় লুটপাট শেষে চিত্তরঞ্জন দাসকে গুলি করে হত্যা করার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়। সপ্তম অভিযোগ অনুযায়ী -১৭ মে ৩০-৩৫ জন রাজাকারকে নিয়ে বোয়ালমারীর হাসামদিয়া গ্রামের হিন্দুপাড়ায় নির্বিচারে গুলি ছুড়ে শরত্চন্দ্র পোদ্দার, সুরেশ পোদ্দার, শ্যামাপদ পোদ্দার, জতীন্দ্র মোহন সাহা, নীল রতন সমাদ্দার, সুবল কয়াল ও মল্লিক চক্রবর্তীকে হত্যা করার জন্য মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়।

অন্যদিকে কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় অভিযোগ হলো-একাত্তরের ২৭ মার্চ তিনি সহযোগীদের নিয়ে কবি মেহেরুননিসা, তাঁর মা এবং দুই ভাইকে মিরপুর ৬ নম্বর সেকশনের বাসায় গিয়ে হত্যা করেন। অথচ এই অভিযোগের ভিত্তিতে কাদের মোল্লাকে মাত্র ১৫ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

তৃতীয় অভিযোগ অনুযায়ী একাত্তরের ২৯ মার্চ বিকেলে সাংবাদিক খন্দকার আবু তালেবকে আরামবাগ থেকে কাদের মোল্লা ও তাঁর সহযোগীরা জল্লাদখানা পাম্পহাউসে নিয়ে জবাই করে হত্যা করে। এই অভিযোগের ভিত্তিতেও মাত্র ১৫ বছরের কারাদণ্ড করা হয়!

পঞ্চম অভিযোগ অনুযায়ী একাত্তরের ২৪ এপ্রিল পাকিস্তানি সেনা ও অবাঙালি রাজাকারদের সঙ্গে কাদের মোল্লা মিরপুরের আলোকদী (আলুব্দী) গ্রামে হামলা চালান। ওই ঘটনায় ৩৪৪ জনের বেশি নিহত হন। ৩৪৪ জনের বেশি লোক হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হওয়ার পরেও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড করা হয়েছে।

রায়ের বিরুদ্ধে আপীল প্রসঙ্গ :

দি ইন্টারন্যাশনাল (ক্রাইমস) ট্রাইব্যুনালস অ্যাক্ট ১৯৭৩ এর ২১ ধারা আপীল নিয়ে আলোচনা করেছে। ২১ ধারা অনুযায়ী-

21. (1) A person convicted of any crime specified in section 3 and sentenced by a Tribunal shall have the right of appeal to the Appellate Division of the Supreme Court of Bangladesh against such conviction and sentence.

(2) The Government shall have the right of appeal to the Appellate Division of the Supreme Court of Bangladesh against an order of acquittal.

(3) An appeal under sub-section (1) or (2) shall be preferred within thirty days of the date of order of conviction and sentence or acquittal.]

আইনানুযায়ী সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি দণ্ডাদেশ কমানোর জন্য আপীল করতে পারবেন, কিন্তু দণ্ডাদেশ বাড়ানোর জন্য রাষ্ট্রপক্ষ আপীল করতে পারবে না! রাষ্ট্রপক্ষ কেবল অব্যহতির বিরুদ্ধে আপীল করতে পারবে।

আইনের এ অংশেই বড় একটি ভুল রয়ে গেছে। কম দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপীল করার সুযোগ রাখা উচিত ছিল।

এ্খন কাদের মোল্লার রায়ের বিরুদ্ধে আপীল করার একটি দিকই খোলা রয়েছে। সেটি হলো চার নম্বর অভিযোগের রায়ের ভিত্তিতে আপীল করা। চতুর্থ অভিযোগটি প্রমাণিত না হওয়ায় কাদের মোল্লাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। চতুর্থ অভিযোগটি হলো- ১৯৭১ সালের ২৫ নভেম্বর কাদের মোল্লা ও ৬০-৭০ জন রাজাকার কেরানীগঞ্জ থানার ভাওয়াল খানবাড়ি এবং ঘাটারচরে (শহীদনগর) শতাধিক নিরস্ত্র গ্রামবাসীকে হত্যা করেন।

রায়ের প্রেক্ষিতে আইনী প্রশ্ন :

এক.
বাচ্চু রাজাকারের মামলার রায় বিবেচনায় নিলে কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে ঘোষিত রায়ের দণ্ডাদেশ যৌক্তিক হতে পারে না। কাদের মোল্লার ক্ষেত্রে বরংচ অপরাধের মাত্রা (gravity of the crime) বেশি।
তাহলে রায়ের ক্ষেত্রে দণ্ডাদেশ কম হবে কেন?

আদালত রায়ে কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে আনীত ৫টি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে। তাহলে পঞ্চম অভিযোগ অনুসারে, ৩৪৪ জনের বেশি লোক হত্যার জন্য মৃত্যুদণ্ড কেন প্রদান করা যাবে না?

দুই.
দি ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) অ্যাক্ট ১৯৭৩ এর ৪ ধারায় অপরাধের দায়ভার (Liability for Crimes) নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এ ধারায় বলা হয়েছে-

4. (1) When any crime as specified in section 3 is committed by several persons, each of such person is liable for that crime in the same manner as if it were done by him alone.

(2) Any commander or superior officer who orders, permits, acquiesces or participates in the commission of any of the crimes specified in section 3 or is connected with any plans and activities involving the commission of such crimes or who fails or omits to discharge his duty to maintain discipline, or to control or supervise the actions of the persons under his command or his subordinates, whereby such persons or subordinates or any of them commit any such crimes, or who fails to take necessary measures to prevent the commission of such crimes, is guilty of such crimes.

এই ধারাটি ব্যাখ্যা করলেই স্পষ্ট হবে যে, ৩৪৪ জনের বেশি লোককে হত্যার জন্য অবশ্যই কাদের মোল্লা দায়ী হবে। (is liable for that crime in the same manner as if it were done by him alone.)

সুতরাং এক্ষেত্রে দণ্ডাদেশ কমানোর কোন সুযোগ নেই। উল্লেখ্য দি ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) অ্যাক্ট ১৯৭৩ এর ২০ ধারায় রায় ও দণ্ড (Judgement and sentence) নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এ ধারা অনুযায়ী-

(1) The Judgement of a Tribunal as to the guilt or the innocence of any accused person shall give the reasons on which it is based: Provided that each member of the Tribunal shall be competent to deliver a judgement of his own.

(2) Upon conviction of an accused person, the Tribunal shall award sentence of death or such other punishment proportionate to the gravity of the crime as appears to the Tribunal to be just and proper.

২০(২) ধারা অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনাল অপরাধীকে অপরাধের মাত্রা বা গুরুত্ব অনুসারে মৃত্যুদণ্ড বা অন্য কোন শাস্তি প্রদান করবেন। তবে এই ধারার দুইটা অংশ রয়েছে। এগুলো আলাদা আলাদাভাবে ব্যাখ্যা করা জরুরি।

– the Tribunal shall award sentence of death or such other punishment proportionate to the gravity of the crime as appears to the Tribunal

– to be just and proper

অর্থাৎ মামলার রায় অবশ্যই just and proper হতে হবে। অভিধান অনুযায়ী, Justমানে ন্যায়সঙ্গত বা ন্যায্য। অন্যদিকে Proper মানে সঠিক, যথাযথ বা উপযুক্ত। আইনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, just and proper এর মানে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। কোন অপরাধের মামলায় ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অবশ্যই ভিকটিমের ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়। কাদের মোল্লার রায়ের পর ভিকটিমরা হতাশ হয়েছে। শহীদ আবু তালেবের পরিবার এ রায় মানেন না বলে জানিয়েছেন। এছাড়া বলা যেতে পারে, যুদ্ধাপরাধ, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের মামলায় পুরো বাংলাদেশ ভিকটিম।

কাদের মোল্লার রায়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ন্যায়বিচারের। এই রায় ‘just and proper’ হয়নি। দি ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) অ্যাক্ট ১৯৭৩ এর ২০ ধারা অনুযায়ী কাদের মোল্লার রায়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়েছে কিনা তা অবশ্যই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগকে বিচার করে দেখতে হবে।

(আকরামুল হক শামিমের ফেসবুক নোট থেকে সংগৃহীত।)

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৪ thoughts on “কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও দুইটি আইনী প্রশ্ন / আকরামুল হক শামীম

  1. the Tribunal shall award

    the Tribunal shall award sentence of death or such other punishment proportionate to the gravity of the crime as appears to the Tribunal

    – to be just and proper

    আইনের এই ধারাকে সামনে রেখেই আপীলে রায় পরিবর্তন করা সম্ভব বলে মনে করছি। যদিও আমি আইন বিশেষজ্ঞ নই। আইনজ্ঞরাই ভালো বলতে পারবেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

27 + = 34